জেভি২৪ ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য বা প্রস্তাবিত চুক্তিতে সই করবেন কি না, তা নির্ধারণ করতে নিজের উপদেষ্টাদের নিয়ে হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ জরুরি বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রায় দুই ঘণ্টার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, সমঝোতার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। তবে ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।
ট্রাম্প বলেছেন, তাদের (ইরানকে) অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির উভয় দিকে অবাধ নৌযান চলাচলের জন্য খুলে দিতে হবে।
বড় ধরনের সংকট মোকাবিলায় হোয়াইট হাউসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে ইরান জানিয়েছিল, তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা করছে না।
বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন কোনো চুক্তিই করবেন না যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকের (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) খসড়ায় একমত হয়েছিল। তবে সেটি কার্যকর হতে ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অনুমোদন প্রয়োজন। প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্র সরিয়ে নিয়ে ধ্বংস করবে। তবে আলোচনায় থাকা সমঝোতা স্মারকে এমন কোনো শর্ত অন্তর্ভুক্ত নেই বলে জানা গেছে।
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনায় উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।
গতকাল শুক্রবার সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নিতে তিনি প্রস্তুত। এর ফলে সেখানে আটকে থাকা জাহাজগুলো নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারবে।
ট্রাম্প বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ লেনদেন হবে না। তবে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে ‘সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ’ রয়েছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক উপকরণ ধ্বংসের কোনো শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য যুদ্ধের অবসান। পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো আলোচনা চলছে না।
হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুম’ হলো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে সুরক্ষিত এবং উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন একটি গোয়েন্দা কেন্দ্র। এটি মূলত একটি কমান্ড সেন্টার, যেখানে বসে প্রেসিডেন্ট এবং তার জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।










