Author: Jvadmin

  • জীবননগরে যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে লাথি, গর্ভেই ঝরে গেল ৭ মাসের সন্তান

    জীবননগরে যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে লাথি, গর্ভেই ঝরে গেল ৭ মাসের সন্তান

     

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা যৌতুক না পেয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধর ও পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে এক মাদকাসক্ত স্বামী বিপ্লবের (২৪) বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর গর্ভে থাকা সাত মাসের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনাটি ঘটেছে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের কয়া গ্রামে।

    অভিযুক্ত মাদকাসক্ত স্বামী বিপ্লব উপজেলার কয়া গ্রামের সাহাবুলের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, বিপ্লবের সঙ্গে একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে শিখা খাতুনের (১৮) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিপ্লব বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর কাছে যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন দাবি করে আসছিলো। এসব দাবি পূরণ না হওয়ায় শিখার ওপর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত বলে অভিযোগ রয়েছে বিপ্লবের বিরুদ্ধে।

    অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার (৩১ মে) রাতে স্বামী সাইফুল ইসলাম যৌতুকের দাবীতে স্ত্রী শিখা খাতুনকে বেধড়ক মারধর করে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার (২ জুন) দিনগত রাত প্রায় ১০টার দিকে বিপ্লব বাজার থেকে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। এক পর্যায়ে সে এক লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন দাবি করে।

    এ সময় শিখা খাতুন জানায়, তার বাবা একজন দরিদ্র মানুষ এত টাকা বা মূল্যবান জিনিসপত্র দেওয়া সম্ভব নয়। এ কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে বিপ্লব স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করে এবং তার পেটে জোরে লাথি মারে। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে শিখা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

    পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার গর্ভে থাকা সাত মাসের সন্তান গর্ভপাত হয়।

    ভুক্তভোগী শিখা খাতুন বলেন, আমার স্বামী আমার বাবার আর্থিক অবস্থা জেনেশুনেই আমাকে বিয়ে করেছে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই টাকা, মোবাইল ও মোটরসাইকেলের জন্য চাপ দিতে থাকে। দাবি পূরণ করতে না পারায় আমাকে প্রায়ই মারধর করত। ঘটনার দিন পেটে লাথি মারার পর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। হাসপাতালে নেওয়ার পর জানতে পারি আমার সাত মাসের সন্তান আর বেঁচে নেই।

    এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। যৌতুকের দাবিতে এমন নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

  • ইনসুলেটর ক্র্যাকে নাসিরনগরে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, নৌকা খুঁজছে কারিগরি দল

    ইনসুলেটর ক্র্যাকে নাসিরনগরে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, নৌকা খুঁজছে কারিগরি দল

     

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় ধরন্তি হাওর এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ইনসুলেটর ক্র্যাক হয়ে ফ্ল্যাশিং হওয়ায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুন্ডা ডিএস (ডিসকানেক্ট সুইচ) কেটে ট্রায়াল নেওয়ার সময় সঞ্চালন লাইনে ফ্ল্যাশিং ধরা পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লাইনের কোনো একটি ইনসুলেটর ক্ষতিগ্রস্ত বা ক্র্যাক হওয়ার কারণে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তবে ত্রুটির সুনির্দিষ্ট স্থান শনাক্ত করতে কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

    মেরামতে বাধা নৌযান সংকট

    ত্রুটিপূর্ণ স্থানটি ধরন্তি হাওরের মাঝামাঝি এলাকায় হওয়ায় সেখানে পৌঁছাতে নৌকার প্রয়োজন হচ্ছে। কারিগরি দল ইতোমধ্যে নৌকার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নৌযান পাওয়া গেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামতের কাজ শুরু করা হবে। দ্রুত সমাধানের আশ্বাস

    বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কারিগরি দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

    এদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নাসিরনগরের বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ বিভাগ গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ বলছে, ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামত সম্পন্ন হলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।

  • ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য আটক

    ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য আটক

    দিনাজপুর প্রতিনিধি 

    দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন ২৯ বিজিবি কতৃক মাদকদ্রব্য আটক করা হয়েছে।

    ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এর অধীনস্থ আমতলী, তাজপুর বিওপি, কাটলা এবং বিরামপুর বিশেষ ক্যাম্প কর্তৃক পৃথক পৃথক ০৪টি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশর অভ্যন্তরে মালিকবিহীন অবস্থায় ৮৮৯ বোতল বাংলাদেশী যৌন উত্তেজক সিরাপ আটক করে। আটককৃত চোরাচালানী মালামালের সিজার মূল্য- ১,৩৩,৩৫০/- (এক লক্ষ তেত্রিশ হাজার তিনশত পঞ্চাশ) টাকা।

    বিজিবি কতৃক তথ্য সুএে জানান, ভবিষ্যতেও বিজিবি কর্তৃক চোরাচালান প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল আটক এবং আসামী আটকের কার্যক্রম অব্যহত থাকবে।

  • বিশ্বকাপ শুরু না হতেই ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

    বিশ্বকাপ শুরু না হতেই ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

    স্পোর্টস ডেস্ক 

    ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে একের পর এক বিতর্ক যেন থামছেই না।  টিকিটের উচ্চমূল্য ও ইরানের ভিসা জটিলতার মতো ইস্যুর পর এবার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।  সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বকাপের সব স্টেডিয়ামে দর্শকরা কোনো ধরনের পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল সঙ্গে নিতে পারবেন না। 

    এর আগে নির্দেশিকায় বলা ছিল, সর্বোচ্চ এক লিটার ধারণক্ষমতার স্বচ্ছ ও খালি প্লাস্টিক বোতল স্টেডিয়ামে আনা যাবে।  তবে নতুন নিয়মে সেই সুযোগও বাতিল করা হয়েছে।  এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক সমর্থক এটিকে অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত কড়াকড়ি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, বোতল ছুড়ে মারার মতো ঘটনার মাধ্যমে মাঠে থাকা খেলোয়াড়, রেফারি বা দর্শকদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।

    একই সঙ্গে ফিফা জানিয়েছে, স্টেডিয়ামগুলোর ভেতরে দর্শকদের জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি থাকবে কুলিং টেন্ট, মিস্টিং জোন এবং ফ্যান জোনের মতো সুবিধা। প্রয়োজন অনুযায়ী বোতলজাত পানি বিক্রিও করা হবে।

    তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আবহাওয়াবিদদের একাংশ।  তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন স্টেডিয়ামে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে খেলা হওয়ায় পর্যাপ্ত পানির সহজলভ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  বিশেষ করে খোলা স্টেডিয়ামে দীর্ঘ সময় দর্শক ও খেলোয়াড়দের অবস্থানের কারণে হিট স্ট্রেসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

  • দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। 

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছান।

    বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদসহ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারা।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী  পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচিত হওয়া বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবময় অর্জন।তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।

    তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচিত হওয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান মর্যাদা, কূটনৈতিক সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার বহিঃপ্রকাশ।আমি বিশ্বাস করি, তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা জাতিসংঘের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ফলপ্রসূ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে তার সফলতা ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

    নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচনে খলিলুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয়তাবিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিস। সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দুই প্রার্থীকে ভোট দেন। নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে একশ ৯০টি। খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯ ভোট এবং সাইপ্রাসের কাকাউরিস পেয়েছেন ৯১ ভোট। আট ভোটের ব্যবধানে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে হারিয়েছেন খলিলুর রহমান।

    দীর্ঘ ৪০ বছর পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ এই পদে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।

  • সীমান্তে পুশইন চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

    সীমান্তে পুশইন চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ কর্তৃক অবৈধভাবে পুশইনের ১০টি পৃথক অপচেষ্টা সফলভাবে রুখে দিয়েছে বিজিবি।

    ঝিনাইদহে বিজিবির মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্ত এলাকায় ৪-৫ জন ব্যক্তি বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে বাধা প্রদান করে। তারা পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।

