Author: Jvadmin

  • সরকারের ৮ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের শীর্ষ পদে রদবদল

    সরকারের ৮ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের শীর্ষ পদে রদবদল

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে উপসচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব এবং সহকারী সচিব পদমর্যাদার ৮ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করেছে সরকার। সোমবার (৯ জুন) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, গত ১০ মে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের তিনজন উপসচিবকে স্থানীয় সরকার বিভাগে ন্যস্ত করা হলেও তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি। এ কারণে তাদের আগামী ১১ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে বদলি বা পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ১১ জুন অপরাহ্নে তারা বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বা ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ হিসেবে গণ্য হবেন।

    এ তালিকায় রয়েছেন আঞ্চলিক লোক প্রশাসন কেন্দ্র, চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. দিদারুল আলম। তাকে ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব ডা. মো. শেখ ছাদেককে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মিজু ফেরদৌসী বেগমকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. ফিরোজ মাহমুদকে। তাকে বদলি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে পদায়ন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তাকেও আগামী ১১ জুনের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন দায়িত্বস্থলে যোগদান করতে হবে। অন্যথায় একই দিন তিনি ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ হিসেবে গণ্য হবেন।

    অন্যদিকে পৃথক এক আদেশে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সিনিয়র সহকারী সচিব) নয়ন কুমার রাজবংশীকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

    এ ছাড়া সহকারী সচিব (ক্যাডার বহির্ভূত) পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তারও দপ্তর পরিবর্তন করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মো. মহিউদ্দীন শামীমকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সহকারী সচিব, ক্যাডার বহির্ভূত) মো. জাহাঙ্গীর আলমকে একই মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ ইউনিটের সহকারী পরিচালক মো. একরামুল হককে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

  • বাংলাদেশ-রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার

    বাংলাদেশ-রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    মস্কোতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষা খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সোমবার মস্কোয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সম্পন্ন হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই ড. খলিলুর রহমানের প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তিন দিনের সরকারি সফরে তিনি বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন।

    বৈঠকে সের্গেই লাভরভ ড. খলিলুর রহমানকে ইউএনজিএ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আমরা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বাস্তবমুখী ফলাফলের অপেক্ষায় আছি।” তিনি জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করতে এবং বৈশ্বিক বিষয়াদিতে এর কেন্দ্রীয় ভূমিকা সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টায় রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন। লাভরভ আরও উল্লেখ করেন যে, “উভয় দেশই দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সুসম্পর্ক বজায় রেখে আসছে” এবং আগামী জানুয়ারিতে দুই দেশের সম্পর্কের ৫৫তম বার্ষিকী বাণিজ্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে উদযাপিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের স্থিতিশীল সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমাদের দু’দেশের মধ্যে স্থিতিশীলভাবে রাজনৈতিক সংলাপ বিকশিত হচ্ছে।”

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন, বিশেষ করে স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম বন্দর মাইনমুক্ত করতে সোভিয়েত নৌবাহিনীর অবদানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “বাণিজ্য, শিক্ষা, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে আমাদের সম্পর্কের সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে এবং আমরা এই ক্ষেত্রগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে চাই।” রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দুই দেশের বর্ধমান অংশীদারিত্বের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে অভিহিত করে তিনি প্রকল্পটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে ২০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। মস্কো এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী বলে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন। এক দশক ধরে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি ও কারিগরি খাতে যে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলে উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

  • নেইমারকে নিয়ে স্বস্তির খবর দিলো ব্রাজিল

    নেইমারকে নিয়ে স্বস্তির খবর দিলো ব্রাজিল

    স্পোর্টস ডেস্ক 

    বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে পানামা ও মিসরের বিপক্ষে খেলতে পারেননি নেইমার। মাংসপেশীর চোট ভুগছিলেন তিনি। তবে বিশ্বকাপ যতই ঘনিয়ে আসছে, তাকে নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছিল। অবশেষে পাওয়া গেল স্বস্তির খবর। কাফ ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় বেশ ভালো অগ্রগতি হয়েছে তার, এমনটাই জানিয়েছে ব্রাজিল।

