Author: Jvadmin

  • জীবননগরে কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে এতিম শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

    জীবননগরে কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে এতিম শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ১০ বছরের এক এতিম শিশুকে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাসে বাসায় এনে দীর্ঘ দুই বছর ধরে গৃহকর্মীর মতো খাটানো এবং শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    ভুক্তভোগী মরিয়ম (১০) অভিযোগ করেছে, তাকে দত্তক নেওয়ার কথা বলে আশ্রয় দেওয়া হলেও পরে তার লেখাপড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ঘরের প্রায় সব কাজ করানো হতো এবং সামান্য ভুল হলেই তার ওপর চালানো হতো নির্মম নির্যাতন।

    অভিযুক্ত লাবনী জীবননগর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী-ঠিকাদার জাকাউল্লাহর কন্যা। তিনি জীবননগর সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরিয়মের বয়স যখন মাত্র ছয় বছর, তখন তার মা মারা যান। পরে বাবা অন্যত্র চলে গেলে শিশুটি নানা-নানির কাছে বড় হতে থাকে। দুই বছর আগে নানার মৃত্যুর পর মরিয়মকে নিজের বাসায় নিয়ে যান লাবনী। পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল, শিশুটির লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়া হবে এবং তাকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করা হবে।

    কিন্তু পরিবারের দাবি, কিছুদিন স্কুলে পাঠানোর পর তার পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তাকে দিয়ে ঘর মোছা, রান্না, কাপড় ধোয়া, বাসন মাজাসহ সংসারের বিভিন্ন কাজ করানো হতো।

    ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কাজে সামান্য ভুল হলেই মরিয়মের ওপর নেমে আসত শারীরিক নির্যাতন। কখনো লাঠি, কখনো রড, আবার কখনো গরম খুন্তি দিয়ে তাকে আঘাত করা হতো। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ জুন গৃহস্থালির কাজে সামান্য ত্রুটিকে কেন্দ্র করে শিশুটির ওপর আবারও নির্যাতন চালানো হয়। তাকে মারধর করে আহত করা হয় এবং একপর্যায়ে পেটে লাথি মারা হলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। জ্ঞান ফেরার পর সুযোগ বুঝে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে তার নানি এসে তাকে উদ্ধার করেন।

    নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মরিয়ম বলে, “আমাকে পড়াশোনা করানোর কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে সব কাজ আমাকে দিয়ে করানো হতো। কোনো কাজ ভুল হলেই মারধর করত। আমি কাঁদলে মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হতো যাতে কেউ শুনতে না পায়। গত দুই বছর ধরে আমার ওপর এভাবেই নির্যাতন করা হয়েছে।”

    মরিয়মের নানি রশিদা খাতুন বলেন, “এতিম একটি শিশুর সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমার নাতনির শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষিকা লাবনীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান মেয়েটি আমার কাছে চার বছর ধরে আছে আমি নিজের সন্তানের মতকরে তাকে লালন পালন করি। নিজের মেয়ে হলে কি শাসন করা যায় না। আমি তাকে শাসন করেছি আমার রাগ হয়ে যাওয়াই আমি তাকে মেরেছি খুব বেশি মারিনি।

    জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত, শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

  • ‘ছায়া বাজেট’ দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী

    ‘ছায়া বাজেট’ দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। এবার ‘ছায়া বাজেট’ দিচ্ছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। এর আগে জোট শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছায়া বাজেট উপস্থাপন করেছিল।

    দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এই ছায়া বাজেট উপস্থাপন করা হবে।

    জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সংবাদ সম্মেলনে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ছায়া বাজেট উপস্থাপন করবেন। এ সময় দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

    এর আগে গত ৫ জুন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পৃথকভাবে একটি ছায়া বাজেট উপস্থাপন করে। ওই প্রস্তাবে দেশের অর্থনীতিকে ১২টি খাতে ভাগ করে মোট ৭১টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

  • ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল, ঋণ মিলবে ৯ শতাংশ সুদে

    ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল, ঋণ মিলবে ৯ শতাংশ সুদে

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ব্যবসা-বাণিজ্য গতিশীল করতে দেশের ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার নতুন পুনঃ অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিলের আওতায় সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ হারে চলতি মূলধন হিসেবে ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। সোমবার (৮ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ’ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা এ সংক্রান্ত নির্দেশনাটি ইতোমধ্যে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নতুন এই তহবিলের নাম দেয়া হয়েছে ‘সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন পুনঃ অর্থায়ন তহবিল’। প্রাথমিকভাবে যার মেয়াদ হবে ৩ বছর।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১ কোটি ১৮ লাখ সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নতুন এই তহবিলের ফলে বিশাল এই খাতের উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ হারে চলতি মূলধন হিসেবে ঋণ পাবেন।

    এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চাহিদার তুলনায় চলতি মূলধনের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় সিএমএসএমই খাতের বিকাশ ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতির চাকা গতিশীল করার লক্ষ্যে এই তহবিল গঠন করা হয়েছে। যার মূল উদ্দেশ্য সচল সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন ঋণ বা বিনিয়োগ সরবরাহের মাধ্যমে তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন, সেবা বা ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করা।

    এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও উদ্যোক্তা উভয়ের জন্যই নতুন এই তহবিলের সুদের হার নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিলের আওতায় ঋণ নিলে গ্রাহক বা উদ্যোক্তা পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে এই তহবিল থেকে টাকা পাবে। তবে ব্যাংকগুলোকে প্রতি ৩ মাস (ত্রৈমাসিক) পরপর এই সুদ পরিশোধ করতে হবে।

    এছাড়া প্রচলিত ব্যাংকের পাশাপাশি শরিয়াভিত্তিক পরিচালিত ব্যাংক বা সাধারণ ব্যাংকের ইসলামিক বিভাগও নিজস্ব নিয়মে গ্রাহকদের এই ঋণ সুবিধা (বিনিয়োগ আকারে) দিতে পারবে। তবে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করা এই ঋণ আদায়ের সব দায়-দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর। যদিও ঋণের ঝুঁকি কমাতে ব্যাংক চাইলে নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহকের কাছ থেকে সহ-জামানত বা কোলেটারাল নিতে পারবে।

  • জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি লোকগানের রচয়িতা-সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী অনিল হাজারিকা

    জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি লোকগানের রচয়িতা-সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী অনিল হাজারিকা

    মাগুরা প্রতিনিধি

    অসংখ্য জনপ্রিয় লোকগানের রচয়িতা, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী অনিল হাজারিকা। বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা, লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের চিত্র তার গানে এমনভাবে ফুটে উঠেছে, যা আজও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।

    কিন্তু যে মানুষটি সারাজীবন গান দিয়ে মানুষকে আনন্দ দিয়েছেন, সেই শিল্পী আজ নিজেই জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। বয়সের ভার, দীর্ঘদিনের অসুস্থতা এবং আর্থিক সংকটের কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

    ঠিলে ধুয়ে দে বউ, গাছ কাটতি যাব, ঠোঙ্গা আইনে দে, দড়া আইনে দে বউ, বালিধারা খান কই? ঠিলের গলায় কানাচ নাগা, বেলা গেল ওই’- এমন অসংখ্য জনপ্রিয় লোকগানের রচয়িতা, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী অনিল হাজারিকা।

    মাগুরার শালিখা উপজেলার ধনেশ্বরগাতী ইউনিয়নের তিলখড়ি গ্রামের বাসিন্দা অনিল হাজারিকা।