    মহেশপুরের সামন্তা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের একটি প্রিজন ভ্যানে করে প্রায় ৩০-৩৫ জন ব্যক্তিকে সীমান্ত গেট খুলে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবি টহলদল ও স্থানীয় জনসাধারণের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ উক্ত ব্যক্তিদের পুনরায় ভ্যানে তুলে অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

    বিজিবির খুলনা ব্যাটালিয়নের (২১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্ত এলাকায় কয়েকজন নারী-পুরুষকে পুশইনের উদ্দেশে সীমান্তের কাছে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিজিবির প্রতিরোধমূলক তৎপরতার ফলে বিএসএফ তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

    জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের (২০ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ ব্যক্তিকে একত্রিত করে পুশইনের প্রস্তুতির তথ্য পাওয়া যায়। পুশইন প্রতিরোধে বিজিবির তাৎক্ষণিক সতর্কতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করার ফলে বিএসএফের পুশইন অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৩ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের বিপরীতে ১৪৯ ও ৭১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ ক্যাম্পের নিকটবর্তী ৩টি হোল্ডিং সেন্টারে এসআইআর তালিকা থেকে বাদ পড়া ৪ নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশে রাখা হয়েছে বলে গোয়েন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সূত্রে জানা যায়।

    পঞ্চগড়ের ব্যাটালিয়নের (১৮ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ রওশনপুর সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক ১ ব্যক্তিকে পুশইন করা হলে স্থানীয় জনগণ তাকে আটক করে বিজিবিকে অবহিত করে। পরবর্তীতে বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায়।

    সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ উৎমাছড়া সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন ২ ব্যক্তিকে স্থানীয় জনগণ আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করার পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভারতে পুশব্যাক করা হয়।

  • লঞ্চঘাটে অবৈধ চাঁদার প্রতিবাদ, ভোগান্তিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

    লঞ্চঘাটে অবৈধ চাঁদার প্রতিবাদ, ভোগান্তিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

     

    ববি প্রতিনিধি

    চাঁদপুর লঞ্চঘাটে রশিদবিহীন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং এর প্রতিবাদ করায় এক যাত্রীসহ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ঘাটের ইজারাদার মোস্তফা মাল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    এতে আহত হয়েছেন যাত্রী মো. সজীব সন্ন্যামাত এবং ববি শিক্ষার্থী ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. মাসুদ রানা। ঘটনার পর চাঁদপুর সদর থানায় দুইটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন দুই ভুক্তভোগী। জিডির ট্র্যাকিং নম্বর যথাক্রমে LC6MJO এবং 8NHNOO। এছাড়াও চাঁদপুর নৌ থানায় মৌখিক অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

    ‎প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বরিশালগামী সুন্দরবন-১২ লঞ্চে দুটি মোটরসাইকেল উঠাতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ঘাটের লোক পরিচয় দিয়ে রশিদ বিহীন কয়েকশ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

    ‎ভুক্তভোগীদের দাবি, টাকা আদায়ের বিপরীতে কোনো রশিদ দেখানো হয়নি। রশিদ ছাড়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বাকবিতন্ডার মধ্যে এক পর্যায়ে তারা মারধরের শিকার হয়।

    ‎জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যাত্রী মো. সজীব সন্ন্যামাত মোটরসাইকেল নিয়ে বরিশালে ফেরার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে পৌঁছালে তার কাছে দুই হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে ঘাটের কয়েকজন লোক। এসময় রশিদবিহীন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ও রশিদ চাওয়ায় কয়েকজন ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় তার কাছে ছবি ও ভিডিও প্রমাণ রয়েছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ‎একই ঘটনায় দায়ের করা অপর জিডিতে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাসুদ রানা উল্লেখ করেন, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থল বরিশালে ফেরার পথে তিনি ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল নিয়ে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে পৌঁছান। সুন্দরবন-১২ লঞ্চে মোটরসাইকেল উঠাতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা আদায়ের কারণ ও রশিদ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা রশিদ ছাড়া টাকা দিতে চাপ দেন।