    গত মাসের স্ক্যানে ধরা পড়েছে, গ্রেড টু মাত্রায় পেশী ছিড়ে গেছে নেইমারের। ব্রাজিলের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা দুই থেকে তিন সপ্তাহের জন্য সাইডলাইনে যেতে হয়েছে।

    গতকাল সোমবার আরেকটি স্ক্যান করানো হয়েছে ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিয়েছে, ‘পরীক্ষায় তার চিকিৎসায় প্রত্যাশিত সীমার মধ্যে ভালো অগ্রগতি দেখা গেছে। তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলের মেডিকেল স্টাফদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আরোগ্য ও শারীরিক প্রস্তুতির প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবেন।’

    আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এই সময়ের মধ্যে ফিট হওয়ার লড়াই করছেন নেইমার।

     

  • গর্জনিয়া-বাইশারীর আর্তনাদ: একটি সেতুই বদলে দিতে পারে লাখো মানুষের জীবন

    গর্জনিয়া-বাইশারীর আর্তনাদ: একটি সেতুই বদলে দিতে পারে লাখো মানুষের জীবন

    এস.এম. হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার

    মাত্র একটি সেতুর অভাবে আজও উন্নয়নের মূলধারা থেকে পিছিয়ে রয়েছে দুই জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়ন এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের লাখো মানুষের জীবনে যেন দুর্ভোগের আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ছোট গর্জই খাল।

    প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে, শিক্ষার উদ্দেশ্যে কিংবা জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য এই পথে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে বছরের পর বছর ধরে তাদের কষ্ট যেন দেখার কেউ নেই।

    স্থানীয়দের দাবি, উত্তর বড়বিল-দক্ষিণ বাইশারী সংযোগ সেতুটি নির্মাণ করা হলে নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ এবং গর্জনিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৭০ হাজার মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে। সহজ হবে যোগাযোগ, প্রসার ঘটবে ব্যবসা-বাণিজ্যের, আর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট গর্জই খালের দুই তীরে বসবাসরত মানুষের চোখে-মুখে একটাই প্রশ্ন “আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে একটি সেতুর জন্য?”

    স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে এক বেদনাময় ইতিহাস। তাদের ভাষ্যমতে, ১৯৮৭-৮৮ সালে তৎকালীন বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হাকিমের প্রচেষ্টায় দুই জেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি ধসে পড়ে খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর কেটে গেছে প্রায় চার দশক। পরিবর্তিত হয়েছে সরকার, হয়েছে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি; কিন্তু এই জনপদের মানুষের ভাগ্যে আর জোটেনি একটি নতুন সেতু।

    বর্ষা মৌসুম এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারে পৌঁছাতে বাড়তি খরচ গুনতে হয়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় অর্থনীতি।

    স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “একটি সেতু শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এটি মানুষের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতীক। একটি সেতু নির্মিত হলে দুই জেলার মানুষের মধ্যে নতুন সেতুবন্ধন তৈরি হবে, সৃষ্টি হবে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।”

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছালেও গর্জনিয়া ও বাইশারীর এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল এখনো রয়ে গেছে অবহেলার অন্ধকারে। অথচ একটি সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে সামান্য অর্থ, যার সুফল ভোগ করবে কয়েক প্রজন্ম।

    তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি এলাকাবাসীর জোর দাবি উত্তর বড়বিলের ছোট গর্জই খালের ওপর দ্রুত একটি আধুনিক ও টেকসই সেতু নির্মাণ করা হোক। তাদের প্রত্যাশা, বহু বছরের বঞ্চনা ও দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে একদিন এই সেতুই হয়ে উঠবে দুই জেলার লাখো মানুষের স্বপ্নপূরণের প্রতীক।

  • জীবননগরে কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে এতিম শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

