Author: Jvadmin

  • ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আসেনি ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’

    ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আসেনি ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য বা প্রস্তাবিত চুক্তিতে সই করবেন কি না, তা নির্ধারণ করতে নিজের উপদেষ্টাদের নিয়ে হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ জরুরি বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রায় দুই ঘণ্টার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে।

    শুক্রবার (২৯ মে) হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, সমঝোতার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। তবে ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।

    ট্রাম্প বলেছেন, তাদের (ইরানকে) অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির উভয় দিকে অবাধ নৌযান চলাচলের জন্য খুলে দিতে হবে।

    বড় ধরনের সংকট মোকাবিলায় হোয়াইট হাউসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে ইরান জানিয়েছিল, তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা করছে না।

    বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন কোনো চুক্তিই করবেন না যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকের (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) খসড়ায় একমত হয়েছিল। তবে সেটি কার্যকর হতে ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অনুমোদন প্রয়োজন। প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

    এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্র সরিয়ে নিয়ে ধ্বংস করবে। তবে আলোচনায় থাকা সমঝোতা স্মারকে এমন কোনো শর্ত অন্তর্ভুক্ত নেই বলে জানা গেছে।

    গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনায় উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।

    গতকাল শুক্রবার সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নিতে তিনি প্রস্তুত। এর ফলে সেখানে আটকে থাকা জাহাজগুলো নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারবে।

    ট্রাম্প বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ লেনদেন হবে না। তবে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

    ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে ‘সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ’ রয়েছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক উপকরণ ধ্বংসের কোনো শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য যুদ্ধের অবসান। পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো আলোচনা চলছে না।

    হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুম’ হলো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে সুরক্ষিত এবং উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন একটি গোয়েন্দা কেন্দ্র। এটি মূলত একটি কমান্ড সেন্টার, যেখানে বসে প্রেসিডেন্ট এবং তার জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

  • খোকসায় সাতপাখিয়া ছাত্রকল্যাণ পরিষদের ২৫ বছর পূর্তি ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    খোকসায় সাতপাখিয়া ছাত্রকল্যাণ পরিষদের ২৫ বছর পূর্তি ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    বিশেষ প্রতিনিধি

    কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ও শিক্ষামূলক সংগঠন সাতপাখিয়া ছাত্রকল্যাণ পরিষদের ২৫ বছর পূর্তি (রজতজয়ন্তী), পবিত্র ঈদ-উল-আযহা পরবর্তী ঈদ পুনর্মিলনী এবং কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    গত শুক্রবার (২৯ মে ২০২৬) উপজেলার সাতপাখিয়া নতুন ঈদগাহ ময়দানে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংগঠনটির গৌরবময় ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক মিলনমেলায় পরিণত হয় অনুষ্ঠানস্থল।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কুষ্টিয়া-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন এমপির পক্ষে তাঁর ছেলে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম।

    অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মো. পারভেজ হোসেন নওসাদ বলেন, “এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আরও উৎসাহিত করা এবং তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সাতপাখিয়া ছাত্রকল্যাণ পরিষদ দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনের এই পথচলায় এলাকার মানুষের সহযোগিতা ও ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

    অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এলাকার কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান। এ সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। বক্তারা শিক্ষার্থীদের দেশ ও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

    এছাড়াও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক সদস্য, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা সাতপাখিয়া ছাত্রকল্যাণ পরিষদের শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

    সফল আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাতপাখিয়া ছাত্রকল্যাণ পরিষদের রজতজয়ন্তী উদযাপন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

  • ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে সোমবার খুলছে অফিস

    ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে সোমবার খুলছে অফিস

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটি শেষে সোমবার (১ জুন) থেকে খুলছে সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের অফিস, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান ও শেয়ারবাজার। ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া ছুটি শেষ হচ্ছে রবিবার (৩১ মে)। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে যাচ্ছে।

    গত ২৮ মে দেশে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। ঈদ উপলক্ষে সরকার আগে থেকেই ছয় দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল। পরে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নির্বাহী আদেশে আরও একদিন ছুটি বাড়িয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়।

    আগে থেকেই নির্ধারিত ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত একদিন যুক্ত হওয়ায় এবার চাকরিজীবীরা তুলনামূলক দীর্ঘ সময় পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ পান। সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি ব্যাংক, বিমা এবং অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও এই ছুটি ভোগ করেন। ঈদের ছুটির আগে ২৩ মে (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অফিস করেছেন চাকরিজীবীরা।