    পরে তিনি সাংবাদিক পরিচয় দিলে তাকে লঞ্চে উঠতে বলা হয়। ইতোমধ্যে অপর মোটরসাইকেল আরোহী সজীব সন্ন্যামাতও রশিদ ছাড়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তখন হঠাৎ ইজারাদার মোস্তফা মাল ঘটনাস্থলে এসে সজীবকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে সাংবাদিক মাসুদ রানার কাছেও এসে রশিদ ছাড়া টাকা না দেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং শারীরিক হামলা চালানো হয় বলে জিডিতে উল্লেখ রয়েছে।

    এতে তার কান, গলা, মুখ, হাত ও পায়ে আঘাত লাগে এবং মোটরসাইকেলেরও ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সুন্দরবন-১২ লঞ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জিডিতে দাবি করা হয়েছে।

    ‎ভুক্তভোগী মো. সজীব সন্ন্যামাত বলেন, আমি লঞ্চে মোটরসাইকেল উঠাতে গেলে তিন-চারজন ব্যক্তি আমার কাছে দুই হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি তাদের কাছে রশিদ চাইলে তারা কোনো রশিদ দেখাতে পারেননি। রশিদবিহীন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করেন। এ সময় আমার বোন আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে রশিদ ছাড়াই টাকা পরিশোধ করে মোটরসাইকেলসহ লঞ্চে উঠতে হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

    ‎হামলার শিকার ববি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক মাসুদ রানা বলেন, বাসা থেকে কর্মস্থল বরিশালে যাওয়ার পথে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে আমার ও আরেক যাত্রীর দুটি মোটরসাইকেল লঞ্চে তুলতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি কোনো রশিদ ছাড়াই বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করেন। রশিদ ছাড়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন এবং গালিগালাজ করেন। পরে আমি পেশাগত পরিচয় দিলে মোস্তফা মাল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে হঠাৎ করে এসে কোনো কথা না শুনেই ইজারাদার মোস্তফা মাল আমাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। এতে আমার কান, গলা, মুখ, হাত ও পায়ে আঘাত লাগে। পড়ে গিয়ে বাইক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।

    ‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত চাঁদাবাজ ঘাট ইজারাদার মোস্তফা মাল তার ভুল শিকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন।

    চাঁদপুর নৌ থানার ওসি ইকবাল বলেন, হামলার বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। এছাড়া জিডির কপিও হাতে পেয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর মুখ খুললেন দীপেন দেওয়ান

    মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর মুখ খুললেন দীপেন দেওয়ান

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের পর প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। এক বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের উদ্দেশ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    বুধবার (৩ জুন) রাত ৯টার ফেসবুক একাউন্টের টাইমলাইনে প্রদত্ত এক বার্তায় তিনি লিখেন, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে আমার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে যে আবেগ, উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে আমি গভীরভাবে অবগত রয়েছি।

    আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল পাহাড়ি, বাঙালি এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি যে, আপনারা শান্ত থাকুন, ধৈর্য ধারণ করুন এবং আইন-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন। কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখুন।

    আমি বিশ্বাস করি, পার্বত্য চট্টগ্রাম আমাদের সবার। এই অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্বও আমাদের সবার। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সকল জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় হোক- এটাই আমার প্রত্যাশা।

    আমি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করছি যে, আমার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা আমার রাজনৈতিক জীবনের প্রেরণা। আমি দেশনেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহ, দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছি। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আমি বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছি।

    আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আমার রাজনৈতিক আদর্শের ঠিকানা। আমি জীবনের অবশিষ্ট সময়ও এই প্রিয় দল, এর আদর্শ এবং দেশের জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে যেতে চাই। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যেকোনো পরিস্থিতিতেই আমি দলের প্রতি আমার আনুগত্য ও অঙ্গীকার অটুট রাখব। এই দল আমি কখনো ত্যাগ করব না।

    আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ব্যক্তি নয়, জনগণের কল্যাণই সবচেয়ে বড় বিষয়। তাই আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জনগণের কাছে আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। মত-পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বিভেদ নয়, প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু সংঘাত নয়। আমার একান্ত কামনা, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করুক, উন্নয়নের সুফল ভোগ করুক এবং এই অঞ্চল সম্প্রীতি, স্থিতিশীলতা ও শান্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে উঠুক।

    পরিশেষে বলতে চাই- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান নেতৃত্বের প্রতি আমি  পূর্ণ আস্থাশীল, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে চাই। আমি আবারো দীপ্ত কন্ঠে ঘোষণা করছি- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আমার শেষ ঠিকানা।

    সকলের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইল। সবার আগে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

  • হবিগঞ্জে বাংলাদেশ স্কাউটসের জেলা মাল্টিপারপাস ওয়ার্কশপ-২০২৬ অনুষ্ঠিত

    হবিগঞ্জে বাংলাদেশ স্কাউটসের জেলা মাল্টিপারপাস ওয়ার্কশপ-২০২৬ অনুষ্ঠিত

     

    হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ স্কাউটস, হবিগঞ্জ জেলার উদ্যোগে জেলা মাল্টিপারপাস ওয়ার্কশপ-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩ জুন ২০২৬) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের স্কাউট নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

    কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন হবিগঞ্জ জেলার সম্মানিত জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, স্কাউটিং তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে। দেশ গঠন ও সমাজ উন্নয়নে স্কাউট সদস্যদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সৈয়দ মুনিম আহমদ। তিনি স্কাউট আন্দোলনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তুলতে স্কাউটিংয়ের গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন।

    কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং বাংলাদেশ স্কাউটস, হবিগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি পাপিয়া আক্তার। তিনি কর্মশালার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য তুলে ধরে জেলার স্কাউট কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ সময় বাংলাদেশ স্কাউটসের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ, স্কাউটার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় স্কাউটিং কার্যক্রমের উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, নেতৃত্ব বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।

  • জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কাজ কী?

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কাজ কী?

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের সদস্য ১৯০টি দেশের গোপন ভোটাভুটিতে ৯৯ ভোট পেয়ে এই পদে জয়লাভ করেছেন তিনি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পেয়েছেন ৯১ ভোট। অর্থাৎ আট ভোটে জিতেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    এর মধ্য দিয়ে সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে দ্বিতীয়বারের মতো বসতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি। ৪০ বছর আগে ১৯৮৬ সালে সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।

    আগামী আটই সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ৮১তম অধিবেশনের এক বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন মি. রহমান। তবে কোন কোন দেশ বাংলাদেশকে ভোট দিয়েছে, তা জানা সম্ভব নয়। কারণ এই নির্বাচন গোপন ব্যালটে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র একটি করে ভোট দেয়, কিন্তু কোন দেশ কাকে ভোট দিয়েছে তা সাধারণত প্রকাশ করা হয় না।

    ব্রাজিল আগেই প্রকাশ্যে বাংলাদেশের প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিল এবং অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন বা ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে প্রচারণা চালানোর ঘোষণা দিয়েছিল। তাই ধারণা করা যায়, ওআইসিভুক্ত অনেক দেশ সমর্থন করেছে বাংলাদেশকে।

    ফলে মানুষের মাঝে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে যে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে মি. রহমান কী কাজ করবেন? তার দায়িত্ব কী কী? এই দায়িত্বই বা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

    সভাপতির কাজ

    জাতিসংঘের পাঁচটি আঞ্চলিক গোষ্ঠী পর্যায়ক্রমে এই সভাপতি পদে প্রতিনিধিত্ব করেন। এবারে সাধারণ পরিষদের এই ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্বের দায়িত্ব পড়েছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গোষ্ঠীর ভাগে।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির প্রধান কাজ হলো, সাধারণ পরিষদের অধিবেশন পরিচালনা করা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনাকে সমন্বয় করা। নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে সকল রাষ্ট্রকে আস্থায় এনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি।

