Author: Jvadmin

  • সালথা গ্যাস ট্যাবলেট ও বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ নিধনের অভিযোগ

    সালথা গ্যাস ট্যাবলেট ও বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ নিধনের অভিযোগ

    ফরিদপুর প্রতিনিধি

    ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের পূর্ব ফুলবাড়ীয়া দোহায় দীর্ঘদিন ধরে অবাধে গ্যাস ট্যাবলেট ও বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এতে পানি দূষিত হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নদীপারের কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, একশ্রেণির অসাধু মাছ শিকারির কারণে এখন বাঁওড়ে পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের আঁধারে বাঁওড়ে গ্যাস ট্যাবলেট ও বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগ করে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে ছোট-বড় সব ধরনের দেশীয় মাছ মারা যাচ্ছে। একই সঙ্গে পানির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।

    সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দেওয়ালীকান্দা, পূর্ব ফুলবাড়ীয়া, চরবাঙ্গরাইল, রায়েরচর, গুচ্ছগ্রাম, বিষ্ণুদি ও কাকদী এলাকার বাসিন্দারা। প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই বাওরের পানির ওপর নির্ভরশীল হলেও বর্তমানে সেই পানি পান, রান্না কিংবা গোসলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

    স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু মোল্লা (৩৪) বলেন, “গ্যাস ট্যাবলেট দেওয়ার কারণে পুঁটি মাছ, শৈল মাছ, গজার মাছসহ অনেক দেশীয় মাছ মারা যাচ্ছে। আগের মতো মাছও পাওয়া যায় না।”

    রোকন মোল্লা (৬৫) বলেন, “এই পানি কেউ রান্না করে খেতে পারে না, গোসলও করতে পারে না। শরীরে চুলকানি ও এলার্জি বাড়তেছে।”

    হেমায়েত মোল্লা (৩৮) বলেন, “বাওরের পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমরা চরম সমস্যায় আছি। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দরকার।”

    সুমন মোল্লা (৩২) বলেন, “রাত হলেই কিছু লোক এসে বিষ দিয়ে মাছ মারে। আমরা বাধা দিলেও তারা শোনে না।”

    বাচ্চু মোল্লা (৫৬) বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এই বাওরে আর কোনো মাছ থাকবে না।”

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ঘটনা চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অসাধু চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পরিবেশের পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্যও।

    এ বিষয়ে বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান (শাহিন) বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ এই বিল ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু কিছুদিন ধরে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে পানি অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

    সালথা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু মুঠোফোনে বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করবে।”

    স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অভিযান চালিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় এনে বাওর রক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি সেখানে একটি মৎস্য অভয়ারণ্য গড়ে তোলারও দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

  • চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিদেশি পিস্তল ম্যাগজিন ও গুলি উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিদেশি পিস্তল ম্যাগজিন ও গুলি উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বিজিবি।

    মঙ্গলবার (০২ জুন) দিবাগত রাত ৯ টার দিকে ঝিনাইদহের মহেশপুর ৫৮ বিজিবির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে এসব করে।

    মহেশপুর ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান বুধবার সকাল ১০ টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (০২ জুন) রাত ৯ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের মেদিনীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ হরিহরনগর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে বিজিবির একটি টহল দল।

    অভিযানকালে সীমান্ত মেইন পিলার-৬৩ থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আব্দুল গণির বাঁশ বাগানের পাশে মাটির নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি একটি সচল বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

    পিস্তলের গায়ে ইংরেজিতে “MADE IN ITALY” লেখা রয়েছে। এছাড়া গুলির পেছনে “KF 7.65” লেখা পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃত গুলিগুলো ম্যাগাজিনে লোড করা অবস্থায় ছিল।