    ছুটি শেষে সোমবার থেকে সরকারি অফিসের পাশাপাশি ব্যাংক, বিমা, শেয়ারবাজার এবং অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে শুরু হবে। ফলে দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আবারও গতি ফেরার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ঈদুল আজহা উপলক্ষে ডিএসইর সব ধরনের অফিস ও ট্রেডিং কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। ছুটির আগে ২৩ মে (শনিবার) শেয়ারবাজারে লেনদেন হয়।

    তিনি আরও বলেন, ছুটি শেষে ১ জুন থেকে আবার স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে। আগের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শেয়ারবাজারে লেনদেন চলবে। অর্থাৎ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন হবে।

    ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুরুতে ২৬ ও ২৭ মে এবং পরে ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি নির্ধারণ করা হয়। ঈদের দিন ২৮ মে সাধারণ ছুটি হিসেবে যুক্ত ছিল। পরবর্তীতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ২৫ মে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করা হলে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটি পান।

    ছুটির এই দীর্ঘ সময়ে দেশের জরুরি সেবাসমূহ স্বাভাবিকভাবে চালু ছিল। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, ডাক ও টেলিযোগাযোগসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেছে। এছাড়া হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবা এবং জরুরি পরিবহন ব্যবস্থাও ছুটির আওতার বাইরে থেকে চালু ছিল।

    টানা ছুটি শেষে সোমবার থেকে সরকারি দপ্তর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বিমা ও শেয়ারবাজারে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের কর্মজীবন আবারও পুরোনো ছন্দে ফিরবে।

  • সাড়ে নয় বছর পর জঙ্গি মামলায় খালাস পেলেন সেই তিন ছাত্রী

    সাড়ে নয় বছর পর জঙ্গি মামলায় খালাস পেলেন সেই তিন ছাত্রী

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    সাড়ে নয় বছর আইনি লড়াই শেষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের তিন ছাত্রী জঙ্গিবাদের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন। অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় গত ২৪ মে জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাদের অব্যাহতির রায় দেন।

    শনিবার (৩০ মে) মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, এই শিক্ষার্থীদের জঙ্গি তকমা দিয়ে রাষ্ট্র বা তদন্ত সংশ্লিষ্টরা কী অর্জন করেছে? তাদের কাছ থেকে কোনো অবৈধ বা নিষিদ্ধ বস্তু পাওয়া যায়নি, কেবল কোরআন, হাদিস এবং ডা. জাকির নায়েকের কিছু বই উদ্ধার করা হয়েছিল। অথচ জঙ্গি তকমার কারণে অভিযুক্তদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন।

    বদিউল আলম সুজন আরও বলেন, পরিবার চাইলে রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা আইনগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে এ মামলার পেছনে কারা ভূমিকা রেখেছে, তা চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানাই।

    মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই রাতে কুমিল্লা শহরের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলে যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। অভিযানের সময় হলের ২০২ নম্বর কক্ষে অবস্থানরত তিন ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাদের কক্ষ তল্লাশি চালানো হয়।

    তল্লাশিকালে কক্ষ থেকে কয়েকটি ধর্মীয় ও ইসলামী বিষয়ক বই জব্দ করা হয়। জব্দকৃত বইয়ের মধ্যে ছিল ড. জাকির নায়েকের লেকচার সমগ্র, ‘আদর্শ পরিবার পরিবেশ’, ‘পরকালের প্রস্তুতি’ এবং ‘ইসলামী আন্দোলনের পথ ও পাথেয়’ শীর্ষক গ্রন্থ।

    পরে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশির পর তিন ছাত্রীকে জঙ্গিবাদের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

    ঘটনাটি সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিছুদিন কারাভোগের পর তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।

    এরপর মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং উচ্চ আদালতসহ বিভিন্ন বিচারিক ধাপ অতিক্রম করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার একপর্যায়ে আদালত অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ না পাওয়ায় গত ২৪ মে তিন শিক্ষার্থীকে খালাসের আদেশ দেন।

    রায়ের পর শিক্ষার্থীরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় এক দশক ধরে চলা একটি কঠিন অধ্যায়ের অবসান হয়েছে। তারা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

    মামলার শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনি সহায়তা প্রদান করেন অ্যাডভোকেট শহীদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন এবং অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম মনির।

  • শান্তিরক্ষীদের সম্মান, বাংলাদেশের বৈশ্বিক ভূমিকার প্রশংসা জাতিসংঘের

    শান্তিরক্ষীদের সম্মান, বাংলাদেশের বৈশ্বিক ভূমিকার প্রশংসা জাতিসংঘের

    অনলাইন ডেস্ক 

    ৪ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশিসহ বিশ্বব্যাপী দায়িত্ব পালনরত ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীকে সম্মান জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শান্তির সেবায় জীবন উৎসর্গকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিশ্ব সংস্থাটি।

