Author: Jvadmin

  • রাজশাহীতে শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ

    রাজশাহীতে শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ

    রাজশাহী প্রতিনিধি

    রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নবল এর নবঘোষিত কমিটিকে ঘিরে দ্বন্দ্বের জেরে সোমবার (১৮ মে) সকালে রাজশাহী থেকে সব রুটে বাস চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। আকস্মিক এই পরিবহন অচলাবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীরা।

    শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার (১৭ মে) কেন্দ্রীয়ভাবে রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি ও মমিনুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে ঘোষিত এই কমিটি শ্রমিকদের একটি অংশ প্রত্যাখ্যান করে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ, কমিটি গঠনের সময় সকল শ্রমিকের মতামত নেওয়া হয়নি এবং একতরফাভাবে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আজ সোমবার সকাল থেকেই শ্রমিকরা রাজশাহী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ জেলার বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন।

    ফলে শহরের বিভিন্ন টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যাত্রীরা আটকে পড়েন। অনেকেই বাধ্য হয়ে সিএনজি ও অটোরিকশা ব্যবহার করছেন, তবে অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে সেটিও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন ও শ্রমিক ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    কবে নাগাদ এই অচলাবস্থা কাটবে এবং বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

  • কুমারখালীর ধলনগর শুরু হয়েছে মহা নামযজ্ঞানুষ্ঠান ও গ্রামীণ মেলা

    কুমারখালীর ধলনগর শুরু হয়েছে মহা নামযজ্ঞানুষ্ঠান ও গ্রামীণ মেলা

    পুলক সরকার

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ধলনগর কালী মন্দির প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে দুই শত বছরের অধিক সময় ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী ২৪ প্রহরব্যাপী অখন্ড তারকব্রহ্ম মহা নামযজ্ঞানুষ্ঠান গ্রামীণ মেলা।

    গত শনিবার (১৬ই মে) দিবাগত রাতে বিশ্বের শান্তি ও মঙ্গল কামনায় মঙ্গলঘট স্থাপন ও অধিবাস কির্তনের মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়া ৫ দিন ব্যাপি এ অখণ্ড তারকব্রহ্ম মহা নামযজ্ঞানুষ্ঠান শেষ হবে বুধবার (২০ মে) কুঞ্জভঙ্গ, নাম সমাপনী, নগর কির্তন, ভোগরাগ ও প্রসাদ বিতরণের মধ্যে দিয়ে।

    ঐতিহ্যবাহী এই মহানামযজ্ঞ ও গ্রামীণ মেলাকে কেন্দ্র করে দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো ভক্ত ও পুর্ণার্থীদের আগমন ঘটেছে।

    এই আয়োজন ঘিরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে হরিনাম সংকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা ও প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা রয়েছে।

  • রুপগঞ্জে নবগঠিত রুপগঞ্জ টেলিভিশন মিডিয়ার ক্লাবের কমিটি ঘোষণার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ১১ সদস্যের অব্যাহতি

    রুপগঞ্জে নবগঠিত রুপগঞ্জ টেলিভিশন মিডিয়ার ক্লাবের কমিটি ঘোষণার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ১১ সদস্যের অব্যাহতি

    স্টাফ রিপোর্টার

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কর্মরত টেলিভিশন, আইপি টেলিভিশন ও পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের সংগঠন রূপগঞ্জ টেলিভিশন মিডিয়া ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল ১৭ মে রবিবার উপজেলার মুড়াপাড়া বাজারের রূপগঞ্জ টেলিভিশন মিডিয়া ক্লাব কার্যালয়ে এ কমিটি ঘোষণা করা হলেও রুপগঞ্জ টেলিভিশন মিডিয়া ক্লাবের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ২১জন বিশিষ্ট নবগঠিত কমিটির ১১ জন সদস্য অব্যাহতি নেয়।