    অভিযান পরিচালনা করেন জেসিও-৯৪০৩ নায়েব সুবেদার মো. হারুন অর-রশিদ। এসময় তার সঙ্গে বিজিবির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করে মঙ্গলবার রাতেই আইনগত কার্যক্রমের জন্য জীবননগর থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলাইমান শেখ জানান, মঙ্গলবার রাত ১১ টার দিকে ৫৮-বিজিবি মেদিনীপুর ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে জীবননগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে মালিকবিহীন একটি পিস্তল থানায় জমা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • সমাজসেবায় বিশেষ সম্মাননা পেলেন নাসিরনগরের সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহান

    সমাজসেবায় বিশেষ সম্মাননা পেলেন নাসিরনগরের সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহান

     

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

    সমাজসেবা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননা অর্জন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার খান্দুরা গ্রামের কৃতী সন্তান সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহান।

    তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম সৈয়দ মোর্শেদ কামালের পুত্র। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন তিনি।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্য বিতরণ, আর্থিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে আসছেন সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহান। এলাকার কোনো ব্যক্তি অসুস্থ বা বিপদগ্রস্ত হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে খোঁজখবর নিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

    বৃহস্পতিবার ঢাকার সেরাটন হোটেলে অনুষ্ঠিত লায়ন্স কনভেনশন-২০২৬-এ সমাজসেবায় অবদানের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলার লায়ন্স গভর্নর, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং লায়ন্স নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    এসময় লায়ন্স ক্লাব অব শান্তিনগর নাভানা-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহানকে মানবসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা ও বিশেষ এওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা তার মানবিক ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    সম্মাননা প্রাপ্তির পর সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহান বলেন,
    “মানুষের সেবা করাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতেও সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যেতে চাই।”

    এ অর্জনে নাসিরনগরবাসীসহ তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন।

  • আমি মুখ খুললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে, হাদি হত্যা প্রসঙ্গে মমতা

    আমি মুখ খুললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে, হাদি হত্যা প্রসঙ্গে মমতা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    শরীফ ওসমান হাদিকে ইঙ্গিত করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হত্যাকারীর নাম গোপন করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোন করে চাপ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। নির্বাচনে হারের পর মঙ্গলবার (২ জুন) প্রথমবার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এ দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী।

    বিধানসভার নির্বাচনে পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই বিস্ফোরক মমতা। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে চাপে রাখতে রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে নাম না করে বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যা প্রসঙ্গ টেনে এনে বিস্ফোরক দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    ভোট পরবর্তী অশান্তি, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ, নিট পরীক্ষার জালিয়াতি ও বিজেপি সরকারের প্রতিহিংসামূলক আচরণের প্রতিবাদে মঙ্গলবার কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার ‘ওয়াই চ্যানেল’-এ এই ধরনা কর্মসূচিতে বসেন মমতা।

    এদিনের রাজনৈতিক সভা থেকে হঠাৎ করেই বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহবায়ক ওসমান হাদি হত্যার বিষয়টিও তুলে ধরেন মমতা। মমতার দাবি, হাদি হত্যাকারীদের রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন পান মমতা। তাকে বলা হয় এই বিষয়টি যেন বাইরে না জানানো হয়।

    মমতা বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না। আমার অধিকারও নেই বলার। কিন্তু আমি যেটা বলতে চাইছে তা হলো ওই হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এইটা তাদের কৃতিত্ব। কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়। কারণ এটা দেশের ব্যাপার।’

    অমিত শাহকে মমতার প্রশ্ন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথার ভান্ডার। তথ্য ভান্ডার।’

    তার অভিমত, ‘এতদিন আমি বলিনি। কিন্তু আজকে অত্যাচারে শেষ সীমায় গেছে বলে আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলব না।’