    তার বয়স এখন ৭০ বছর। পাঁচ বছর আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি প্রায় কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। এক সময় যার কণ্ঠে মুখর থাকত গ্রামবাংলা, আজ তিনি বিছানায় শুয়ে দিন কাটান। নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও অর্থাভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, অনিল হাজারিকা প্রায় ১ হাজার ৫০০ আঞ্চলিক গান রচনা, সুরারোপ ও পরিবেশন করেছেন। তার অনেক গান বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে। লোকসংগীতের মাধ্যমে তিনি যশোর অঞ্চলের বহু বিলুপ্তপ্রায় শব্দ, প্রবাদ-প্রবচন এবং লোকজ জীবনধারাকে সংরক্ষণ করেছেন।

    ‘ঠিলে ধুয়ে দে বউ, গাছ কাটতি যাব, ঠোঙ আইনে দে, দড়া আইনে দে বউ, বালিধারা খান কই? ঠিলের গলায় কানাচ নাগা, বেলা গেল ওই’- এমন অসংখ্য জনপ্রিয় লোকগানের রচয়িতা, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী অনিল হাজারিকা। বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা, লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের চিত্র তার গানে এমনভাবে ফুটে উঠেছে, যা আজও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।

    কিন্তু যে মানুষটি সারাজীবন গান দিয়ে মানুষকে আনন্দ দিয়েছেন, সেই শিল্পী আজ নিজেই জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। বয়সের ভার, দীর্ঘদিনের অসুস্থতা এবং আর্থিক সংকটের কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনিল হাজারিকা প্রায় ১ হাজার ৫০০ আঞ্চলিক গান রচনা, সুরারোপ ও পরিবেশন করেছেন। তার অনেক গান বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে। লোকসংগীতের মাধ্যমে তিনি যশোর অঞ্চলের বহু বিলুপ্তপ্রায় শব্দ, প্রবাদ-প্রবচন এবং লোকজ জীবনধারাকে সংরক্ষণ করেছেন।

    অনিল হাজারিকা জানান, শৈশবে সংসারের অভাব-অনটনের কারণে মাত্র ১৫ বছর বয়সে লেখাপড়া ছেড়ে বাবার সঙ্গে কাজ শুরু করতে হয় তাকে। তার বাবা প্রয়াত হাজারী লাল বিশ্বাসও ছিলেন সংগীতপ্রেমী মানুষ। বাবার কাছ থেকেই সংগীতের হাতে খড়ি। মাত্র ২০ বছর বয়সে গান লেখা শুরু করেন অনিল হাজারিকা। স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি আঞ্চলিক উপভাষায় গান রচনা করতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার গান ছড়িয়ে পড়ে বৃহত্তর যশোর বিভিন্ন অঞ্চলের পথে প্রান্তে।

    তিনি বলেন, আমার লেখা গানের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০। আরও অনেক গান ছিল, যেগুলো সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেছে। মানুষের ভালোবাসাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

    লোকসংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৫ সালে তিনি খুলনা বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগ, যশোরের নৃত্যবিতান এবং মাগুরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি তাকে সম্মাননা প্রদান করেছে।তবে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই সম্মাননা যেন তার কষ্ট লাঘব করতে পারছে না। বর্তমানে পৈতৃক ভিটায় টিনের একটি সাধারণ ঘরে স্ত্রী জ্যোৎস্না হাজারিকাকে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। পরিবারের সামান্য সহায়তা এবং এক বিঘা জমির ধানের ওপর নির্ভর করেই চলছে সংসার।

    অনিল হাজারিকার স্ত্রী জ্যোৎস্না হাজারিকা বলেন, “পাঁচ বছর আগে স্ট্রোক করার পর বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে চার লাখ টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। এখন আর চিকিৎসার খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে হয়তো আবার কিছুটা সুস্থ হয়ে গান লেখা ও গাওয়ার কাজে ফিরতে পারতেন।”

    জীবনের এই শেষ সময়ে কী প্রত্যাশা-এমন প্রশ্নের জবাবে আবেগাপ্লুত হয়ে অনিল হাজারিকা বলেন, এখন আর গান করতে পারি না। শরীর সায় দেয় না। গানই ছিল আমার জীবন। আজ গান থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে, এটাই সবচেয়ে বড় কষ্ট। মৃত্যুর আগে যদি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আর স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে একটি সম্মাননা পেতাম, তাহলে ভালো লাগত।