    কমিটিতে মাইটিভির সাংবাদিক মোঃ মকবুল হোসেনকে আহ্বায়ক এবং এটিএন নিউজের সাংবাদিক মোঃ পারভেজকে সদস্য সচিব করা হয়। এদিকে আহবায়ক নিয়ে সাংবাদিকদের কোন প্রকার অভিযোগ না থাকলেও এটিএন নিউজ এর সাংবাদিক মোঃ পারভেজের সদস্য সচিব হওয়াকে কেন্দ্র করে নবগঠিত রুপগঞ্জ টেলিভিশন মিডিয়া ক্লাবের সকল সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিরোধ থাকায় গতকাল রবিবার সকালে উদ্বোধন হওয়া নবগঠিত ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির মধ্যে ১১ জন সাংবাদিক আজ সোমবার দুপরে কমিটি থেকে অব্যাহতি নেন।

    এ বিষয়ে অব্যাহতি নেওয়া সাংবাদিকরা জানান, নবগঠিত আহবায়ক কমিটির সকল সদস্যদের মতের ভিত্তিতে কমিটি গঠন হওয়ার কথা থাকলেও নিয়ম বহির্ভূত প্রথমে সকল সদস্যদের নবগঠিত টেলিভিশন মিডিয়া ক্লাবের ফ্রমে সিগনেচার নিয়ে ৫ জনের একক সিদ্ধান্তে আহবায়ক ও সদস্য সচিব তৈরী করে বাকি ১৬ জনকে সদস্য করে কমিটি গঠন করা হয়। এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবগঠিত আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিবের কথা কাটাকাটি হলে কমিটিতে থাকা সদস্য, গ্লোবাল টেলিভিশনে এনামুল হক, এশিয়ান টেলিভিশনের সাইফুল ইসলাম পিয়াস, আয়না টেলিভিশনের হাবিবুল্লাহ মীর, বাংলাদেশ টাইমসের শুভ, আজকের বাংলা পত্রিকার এসএম রনি, আইপি টেলিভিশন এনএএন টিভির গোলাম মোস্তফা সাগর, দৈনিক গণকন্ঠ পত্রিকার নোয়াব ভূঁইয়া, বর্তমান দিন পত্রিকার নূর নবী, নিউজ বাংলাদেশ পত্রিকার মঞ্জুরুল কবির বাবু, দৈনিক চৌকস পত্রিকার হাসান হাওলাদার বাপ্পি, চ্যানেল রুপগঞ্জ ও গ্লোবাল টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান রাকিবসহ সকলে সদস্য সচিবের প্রতি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নবগঠিত রূপগঞ্জ টেলিভিশন মিডিয়া ক্লাবের আহবায়ক -কে বিষয়টি অবগত করলে তিনি সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নেওয়া ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ১১ জন সদস্য অব্যাহতি নেয়।

  • ডা. নাসিরকে দেখতে ঢামেকে জেডআরএফের প্রতিনিধিদল

    ডা. নাসিরকে দেখতে ঢামেকে জেডআরএফের প্রতিনিধিদল

    শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হামলার শিকার হয়ে আহত ডা. নাসির আহমেদকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে যায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) একটি প্রতিনিধিদল।

    জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় রোববার (১৭ মে) বিকেল ৬টায় তারা হাসপাতালে উপস্থিত হন।

    জেডআরএফেরর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি আহত চিকিৎসকের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

    এসময় অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, ‘চিকিৎসকদের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।

    জেডআরএফের পক্ষ থেকে ডা. নাসিরের চিকিৎসার সার্বিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

    প্রতিনিধিদলে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহস্বাস্থ্য-বিষয়ক সম্পাদক ডা. পারভেজ রেজা কাকন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, জেডআরএফের পরিচালক প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কাগজী, কৃষিবিদ শফিউল আলম দিদার, সাংবাদিক সাঈদ খান এবং প্রকৌশলী উমাশা উমায়ন মনি চৌধুরী, চিকিৎসকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. আবুল কেনান, কোষাধ্যক্ষ ডা. খালেকুজ্জামান দিপু, ড্যাব নেতা ডা. সৈয়দ ইমতিয়াজ উদ্দিন সাজিদ এবং ডা. আমিরুল ইসলাম পাভেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় ডা. নাসির আহমেদ হামলার শিকার হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

