Author: Jvadmin

  • কবরস্থানের জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি, দুই গ্রামের মানুষের ক্ষোভ

    কবরস্থানের জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি, দুই গ্রামের মানুষের ক্ষোভ

     

    ফরিদপুর প্রতিনিধি

    ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের পাঁচকাইচাইল গ্রামে দুই গ্রামের মানুষের ব্যবহৃত একটি কবরস্থানের জমি নিয়ে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত কবরস্থানের জমি গোপনে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন সারোয়ার মাতুব্বর নামে এক ব্যক্তি।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাঝিকান্দা ও পাঁচকাইচাইল গ্রামের মানুষের জন্য প্রায় ২৮ বছর আগে নির্ধারিত এই কবরস্থানটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছেন দুই গ্রামের বাসিন্দারা। কবরস্থানটিতে ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন মৃত ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তবে সম্প্রতি সারোয়ার মাতুব্বর ওই জমির মালিকানা নিজের নামে নিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু জমির মালিকানা দাবি করেই থেমে থাকেননি তিনি। কবরস্থানের একটি অংশে বাথরুম নির্মাণ করা হয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

    স্থানীয়রা বলেন, “মৃত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল কবরস্থান। সেই জায়গা নিয়ে এমন বিরোধ এবং দখলের চেষ্টা সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।”

    এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

    অভিযুক্ত সারোয়ার মাতুব্বর বলেন, “আমি জমির প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে অনেক আগেই মৌখিকভাবে জমিটি ক্রয় করেছি। তবে প্রায় এক মাস আগে জমিটি রেজিস্ট্রেশন করে নিজের নামে দলিল করেছি। এখন গ্রামবাসী আমার জমি ফেরত চাইছে।”

    তবে কবরস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন ব্যবহৃত জমি কেন তিনি এত বছর পর নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করলেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

    বুধবার (৪ জুন) কাইচাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা খান এবং নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদের উদ্যোগে বিষয়টির সমাধান এবং জমি উদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

    কাইচাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা খান বলেন, “গ্রামের মুরুব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আমরা বিষয়টির সমাধানে কাজ করছি। কবরস্থানের জমি উদ্ধার এবং গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানে পৌঁছানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।”

    নগরকান্দা থানার ওসি রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, “কবরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধের কারণে যাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে পুলিশ টিম নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।”

    এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্রুত ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের মাধ্যমে কবরস্থানের জমি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পেলেন ৫ জন ডিআইজি

    অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পেলেন ৫ জন ডিআইজি

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ডিআইজি থেকে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক হলেন পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    পদোন্নতিপ্রাপ্তরা হলেন, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, এনএসআই পরিচালক (ডিআইজি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অ্যাডমিন) ফারুক আহমেদ এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর যোগদানপত্র দাখিল করবেন।

  • খোকসায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

    খোকসায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

    স্টাফ রিপোর্টার

    কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা, পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকাল ৫ টায় পৌর বিএনপির কার্যলয়ে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

    উপজেলা, পৌর বিএনপি অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র যুগ্ন-আহবায়ক, সাবেক পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাফিজ আহমেদ খান রাজু।

    দোয়া মাহফিল শেষে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।

  • ৩ জেলায় প্রশাসক নিয়োগ

    ৩ জেলায় প্রশাসক নিয়োগ

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    সিরাজগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা ও সাতক্ষীরা জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ।

    প্রজ্ঞাপনের তথ্যানুযায়ী, সিরাজগঞ্জে মো. সাইফুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গায় মো. শরীফুজ্জামান এবং সাতক্ষীরা জেলা পরিষদে মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

    প্রজ্ঞাপন বলা হয়, নতুন জেলা পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত উল্লিখিত ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    নিয়োগ করা প্রশাসকরা আইন অনুযায়ী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া তারা বিধি অনুযায়ী বেতন–ভাতা পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • বুড়িচংয়ে পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে আহত; দুই নারী গ্রেপ্তার

    বুড়িচংয়ে পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে আহত; দুই নারী গ্রেপ্তার

     

    কুমিল্লা প্রতিনিধি 

    কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে এক পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের ইকবাল হোসেনের স্ত্রী লিজা আক্তার এবং নেয়ামুল কবিরের স্ত্রী শেফালী বেগম।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টার দিকে বুড়িচং উপজেলার রামচন্দ্রপুর পূর্বপাড়া এলাকায় একটি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযোগ এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে তদন্তে যায় দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল।

    পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত কনস্টেবল মো. ফোরকানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

    পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    ঘটনার খবর পেয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে ওসি লুৎফুর রহমান জানান, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মারামারির ঘটনায় ৯৯৯-এর কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা প্রদান এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • নানার বাড়ি থেকে ফেরার পর নিখোঁজ, খালে মিলল যুবকের লাশ

    নানার বাড়ি থেকে ফেরার পর নিখোঁজ, খালে মিলল যুবকের লাশ

    নোয়াখালী প্রতিনিধি

    নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর সাদ্দাম হোসেন (২৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ব্রিজের নিচে খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত সাদ্দাম একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাসানপুর গ্রামের আরজু মেম্বার বাড়ির হকসাবের ছেলে।