    সংগীতাঙ্গনের অনেকের মতে, আঞ্চলিক লোকসংগীত সংরক্ষণ ও জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে অনিল হাজারিকার অবদান অনস্বীকার্য। অথচ জীবনের শেষ সময়ে এসে তিনি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও যথাযথ স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত।

    স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা বলছেন, অনিল হাজারিকার মতো শিল্পীরা শুধু গান রচনা করেননি, তারা বাংলার লোকঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করেছেন। তাই তার চিকিৎসা ও জীবিকার দায়িত্ব নেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক কর্তব্য।

    শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীন হাসান চৌধুরী বলেন, অনিল হাজারিকা যদি জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

    লোকসংগীতের এই সুরের পাখিকে বাঁচিয়ে রাখা শুধু একজন শিল্পীকে সহায়তা করা নয়; বরং বাংলার লোকসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারাকে সংরক্ষণ করা। তাই তার চিকিৎসা, আর্থিক সহায়তা এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে স্থানীয় সাংস্কৃতিক মহলসহ সচেতন মানুষ সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • রাতের মধ্যে ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস

    রাতের মধ্যে ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    দেশের আটটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে রাতের মধ্যে ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    সোমবার (৮ জুন) বিকাল ৩টা থেকে দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

    পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

    এ পরিস্থিতিতে এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

  • নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার

    নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) পরিদর্শন করেন।

    সোমবার (৮ জুন ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁও-তে অবস্থিত স্পারসো পরিদর্শন করেন তিনি।

    প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা স্পারসোতে এসে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন ও স্পারসো এর চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব মো. রাশিদুল ইসলাম। এ সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্পারসোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

    পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা স্পারসোর বিভিন্ন বিভাগসমূহ ঘুরে দেখেন। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহ তাদের উদ্ভাবিত ও গবেষণাকৃত কার্যক্রম সম্পর্কে ব্রিফ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

    পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষার সাথে স্পেস এবং রিমোট সেন্সিং-এর সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। মহাকাশ গবেষণা এবং রিমোট সেন্সিং (দূর অনুধাবন) প্রযুক্তিকে কীভাবে দেশের প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তায় আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে জোর দেওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

    তিনি মহাকাশে বাংলাদেশের তৈরি নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া, সীমান্ত পর্যবেক্ষণ, কৌশলগত মানচিত্র তৈরি এবং ভূ-স্থানিক বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে স্পারসোর ভূমিকা বৃদ্ধি করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

    প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা স্পারসোর সংগৃহীত স্যাটেলাইট ডেটা এবং গবেষণালব্ধ তথ্যগুলো যাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর বিভিন্ন অপারেশনাল ও গবেষণামূলক কাজে আরও দ্রুত ও সহজে কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ করেন। স্যাটেলাইট ইমেজ প্রসেসিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং রিমোট সেন্সিংয়ের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগুলো স্পারসোতে যুক্ত করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি সক্ষমতা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

    বাংলাদেশ যেহেতু প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ একটি দেশ, তাই ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা খরার মতো দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা পেতে এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে দূর অনুধাবন প্রযুক্তিকে আরও নিখুঁতভাবে কাজে লাগানোর নির্দেশনা প্রদান করেন। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ফসলের অবস্থা, মাটির আর্দ্রতা, বনাঞ্চল এবং পানিসম্পদ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সরকারকে সঠিক ডেটা সরবরাহ করার বিষয়ে তাগিদ দেন। তিনি স্পারসো এর ডাটাসমূহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে সরবরাহ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