    মিশনারি অব চারিটিস তহবিল বন্ধ করে দেয়া নিয়েও এদিন সোচ্চার হয়েছেন মমতা। মূলত বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস। মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনের বিদ্রোহী হিসাবে চিহ্নিত হয়েছেন। মঙ্গলবারেও মমতার ধর্না কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৬ জন বিধায়ক। এমন অবস্থায় বিজেপিকে নিশানা করেছেন দলনেত্রী এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তার অভিযোগ, ‘দিল্লি থেকে কলকাঠি নাড়িয়ে তৃণমূলকে ভেঙে দেয়ার চক্রান্ত চলছে। বেআইনিভাবে পুলিশ দিয়ে আমাদের দলের বিধায়ক কাউন্সিলরদের ভয় দেখানো হচ্ছে। যদিও সেই প্রচেষ্টা কোনভাবেই সফল হবে না।’

    কেন্দ্রকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘আমাকে কতবার বলা হয়েছিল, আপনি কি চান, সব কিছু দেব। কিন্তু আমাদের দলের একটা নীতি আছে, আদর্শ আছে, দর্শন আছে। আজকে আমার একটাই দুঃখ, যাদের জন্য সারা জীবন করেছি, তারাই আজ গদ্দারের সাথে লাইন দিয়েছে। যারা আজকে তৃণমূলকে ভাঙ্গার জন্য গাদ্দারী করছে, আমি বলব সবাইকে ভগবান যেন সুমতি দেন। যদি কোনদিন ভালো কাজ করে থাকি, সেটা মেনে চলব।’

    এদিনের ধরনা কর্মসূচি শুরু করার আগে তিনি রেড রোডে অবস্থিত ভারতীয় সংবিধানের রচয়িতা বি আর আম্বেদকর এবং জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান। এরপর সেখান থেকে চলে আসেন ওয়াই চ্যানেলে। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করে দলের নেতাকর্মীদের সমাবেশে যোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হলেও বিধায়ক ও সাংসদদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।

    সদ্য শেষ হওয়ার রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে ৮০ আসনে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূল। এর মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সোমবারই দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করে তৃণমূল। ফলে ৭৮ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন বিধায়ক, সাংসদ, কাউন্সিলর ও পরাজিত বিধায়কদের দেখা গেল এদিনের কর্মসূচিতে। এদের মধ্যে অন্যতম বিধায়ক কুনাল ঘোষ, শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব, নয়না ব্যানার্জি, সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি, দোলা সেন। দলনেত্রীর নির্দেশ সত্বেও কার্যত ছন্নছাড়া অবস্থা তৃণমূলের এই ধারণা কর্মসূচির চেহারা।

    এ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী তাপস রায়।শুভেন্দু বলেন, ‘এত দুরবস্থা জানতাম না। দেড়শটা লোকও আসেনি। আপনারা ২০০ জন সাংবাদিক না থাকলে আরো করুন অবস্থা হয়ে যেত।’

    রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং একসময় তৃণমূল করে আসা রাজনীতিবিদ তাপস রায় জানিয়েছেন, ‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক। সেই কারণে ক্ষমতায় থাকলে দম্ভ, অহংকার দেখাতে নেই। অহংকারটা আকাশ ছোঁয়া হয়ে গিয়েছিল।’

    স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূলের অন্দরের বিদ্রোহ কি আরো চওড়া হচ্ছে? কারণ মঙ্গলবারও কলকাতার কর্পোরেশনের কাউন্সিলার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তারক সিং।

    এরকম এক আবহে জল্পনা আরো বাড়িয়েছে রাজ্যের তাপস রায়’এর একটি পোস্টকে ঘিরে। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতো অবস্থা হলো তৃণমূলের। বিধানসভার স্পিকারের কাছে প্রায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ক নিয়ে পৌঁছে গেছে ঋতব্রত ব্যানার্জি। খেলা হবে।’

    এনিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাপস রায় বলেন, ‘তৃণমূল দুটো ভাগে ভাগ হয়েছে। একদিকে মমতাকে অস্বীকার করছে, অন্যদিকে অভিষেককে অস্বীকার করছে। এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এটা অনিবার্য ছিল, এটা হওয়ারই ছিল। এটা হবে। তার কারণ তৃণমূল দলটা অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গায়ক-গায়িকা নায়ক নায়িকাদের নিয়ে গঠিত। একটা বাংলার দল অথচ সর্বভারতীয় দল হিসেবে দেখাতে গিয়ে গুজরাট, দিল্লি, বিহার সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে এসে রাজ্যসভা ও লোকসভায় পাঠানো হতো।’