    নিহতের মামা মো. ইমাম আলী জানান, সাদ্দাম চট্টগ্রামে ইগলু কোম্পানিতে চাকরি করতেন। ঈদের ছুটিতে সাদ্দাম বাড়িতে এসেছিলেন। ঈদের আগে আবুধাবি থেকে তার মেজো মামা আইয়ুব দেশে ফেরেন। বুধবার বিকেলে সাদ্দাম সাইকেলে করে শরীফপুর ইউনিয়নের গয়েজপুর গ্রামের রুস্তম আলী বেপারী বাড়িতে মামার সঙ্গে দেখা করতে যান। রাত ৯টার দিকে তিনি সেখান থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। তবে রাত ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা জানায় তিনি এখনও বাড়ি ফেরেননি। এরপর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

    তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এক ব্যক্তি ফোন করে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের নিচে খালে একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা মরদেহটি সাদ্দামের বলে শনাক্ত করেন। তার দাবি, মরদেহের হাত, নাক ও কান রক্তাক্ত ছিল।

    বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থলে সাদ্দামের মোবাইল ফোন ও হাতঘড়ি পাওয়া গেলেও তার ব্যবহৃত সাইকেলটি পাওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

  • র‍‍্যাবের অভিযানে পেকুয়ায় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ অস্ত্রধারী গ্রেফতার

    র‍‍্যাবের অভিযানে পেকুয়ায় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ অস্ত্রধারী গ্রেফতার

    কক্সবাজার প্রতিনিধি

    কক্সবাজারের পেকুয়ায় অভিযান চালিয়ে ২টি দেশীয় তৈরি ব্যারেল সংযুক্ত একনালা বন্দুক, গোলাবারুদ ও কার্তুজসহ এক অস্ত্রধারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১৫।

    র‌্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পেকুয়া উপজেলার শিলখালী গ্রামস্থ কাছেমুল উলুম মাদ্রাসা, হেফজখানা ও এতিমখানা মসজিদের সংলগ্ন পাকা তিন রাস্তার মোড়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান চলাকালে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে একজন পেশাদার অস্ত্রধারীকে আটক করা হয়। পরে তার হেফাজতে তল্লাশি চালিয়ে ২টি দেশীয় তৈরি ব্যারেল সংযুক্ত একনালা বন্দুক, ২টি তাজা বন্দুকের কার্তুজ, ২টি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা এবং ৫ রাউন্ড পিস্তলের তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি পেকুয়া উপজেলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি ঘোনা এলাকার মৃত আব্দুল হকের ছেলে আহম্মদ নুর বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

    র‌্যাব-১৫ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে পেকুয়া থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
    র‌্যাব-১৫ আরও জানিয়েছে, সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে তাদের চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • নোয়াখালীতে মেকানিক দোকানেই চলছিল মাদক কারবার, গ্রেপ্তার-১

    নোয়াখালীতে মেকানিক দোকানেই চলছিল মাদক কারবার, গ্রেপ্তার-১

    নোয়াখালী প্রতিনিধি

    নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ৭০০ পিস ইয়াবা, ৭ কেজি গাঁজা ও মাদক বিক্রির নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ মাদক কারবারি মো.আব্দুল হামিদ (৪৫) কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার উপজেলার নোয়াখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহব্বতপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    গ্রেপ্তার হামিদ একই ওয়ার্ডের হামিদ মিয়ার বাড়ির মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় মহব্বতপুর এলাকায় আব্দুল হামিদের মেকানিক দোকানে অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় দোকান তল্লাশি করে ৭০০ পিস ইয়াবা, ৭ কেজি গাঁজা এবং মাদক বিক্রির নগদ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় হামিদকে আটক করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মেকানিক দোকানের আড়ালে মাদক কারবার করে আসছিলেন।

    জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ মো. মহিউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধারকৃত মাদক ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। ওই মামলায় আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল

  • কবরের তিন গাছ চুরি, গ্রামজুড়ে ফুলগাছ রোপণে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শামীম আহমেদ

    কবরের তিন গাছ চুরি, গ্রামজুড়ে ফুলগাছ রোপণে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শামীম আহমেদ

    ফরিদপুর প্রতিনিধি

    দাদি ও বাবার কবরের পাশে শখ করে লাগানো তিনটি ফুলগাছ চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রতিশোধ বা ক্ষোভের পথ বেছে নেননি এক যুবক। বরং সেই কষ্টকে ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তর করে পুরো গ্রামজুড়ে ১ হাজার ৫০০ ফুলগাছ রোপণ করে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের হাওলাদার শামীম আহমেদ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে নিজের দাদি ও বাবার কবরের পাশে হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী ফুলের তিনটি চারা রোপণ করেন শামীম। নিয়মিত পরিচর্যায় গাছগুলো বড় হয়ে ওঠে এবং একটি গাছে ফুলও ফুটেছিল। কিন্তু ফুল ফোটার পরদিন সকালে কবরস্থানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তিনটি গাছই চুরি হয়ে গেছে।