    পরিদর্শন শেষে স্পারসোর সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে একটি প্রেজেন্টেশন প্রদান করা হয়। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা স্পারসোকে একটি আধুনিক, যুগোপযোগী এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখতে সক্ষম এমন একটি স্বনির্ভর মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে কাজ করা নির্দেশনা দেন।

  • ঘোষিত নীরব এলাকায় হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ, মামলা করলেন এডিসি রুবেল

    ঘোষিত নীরব এলাকায় হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ, মামলা করলেন এডিসি রুবেল

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    রাজধানীর এয়ারপোর্ট এলাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ ঘোষিত নীরব এলাকায় হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করায় ঢাকা থেকে শেরপুরগামী একটি পরিবহন থেকে হর্ন জব্দ করে জরিমানা ও মামলা করেছেন উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের এডিসি রুবেল হক।

    এডিসি রুবেল হক বলেন, “বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকাকে শব্দ দূষণমুক্ত নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে মোটরযান থেকে হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ঘোষিত নীরব এলাকায় হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের অপরাধে উক্ত পরিবহনের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১৯(২) ধারায় মামলা ও জরিমানা করা হয়েছে।”

    তিনি আরও জানান, নীরব এলাকা সুরক্ষায় ট্রাফিক বিভাগের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনসাধারণকে নীরব এলাকায় হর্ন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    সরকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সচিবালয়সহ হাসপাতালের চারপাশের ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকাকে নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এসব এলাকায় মোটরযান থেকে হর্ন বাজানো একেবারেই নিষেধ।

    ২০০৬ সালের শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা অনুসারে, নীরব এলাকায় দিনের বেলা সর্বোচ্চ ৫০ ডেসিবেল এবং রাতে ৪০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ আইন লঙ্ঘন করলে জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    উত্তরা ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, শব্দদূষণ রোধে এবং নীরব এলাকা রক্ষায় নিয়মিত অভিযান চলবে।

  • বগুড়ায় দশ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

    বগুড়ায় দশ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

     

    বগুড়া প্রতিনিধি

    বগুড়য় দশ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় ব্যবসায়ী রেজওয়ান হাসান জেমস (৩৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    রবিবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন মহানগরীর সুত্রাপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

    রেজওয়ান হাসান জেমস মহানগরের সুত্রাপুর এলাকার মোঃ শাহ আলমের ছেলে। তিনি বগুড়া শহর শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে। সোমবার (৮ জুন) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    জানা যায়, মহানগরীর খান্দার মিশন হাসপাতালের সামনে রেজওয়ান হাসান জেমসের মালিকানাধীন একটি ভ্যারাইটিজ স্টোর রয়েছে। এই দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন ময়েন উদ্দিন মোল্লা (৫৮)। রবিবার (৭জুন) বেলা পৌনে ৩টার দিকে শিশুটি ওই দোকানে খাবার কিনতে যায়। এসময় আশেপাশে কেউ না থাকার সুযোগে দোকান কর্মচারী ময়েন উদ্দিন ওই শিশুটিকে জোরপূর্বক দোকানের ভিতরে তুলে নিয়ে সার্টার বন্ধ করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি লোকজন জানতে পেয়ে সেখানে গিয়ে সার্টার খুললে আসামি ময়েন উদ্দিন পালিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় দোকানের মালিক জেমস ঘটনাস্থলে না থাকলেও তার দোকানের কর্মচারী ময়েন উদ্দিনকে পালাতে সহযোগিতা করেন। এরপর লোকজন এ ঘটনায় জেমসকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ময়েন উদ্দিন ও জেমসের নামে মামলা দায়ের করেন।

    বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, আসামী ময়েন উদ্দিনকে পালাতে সহযোগিতার অভিযোগে জেমসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার ১নম্বর আসামি ময়েন উদ্দিনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • আ.লীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ: নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আরও ১৮ নেতাকর্মী গ্রেফতার

    আ.লীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ: নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আরও ১৮ নেতাকর্মী গ্রেফতার

     