  • ঘরে বসেই নিতে পারবেন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ, নিয়ম জানুন

    ঘরে বসেই নিতে পারবেন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ, নিয়ম জানুন

    ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ব্যাংকিং সেবা এখন সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয়। দেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাকে আরও গতিশীল ও সহজলভ্য করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ‘ই-লোন’ বা ই-ঋণ সেবা চালুর নির্দেশনা দিয়েছে। এখন আর ঋণের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো বা বারবার ব্যাংকে যাওয়ার ঝামেলা নেই; জরুরি প্রয়োজনে স্মার্টফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করেই পাওয়া যাবে কাঙ্ক্ষিত ঋণ।

    ঘরে বসেই ঋণের আবেদন ও প্রাপ্তি

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রাহকরা এখন ব্যাংকে না গিয়েই মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঋণের আবেদন, অনুমোদন এবং অর্থ গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে পারবেন। প্রযুক্তিনির্ভর এই আর্থিক সেবাটি মূলত গ্রাহকদের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ, দ্রুত ও গ্রাহকবান্ধব করার লক্ষ্যেই চালু করা হচ্ছে।

    ঋণের পরিমাণ ও মেয়াদ

    নতুন এই ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ই-লোন’ গ্রহণ করতে পারবেন। স্বল্পমেয়াদী এই ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১২ মাস বা এক বছর।

    সুদ ও খরচ সম্পর্কে স্বচ্ছতা

    ই-ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার ব্যাংকগুলো বাজারভিত্তিক নির্ধারণ করবে। তবে যদি কোনো ব্যাংক পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করে, সেক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। ঋণের আবেদন করার আগেই সুদ, ফি, চার্জ, বিলম্ব মাশুল বা আগাম ঋণ পরিশোধ ফি সব তথ্য ব্যাংক গ্রাহককে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেবে এবং গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা যাবে না।

    আবেদনের যোগ্যতা ও নিয়ম

    • ডিজিটাল ভেরিফিকেশন: আবেদনের সময় গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), বায়োমেট্রিক তথ্য এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।
    • সিআইবি রিপোর্ট: ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে।
    • অযোগ্যতা: কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতা এই ই-লোন সুবিধা পাবেন না।
    • ডিজিটাল পেমেন্ট: ঋণ বিতরণ, কিস্তি পরিশোধ ও অন্যান্য সব কার্যক্রম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে।
    • নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ডিজিটাল লেনদেনের সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিটি লেনদেন নিশ্চিত করতে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (২এফএ), মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (এমএফএ) এবং ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) ব্যবস্থা থাকবে। গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে।

    কবে নাগাদ মিলবে এই সেবা?

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, তফসিলি ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে এই সেবা চালু করবে। প্রতিটি ব্যাংককে তাদের তথ্যপ্রযুক্তি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা নিশ্চিত করেই এই ই-লোন কার্যক্রম শুরু করতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    জরুরি প্রয়োজনে অল্প সময়ে ঋণ পাওয়ার এই নতুন দিগন্ত দেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক চাহিদা পূরণে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • এনটিআরের জন্মদিনে ড্রাগনের চমক

    এনটিআরের জন্মদিনে ড্রাগনের চমক

    দক্ষিণী সুপারস্টার জুনিয়র এনটিআর ও নির্মাতা প্রশান্ত নীলের বহুল প্রতীক্ষিত প্যান ইন্ডিয়া সিনেমা আবারও আলোচনায়। এতদিন এনটিআরনীল নামে পরিচিত প্রকল্পটির সম্ভাব্য নাম এখন জানা যাচ্ছে ‘ড্রাগন’।

    সম্প্রতি ভারতের সেন্সর বোর্ডের ওয়েবসাইটে সিনেমাটির গ্লিম্পস সার্টিফিকেশনের তথ্য প্রকাশ হওয়ার পরই বিষয়টি সামনে আসে। সেখানে ‘গ্লিম্পস অব ড্রাগন’ নামে ভিডিওটি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে সিনেমাটির নাম নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ভক্তরা।

    তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে গ্লিম্পসটির দৈর্ঘ্য। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে ভিডিওটির রানটাইম ৪ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড যা একটি সাধারণ গ্লিম্পস বা টিজারের তুলনায় অনেক বেশি।

    সাধারণত সিনেমার গ্লিম্পস এক মিনিটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। এমনকি বেশিরভাগ ট্রেইলারও তিন মিনিটের আশপাশে শেষ হয়। তাই এত দীর্ঘ গ্লিম্পস দেখে অবাক হয়েছেন ভক্তরা।

    জানা গেছে ভিডিওটি সেন্সর বোর্ড থেকে ইউ এ ১৬ প্লাস সনদ পেয়েছে। ফলে এতে প্রশান্ত নীলের স্বাক্ষরধর্মী সহিংস অ্যাকশন ভারী মাস এলিভেশন ও তীব্র দৃশ্য থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন দর্শকরা।

    ১৯ মে মধ্যরাতে বিশেষ এই গ্লিম্পস প্রকাশ পাওয়ার কথা রয়েছে। এর এক দিন পর ২০ মে জুনিয়র এনটিআরের জন্মদিন।

    বড় বাজেটে সিনেমাটি প্রযোজনা করছে মৈত্রী মুভি মেকারস ও এনটিআর আর্টস। সিনেমায় নায়িকা হিসেবে দেখা যেতে পারে রুক্মিণী বসন্তকে। গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন অনিল কাপুর।

    এর আগে খলনায়কের ভূমিকায় টোভিনো থমাসের নাম শোনা গেলেও পরে তিনি নিজেই জানান শিডিউল জটিলতার কারণে প্রকল্পটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এখন সেই চরিত্রে শাহিদ কাপুরকে নেওয়ার আলোচনা চলছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

    সিনেমার সংগীত পরিচালনা করছেন রবি বসরুর। এর আগে তিনি ‘কেজিএফ’ ও ‘সালার’ এর সংগীত পরিচালনা করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।

    সিনেমাটি নিয়ে আরেকটি বড় গুঞ্জন হলো ‘ড্রাগন’ নাকি দুই পর্বে মুক্তি পেতে পারে। যদিও নির্মাতারা এখনো এ বিষয়ে কিছু নিশ্চিত করেননি তবুও ভক্তদের ধারণা আসন্ন গ্লিম্পসেই সিনেমার গল্প ও ইউনিভার্স নিয়ে বড় কোনো ইঙ্গিত মিলতে পারে। বর্তমানে সিনেমাটির মুক্তির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ১১ জুন।

  • অবশেষে নেইমার প্রসঙ্গে নীরবতা ভাঙলেন আনচেলত্তি

    অবশেষে নেইমার প্রসঙ্গে নীরবতা ভাঙলেন আনচেলত্তি

    আর মাত্র একদিন পরই ঘোষণা করা হবে ব্রাজিলের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড। আর বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার ঠিক আগ মুহূর্তে নেইমারকে নিয়ে নিজের নীরবতা ভাঙলেন ব্রাজিলিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নেইমারের ফিটনেস ও মাঠের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করে আনচেলত্তি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেলেসাওদের চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দলে বড় চমক হিসেবে থাকতে পারেন নেইমার।

    ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নেইমারকে নিয়ে যতই বিতর্ক থাকুক না কেন, আনচেলত্তি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে সেলেসাওদের ভেতরকার পরিবেশ একদম ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘আমি খুব ভালো করেই জানি নেইমার শুধু সাধারণ মানুষের কাছেই নয়, দলের খেলোয়াড়দের কাছেও ভীষণ জনপ্রিয়। দলের পরিবেশের ওপর তার কী প্রভাব পড়বে, সেটাও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। নেইমারকে দলে রাখলে ড্রেসিংরুম কোনোভাবে অশান্ত হবে না। সে সবার খুব প্রিয়।’

    নেইমারকে দলে নেওয়ার জন্য কোনো মহল থেকে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আনচেলত্তি বলেন, ‘নেইমারকে দলে নেওয়ার জন্য আমাকে কেউ চাপ দেয়নি। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা আমার আছে। সিদ্ধান্তটি ১০০ ভাগ পেশাদারি হবে। একজন ফুটবলার হিসেবে সে মাঠে কেমন পারফর্ম করছে, কেবল সেটাই আমি বিবেচনায় নেব, অন্য কিছু নয়।’