    জীবননগরে কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে এতিম শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ১০ বছরের এক এতিম শিশুকে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাসে বাসায় এনে দীর্ঘ দুই বছর ধরে গৃহকর্মীর মতো খাটানো এবং শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    ভুক্তভোগী মরিয়ম (১০) অভিযোগ করেছে, তাকে দত্তক নেওয়ার কথা বলে আশ্রয় দেওয়া হলেও পরে তার লেখাপড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ঘরের প্রায় সব কাজ করানো হতো এবং সামান্য ভুল হলেই তার ওপর চালানো হতো নির্মম নির্যাতন।

    অভিযুক্ত লাবনী জীবননগর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী-ঠিকাদার জাকাউল্লাহর কন্যা। তিনি জীবননগর সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরিয়মের বয়স যখন মাত্র ছয় বছর, তখন তার মা মারা যান। পরে বাবা অন্যত্র চলে গেলে শিশুটি নানা-নানির কাছে বড় হতে থাকে। দুই বছর আগে নানার মৃত্যুর পর মরিয়মকে নিজের বাসায় নিয়ে যান লাবনী। পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল, শিশুটির লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়া হবে এবং তাকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করা হবে।

    কিন্তু পরিবারের দাবি, কিছুদিন স্কুলে পাঠানোর পর তার পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তাকে দিয়ে ঘর মোছা, রান্না, কাপড় ধোয়া, বাসন মাজাসহ সংসারের বিভিন্ন কাজ করানো হতো।

    ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কাজে সামান্য ভুল হলেই মরিয়মের ওপর নেমে আসত শারীরিক নির্যাতন। কখনো লাঠি, কখনো রড, আবার কখনো গরম খুন্তি দিয়ে তাকে আঘাত করা হতো। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ জুন গৃহস্থালির কাজে সামান্য ত্রুটিকে কেন্দ্র করে শিশুটির ওপর আবারও নির্যাতন চালানো হয়। তাকে মারধর করে আহত করা হয় এবং একপর্যায়ে পেটে লাথি মারা হলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। জ্ঞান ফেরার পর সুযোগ বুঝে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে তার নানি এসে তাকে উদ্ধার করেন।

    নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মরিয়ম বলে, “আমাকে পড়াশোনা করানোর কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে সব কাজ আমাকে দিয়ে করানো হতো। কোনো কাজ ভুল হলেই মারধর করত। আমি কাঁদলে মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হতো যাতে কেউ শুনতে না পায়। গত দুই বছর ধরে আমার ওপর এভাবেই নির্যাতন করা হয়েছে।”

    মরিয়মের নানি রশিদা খাতুন বলেন, “এতিম একটি শিশুর সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমার নাতনির শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষিকা লাবনীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান মেয়েটি আমার কাছে চার বছর ধরে আছে আমি নিজের সন্তানের মতকরে তাকে লালন পালন করি। নিজের মেয়ে হলে কি শাসন করা যায় না। আমি তাকে শাসন করেছি আমার রাগ হয়ে যাওয়াই আমি তাকে মেরেছি খুব বেশি মারিনি।

    জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত, শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

  • ‘ছায়া বাজেট’ দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী

    ‘ছায়া বাজেট’ দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। এবার ‘ছায়া বাজেট’ দিচ্ছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। এর আগে জোট শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছায়া বাজেট উপস্থাপন করেছিল।

    দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এই ছায়া বাজেট উপস্থাপন করা হবে।

    জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সংবাদ সম্মেলনে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ছায়া বাজেট উপস্থাপন করবেন। এ সময় দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

    এর আগে গত ৫ জুন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পৃথকভাবে একটি ছায়া বাজেট উপস্থাপন করে। ওই প্রস্তাবে দেশের অর্থনীতিকে ১২টি খাতে ভাগ করে মোট ৭১টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

  • ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল, ঋণ মিলবে ৯ শতাংশ সুদে

    ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল, ঋণ মিলবে ৯ শতাংশ সুদে

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ব্যবসা-বাণিজ্য গতিশীল করতে দেশের ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার নতুন পুনঃ অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিলের আওতায় সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ হারে চলতি মূলধন হিসেবে ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। সোমবার (৮ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ’ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা এ সংক্রান্ত নির্দেশনাটি ইতোমধ্যে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নতুন এই তহবিলের নাম দেয়া হয়েছে ‘সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন পুনঃ অর্থায়ন তহবিল’। প্রাথমিকভাবে যার মেয়াদ হবে ৩ বছর।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১ কোটি ১৮ লাখ সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নতুন এই তহবিলের ফলে বিশাল এই খাতের উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ হারে চলতি মূলধন হিসেবে ঋণ পাবেন।

    এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চাহিদার তুলনায় চলতি মূলধনের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় সিএমএসএমই খাতের বিকাশ ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতির চাকা গতিশীল করার লক্ষ্যে এই তহবিল গঠন করা হয়েছে। যার মূল উদ্দেশ্য সচল সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন ঋণ বা বিনিয়োগ সরবরাহের মাধ্যমে তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন, সেবা বা ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করা।

    এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও উদ্যোক্তা উভয়ের জন্যই নতুন এই তহবিলের সুদের হার নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিলের আওতায় ঋণ নিলে গ্রাহক বা উদ্যোক্তা পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে এই তহবিল থেকে টাকা পাবে। তবে ব্যাংকগুলোকে প্রতি ৩ মাস (ত্রৈমাসিক) পরপর এই সুদ পরিশোধ করতে হবে।

    এছাড়া প্রচলিত ব্যাংকের পাশাপাশি শরিয়াভিত্তিক পরিচালিত ব্যাংক বা সাধারণ ব্যাংকের ইসলামিক বিভাগও নিজস্ব নিয়মে গ্রাহকদের এই ঋণ সুবিধা (বিনিয়োগ আকারে) দিতে পারবে। তবে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করা এই ঋণ আদায়ের সব দায়-দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর। যদিও ঋণের ঝুঁকি কমাতে ব্যাংক চাইলে নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহকের কাছ থেকে সহ-জামানত বা কোলেটারাল নিতে পারবে।

  • জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি লোকগানের রচয়িতা-সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী অনিল হাজারিকা

    জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি লোকগানের রচয়িতা-সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী অনিল হাজারিকা

    মাগুরা প্রতিনিধি

    অসংখ্য জনপ্রিয় লোকগানের রচয়িতা, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী অনিল হাজারিকা। বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা, লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের চিত্র তার গানে এমনভাবে ফুটে উঠেছে, যা আজও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।

    কিন্তু যে মানুষটি সারাজীবন গান দিয়ে মানুষকে আনন্দ দিয়েছেন, সেই শিল্পী আজ নিজেই জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। বয়সের ভার, দীর্ঘদিনের অসুস্থতা এবং আর্থিক সংকটের কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

    ঠিলে ধুয়ে দে বউ, গাছ কাটতি যাব, ঠোঙ্গা আইনে দে, দড়া আইনে দে বউ, বালিধারা খান কই? ঠিলের গলায় কানাচ নাগা, বেলা গেল ওই’- এমন অসংখ্য জনপ্রিয় লোকগানের রচয়িতা, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী অনিল হাজারিকা।

    মাগুরার শালিখা উপজেলার ধনেশ্বরগাতী ইউনিয়নের তিলখড়ি গ্রামের বাসিন্দা অনিল হাজারিকা।

    তার বয়স এখন ৭০ বছর। পাঁচ বছর আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি প্রায় কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। এক সময় যার কণ্ঠে মুখর থাকত গ্রামবাংলা, আজ তিনি বিছানায় শুয়ে দিন কাটান। নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও অর্থাভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, অনিল হাজারিকা প্রায় ১ হাজার ৫০০ আঞ্চলিক গান রচনা, সুরারোপ ও পরিবেশন করেছেন। তার অনেক গান বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে। লোকসংগীতের মাধ্যমে তিনি যশোর অঞ্চলের বহু বিলুপ্তপ্রায় শব্দ, প্রবাদ-প্রবচন এবং লোকজ জীবনধারাকে সংরক্ষণ করেছেন।

