নাহিদুজ্জামান শয়ন, খোকসা কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ (RHD) খোকসা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বহুল প্রতীক্ষিত গোলচক্কর নির্মাণসহ সড়ক উন্নয়ন কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছে। ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারিকৃত ‘নোটিশ টু কমেন্স’ অনুযায়ী, আহলাদীপুর-রাজবাড়ী-পাংশা-কুমারখালী-কুষ্টিয়া (চৌরহাস) আঞ্চলিক সড়কের (R-710) নির্দিষ্ট অংশে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা ছিলো।
প্রকল্পের আওতায় খোকসা অংশে একটি পরিকল্পিত গোলচক্কর নির্মাণের পাশাপাশি কুমারখালী ও সৈয়দ মাসুদ রুমি সেতু টোল প্লাজা সংলগ্ন এলাকাতেও সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। দীর্ঘদিন ধরে খোকসা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে একটি কার্যকর ও পরিকল্পিত গোলচক্করের দাবি জোরালো ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বে এখানে একটি অপরিকল্পিত আইল্যান্ড নির্মাণ করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাড়াই। ভ্যানচালক ইমরানের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর বিষয়টি জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। সে সময় সভ্য সমাজ এর ব্যানারে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহ স্থানীয় জনগণ আন্দোলন করে বাসস্ট্যান্ডে। সবার দাবির প্রেক্ষিতে তৎকালীন ঝিনাইদহের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বৈজয়ন্ত বিশ্বাস (ভিক্টর) এর প্রচেষ্টায় আইল্যান্ডটি অপসারণ করা হয়। এরপর থেকেই খোকসা বাসস্ট্যান্ডে একটি পরিকল্পিত গোলচক্কর নির্মাণের দাবি জোরদার হতে থাকে।
পরবর্তীতে বৈজয়ন্ত বিশ্বাস, যিনি বর্তমানে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ রাখেন। বিভিন্ন সময়ে কাজের অগ্রগতি হলেও রাজনৈতিক নানা কারণে প্রকল্পটি পিছিয়ে যায়। তবে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে গোলচক্কর নির্মাণের অনুমোদন মিলেছে।
প্রায় ২৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড। নির্দেশনা অনুযায়ী, ২ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু হয়ে আগামী ২৭০ দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন করার কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক বিভাগ কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল করিম বলেন, “নোটিশ জারি হয়েছে ঠিকই, তবে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হবে আগামী জুন-জুলাই মাসের মধ্যে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খোকসা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যান চলাচল আরও স্বাভাবিক হবে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এখন খোকসাবাসীর প্রত্যাশা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্ন করে এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়টিকে আধুনিক, নিরাপদ ও দৃষ্টিনন্দন রূপ দেওয়া হবে।