    এদিকে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ইউওএল’র একটি প্রতিবেদন ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন তৈরি করেছে। সান্তোস ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, ‘সান্তোস ইতোমধ্যেই নিশ্চিত তথ্য পেয়েছে যে, সোমবার আনচেলত্তির ঘোষিত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকছে নেইমারের নাম।’

    তাছাড়া তরুণ ফরোয়ার্ড এসতেভাওয়ের ইনজুরির পর আক্রমণভাগে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে নেইমারের চেয়ে বড় নাম এই মুহূর্তে ব্রাজিলে নেই। আনচেলত্তি যদি এই নেইমারকে মাঠে কাজে লাগাতে পারেন, তবে তা হবে ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি।

  • কোনো চিফ জাস্টিসের কেয়ারটেকার গভমেন্ট হওয়ার দরকার নাই : আইনমন্ত্রী

    কোনো চিফ জাস্টিসের কেয়ারটেকার গভমেন্ট হওয়ার দরকার নাই : আইনমন্ত্রী

    কোনো চিফ জাস্টিসের কেয়ারটেকার গভমেন্ট হওয়ার দরকার নাই বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুমসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে অংশীজন সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামন বলেন, সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়া বা অন্যান্য বিচারপতিদের অবসরের পর আইন কমিশনসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুযোগ পেতে কর্মক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা হারাচ্ছেন। তারা অবসরের পর হিসাব কষা শুরু করেন।

    এ সময় প্রস্তাবিত নতুন আইনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা কোনোভাবেই খর্ব বা সীমাবদ্ধ করা হবে না, বরং প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন করা হচ্ছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটি আমরা সঠিক বিবেচনা থেকেই বাদ দিয়েছি। কোনো পাবলিক পলিসি বা আইনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সব ইনস্ট্রুমেন্ট উল্লেখ করার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। এটি আইনের কার্যকারিতা বা ইনফোর্সমেন্টের ক্ষেত্রে কোনো অন্তরায় বা দুর্বলতা তৈরি করবে না।’

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বাছাই কমিটিতে থাকতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। বিচারিক কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকার কারণে তারা অপরাগতা প্রকাশ করছেন।

    উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘তথ্য কমিশনের বাছাই কমিটির জন্য আমরা দেড় মাস ধরে চিঠি পাঠিয়ে রেখেছি, কিন্তু উনাদের ব্যস্ততার কারণে এখনো কমিটিই গঠন করা সম্ভব হয়নি।’

    মন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘আমরা পার্লামেন্ট বা আইন মন্ত্রণালয়কে একেবারে উপেক্ষা করতে পারি না, কারণ এগুলো একেকটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। তবে আপনারা যদি এর চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প ও নিরপেক্ষ মেকানিজম বা পদ্ধতির প্রস্তাব দেন, আমরা অবশ্যই তা বিবেচনা করব।’

    সভায় গুমের অভিযোগ ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন একজন প্রতিনিধি। এই উদ্বেগের জবাবে আইনমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বাহিনী প্রধানের রিপোর্ট যদি কমিশনের কাছে গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে কমিশন তার নিজস্ব ক্ষমতাবলে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। এছাড়া কোনো বাহিনীর প্রধান যদি তার অধীনস্থ কাউকে বাঁচাতে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন, তবে তাকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে, যা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও আইনি পরিণতি ডেকে আনবে।’

    গুমসংক্রান্ত বিষয়ে আইনের খসড়া নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট নন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুম বিষয়ক যে অধ্যাদেশটি আনা হয়েছিল, তাতে অপরাধীরাই বেশি সুযোগ পেতো। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুমসংক্রান্ত আইন খুব শিগগিরই জনগণের সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক নেতাদের সাজা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এক ধরণের রাজনৈতিক নিপীড়ন চালানো হয়েছিল। সন্ধ্যা বা রাতের বেলা মোমবাতি জ্বালিয়ে তড়িঘড়ি করে ১০ থেকে ২০ জন সাক্ষী নিয়ে এক রাতেই সাজা দেওয়ার নজির তৈরি করা হয়েছিল, যা স্পষ্টতই মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।

