Author: Jvadmin

  • ১৩ জুন পার্বতীপুরে যুবদলের উদ্যোগে ঈদ পুনমিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    ১৩ জুন পার্বতীপুরে যুবদলের উদ্যোগে ঈদ পুনমিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    দিনাজপুর প্রতিনিধি

    বিএনপির ও যুব দলের উদ্যোগে আগামী ১৩ জুন পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালে গণতন্ত্র, উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির মহামিলন, ঈদ পূনমিলনী ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা এ অনুষ্ঠানকে ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান বলে ঘোষণা করেছেন।

    এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত আইন বিষয়ক উপদেষ্টা ও ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিষ্টার কামরুজ্জামান।

    বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন- জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. বখতিয়ার আহমেদ কচি, প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত থাকবেন- বিএনপি জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ আমিনুল ইসলাম, এ অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ঢাকা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, বাংলাদেশ রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ারকন্ডিশনিং মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম।

    এতে সভাপতিত্ব করবেন- পার্বতীপুর উপজেলা যুব দলের আহবায়ক মোঃ মমিনুল ইসলাম (ডাক্তার) ও সার্বিক তত্বাবধায়নে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মাহাবুব রশিদ সংগ্রাম।

    ১০ জুন বুধবার দুপুরে উপজেলা যুবদল কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানপূর্ব প্রস্তুতি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে ১৩ জুন শনিবারের অনুষ্ঠানকে ঐতিহাসিক বলে ঘোষণা দিয়ে আয়োজকরা জানান, এখানে একদিকে যেমন বিশাল দলীয় কর্মী সমাবেশ হবে একই সাথে সাধারণ মানুষের বিনোদনের জন্য দেশ খ্যাত শিল্পী মনির খান, সালমা, আকাশ মাহমুদ, মহুয়া মৌ ও সুকুমার বডুরাসহ দেশের বহু বিশিষ্ট শিল্পী গান পরিবেশন করবেন। এছাড়াও এ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দিনাজপুর-৫ আসনের অন্তর্ভুক্ত পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলার জনসাধারণের কাঙ্খিত উন্নয়ন, স্থানীয় বিএনপি’র সাংগঠনিক পূর্নজাগরণের সূচনা করা হবে বলে আয়োজকরা জানান।

    বিএনপির ১৩ জুনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতিমধ্যে স্থানীয় সংগীত প্রিয় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিপুল আগ্রহ ও উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

  • ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে বহুতল ভবনে আগুন

    ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে বহুতল ভবনে আগুন

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে একটি বহুতল ভবনে আগুন লেগেছে।

    বুধবার (১০ জুন) বিকেলে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের বাংলাদেশ আই হসপিটালের পাশের ওই ভবনটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ করছে।

    তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

     

  • বগুড়ায় ফসলি জমিতে পুকুর খনন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি এলাকাবাসীর

    বগুড়ায় ফসলি জমিতে পুকুর খনন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি এলাকাবাসীর

    বগুড়া প্রতিনিধি

    বগুড়া সদর উপজেলার সাবগ্রাম ইউনিয়নের চক আলম মৌজার ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন করছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজ্জাক।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কৃষি কাজে ব্যবহৃত উর্বর জমিতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পুকুর খনন করা হচ্ছে। প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে অনিচ্ছুক বলেও জানিয়েছেন তারা।

    স্থানীয়দের দাবি, পুকুর খননের সময় জমির ওপরের উর্বর মাটির স্তর (টপসয়েল) কেটে ফেলা হচ্ছে। কৃষিবিদদের মতে টপসয়েল জমির সবচেয়ে উর্বর স্তর হিসেবে বিবেচিত। টপসয়েল অপসারণ হলে জমির উর্বরতা কমে যায়, ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এবং কৃষি জমি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া বৃষ্টির সময় মাটিক্ষয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

    এ বিষয়ে রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ফসলি জমিতে পুকুর খননের জন্য কোনো অনুমতি নিয়েছেন কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কার কাছ থেকে অনুমতি নেব?

    এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাদের আপত্তি উপেক্ষা করে জোরপূর্বকভাবে পুকুর খননের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে । এতে এলাকার কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তারা।

    বিষয়টি নিয়ে বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনার কাছ থেকেই প্রথম বিষয়টি শুনলাম। অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে এবং ফসলি জমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

  • বার্ডে গ্রামীণ নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও One Health পদ্ধতি বিষয়ে সেমিনার

    বার্ডে গ্রামীণ নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও One Health পদ্ধতি বিষয়ে সেমিনার

    কুমিল্লা প্রতিনিধি

    গ্রামীণ নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কিশোরী স্বাস্থ্য উন্নয়ন, ক্যান্সার সচেতনতা এবং One Health পদ্ধতির মাধ্যমে টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)-এ একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) বার্ডের লালমাই অডিটোরিয়ামে রাজস্ব বাজেটের আওতায় পরিচালিত “স্বাস্থ্য-ই-শক্তি: সমন্বিত স্বাস্থ্য উদ্যোগের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন” শীর্ষক প্রায়োগিক গবেষণার উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বার্ডের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) আবদুল্লাহ আল মামুন। স্বাগত বক্তব্য দেন যুগ্মপরিচালক (প্রশিক্ষণ) আযমা মাহমুদা। সেমিনার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যুগ্মপরিচালক (পল্লী প্রশাসন) আফরীন খান এবং সহযোগী সেমিনার পরিচালক ছিলেন উপপরিচালক (গবেষণা) ফরিদা ইয়াসমিন।

    সেমিনারে গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বার্ডের যুগ্মপরিচালক (পল্লী প্রশাসন) ও প্রধান গবেষক আফরীন খান। তিনি বলেন, গ্রামীণ নারী ও কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, মাতৃস্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, ক্যান্সার সচেতনতা এবং স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ জরুরি।

    এছাড়া জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পুষ্টিবিদ ছাঈদা লিয়াকত কিশোরীদের কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সচেতনতা বিষয়ে, নারী উন্নয়ন কেন্দ্র (NUK)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মাশহুদা খাতুন শেফালী নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য ও ক্যান্সার ঝুঁকি বিষয়ে এবং আইইডিসিআরের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ফয়জুল ইসলাম গ্রামীণ স্বাস্থ্য উন্নয়নে One Health পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

    আলোচনায় অংশ নেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ, শিক্ষা স্বাস্থ্য উন্নয়ন কর্মসূচি (SHISUK)-এর নির্বাহী পরিচালক সাকিউল মিল্লাত মোর্শেদ এবং সদর দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দীন।

    বক্তারা গ্রামীণ নারীর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, কিশোরী স্বাস্থ্য উন্নয়ন, ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিকাশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, নারীর স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে টেকসই গ্রামীণ উন্নয়ন সম্ভব নয়।

    সভাপতির বক্তব্যে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গবেষণাভিত্তিক জ্ঞান, স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগের সমন্বয়ের মাধ্যমে নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব। তিনি গবেষণালব্ধ সুপারিশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

  • সারাদেশে শিশু ও নারী ধর্ষণ-নিপিড়ন, নির্যাতনসহ সকল সহিংসতার প্রতিবাদে বগুড়ায় মানববন্ধন

    সারাদেশে শিশু ও নারী ধর্ষণ-নিপিড়ন, নির্যাতনসহ সকল সহিংসতার প্রতিবাদে বগুড়ায় মানববন্ধন

    বগুড়া প্রতিনিধি 

    সারাদেশে শিশু ও নারী ধর্ষণ-নিপিড়ন, নির্যাতনসহ সকল সহিংসতার প্রতিবাদে বগুড়া জেলার এনজিও সমূহ আয়োজনে আজ শহরের সাতমাথা মানববন্ধনের আয়োজন করে।

    মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন স্বপ্ন এর নির্বাহী পরিচালক মোঃজিয়াউর রহমান, ফোকাস সোসাইটির নির্বাহীপরিচালক মোঃমনিরুলইসলাম মিলন, এমএসকেপি’র নির্বাহী পরিচালক জাহেদুর রহমান, মেরী সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মেহেরুন্নুছা মেরী, স্যাঁক’র নির্বাহী পরিচালক ফেরদৌস আক্তার হিমি, সমাজ উন্নয়ন সংস্থার আব্দুর রহীম, ব্লাস্টের সহকারী সমন্বয়ক এ্যাড. হুমায়ন কবির, রুরাল ডেভলপমেন্ট এর নির্বাহী পরিচালক মোঃসাফিউল আলম, পল্লী স্বাস্থ্য উন্নয়নসংস্থার পরিচালক মোঃনয়ন ইসলাম, লাইট হাউজের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মামুন, এডাবের বিভাগীয় সমন্বয়কারী আবু সাঈদ, টিআইবি’র সমন্বয়কারী মানজুরুল ইসলাম, পিইউপি প্রোগ্রাম অফিসার নিলুফা ইয়াসমিন, পেসড এর সমন্বয়কারী রবিউল ইসলা মনির, মুনলাইটের টুটুল, পিডিপি এর ম্যানেজার আব্দুর রহমান, বিডিএস এর নির্বাহী পরিচালক দৌলতুজ্জামান প্রমুখ।

    বক্তারা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিটি মামলার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অপরাধী যেন কোন ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক ছত্রছায়ায় পার না পেয়ে যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। রাস্তাঘাট,গণপরিবহন এবং পাবলিক প্লেসগুলোতে নারী ও শিশুদের জন্য শতভাগ নিরাপদ পরিবেশ তৈরী করতে হবে।

  • কুমিল্লায় হাইওয়ে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরে গ্রেফতার-১৯, কাউকে ছাড় নয় এসপি

    কুমিল্লায় হাইওয়ে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরে গ্রেফতার-১৯, কাউকে ছাড় নয় এসপি

    কুমিল্লা প্রতিনিধি 

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার এলাকায় অবৈধ থ্রি-হুইলার আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাইওয়ে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৪টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান।

    তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সংঘটিত এ ঘটনার পর থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ময়নামতি হাইওয়ে থানার একটি টহল দল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলরত কয়েকটি অবৈধ থ্রি-হুইলার আটক করে। এ সময় ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল পুলিশের কাজে বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে হাইওয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

    হামলাকারীরা পুলিশের টহল গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং ভাঙচুর চালায়। এতে গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, “নিমসার এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং পুলিশি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদেরও শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া, সাইফুল মালিক, জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ মোঃ শামসুল আলম শাহ্ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • দূর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে কারিতাসের সেমিনার, সদস্যদের মাঝে গাছ বিতরণ

    দূর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে কারিতাসের সেমিনার, সদস্যদের মাঝে গাছ বিতরণ

    বিশেষ প্রতিনিধি 

    কারিতাস বরিশাল অঞ্চল আইডিপিডিসি প্রকল্পের উদ্যোগে রাজবাড়ী সদর উপজেলায় দূর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বিশেষ সেমিনার এবং গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের ৩৬ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

    বুধবার (১০ জুন) সকালে রাজবাড়ী সদর উপজেলা হর্টিকালচার সেন্টারের সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের আইডিপিডিসি প্রকল্পের রাজবাড়ী সদর শাখার সি.ডি.এ মিন্টু সাহার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন তালুকদার।

    শুভেচ্ছা বক্তব্যে কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের আইডিপিডিসি প্রকল্পের রাজবাড়ী সদর শাখার সি.ডি.ও বার্থলোমিয় গোমেজ মানুষসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।

    সেমিনারে বক্তারা বর্তমান প্রেক্ষাপটে কৃষি খাতে দূর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা বলেন, অতিবৃষ্টি, খরা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষি উৎপাদনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে।

    বক্তারা আরও বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও বিষাক্ত কীটনাশকের ব্যবহার মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে মাটির জীবন্ত উপাদান ধ্বংস হচ্ছে, যা একদিকে ফসল উৎপাদনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে।

    এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা, জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। পাশাপাশি কৃষি খাতকে আরও টেকসই ও দুর্যোগ সহনশীল করতে সরকার, কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) এবং কৃষকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

    সেমিনার শেষে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

    এ সময় কারিতাস রাজবাড়ী সদর উপজেলার সি.ডি.এ দুর্জয় রায়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিশ্বকাপ শুরুর আগে জেনে নিন চমকপ্রদ ৫ তথ্য