    ‘ঠিলে ধুয়ে দে বউ, গাছ কাটতি যাব, ঠোঙ আইনে দে, দড়া আইনে দে বউ, বালিধারা খান কই? ঠিলের গলায় কানাচ নাগা, বেলা গেল ওই’- এমন অসংখ্য জনপ্রিয় লোকগানের রচয়িতা, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী অনিল হাজারিকা। বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা, লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের চিত্র তার গানে এমনভাবে ফুটে উঠেছে, যা আজও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।

    কিন্তু যে মানুষটি সারাজীবন গান দিয়ে মানুষকে আনন্দ দিয়েছেন, সেই শিল্পী আজ নিজেই জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। বয়সের ভার, দীর্ঘদিনের অসুস্থতা এবং আর্থিক সংকটের কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনিল হাজারিকা প্রায় ১ হাজার ৫০০ আঞ্চলিক গান রচনা, সুরারোপ ও পরিবেশন করেছেন। তার অনেক গান বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে। লোকসংগীতের মাধ্যমে তিনি যশোর অঞ্চলের বহু বিলুপ্তপ্রায় শব্দ, প্রবাদ-প্রবচন এবং লোকজ জীবনধারাকে সংরক্ষণ করেছেন।

    অনিল হাজারিকা জানান, শৈশবে সংসারের অভাব-অনটনের কারণে মাত্র ১৫ বছর বয়সে লেখাপড়া ছেড়ে বাবার সঙ্গে কাজ শুরু করতে হয় তাকে। তার বাবা প্রয়াত হাজারী লাল বিশ্বাসও ছিলেন সংগীতপ্রেমী মানুষ। বাবার কাছ থেকেই সংগীতের হাতে খড়ি। মাত্র ২০ বছর বয়সে গান লেখা শুরু করেন অনিল হাজারিকা। স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি আঞ্চলিক উপভাষায় গান রচনা করতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার গান ছড়িয়ে পড়ে বৃহত্তর যশোর বিভিন্ন অঞ্চলের পথে প্রান্তে।

    তিনি বলেন, আমার লেখা গানের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০। আরও অনেক গান ছিল, যেগুলো সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেছে। মানুষের ভালোবাসাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

    লোকসংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৫ সালে তিনি খুলনা বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগ, যশোরের নৃত্যবিতান এবং মাগুরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি তাকে সম্মাননা প্রদান করেছে।তবে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই সম্মাননা যেন তার কষ্ট লাঘব করতে পারছে না। বর্তমানে পৈতৃক ভিটায় টিনের একটি সাধারণ ঘরে স্ত্রী জ্যোৎস্না হাজারিকাকে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। পরিবারের সামান্য সহায়তা এবং এক বিঘা জমির ধানের ওপর নির্ভর করেই চলছে সংসার।

    অনিল হাজারিকার স্ত্রী জ্যোৎস্না হাজারিকা বলেন, “পাঁচ বছর আগে স্ট্রোক করার পর বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে চার লাখ টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। এখন আর চিকিৎসার খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে হয়তো আবার কিছুটা সুস্থ হয়ে গান লেখা ও গাওয়ার কাজে ফিরতে পারতেন।”

    জীবনের এই শেষ সময়ে কী প্রত্যাশা-এমন প্রশ্নের জবাবে আবেগাপ্লুত হয়ে অনিল হাজারিকা বলেন, এখন আর গান করতে পারি না। শরীর সায় দেয় না। গানই ছিল আমার জীবন। আজ গান থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে, এটাই সবচেয়ে বড় কষ্ট। মৃত্যুর আগে যদি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আর স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে একটি সম্মাননা পেতাম, তাহলে ভালো লাগত।