  • রাশিয়ায় বিক্রি হওয়া ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে গোপালগঞ্জের ৩ জন, পরিবারে চরম আতঙ্ক

    রাশিয়ায় বিক্রি হওয়া ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে গোপালগঞ্জের ৩ জন, পরিবারে চরম আতঙ্ক

    গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

    বিদেশে ভাল চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে ৩০ যুবককে রাশিয়া নিয়ে ইউক্রেনের সাথে যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে এজেন্সি ও দালাল চক্র। এদের মধ্যে ৩ জন রয়েছে গোপালগঞ্জ জেলার। ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর দাবি ভাল চাকরি ও উচ্চ বেতনের কথা বলে রাশিয়ায় নিয়ে জনপ্রতি ৩০ লাখ টাকা করে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে তাদের বিক্রি করা হয়েছে। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবার গুলোকে সব ধরনের সহযোগীতা করা হবে।

    ভালো চাকরি ও উচ্চ বেতনের আশায় দালালের খপ্পরে পড়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমান গোপালগঞ্জ সদরের সিতারকুল এলাকার লিচু ফকিরের ছেলে রনি ফকির। রাশিয়ায় পৌঁছানোর সেখানকার সেনাবাহিনী তাকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে নেয়। পরে তাকে জোর করে একবছরের চুক্তি করানো হয়। যেখানে উল্লেখ করা আছে রাশিয়া – ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য তাদের চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে। পরে রনি জানতে পারে বাংলাদেশী জাবালে নুর এজেন্সি ও দালাল চক্র তাকে ৩০ লাখ টাকায় রাশিয়ান সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। বর্তমানে তাকে দেওয়া হচ্ছে যুদ্ধের সাময়িক প্রশিক্ষণ, এমনটাই পরিবারকে জানিয়েছে রনি।

    ভুক্তভোগী রনির পরিবার শুধু রনি নয়। রনির সাথে বাংলাদেশী আরও ৩০ জনকে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সেখানকার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জ সদরের ৩ যুবক। অন্যরা হলেন সদর উপজেলার ঘোষের চর গ্রামের জামিল শেখের ছেলে পলাশ শেখ ও বলাকৈড় গ্রামের কবির মোল্লার ছেলে সৌরভ মোলা। ভুক্তভোগীদের বাড়িতে এখন শুধু কান্নার রোল। ভুক্তভোগী সৌরভের পরিবার।

    ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বলছে, তাদের সন্তানদের অক্ষত ও জীবিত ফেরত চান পিতা মাতা ও পরিবার ভুক্তভোগীদের স্বজন।

    এদিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে অভিযোগ পেলে স্থানীয় দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানালেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। গোপালগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ ও কৌশিক আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ।

    বাংলাদেশ সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের দেশে ফিরিয়ে আনবে এমনটাই প্রত্যাশা পরিবার গুলোর। তাঁরা সরকারের সাহায্য কামনা করেছেন। আর যেন কোন বাবা মায়ের সন্তান এই সমস্যায় না পড়ে! সরকার এই ব্যাপারে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়াছেন পরিবার পাশে দাঁড়াতে!

