Author: Jvadmin

  • বুড়িচংয়ে পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে আহত; দুই নারী গ্রেপ্তার

    বুড়িচংয়ে পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে আহত; দুই নারী গ্রেপ্তার

     

    কুমিল্লা প্রতিনিধি 

    কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে এক পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের ইকবাল হোসেনের স্ত্রী লিজা আক্তার এবং নেয়ামুল কবিরের স্ত্রী শেফালী বেগম।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টার দিকে বুড়িচং উপজেলার রামচন্দ্রপুর পূর্বপাড়া এলাকায় একটি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযোগ এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে তদন্তে যায় দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল।

    পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত কনস্টেবল মো. ফোরকানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

    পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    ঘটনার খবর পেয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে ওসি লুৎফুর রহমান জানান, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মারামারির ঘটনায় ৯৯৯-এর কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা প্রদান এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • নানার বাড়ি থেকে ফেরার পর নিখোঁজ, খালে মিলল যুবকের লাশ

    নানার বাড়ি থেকে ফেরার পর নিখোঁজ, খালে মিলল যুবকের লাশ

    নোয়াখালী প্রতিনিধি

    নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর সাদ্দাম হোসেন (২৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ব্রিজের নিচে খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত সাদ্দাম একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাসানপুর গ্রামের আরজু মেম্বার বাড়ির হকসাবের ছেলে।

    নিহতের মামা মো. ইমাম আলী জানান, সাদ্দাম চট্টগ্রামে ইগলু কোম্পানিতে চাকরি করতেন। ঈদের ছুটিতে সাদ্দাম বাড়িতে এসেছিলেন। ঈদের আগে আবুধাবি থেকে তার মেজো মামা আইয়ুব দেশে ফেরেন। বুধবার বিকেলে সাদ্দাম সাইকেলে করে শরীফপুর ইউনিয়নের গয়েজপুর গ্রামের রুস্তম আলী বেপারী বাড়িতে মামার সঙ্গে দেখা করতে যান। রাত ৯টার দিকে তিনি সেখান থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। তবে রাত ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা জানায় তিনি এখনও বাড়ি ফেরেননি। এরপর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

    তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এক ব্যক্তি ফোন করে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের নিচে খালে একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা মরদেহটি সাদ্দামের বলে শনাক্ত করেন। তার দাবি, মরদেহের হাত, নাক ও কান রক্তাক্ত ছিল।

    বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থলে সাদ্দামের মোবাইল ফোন ও হাতঘড়ি পাওয়া গেলেও তার ব্যবহৃত সাইকেলটি পাওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

  • র‍‍্যাবের অভিযানে পেকুয়ায় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ অস্ত্রধারী গ্রেফতার

    র‍‍্যাবের অভিযানে পেকুয়ায় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ অস্ত্রধারী গ্রেফতার

    কক্সবাজার প্রতিনিধি

    কক্সবাজারের পেকুয়ায় অভিযান চালিয়ে ২টি দেশীয় তৈরি ব্যারেল সংযুক্ত একনালা বন্দুক, গোলাবারুদ ও কার্তুজসহ এক অস্ত্রধারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১৫।

    র‌্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পেকুয়া উপজেলার শিলখালী গ্রামস্থ কাছেমুল উলুম মাদ্রাসা, হেফজখানা ও এতিমখানা মসজিদের সংলগ্ন পাকা তিন রাস্তার মোড়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান চলাকালে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে একজন পেশাদার অস্ত্রধারীকে আটক করা হয়। পরে তার হেফাজতে তল্লাশি চালিয়ে ২টি দেশীয় তৈরি ব্যারেল সংযুক্ত একনালা বন্দুক, ২টি তাজা বন্দুকের কার্তুজ, ২টি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা এবং ৫ রাউন্ড পিস্তলের তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি পেকুয়া উপজেলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি ঘোনা এলাকার মৃত আব্দুল হকের ছেলে আহম্মদ নুর বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

    র‌্যাব-১৫ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে পেকুয়া থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
    র‌্যাব-১৫ আরও জানিয়েছে, সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে তাদের চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • নোয়াখালীতে মেকানিক দোকানেই চলছিল মাদক কারবার, গ্রেপ্তার-১