    নোয়াখালী প্রতিনিধি

    নোয়াখালীর সদর উপজেলায় আওয়ামীলীগ-ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তৃতীয় দফায় আরও ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় এনিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৬৫জন নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে।

    সোমবার (৮ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন, সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। এর আগে, রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ছাত্রলীগের হাজার খানেক নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল চলাকালে তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার সূত্র ধরে পরের দিন শনিবার বিকেলে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই দিন রাত ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে পাল্টা কালাদরাপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়িতে হামলা-ভাংচুর করে এবং তার একটি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসব ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে বাঁধেরহাটের ঘটনায় সুধারাম থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

    এদিকে, ঘটনার পরপরই সদর উপজেলার নোয়ান্নই ও কালাদরাপ ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকা-কে কেন্দ্র করে নোয়াখালী সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসনের দাবি, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ।

    ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম আরও জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ১১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • বাহাউদ্দিন বাহারের বক্তব্যের প্রতিবাদে কুমিল্লায় আইনজীবীদের সভা

    বাহাউদ্দিন বাহারের বক্তব্যের প্রতিবাদে কুমিল্লায় আইনজীবীদের সভা

    কুমিল্লা প্রতিনিধি 

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আ.ক.ম. বাহাউদ্দিন বাহারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে কুমিল্লায় প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ, কুমিল্লার উদ্যোগে সোমবার (৮ জুন) দুপুরে কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা ও কুমিল্লা জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু।
    এসময় তিনি বাহাউদ্দিন বাহারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, বিএনপির নেতাকর্মী এবং বিচারাঙ্গন সম্পর্কে বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।

    অ্যাডভোকেট রিংকু বলেন, “বাহার আমাদের দল ও নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছেন, হুমকি দিয়েছেন এবং বিচার ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি তার বাড়িতে কারা অগ্নিসংযোগ করেছে সে বিষয়ে নিজের মতো করে তালিকা প্রকাশ করেছেন এবং একের পর এক উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা এসব বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

    তিনি আরও বলেন, “বাহার সাহেব দেশে ফেরার প্রস্তুতির কথা বলছেন। আমরা মনে করি, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে তাকে দেশে এসে প্রচলিত আইনের মুখোমুখি হতে হবে। জনগণ যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই। তিনি শুধু নন, তার রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দেশে ফিরতে হবে।”

    ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে রিংকু বলেন, “যারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, গুলি করেছে, মানুষকে পঙ্গু করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল, তাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত এ দেশের মানুষ শান্ত হবে না। আইন অনুযায়ী তাদের বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে।”

    বাহাউদ্দিন বাহারের বিভিন্ন বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তিনি দাবি করেছেন যে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা আমি করেছি। এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে যেসব অপকর্ম, দখলবাজি, নির্যাতন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, সেসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। সাহস থাকলে দেশে এসে আইনের মাধ্যমে নিজের অবস্থান প্রমাণ করুন।”

    নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে কাইমুল হক রিংকু বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আমাকে ও আমার বড় ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিভিন্ন মামলায় হয়রানি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হয়েছে। তবুও আমরা আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাস করি, বেগম খালেদা জিয়া আমাদের নেত্রী এবং তারেক রহমান আমাদের নেতা। আমরা আমাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে কখনও সরে দাঁড়াব না।”

    তিনি আরও বলেন, “ভোটবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় থেকে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। এখন আত্মগোপনে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ এসব বিশ্বাস করে না।”

    প্রতিবাদ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জিপি অ্যাডভোকেট তারেক আব্দুল্লাহ, কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হায়াত খান, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শরিফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মফিজুল ইসলাম, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার হোসেন, কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম মানিক, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা জামান জসিম, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মুমিনুল হক ভূঁইয়া, আইনজীবী সমিতির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এম.এ. মতিন মোল্লা, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকরাম হোসেনসহ কুমিল্লার বিভিন্ন পর্যায়ের আইনজীবী ও নেতৃবৃন্দ।