    প্রতি বছর ২৯ মে পালিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ বিশ্বের সবচেয়ে অস্থির সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কর্মরত শান্তিরক্ষীদের নিষ্ঠা, সাহস ও আত্মত্যাগকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

    বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় শুক্রবার (২৯ মে) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শান্তিরক্ষীদের কাজ বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতায় আরও বেশি বিনিয়োগের জরুরি প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের কাজ শান্তিতে বিনিয়োগের তাগিদকে আরো জোরালো করেছে।

    দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ৫০ হাজারেরও বেশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মোতায়েন রয়েছেন।

    তারা বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দিচ্ছেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়তা করছেন।

    তিনি আরো বলেন, নিজ দেশ থেকে বহু দূরে গিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু এলাকায় তারা শত্রু পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমানো, ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর কাজে তদারকি, নির্বাচন আয়োজনের সহায়তা এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরিতে সহায়তা করছেন।

    গুতেরেস অতীত ও বর্তমান সব শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে ১৯৪৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান, যাদের মধ্যে গত বছরই প্রাণ হারিয়েছেন ৫৯ জন।

    তিনি বলেন, শান্তির জন্য কাজ করতে গিয়ে কারো মৃত্যুই কাম্য নয়।

    শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন উল্লেখ করে জাতিসংঘ কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান মহাসচিব।

    মহাসচিব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে স্থিতিশীলতা ও আশার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় পরীক্ষিত ও সাশ্রয়ী উপায় হিসেবে বর্ণনা করেন এবং টেকসই রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

    জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। শান্তিরক্ষীরা যাতে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করতে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    গুতেরেস বলেন, শান্তিরক্ষায় বিনিয়োগ মানে নিরাপদ ভবিষ্যতে বিনিয়োগ। যারা শান্তি প্রতিষ্ঠাকে সম্ভব করে তুলছেন, তাদের প্রতি আমাদের সবসময় সমর্থন জানানো উচিত।

    জাতিসংঘ জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় শান্তিরক্ষীরা নিয়মিত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েন। তাদের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বাড়াতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

    দিবসটি উপলক্ষ্যে আগামী ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শান্তিরক্ষী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন গুতেরেস। নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

    এছাড়া দায়িত্ব পালনকালে নিহত কর্মীদের মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক প্রদান অনুষ্ঠানেও সভাপতিত্ব করবেন।

    অনুষ্ঠানে ‘ইউএন মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার’ এবং ‘ইউএন ওম্যান পুলিশ অফিসার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারও দেওয়া হবে।

    দিবসটি উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জাঁ-পিয়ের লাক্রোয়ার।

  • শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে জিয়াউর রহমানের মাজারে ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে দলের দুই সাবেক চেয়ারম্যানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

    শনিবার (৩০ মে) জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীরা সকাল থেকে জিয়ার মাজারে আসতে শুরু করেন। সকাল দশটা নাগাদ মাজারের আশে পাশে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে দেখা গেছে।

    সকাল ১১টা ১০ মিনিটের সময় সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ফুল দিয়ে সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর ফাতেহা পাঠ করেন। পরে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

    এসময় তার সাথে ছিলেন দলের মহাসচিব স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, স্বরাস্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামসুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, বিএনপি নেতা মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার, মীর সরাফত আলী সপু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, সংরক্ষিত নারী আসনের

    এমপি আরিফা সুলতানা রুমা,  প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনিসহ অন্যরা।

    পরে সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী মানিজ মিয়া অ্যাভেনিউয়ে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে যান। সেখানে জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনভর রাজধানীর ১৬টি স্পটে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করবেন বলে দলীয় সুত্র জানিয়েছে।

  • ফুলবাড়ীতে দেহ ব্যবসার অভিযোগে নারী-পুরুষসহ আটক-৭

    ফুলবাড়ীতে দেহ ব্যবসার অভিযোগে নারী-পুরুষসহ আটক-৭

     

    আসাদুজ্জামান আসাদ, দক্ষিণ-দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ

    দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর শহরে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে দেহ ব্যবসার অভিযোগে ৪ নারী,২ খদ্দের ও ১ ভাড়াটিয়াকে আটক করা হয়।পরবর্তীতে তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