    নোয়াখালীতে মেকানিক দোকানেই চলছিল মাদক কারবার, গ্রেপ্তার-১

    নোয়াখালী প্রতিনিধি

    নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ৭০০ পিস ইয়াবা, ৭ কেজি গাঁজা ও মাদক বিক্রির নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ মাদক কারবারি মো.আব্দুল হামিদ (৪৫) কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার উপজেলার নোয়াখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহব্বতপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    গ্রেপ্তার হামিদ একই ওয়ার্ডের হামিদ মিয়ার বাড়ির মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় মহব্বতপুর এলাকায় আব্দুল হামিদের মেকানিক দোকানে অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় দোকান তল্লাশি করে ৭০০ পিস ইয়াবা, ৭ কেজি গাঁজা এবং মাদক বিক্রির নগদ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় হামিদকে আটক করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মেকানিক দোকানের আড়ালে মাদক কারবার করে আসছিলেন।

    জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ মো. মহিউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধারকৃত মাদক ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। ওই মামলায় আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল

  • কবরের তিন গাছ চুরি, গ্রামজুড়ে ফুলগাছ রোপণে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শামীম আহমেদ

    কবরের তিন গাছ চুরি, গ্রামজুড়ে ফুলগাছ রোপণে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শামীম আহমেদ

    ফরিদপুর প্রতিনিধি

    দাদি ও বাবার কবরের পাশে শখ করে লাগানো তিনটি ফুলগাছ চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রতিশোধ বা ক্ষোভের পথ বেছে নেননি এক যুবক। বরং সেই কষ্টকে ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তর করে পুরো গ্রামজুড়ে ১ হাজার ৫০০ ফুলগাছ রোপণ করে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের হাওলাদার শামীম আহমেদ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে নিজের দাদি ও বাবার কবরের পাশে হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী ফুলের তিনটি চারা রোপণ করেন শামীম। নিয়মিত পরিচর্যায় গাছগুলো বড় হয়ে ওঠে এবং একটি গাছে ফুলও ফুটেছিল। কিন্তু ফুল ফোটার পরদিন সকালে কবরস্থানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তিনটি গাছই চুরি হয়ে গেছে।

    ঘটনায় ব্যথিত হলেও চোরকে খুঁজে বের করা কিংবা প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করেননি তিনি। বরং সিদ্ধান্ত নেন, শুধু একটি স্থানে নয়, পুরো গ্রামেই ফুলগাছ ছড়িয়ে দেবেন।
    সেই ভাবনা থেকেই নিজ অর্থায়নে শ্রমিক নিয়োগ করে পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের ৫০০টি বাড়ির সামনে তিনটি করে মোট ১ হাজার ৫০০টি ফুলগাছ রোপণ করেন তিনি। প্রতিটি বাড়ির সামনে লাগানো হয়েছে হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলীর চারা।

    দিনভর বাড়ি বাড়ি ঘুরে গাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছে গাছগুলোর পরিচর্যার আহ্বান জানান শামীম। তাঁর এই উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী। তাদের বিশ্বাস, কয়েক মাসের মধ্যেই ফুলের সুবাসে ভরে উঠবে পুরো গ্রাম এবং নতুন সৌন্দর্যে সেজে উঠবে জনপদটি।

    স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ব্যক্তিগত ক্ষতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো গ্রামের কল্যাণে এমন উদ্যোগ সত্যিই বিরল। এটি সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়াবে এবং অন্যদেরও পরিবেশবান্ধব কাজে উৎসাহিত করবে।

    হাওলাদার শামীম আহমেদ বলেন, “আমি মনে করেছি, যে ব্যক্তি গাছগুলো চুরি করেছে, সে হয়তো ফুল ভালোবাসে। তাই তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করিনি। বরং এমন ব্যবস্থা করেছি, যাতে পুরো গ্রামেই ফুলগাছ থাকে। এমনও হতে পারে, আমার লাগানো গাছ চোরের বাড়িতেও পৌঁছে গেছে। সে যদি বিষয়টি দেখে অনুতপ্ত হয় এবং ভবিষ্যতে আর এমন কাজ না করে, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