    ঘটনায় ব্যথিত হলেও চোরকে খুঁজে বের করা কিংবা প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করেননি তিনি। বরং সিদ্ধান্ত নেন, শুধু একটি স্থানে নয়, পুরো গ্রামেই ফুলগাছ ছড়িয়ে দেবেন।
    সেই ভাবনা থেকেই নিজ অর্থায়নে শ্রমিক নিয়োগ করে পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের ৫০০টি বাড়ির সামনে তিনটি করে মোট ১ হাজার ৫০০টি ফুলগাছ রোপণ করেন তিনি। প্রতিটি বাড়ির সামনে লাগানো হয়েছে হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলীর চারা।

    দিনভর বাড়ি বাড়ি ঘুরে গাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছে গাছগুলোর পরিচর্যার আহ্বান জানান শামীম। তাঁর এই উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী। তাদের বিশ্বাস, কয়েক মাসের মধ্যেই ফুলের সুবাসে ভরে উঠবে পুরো গ্রাম এবং নতুন সৌন্দর্যে সেজে উঠবে জনপদটি।

    স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ব্যক্তিগত ক্ষতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো গ্রামের কল্যাণে এমন উদ্যোগ সত্যিই বিরল। এটি সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়াবে এবং অন্যদেরও পরিবেশবান্ধব কাজে উৎসাহিত করবে।

    হাওলাদার শামীম আহমেদ বলেন, “আমি মনে করেছি, যে ব্যক্তি গাছগুলো চুরি করেছে, সে হয়তো ফুল ভালোবাসে। তাই তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করিনি। বরং এমন ব্যবস্থা করেছি, যাতে পুরো গ্রামেই ফুলগাছ থাকে। এমনও হতে পারে, আমার লাগানো গাছ চোরের বাড়িতেও পৌঁছে গেছে। সে যদি বিষয়টি দেখে অনুতপ্ত হয় এবং ভবিষ্যতে আর এমন কাজ না করে, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

    তিনি আরও বলেন, “আমার লক্ষ্য শুধু একজন চোরকে শিক্ষা দেওয়া নয়, বরং মানুষকে সবুজায়নের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। ভবিষ্যতে সদরপুর উপজেলার প্রতিটি গ্রামে ফুল ও ঔষধি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পরিবেশ রক্ষা হবে, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং গ্রাম হবে আরও সুন্দর।”

    ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকের মতে, নেতিবাচক একটি ঘটনার এমন ইতিবাচক সমাধান সমাজে সৌহার্দ্য, পরিবেশ সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • জীবননগরে যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে লাথি, গর্ভেই ঝরে গেল ৭ মাসের সন্তান

    জীবননগরে যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে লাথি, গর্ভেই ঝরে গেল ৭ মাসের সন্তান

     

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা যৌতুক না পেয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধর ও পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে এক মাদকাসক্ত স্বামী বিপ্লবের (২৪) বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর গর্ভে থাকা সাত মাসের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনাটি ঘটেছে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের কয়া গ্রামে।

    অভিযুক্ত মাদকাসক্ত স্বামী বিপ্লব উপজেলার কয়া গ্রামের সাহাবুলের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, বিপ্লবের সঙ্গে একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে শিখা খাতুনের (১৮) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিপ্লব বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর কাছে যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন দাবি করে আসছিলো। এসব দাবি পূরণ না হওয়ায় শিখার ওপর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত বলে অভিযোগ রয়েছে বিপ্লবের বিরুদ্ধে।

    অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার (৩১ মে) রাতে স্বামী সাইফুল ইসলাম যৌতুকের দাবীতে স্ত্রী শিখা খাতুনকে বেধড়ক মারধর করে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার (২ জুন) দিনগত রাত প্রায় ১০টার দিকে বিপ্লব বাজার থেকে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। এক পর্যায়ে সে এক লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন দাবি করে।

    এ সময় শিখা খাতুন জানায়, তার বাবা একজন দরিদ্র মানুষ এত টাকা বা মূল্যবান জিনিসপত্র দেওয়া সম্ভব নয়। এ কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে বিপ্লব স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করে এবং তার পেটে জোরে লাথি মারে। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে শিখা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

    পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার গর্ভে থাকা সাত মাসের সন্তান গর্ভপাত হয়।

    ভুক্তভোগী শিখা খাতুন বলেন, আমার স্বামী আমার বাবার আর্থিক অবস্থা জেনেশুনেই আমাকে বিয়ে করেছে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই টাকা, মোবাইল ও মোটরসাইকেলের জন্য চাপ দিতে থাকে। দাবি পূরণ করতে না পারায় আমাকে প্রায়ই মারধর করত। ঘটনার দিন পেটে লাথি মারার পর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। হাসপাতালে নেওয়ার পর জানতে পারি আমার সাত মাসের সন্তান আর বেঁচে নেই।

    এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। যৌতুকের দাবিতে এমন নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।