    সাধারণ পরিষদের সভাপতি জাতিসংঘের প্রধান নির্বাহী নন। জাতিসংঘের প্রশাসনিক প্রধান হলেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সাধারণ পরিষদের সভাপতি মূলত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন।

    প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনে ১৬৫টির মতো এজেন্ডা বা আলোচ্য সূচি থাকে। এখানে সভাপতির কাজ হলো এজেন্ডাগুলোর ওপর ডিসকাশন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই অধিবেশনে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা অংশ নেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা ও আলোচনার পরে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার কাজটিও করেন সভাপতি।

    আর্থিক দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও পালন করতে হয়। একটি হলো- পিস কিপিং বাজেট এবং অন্যটি পুরো জাতিসংঘের অর্থাৎ এর অধীনে থাকা ছয়টি সংস্থার মোট বাজেট পরিচালনার কাজ। অর্থাৎ জাতিসংঘের অর্থ পরিচালনার কাজটা পুরোটাই মোটাদাগে সাধারণ পরিষদ করে এবং এখানে যিনি সভাপতি হন তার একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। এই দুটো ম্যান্ডেটরি বিষয় মানতে বাধ্য জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র।

    এছাড়াও সাধারণ পরিষদের আরেকটি ক্ষমতা আছে, যখন নিরাপত্তা পরিষদ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয় তখন সদস্য রাষ্ট্ররা সেই প্রস্তাবটিকে সাধারণ পরিষদে নিয়ে আসে। এক্ষেত্রে সভাপতির একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হয়।

    যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয় সভাপতিকে

    জাতিসংঘের বর্তমান সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক বলেছেন, এই নির্বাচন এমন এক পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হলো যখন বহুপাক্ষিক কূটনীতির জন্য একটি ব্যতিক্রমী কঠিন সময়। ইউএন নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটের পর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে মিজ বেয়ারবক বলেন, জাতিসংঘ কেবল প্রতিকূল পরিস্থিতিরই মুখোমুখি হচ্ছে না, বরং প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে।

    মিজ বেয়ারবক বলেন, সাধারণ পরিষদ প্যাক্ট ফর দ্য ফিউচার বা ভবিষ্যতের চুক্তি বাস্তবায়ন, ‘ইউএন৮০’ উদ্যোগের মাধ্যমে সংস্কার প্রচেষ্টা এগিয়ে নেয়া এবং ব্যাপক ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন কাটিয়ে ওঠার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি মি. রহমানকে তার কাজের ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করতে হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বর্তমান সভাপতি।

    জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ধীরগতি, মানবিক কার্যক্রম ও উন্নয়নের জন্য তহবিল কমে যাওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আজকের বিশ্বের পরিবর্তে ১৯৪৫ সালের মতো সেই পুরোনো বিশ্বেই আটকে রয়েছে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

    যে ৬ লক্ষ্যে কাজ করবেন খলিলুর রহমান

    সভাপতি পদে প্রার্থিতার সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তার ভিশন স্টেটমেন্টে ছয়টি লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। তার এই ভিশন স্টেটমেন্টের শিরোনাম, ‘রিস্টোরিং ট্রাস্ট, ম্যানেজিং ট্রান্সফরমেশন: এ ইউনাইটেড ন্যাশনস দ্যাট ডেলিভারস ফর অল।’

    সভাপতি নির্বাচনের আগে দেয়া এই স্টেটমেন্টে মি. রহমান জানিয়েছেন, শান্তি, নিরাপত্তা ও সকলের জন্য ন্যায়বিচার, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার(এসডিজিএস) অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা এবং জলবায়ু পদক্ষেপ ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে কাজ করবেন তিনি।

    একইসঙ্গে, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, অভিবাসী ও শরণার্থী এবং মানবাধিকার, অন্তর্ভূক্তিমূলক উদ্ভাবনের আওতায় ডিজিটাল গভর্নেন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উদীয়মান প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ এবং জাতিসংঘের সংস্কার করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিরোধমূলক কূটনীতি, শান্তি বিনির্মাণ এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় সমর্থন দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন খলিলুর রহমান।