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে জেনে নিন চমকপ্রদ ৫ তথ্য

    স্পোর্টস ডেস্ক 

    বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর মাত্র এক দিন বাকি। ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষার প্রহর প্রায় শেষের পথে। এবারের আসরটি শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্যই নয়, বরং বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী ঘটনার কারণেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। নতুন ফরম্যাট, নতুন দল এবং নতুন রেকর্ডের সম্ভাবনায় ভরপুর এই বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা।

    চলুন আসন্ন টুর্নামেন্ট সম্পর্কে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ও চমকপ্রদ তথ্য জেনে নেওয়া যাক

    ১. বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বেশি দল অংশ নিতে যাচ্ছে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে যেখানে ৩২টি দল খেলেছিল, সেখানে ২০২৬ সালের আসরে অংশ নেবে ৪৮টি দল। নতুন এই কাঠামোয় ১২টি গ্রুপ থাকবে এবং প্রতিটি গ্রুপে থাকবে চারটি করে দল। দলসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ম্যাচের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের আসরে ৬৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলেও এবার সেই সংখ্যা দাঁড়াবে ১০৪-এ। ফলে বিশ্বকাপের সময়কালও বাড়ানো হয়েছে এবং পুরো টুর্নামেন্ট প্রায় ৩৯ দিন ধরে চলবে।

    ২. আয়োজক দেশ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এবার তৈরি হয়েছে নতুন ইতিহাস। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা একসঙ্গে এই বিশাল আয়োজনের দায়িত্ব পালন করবে। এর আগে বিশ্বকাপ এক বা দুই দেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলেও তিন দেশের যৌথ আয়োজনে এটিই প্রথম বিশ্বকাপ।

    ৩. এবারের বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়ে নতুন এক রেকর্ড গড়েছে কুরাসাও। মাত্র প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার জনসংখ্যার এই ক্যারিবীয় দেশটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের অনেক শহরের চেয়েও ছোট এই দেশটি এখন বিশ্বের সেরা ফুটবল শক্তিগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাবে। তাদের এই সাফল্য ছোট দেশগুলোর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

    ৪. দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে দুটি নাম ডিআর কঙ্গো ও হাইতি। দুই দেশই সর্বশেষ ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর কেটে গেছে পাঁচ দশকেরও বেশি সময়। অবশেষে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে তারা সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা এই দুই দলের প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে এবারের আসরের অন্যতম আবেগঘন ঘটনা।

    ৫. বিশ্বকাপ ২০২৬ হবে চারটি দেশের জন্য একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা। কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান এবং উজবেকিস্তান ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশ নিতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা, পরিকল্পনা এবং উন্নয়নের ফল হিসেবে তারা এই সাফল্য অর্জন করেছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলো সাধারণত বাড়তি উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামে, যা অনেক সময় বড় দলগুলোর জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

    সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ ২০২৬ শুধু আরেকটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়; এটি হতে যাচ্ছে নতুন ইতিহাস, নতুন রেকর্ড এবং নতুন স্বপ্নের এক মহোৎসব। বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত শক্তিগুলোর পাশাপাশি নতুন ও উদীয়মান দলগুলোর উপস্থিতি এবারের আসরকে আরও বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয় করে তুলবে। ফুটবলপ্রেমীরা তাই আশা করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে তারা উপভোগ করতে পারবেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় এক আসর।

  • ব্যবসায়ীদের সুবিধা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব পাচ্ছে ২০২৬-২৭ বাজেট

    ব্যবসায়ীদের সুবিধা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব পাচ্ছে ২০২৬-২৭ বাজেট

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন, সে লক্ষ্য সামনে রেখেই এবারের বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে।

    বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের পতনের আগে এবং পরে আমরা আরও স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি, কীভাবে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। দেশকে পুনর্গঠন করতে হলে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করাও জরুরি।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ১১ জুন বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করা হবে। সেই বাজেট প্রণয়নের সময় আমরা দেশের সব ধরনের ব্যবসায়ীর কথা বিবেচনায় নিয়েছি। তারা ট্রেডার হোন কিংবা শিল্পোদ্যোক্তা, সবার জন্য এমন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে তারা নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হন।

    তিনি বলেন, এবারের বাজেটও সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই প্রস্তুত করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