  • প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জাপানের বায়োটেক পুরস্কার পেলেন কুবি শিক্ষিকা ড. জান্নাতুল ফেরদৌস

    প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জাপানের বায়োটেক পুরস্কার পেলেন কুবি শিক্ষিকা ড. জান্নাতুল ফেরদৌস

    কুবি প্রতিনিধি

    জাপানের ‘এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অর্জন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। এ সম্মাননা অর্জনের মাধ্যমে তিনি প্রথম বাংলাদেশি গবেষক হিসেবে এ পুরস্কার লাভের গৌরব অর্জন করেছেন।

    মঙ্গলবার (২ জুন) তার এই পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ড. জান্নাতুল ফেরদৌস।

    বায়োটেকনোলজি গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাপানের সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি (এসবিজে) তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করে।

    নিজের গবেষণা ও অর্জন প্রসঙ্গে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “আমার গবেষণার মূল বিষয় ছিল ন্যানোটেকনোলজির মাধ্যমে উন্নত ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম উদ্ভাবন। ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দ্রাব্যতা ও স্থায়িত্ব সংক্রান্ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হই। এছাড়া গ্রোথ ফ্যাক্টর, প্রোটিনসহ বিভিন্ন জৈব অণু নিয়ে কাজ করতে গিয়েও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়।

    তিনি আরও বলেন, আমার গবেষণার লক্ষ্য ছিল ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে এমন একটি ক্যারিয়ার সিস্টেম তৈরি করা, যা এসব জৈব অণুকে কার্যকরভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। এই প্রযুক্তি বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের চিকিৎসা, চোখে ওষুধ সরবরাহ, এমনকি ক্যান্সার থেরাপিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মূলত একটি বহুমুখী ও কার্যকর ডেলিভারি সিস্টেম হিসেবে ‘ন্যানোজেল ডিসপারশন’ প্রযুক্তির উন্নয়নই ছিল আমার গবেষণার প্রধান বিষয়। এই গবেষণার জন্য আমরা জাপানে একটি পেটেন্টও অর্জন করেছি, যা পরবর্তীতে গবেষণাটিকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এটিকে একটি আদর্শ ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম হিসেবে আরও উন্নত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

    মর্যদাপূর্ণ অর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি যে পুরস্কারটি পেয়েছি, তা আমার ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম বড়ো অর্জন। একই সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে এই স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি।

    এই গৌরবময় সাফল্যযাত্রায় গবেষণা সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এই অর্জনের পেছনে দীর্ঘ গবেষণা-যাত্রা রয়েছে। আমার পিএইচডি গবেষণা এবং পরবর্তীতে জাপানে আমার সুপারভাইজারের গবেষণাগারে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের ফলস্বরূপ আমি এই পুরস্কার অর্জন করেছি। এ ক্ষেত্রে আমার জাপানি সুপারভাইজার, গবেষণাগারের সহকর্মী এবং ল্যাবমেটদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে শিক্ষা ছুটি প্রদান এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে। আমার বিভাগের সহকর্মীরা সবসময় সহযোগিতা করেছেন এবং শিক্ষার্থীরাও আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আমি গবেষণার মাধ্যমে যা শিখেছি, তা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং তাদের গবেষণায় উৎসাহিত করার চেষ্টা করি। এছাড়া আমার পরিবারও এই দীর্ঘ যাত্রায় সবসময় আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে।

    ন্যানোজেল প্রযুক্তি আবিষ্কার বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার হতে পারে উল্লেখ করে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস আরও বলেন, “এটি একটি আধুনিক ও উন্নত ড্রাগ ডেলিভারি প্রযুক্তি। বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় প্রযুক্তিগত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশীয় গবেষক ও ওষুধ কোম্পানিগুলো নিজস্ব পেটেন্ট, নতুন ড্রাগ মলিকিউল এবং উন্নত ক্যারিয়ার সিস্টেম উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্যান্সারের মতো জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম। জাপানে আমি যে ক্যারিয়ার সিস্টেম নিয়ে কাজ করেছি, তার অনুরূপ গবেষণা বাংলাদেশেও পরিচালিত হলে দেশের চিকিৎসা ও ওষুধ গবেষণা খাতে তা একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।”

    উল্লেখ্য, সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি, জাপান (এসবিজে) জাপানের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সংগঠন। ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনটি জীববিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি (বায়োটেকনোলজি) এবং জীবনবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক গবেষণার উন্নয়নে কাজ করে আসছে।

  • নবীনগরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ: ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর আহত-১০

    নবীনগরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ: ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর আহত-১০

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার টিয়ারা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে স্থানীয়ভাবে পরিচিত শিশু গ্রুপ ও হোসেন গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

    আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে স্থানীয় বাছির মেম্বারের বাড়িতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সকালে বাজার এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

    হোসেন গ্রুপের পক্ষ থেকে আহমেদ হোসেন অভিযোগ করেন, বাজার এলাকায় তাদের লোকজনের ওপর প্রতিপক্ষ অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।

    অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শিশু গ্রুপের প্রধান আতিকুর রহমান শিশু বলেন, তাদের এক সমর্থককে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, যার ফলে তার একটি চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তাদের পক্ষ থেকে আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নেওয়া হয়েছিল।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের পাশাপাশি মালামাল লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

    ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

    নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • রাজশাহীর তিন উপজেলায় ভূমি অফিসে চুরি, থানায় মামলা দায়ের

    রাজশাহীর তিন উপজেলায় ভূমি অফিসে চুরি, থানায় মামলা দায়ের

    রাজশাহী প্রতিনিধি

    রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ভূমি অফিস এবং পুঠিয়া ও বাঘার কয়েকটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    ঈদের সরকারি ছুটির সুযোগে সংঘটিত এসব ঘটনায় কম্পিউটারসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাদী হয়ে পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করেছেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটির কারণে অফিসগুলো বন্ধ ছিল। এই সময়ের মধ্যে চোরচক্র জানালার থাই গ্লাস ও লক ভেঙে অফিসে প্রবেশ করে মূল্যবান তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম নিয়ে যায়।

    ২ জুন সরেজমিনে দুর্গাপুর উপজেলার সিংগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে চুরির ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অটোমেশন প্রকল্পের আওতায় সরবরাহ করা কম্পিউটারের ২৫৬ জিবি এসএসডি, প্রসেসর, র‍্যাম, রাউটারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে। চোরেরা মনিটরের ভাঙা অংশ ফেলে রেখে যায়।

    স্থানীয়দের ধারণা, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ। তাদের মতে, সরকারি তথ্য ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করেই পরিকল্পিতভাবে এ চুরি সংঘটিত হয়েছে।

    দুর্গাপুর থানা সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলা নং-০১ ও ০২ এবং জিআর নং-৫৩ ও ৫৪/২৬ রুজু হয়েছে। তবে মামলার এজাহারে আসামির নাম উল্লেখ্য নেই।

    এদিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে অফিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অশিকার করেন।
    চুরির ঘটনায় ভূমি অফিসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সরকারি তথ্যের সুরক্ষা এবং নৈশপ্রহরী নিয়োগ ও তদারকি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    দুর্গাপুর সিংগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) নওসাদ আলী বলেন, “সাত দিনের সরকারি ছুটির মধ্যে কোনো একসময় চুরির ঘটনা ঘটেছে। অফিসে সিসিটিভি ক্যামেরা ও নৈশপ্রহরীর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় চোরেরা সুযোগ পেয়েছে। ইতোমধ্যে থানায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমার ইউজার আইডির মাধ্যমে ভূমিসেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে, ফলে গ্রাহকদের সেবা প্রদানে বড় ধরনের সমস্যা হবে না। তবে অফিসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসএসডিতে সংরক্ষিত ছিল।”

    দুর্গাপুর উপজেলা ভূমি অফিসের নৈশপ্রহরী ইব্রাহিম বলেন, “চুরির ঘটনা সত্য। তবে ঈদের ছুটির সুযোগে বাইরের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমার ধারণা।”

    দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু বলেন, “চুরির ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গেই থানায় মামলা করা হয়েছে। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। অফিসের সিসিটিভি ফুটেজেও সন্দেহভাজন চোরের উপস্থিতি দেখা গেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি।”

    দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চনন্দন সরকার বলেন, “চুরির খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় দুটি মামলা হয়েছে। তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

    উল্লেখ্য, একই সময়ে রাজশাহীর পুঠিয়া ও বাঘা উপজেলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এসব ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • রামুতে ৮ হাজার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

    রামুতে ৮ হাজার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

     

    কক্সবাজার প্রতিনিধি

    কক্সবাজারের রামু উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৮ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে রামু থানা পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২ জুন) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামু থানার ফতেখারকুল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চৌমুহনী কাঁচাবাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    পুলিশ জানায়, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমানের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধানে এবং রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুইয়ার নেতৃত্বে এসআই জয়নাল আবদীন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন।

    অভিযানকালে রামু-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ওয়াজেদ কমপ্লেক্সের সামনে একটি সিএনজি অটোরিকশা তল্লাশি করে মো. সফিউল আলম (২৬) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তার হেফাজত থেকে ৮ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    আটক সফিউল আলম রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দারিয়ারদিঘী মৌলভীবাজার পূর্বপাড়া এলাকার আব্দুল্লাহর ছেলে।

    এসময় ইয়াবা বহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা, একটি ওয়ানপ্লাস অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং একটি সিম্ফনি বাটন মোবাইল জব্দ করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • পোশাক নিয়ে হেনস্তার অভিযোগে নায়লা নাঈমের ক্ষোভ

    পোশাক নিয়ে হেনস্তার অভিযোগে নায়লা নাঈমের ক্ষোভ

    বিনোদন ডেস্ক 

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এক অপ্রীতিকর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আলোচিত মডেল ও অভিনেত্রী নায়লা নাইম।

    তিনি দাবি করেছেন, সাভারের একটি স্থানীয় বাজারে সবজি কিনতে গেলে এক ব্যক্তি তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং পোশাক নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

    সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে নায়লা নাঈম লেখেন, ‘এটা স্বাধীন রাষ্ট্র? আমাকে উত্তর দিন? ব্যক্তিগতভাবে যারা আমাকে চেনেন সবাই জানেন আমি কতটুকু শালীন পোশাক পরে চলাফেরা করি। উল্লেখ্য, আমি একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি।’

    পোস্টে তিনি জানান, মায়ের সঙ্গে সাভারের একটি স্থানীয় বাজারে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সবজি কিনছিলেন তিনি। এ সময় টুপি পরা ও দাড়িওয়ালা মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি হঠাৎ এসে তাকে দুই হাত দিয়ে ধাক্কা দেন।

    এ বিষয়ে নায়লা নাঈম বলেন, ‘মাথায় টুপি পরা দাড়িওয়ালা ৪২-৪৫ বছরের এক লোক আমাকে দুই হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে বলেছে, আমার মাথায় পর্দা নেই… আমি কেন এরকম বাজারে বেপর্দা ঘোরাফেরা করছি।’

    ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাটিতে পড়ে যান বলে দাবি করেন। এতে তার হাত থেকে বাজারের ব্যাগ পড়ে যায় এবং বাম হাতে আঘাত পান।

    পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘ঘটনার আকস্মিকতা আমি বুঝে ওঠার আগেই আম্মু আমাকে টেনে নিয়ে অটোতে করে ওখান থেকে সরে যায়।’

    মায়ের আতঙ্কের কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, তার মা তাকে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাতে নিষেধ করেন।

    নায়লা নাঈমের দাবি, তার মা তখন বলেছিলেন, ‘গায়ে যদি কাপড় নিয়ে ফিরতে চাও, একটা টুঁ শব্দ করবে না।’

    ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে নায়লা নাঈম লেখেন, ‘আমার মা এখনো ভয়ে কাঁপছে। থুঁতু মারলাম এ রাষ্ট্রের কপালের মধ্যে।’

    তবে এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করেছেন কি না, সেটি স্পষ্ট করেননি তিনি।