    সংগীতাঙ্গনের অনেকের মতে, আঞ্চলিক লোকসংগীত সংরক্ষণ ও জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে অনিল হাজারিকার অবদান অনস্বীকার্য। অথচ জীবনের শেষ সময়ে এসে তিনি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও যথাযথ স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত।

    স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা বলছেন, অনিল হাজারিকার মতো শিল্পীরা শুধু গান রচনা করেননি, তারা বাংলার লোকঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করেছেন। তাই তার চিকিৎসা ও জীবিকার দায়িত্ব নেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক কর্তব্য।

    শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীন হাসান চৌধুরী বলেন, অনিল হাজারিকা যদি জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

    লোকসংগীতের এই সুরের পাখিকে বাঁচিয়ে রাখা শুধু একজন শিল্পীকে সহায়তা করা নয়; বরং বাংলার লোকসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারাকে সংরক্ষণ করা। তাই তার চিকিৎসা, আর্থিক সহায়তা এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে স্থানীয় সাংস্কৃতিক মহলসহ সচেতন মানুষ সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • রাতের মধ্যে ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস

    রাতের মধ্যে ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    দেশের আটটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে রাতের মধ্যে ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    সোমবার (৮ জুন) বিকাল ৩টা থেকে দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

    পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

    এ পরিস্থিতিতে এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

  • নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার

    নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) পরিদর্শন করেন।

    সোমবার (৮ জুন ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁও-তে অবস্থিত স্পারসো পরিদর্শন করেন তিনি।

    প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা স্পারসোতে এসে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন ও স্পারসো এর চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব মো. রাশিদুল ইসলাম। এ সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্পারসোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

    পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা স্পারসোর বিভিন্ন বিভাগসমূহ ঘুরে দেখেন। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহ তাদের উদ্ভাবিত ও গবেষণাকৃত কার্যক্রম সম্পর্কে ব্রিফ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

    পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষার সাথে স্পেস এবং রিমোট সেন্সিং-এর সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। মহাকাশ গবেষণা এবং রিমোট সেন্সিং (দূর অনুধাবন) প্রযুক্তিকে কীভাবে দেশের প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তায় আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে জোর দেওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

    তিনি মহাকাশে বাংলাদেশের তৈরি নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া, সীমান্ত পর্যবেক্ষণ, কৌশলগত মানচিত্র তৈরি এবং ভূ-স্থানিক বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে স্পারসোর ভূমিকা বৃদ্ধি করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

    প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা স্পারসোর সংগৃহীত স্যাটেলাইট ডেটা এবং গবেষণালব্ধ তথ্যগুলো যাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর বিভিন্ন অপারেশনাল ও গবেষণামূলক কাজে আরও দ্রুত ও সহজে কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ করেন। স্যাটেলাইট ইমেজ প্রসেসিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং রিমোট সেন্সিংয়ের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগুলো স্পারসোতে যুক্ত করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি সক্ষমতা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

    বাংলাদেশ যেহেতু প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ একটি দেশ, তাই ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা খরার মতো দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা পেতে এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে দূর অনুধাবন প্রযুক্তিকে আরও নিখুঁতভাবে কাজে লাগানোর নির্দেশনা প্রদান করেন। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ফসলের অবস্থা, মাটির আর্দ্রতা, বনাঞ্চল এবং পানিসম্পদ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সরকারকে সঠিক ডেটা সরবরাহ করার বিষয়ে তাগিদ দেন। তিনি স্পারসো এর ডাটাসমূহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে সরবরাহ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

    পরিদর্শন শেষে স্পারসোর সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে একটি প্রেজেন্টেশন প্রদান করা হয়। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা স্পারসোকে একটি আধুনিক, যুগোপযোগী এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখতে সক্ষম এমন একটি স্বনির্ভর মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে কাজ করা নির্দেশনা দেন।