  • নাসিরনগরের গোয়ালনগরে তিন খুনের মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুইজন রিমান্ডে

    নাসিরনগরের গোয়ালনগরে তিন খুনের মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুইজন রিমান্ডে


    ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ৪নং গোয়ালনগর ইউনিয়নে আলোচিত সংঘর্ষ ও তিন খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান দুই আসামিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

    রিমান্ডে নেওয়া দুই আসামি হলেন গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজহারুল হক চৌধুরী এবং গোয়ালনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাসেম মিয়া।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোয়ালনগরে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় উভয় পক্ষ পৃথক মামলা দায়ের করে। তদন্তের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে শনিবার (১৬ মে) দুই আসামিকে নাসিরনগর থানায় রিমান্ডে নেওয়া হয়।

    এর আগে চেয়ারম্যান মো. আজহারুল হক চৌধুরীকে নাসিরনগর উপজেলা সদর এলাকা থেকে বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি হত্যা মামলারও প্রধান আসামি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    অন্যদিকে, কাসেম মিয়াকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর এলাকা থেকে আটক করা হয়।

    পুলিশ জানায়, রিমান্ডে এনে দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
    উল্লেখ্য, গোয়ালনগর ইউনিয়নের এ সংঘর্ষে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

  • হামলার মধ্যেও ৩ নবজাতককে যেভাবে বাঁচালেন ইরানি নার্স

    হামলার মধ্যেও ৩ নবজাতককে যেভাবে বাঁচালেন ইরানি নার্স

    জেভি২৪ ডেস্ক

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় কেঁপে উঠছিল তেহরানের খাতাম আল-আনবিয়া হাসপাতাল। চারদিকে ধোঁয়া আর আতঙ্কে ছুটোছুটি করছিল মানুষ। সেই ভয়াবহ মুহূর্তে নিজের জীবনের কথা না ভেবে ৩ নবজাতককে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যান ইরানি নার্স নেদা সালিমি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিও এখন সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

    গত ১ মার্চ সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালের পাশের একটি সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বোমা হামলায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে হাসপাতালের জানালার কাচ ভেতরে ঢুকে পড়ে, ছাদের অংশ ভেঙে পড়ে ধুলার মেঘ তৈরি হয়। আতঙ্কিত রোগীরা ধোঁয়াভরা করিডোর দিয়ে দৌড়ে পালাতে থাকেন।

    হাসপাতালের পঞ্চম তলার নবজাতক ওয়ার্ডে তখন তিনটি শিশু শুয়ে ছিল। জন্মের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পেরিয়েছে তাদের। বিস্ফোরণের মুহূর্তে শিশুদের পাশেই বসে প্রতিবেদন লিখছিলেন নার্স নেদা সালিমি।

    তিনি বলেন, ভাবার সময় ছিল না। মাথায় শুধু একটাই চিন্তা ছিল শিশুগুলোকে নিরাপদ জায়গায় নিতে হবে।

    নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তিন নবজাতককে বুকে তুলে নিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন তিনি। চারদিকে তখন ধ্বংসাবশেষ ঝরছে।

    সাত সেকেন্ডের সেই ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিডিওতে ধরা পড়েনি পরের পরিস্থিতি। করিডোরে পৌঁছে দুই নবজাতককে সহকর্মীদের হাতে তুলে দেন তিনি। আরেক শিশুকে বুকে চেপে ধরে হাসপাতালের আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটতে থাকেন।

    নেদা বলেন, আমরা শিশুদের পুরো সময় কোলে রেখেছিলাম, যাতে তারা আঘাত না পায়। আশ্রয়কেন্দ্রে তখন শুধু ভয় আর মানুষের একে অন্যকে সাহায্য করার চেষ্টা।

