জেভি২৪ ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ অবসানের পর আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি বা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত শনিবার বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক যৌথ ফোনালাপে তিনি এই বিশেষ অনুরোধ জানান। দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। ফোনালাপে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার পর তার পরবর্তী বড় পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে ইসরায়েল ও বিভিন্ন মুসলিম দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা, যা মূলত ঐতিহাসিক আব্রাহাম চুক্তিরই একটি বর্ধিত রূপ। বিশেষ করে একটি সৌদি-ইসরায়েল শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, যদিও বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের কারণে এই পথে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান এবং বাহরাইনের নেতারা যুক্ত ছিলেন। মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদসহ অন্য নেতারা এই শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের সংহতি প্রকাশ করেছেন। ওই কর্মকর্তার ভাষ্যমতে নেতারা ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘তারা সবাই বলেছেন, এই চুক্তিতে আমরা আপনার সঙ্গে আছি। আর যদি এটি কাজ না-ও করে, তবুও আমরা আপনার সঙ্গেই থাকব।’ ফোনালাপ চলাকালীন ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন যে, ইরান সংকট মিটে যাওয়ার পর তিনি আশা করেন যারা এখনও ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করেননি, তারা দ্রুতই এই প্রক্রিয়ায় শামিল হবেন। তবে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও কাতারের মতো দেশগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে এই অনুরোধটি এতটাই অভাবিত ছিল যে, আলোচনার মাঝে এক পর্যায়ে স্তব্ধতা নেমে আসে। ওই মুহূর্তের
বর্ণনা দিয়ে একজন কর্মকর্তা জানান, ‘অনুরোধের পর লাইনে সম্পূর্ণ নীরবতা নেমে এসেছিল এবং ট্রাম্প রসিকতা করে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে তারা এখনও লাইনে আছেন কি না।’ এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী তদারকির দায়িত্ব জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
পরদিন রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে লিখেন, ‘আমি মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশকে এ পর্যন্ত তাদের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই, যা ঐতিহাসিক আব্রাহাম চুক্তিতে তাদের যোগদানের মাধ্যমে আরও বৃদ্ধি ও শক্তিশালী হবে।’ তিনি এমনকি সুদূর ভবিষ্যতে ইরানকেও এই শান্তি প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার একটি ক্ষীণ সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন, যদিও তার পূর্বশর্ত হিসেবে তেহরানকে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে হবে। এদিকে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে আরব নেতাদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ না করা হবে একটি ঐতিহাসিক ভুল এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সৌদি আরব এখনো ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থি সরকারের নীতি নিয়ে সন্দিহান এবং তারা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়ে অনড় প্রতিশ্রুতি দাবি করে আসছে।