    ২৯ মে(শুক্রবার)বিকেল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পূর্ব কাঁটাবাড়ী বাংলা স্কুলের উত্তরে “বন্ধন ভিলা” নামে একটি বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
    সহকারী কমিশনার (ভূমি)ও পৌর প্রশাসক ছামিউল ইসলাম অভিযান পরিচালনা করেন।এসময় ফুলবাড়ী থানার এসআই বুলু মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ ফোর্স ও স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

    দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- দিনাজপুর চাউলিয়া পট্টির জহির উদ্দিনের মেয়ে রুপা বেগম(৩৬)কে ৬ মাস। বিরামপুর উপজেলার শান্তিনগর এলাকার রাশেদের স্ত্রী মুন্নি(২১)কে ৪ মাস।দিনাজপুর সদর উপজেলার রামগড় কালিতলা এলাকার রফিকুল ইসলামের মেয়ে শিউলী আক্তার কে ২ মাস। নবাবগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে আব্দুল কাইয়ুম(৩৯)কে দেড় মাস। পার্বতীপুর উপজেলার পাতরাপাড়া গ্রামের মফিজুল হকের ছেলে মশিউর রহমান(৩৮)কে দেড় মাস।টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার চম্পা (২২)কে ১ মাস এবং দিনাজপুরের গণেশতলা এলাকার শেখ হিরন শাহ (৪৫)কে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

    আটকের সময় এলাকাবাসী এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সাংবাদিক ও পুলিশের কাছে দাবি করেন,বাড়ির মালিক রফিকুল ইসলাম টিটো ও তার স্ত্রী নুপুর ওরফে নিশি এ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।তবে অভিযানের সময় তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

    থানার এসআই বুলু মিয়া বলেন,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ৪ জন মেয়ে ২ জন খদ্দের এবং ভাড়াটিয়াসহ মোট ৭ জনকে আটক করা হয়।আটকের সময় পতিতাবৃত্তির বিভিন্ন উপকরণ,ইয়াবাসহ মাদক সেবনের আলামত পাওয়া গেছে।

    সহকারী কমিশনার(ভূমি) ছামিউল ইসলাম বলেন,অভিযান পরিচালনা করে ৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।এ ঘটনায় জড়িত বাড়ির মালিক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • টেকনাফে র‍্যাবের অভিযানে ৮ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

    টেকনাফে র‍্যাবের অভিযানে ৮ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

     

    এস. এম. লুৎফুর কবির, কক্সবাজার

    কক্সবাজারের টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর চিরুনি অভিযানে মাদক মামলায় ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    গ্রেফতারকৃত আসামির নাম জহির আহামদ (৩০)। তিনি টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গোদারবিল গ্রামের ফরিদ আহামদের ছেলে।

    র‌্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫ এর সিপিসি-১, টেকনাফ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গত ২৯ মে রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদারবিল এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি জহির আহামদকে গ্রেফতার করা হয়।

    র‌্যাব জানায়, জহির আহামদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বাকলিয়া থানায় ২০১৭ সালে দায়ের হওয়া একটি মাদক মামলা রয়েছে। ওই মামলায় আদালত তাকে ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
    অভিযান চলাকালে তার কাছ থেকে কোনো অবৈধ মালামাল উদ্ধার করা হয়নি। গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক জানান, মাদক ও অপরাধ দমনে র‌্যাবের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে

  • নাসিরনগরের ইছাপুর গ্রামে কোরবানির ছুরি কেনার টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৬

    নাসিরনগরের ইছাপুর গ্রামে কোরবানির ছুরি কেনার টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৬

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামে মসজিদের তহবিলের অর্থ নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

    শুক্রবার দুপুরে ইছাপুর বাইতুন নূর জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির ছুরি কেনার জন্য মসজিদের তহবিল থেকে অর্থ ব্যয়কে কেন্দ্র করে গ্রামের সফিল ও আজিম উদ্দিনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষ বাধে।

    সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হন।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন রহিমা বেগম, শরীফ, শিমুল আক্তার, নিজাম আলম, যদু মিয়া ও হুমায়ুন কবির। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে গুরুতর আহত যদু মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি শান্ত করে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” বর্তমানে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • সরাইলে মাদক-সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ, কিশোর নিহত

    সরাইলে মাদক-সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ, কিশোর নিহত

     

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় মাদক-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রায়হান (১৫) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

    শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার সৈয়দটুলা উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রায়হান ওই এলাকার ছুটুন মিয়ার ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে একটি মাদক লেনদেনকে কেন্দ্র করে কয়েকজন যুবকের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে রাত গভীর হলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে রায়হান গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় দুই পক্ষের আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হচ্ছে।

    সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় একজন কিশোর নিহত হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।