    তিন শিশুর মধ্যে দুইজন ছেলে ও একজন মেয়ে। হামলার এক ঘণ্টারও কম সময় আগে তাদের জন্ম হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর মায়েরা তখনো শয্যায়। বিস্ফোরণের পর অনেকে ভেবেছিলেন, তাদের সন্তান হয়তো বেঁচে নেই।

    নেদা বলেন, অবশেষে যখন মায়েদের খুঁজে পেলাম এবং শিশুদের তাদের হাতে ফিরিয়ে দিলাম, সেটাই ছিল সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত। কয়েক মিনিটের জন্য আমরা ভুলেই গিয়েছিলাম যে বাইরে যুদ্ধ চলছে।

    ৩৬ বছর বয়সী নেদা সালিমি কেরমানশাহর বাসিন্দা। ইরান ইউনিভার্সিটি অব মেডিকেল সায়েন্সেসে নার্সিংয়ে পিএইচডির শেষ সেমিস্টারে পড়ছেন তিনি। প্রায় ১২ বছর ধরে নার্স হিসেবে কাজ করছেন। শিশু ও নবজাতক পরিচর্যায় রয়েছে এক দশকের অভিজ্ঞতা। তিনি এক ছয় বছর বয়সী সন্তানের মা।

    তিনি বলেন, নবজাতকদের সঙ্গে প্রতিদিন কাজ করতে করতে তাদের প্রতি এক ধরনের দায়িত্ববোধ তৈরি হয়। মা হওয়ায় সেই অনুভূতি আরও গভীর হয়েছে।

    নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে কাজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে নেদা বলেন, এক মুহূর্তে হয়তো কোনো শিশুকে বাঁচানো যায় না, আর কিছুক্ষণ পর আরেক মাকে হাসিমুখে বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিতে হয়। এখানে শোক আর আশার মধ্যে প্রতিনিয়ত চলাফেরা করতে হয় আমাদের।

    যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও হাসপাতালের কর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মার্চের হামলার আগে ২০২৫ সালের জুনের ১২ দিনের যুদ্ধেও নবজাতকদের সরিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল নেদার।

    তিনি বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে বসে আমি আল্লাহর কাছে কয়েক মিনিট সময় চেয়েছিলাম। শুধু এতটুকু, যাতে শিশুদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারি। এরপর যদি মৃত্যু আসে, তাতেও আপত্তি ছিল না।

    ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রাতারাতি আলোচনায় চলে আসেন নেদা। প্রতিবেশীরা বাড়িতে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছেন। হাসপাতালেও ফোনের পর ফোন এসেছে।

    তবে নেদা মনে করেন, এটি কোনো একার সাহসিকতা নয়। সেদিন আমার সব সহকর্মী সাহসিকতার সঙ্গে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

    এখনও তিনি তিন শিশুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তার জানা মতে, তিনজনই সুস্থ আছে। নেদা বলেন, এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ। তিনটি ছোট হৃদস্পন্দন এখনও চলছে।

    যুদ্ধের পরও নার্সদের ওপর মানসিক চাপ ও সংকট রয়ে গেছে বলে জানান তিনি। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, জনবল সংকট, অর্থনৈতিক চাপ এবং যুদ্ধের মানসিক ক্ষত বয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাদের।

    নেদা বলেন, যখন চারদিকে বোমা পড়ে আর কেউ আপনাকে বাঁচাতে আসে না, তখন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আশার আলো জ্বালানোই আসল দায়িত্ব। একজন ভালো নার্সের শুধু দক্ষতা নয়, মানবিক হৃদয়ও থাকতে হয়।

    ভবিষ্যতে বড় হয়ে যদি সেই শিশুরা একদিন জানতে পারে জন্মের প্রথম ঘণ্টায় কী ঘটেছিল। তিনি চান তারা বুঝুক, তাদের জীবন এক অলৌকিক উপহার।

    মৃদু হাসি দিয়ে নেদা বলেন, আমি চাই তারা শক্ত ও মানবিক মানুষ হয়ে উঠুক। তাহলেই মনে হবে, সবকিছু সার্থক ছিল।

    সূত্র : প্রেস টিভি