    জাতীয় সংসদে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশি বা কোনো বিদেশি নাগরিক দেশে বিনিয়োগ নিয়ে এলে তাকে ওই বিনিয়োগের পরিমাণের ১ দশমিক ৫ শতাংশ (দেড়) ইনসেনটিভ বা কমিশন দেওয়া হবে।

    একই সঙ্গে প্রকৃত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তায় ৯ শতাংশ সুদে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাই না, দেশীয় বিনিয়োগকারীদেরও উৎসাহিত করতে চাই। এ লক্ষ্যে ডিরেগুলেশন (নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ) পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

    ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো হবে কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন সমীকরণ রয়েছে। বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সুদের হার কমালে যদি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায় এবং দেশের অর্থনীতি উপকৃত হয়, তাহলে সরকার অবশ্যই সে বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এখনো এ ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম সাবিকুন নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের ভুল নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, অর্থনীতির সুফল বা কুফল একদিনে দৃশ্যমান হয় না। অতীতের ভুল নীতির প্রভাব যেমন ধীরে ধীরে সামনে এসেছে, তেমনি বর্তমান সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর সুফল পেতেও কিছুটা সময় লাগবে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রপ্তানির উদ্দেশ্যে আমদানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা দূর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বন্ডেড ও নন-বন্ডেড সব প্রতিষ্ঠানকে এফওসি ভিত্তিতে আমদানির সুযোগের আওতা আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।

    আমদানি সহজীকরণের লক্ষ্যে মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি সহজ করা হচ্ছে এবং সকল আমদানিকারকের জন্য মূল্যসীমা নির্বিশেষে এলসি ব্যতীত চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ রাখা হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার চুক্তি বাস্তবায়ন ও ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের মাধ্যমে বাণিজ্য প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাণিজ্য সহজীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    তারেক রহমান বলেন, এছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হলো: বিনিয়োগ উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের একীভূতকরণ: বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা হ্রাস ও সেবার দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ একীভূতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগকারীরা একটি একক প্ল্যাটফর্ম থেকে সমন্বিত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে নীতিগত অসামঞ্জস্য ও সেবার পুনরাবৃত্তি কমবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

  • বিএসএফকে কড়া জবাব বিজিবির: আপনি গুলি করলে আমরা কী বসে থাকব?

    বিএসএফকে কড়া জবাব বিজিবির: আপনি গুলি করলে আমরা কী বসে থাকব?

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তে একজনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর (বিএসএফ) মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পতাকা বৈঠকে দুই বাহিনীই ওই ব্যক্তিকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে বিএসএফের এক সদস্য গুলি করার কথা বললে তীব্র প্রতিবাদ জানায় বিজিবি। সদস্যরা পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আপনারা গুলি করলে কি আমরা বসে থাকবো? আমাদের কি গুলি নাই?

    বুধবার (১০ জুন) সকালে সীমান্তের শূন্যরেখায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও বিজিবি সদস্য ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

    স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, ভারতের নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা প্রায় ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির সদস্যরা এবং সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজন সেখানে অবস্থান নেন। বাধার মুখে ওই ব্যক্তি শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন।

    পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সীমান্তে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে জামালপুর ৩৫ বিজিবির সহকারী পরিচালক এবং নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের এক পরিদর্শক নেতৃত্ব দেন। তবে বৈঠকে কোনো সমাধান হয়নি। বিএসএফ ওই ব্যক্তিকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাকে নো-ম্যানস ল্যান্ডে রেখেই ফিরে যায়।

    বৈঠক চলাকালে দুই বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএসএফের এক সদস্য গুলি করার কথা বললে বিজিবি সদস্যরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তারা বলেন, ‘আপনি কেন গুলি করার কথা বললেন? গুলি আপনার কাছে আছে, আমাদের কাছে নেই? আপনারা গুলি করলে আমরা কী বসে থাকব?’

    এরপরও বিএসএফ সদস্যরা কয়েক দফা ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের অবস্থানের কারণে তারা সফল হতে পারেনি।

    সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে নো-ম্যানস ল্যান্ডে রেখেই উভয় পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে ফিরে যায়। তবে ঘটনাটি সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

    জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে এই সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আজ সকালে এক ব্যক্তিকে ভারত থেকে শূন্যরেখায় ঠেলে পাঠায় বিএসএফ। এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিয়েছে।’