    তিনি আরও বলেন, “আমার লক্ষ্য শুধু একজন চোরকে শিক্ষা দেওয়া নয়, বরং মানুষকে সবুজায়নের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। ভবিষ্যতে সদরপুর উপজেলার প্রতিটি গ্রামে ফুল ও ঔষধি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পরিবেশ রক্ষা হবে, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং গ্রাম হবে আরও সুন্দর।”

    ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকের মতে, নেতিবাচক একটি ঘটনার এমন ইতিবাচক সমাধান সমাজে সৌহার্দ্য, পরিবেশ সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • জীবননগরে যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে লাথি, গর্ভেই ঝরে গেল ৭ মাসের সন্তান

    জীবননগরে যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে লাথি, গর্ভেই ঝরে গেল ৭ মাসের সন্তান

     

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা যৌতুক না পেয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধর ও পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে এক মাদকাসক্ত স্বামী বিপ্লবের (২৪) বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর গর্ভে থাকা সাত মাসের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনাটি ঘটেছে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের কয়া গ্রামে।

    অভিযুক্ত মাদকাসক্ত স্বামী বিপ্লব উপজেলার কয়া গ্রামের সাহাবুলের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, বিপ্লবের সঙ্গে একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে শিখা খাতুনের (১৮) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিপ্লব বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর কাছে যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন দাবি করে আসছিলো। এসব দাবি পূরণ না হওয়ায় শিখার ওপর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত বলে অভিযোগ রয়েছে বিপ্লবের বিরুদ্ধে।

    অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার (৩১ মে) রাতে স্বামী সাইফুল ইসলাম যৌতুকের দাবীতে স্ত্রী শিখা খাতুনকে বেধড়ক মারধর করে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার (২ জুন) দিনগত রাত প্রায় ১০টার দিকে বিপ্লব বাজার থেকে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। এক পর্যায়ে সে এক লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন দাবি করে।

    এ সময় শিখা খাতুন জানায়, তার বাবা একজন দরিদ্র মানুষ এত টাকা বা মূল্যবান জিনিসপত্র দেওয়া সম্ভব নয়। এ কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে বিপ্লব স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করে এবং তার পেটে জোরে লাথি মারে। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে শিখা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

    পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার গর্ভে থাকা সাত মাসের সন্তান গর্ভপাত হয়।

    ভুক্তভোগী শিখা খাতুন বলেন, আমার স্বামী আমার বাবার আর্থিক অবস্থা জেনেশুনেই আমাকে বিয়ে করেছে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই টাকা, মোবাইল ও মোটরসাইকেলের জন্য চাপ দিতে থাকে। দাবি পূরণ করতে না পারায় আমাকে প্রায়ই মারধর করত। ঘটনার দিন পেটে লাথি মারার পর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। হাসপাতালে নেওয়ার পর জানতে পারি আমার সাত মাসের সন্তান আর বেঁচে নেই।

    এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। যৌতুকের দাবিতে এমন নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

  • ইনসুলেটর ক্র্যাকে নাসিরনগরে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, নৌকা খুঁজছে কারিগরি দল

    ইনসুলেটর ক্র্যাকে নাসিরনগরে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, নৌকা খুঁজছে কারিগরি দল

     

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় ধরন্তি হাওর এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ইনসুলেটর ক্র্যাক হয়ে ফ্ল্যাশিং হওয়ায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুন্ডা ডিএস (ডিসকানেক্ট সুইচ) কেটে ট্রায়াল নেওয়ার সময় সঞ্চালন লাইনে ফ্ল্যাশিং ধরা পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লাইনের কোনো একটি ইনসুলেটর ক্ষতিগ্রস্ত বা ক্র্যাক হওয়ার কারণে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তবে ত্রুটির সুনির্দিষ্ট স্থান শনাক্ত করতে কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

    মেরামতে বাধা নৌযান সংকট

    ত্রুটিপূর্ণ স্থানটি ধরন্তি হাওরের মাঝামাঝি এলাকায় হওয়ায় সেখানে পৌঁছাতে নৌকার প্রয়োজন হচ্ছে। কারিগরি দল ইতোমধ্যে নৌকার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নৌযান পাওয়া গেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামতের কাজ শুরু করা হবে। দ্রুত সমাধানের আশ্বাস

    বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কারিগরি দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

    এদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নাসিরনগরের বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ বিভাগ গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ বলছে, ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামত সম্পন্ন হলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।

  • ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য আটক

    ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য আটক

    দিনাজপুর প্রতিনিধি 

    দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন ২৯ বিজিবি কতৃক মাদকদ্রব্য আটক করা হয়েছে।

    ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এর অধীনস্থ আমতলী, তাজপুর বিওপি, কাটলা এবং বিরামপুর বিশেষ ক্যাম্প কর্তৃক পৃথক পৃথক ০৪টি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশর অভ্যন্তরে মালিকবিহীন অবস্থায় ৮৮৯ বোতল বাংলাদেশী যৌন উত্তেজক সিরাপ আটক করে। আটককৃত চোরাচালানী মালামালের সিজার মূল্য- ১,৩৩,৩৫০/- (এক লক্ষ তেত্রিশ হাজার তিনশত পঞ্চাশ) টাকা।

    বিজিবি কতৃক তথ্য সুএে জানান, ভবিষ্যতেও বিজিবি কর্তৃক চোরাচালান প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল আটক এবং আসামী আটকের কার্যক্রম অব্যহত থাকবে।

  • বিশ্বকাপ শুরু না হতেই ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

    বিশ্বকাপ শুরু না হতেই ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

    স্পোর্টস ডেস্ক 

    ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে একের পর এক বিতর্ক যেন থামছেই না।  টিকিটের উচ্চমূল্য ও ইরানের ভিসা জটিলতার মতো ইস্যুর পর এবার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।  সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বকাপের সব স্টেডিয়ামে দর্শকরা কোনো ধরনের পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল সঙ্গে নিতে পারবেন না। 

    এর আগে নির্দেশিকায় বলা ছিল, সর্বোচ্চ এক লিটার ধারণক্ষমতার স্বচ্ছ ও খালি প্লাস্টিক বোতল স্টেডিয়ামে আনা যাবে।  তবে নতুন নিয়মে সেই সুযোগও বাতিল করা হয়েছে।  এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক সমর্থক এটিকে অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত কড়াকড়ি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, বোতল ছুড়ে মারার মতো ঘটনার মাধ্যমে মাঠে থাকা খেলোয়াড়, রেফারি বা দর্শকদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।

    একই সঙ্গে ফিফা জানিয়েছে, স্টেডিয়ামগুলোর ভেতরে দর্শকদের জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি থাকবে কুলিং টেন্ট, মিস্টিং জোন এবং ফ্যান জোনের মতো সুবিধা। প্রয়োজন অনুযায়ী বোতলজাত পানি বিক্রিও করা হবে।

    তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আবহাওয়াবিদদের একাংশ।  তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন স্টেডিয়ামে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে খেলা হওয়ায় পর্যাপ্ত পানির সহজলভ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  বিশেষ করে খোলা স্টেডিয়ামে দীর্ঘ সময় দর্শক ও খেলোয়াড়দের অবস্থানের কারণে হিট স্ট্রেসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

  • দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। 

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছান।

    বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদসহ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারা।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী  পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচিত হওয়া বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবময় অর্জন।তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।

    তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচিত হওয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান মর্যাদা, কূটনৈতিক সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার বহিঃপ্রকাশ।আমি বিশ্বাস করি, তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা জাতিসংঘের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ফলপ্রসূ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে তার সফলতা ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

    নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচনে খলিলুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয়তাবিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিস। সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দুই প্রার্থীকে ভোট দেন। নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে একশ ৯০টি। খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯ ভোট এবং সাইপ্রাসের কাকাউরিস পেয়েছেন ৯১ ভোট। আট ভোটের ব্যবধানে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে হারিয়েছেন খলিলুর রহমান।

    দীর্ঘ ৪০ বছর পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ এই পদে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।