Author: Jvadmin

  • ইনজুরি সত্ত্বেও স্কোয়াডে ইয়ামাল: বিশ্বকাপ মিশনে স্পেনের চমক

    ইনজুরি সত্ত্বেও স্কোয়াডে ইয়ামাল: বিশ্বকাপ মিশনে স্পেনের চমক

    স্পোর্টস ডেস্ক 

    আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ২৬ সদস্যের শক্তিশালী চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তবে ঘোষিত এই স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে নিয়মিত অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার আলভারো মোরাতার নাম না থাকা। সদ্য সমাপ্ত ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপা জেতালেও, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে তাঁকে দলের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোচ। মূলত আক্রমণভাগে তরুণ ফুটবলারদের ওপর অধিক ভরসা রাখতে গিয়েই দে লা ফুয়েন্তে এই কঠিন ও সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

    দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতির পাশাপাশি ইনজুরি সমস্যাও স্প্যানিশ শিবিরে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছে। বার্সেলোনার তরুণ তারকা ফের্মিন লোপেজ পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ায় এবং পরবর্তী অস্ত্রোপচারের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। তবে আরেক বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে ঝুঁকি নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। চোট থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ২৬ সদস্যের তালিকায় রাখা হয়েছে, যদিও ফিটনেস সমস্যার কারণে কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেনের উদ্বোধনী ম্যাচে সম্ভবত তাঁকে মাঠের বাইরেই থাকতে হচ্ছে। ইয়ামালকে টুর্নামেন্টের পরের দিকের ম্যাচগুলোর জন্য প্রস্তুত রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    স্পেনের এবারের মাঝমাঠকে অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা রদ্রিগো হার্নান্দেজ বা রদ্রির নেতৃত্বে মাঝমাঠে থাকছেন তরুণ ও প্রতিভাবান গাভি এবং পেদ্রি। রদ্রির অভিজ্ঞতা এবং গাভি-পেদ্রির সৃজনশীলতা স্পেনের আক্রমণকে নতুন মাত্রা দেবে বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। এছাড়া রক্ষণভাগ সাজানো হয়েছে আইমেরিক লাপোর্তে ও পাউ কুবারসির মতো নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়দের নিয়ে। গোলপোস্ট সামলানোর দায়িত্ব থাকছে উনাই সিমন, ডেভিড রায়া ও জোয়ান গার্সিয়ার ওপর।

    ঘোষিত স্কোয়াডে আক্রমণভাগের দায়িত্ব সামলাবেন নিকো উইলিয়ামস, দানি অলমো এবং ফেররান তোরেসের মতো ক্ষিপ্রগতির ফরোয়ার্ডরা। মোরাতার অনুপস্থিতিতে গোল করার প্রধান দায়িত্ব থাকবে তাদের কাঁধে। এছাড়া দলে জায়গা পেয়েছেন ইয়েরেমি পিনো ও বোর্হা ইগলেসিয়াসের মতো খেলোয়াড়রা, যারা স্পেনের আক্রমণভাগকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলবেন। কোচ দে লা ফুয়েন্তে মূলত তারুণ্য এবং গতির সমন্বয়ে একটি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার পরিকল্পনা করছেন, যা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে চাপে রাখতে সক্ষম হবে।

    স্পেন আগামী ১৪ জুন কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। গ্রুপ ‘এইচ’-এ তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হচ্ছে সৌদি আরব এবং সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে সহজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে শুরু করলেও উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষে লড়াইটি বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইউরো জয়ের আত্মবিশ্বাস পুঁজি করে তারুণ্যনির্ভর এই স্প্যানিশ দলটি বিশ্বমঞ্চে কতদূর যেতে পারে, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের বড় কৌতূহলের বিষয়।

  • নিষিদ্ধ রণবীর সিং, প্রতিক্রিয়ায় যা জানালেন অভিনেতা

    নিষিদ্ধ রণবীর সিং, প্রতিক্রিয়ায় যা জানালেন অভিনেতা

    বিনোদন ডেস্ক 

    বলিউডের নির্মিতব্য সিনেমা ‘ডন ৩’ প্রোজেক্ট থেকে অভিনেতা রণবীর সিং সড়ে দাঁড়ানোয় তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনেমা এমপ্লয়িজ (FWICE)। এর আগে প্রোজেক্টটি নিয়ে অভিনেতা ও নির্মাতা ফারহান আখতারের সঙ্গে রণবীরের ব্যাপক উত্তেজনা হয়। এ অবস্থায় এফডব্লিউআইসিই’র কাছে নির্মাতা সহযোগিতা চাইলে পরবর্তীতে এ সিদ্ধান্ত আসে।

    সোমবার (২৫ মে) প্রকাশিত সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ডন ৩’ সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার মাত্র ১০ দিন আগে এটি ছেড়ে দেয়ার কথা জানান রণবীর। এ কারণে নির্মাতার সঙ্গে তার উত্তেজনার শুরু হয়। শুরুতে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়। এক পর্যায়ে এফডব্লিউআইসিইর কাছে সহায়তা চান ফারহান।

    এরই প্রেক্ষিতে সংস্থাটি রণবীরের ওপর নন-কোঅপারেশন নির্দেশিকা জারি করে। অর্থাৎ রণবীরের বিরুদ্ধে সহযোগিতা না করার কথা বলা হয়। একইসঙ্গে তার ওপর ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

    এছাড়া এফডব্লিউআইসিই ইন্ডাস্ট্রিকে নির্দেশ দিয়েছে যে, যতদিন রণবীর ‘ডন ৩’ নির্মাতাদের ৪৫ কোটি টাকার ক্ষতির বিষয়টি সমাধান না করবেন, ততদিন তার সঙ্গে কাজ করা যাবে না।

    গত ১৮ মে এফডব্লিউআইসিই দাবি করে, রণবীরকে একাধিকবার তাগিদ দেয়ার পরও সে সংগঠনটিতে হাজির হয়নি। বিষয়টি সমাধান করতে আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছিল তাকে।

    এদিকে রণবীরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির কথা প্রকাশ হওয়ার পরই তার মুখপাত্র একটি বিবৃতি জারি করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, রণবীর চলচ্চিত্র জগৎ এবং ‘ডন ৩’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত সবার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান পোষণ করেন। সিনেমাটি ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পুরোটা সময়জুড়ে সচেতনতভাবেই নীরবতা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    অভিনেতার এ নীরবতার কারণ হিসেবে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি বিশ্বাস করেন, পেশাদার আলোচনা এবং ব্যক্তিগত সমীকরণগুলো মর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সঙ্গে মোকাবিলা করা উত্তম।।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু বিষয় সামনে এলেও রণবীর কখনোই প্রকাশ্যে সেগুলোর জবাব দেয়া বা জল্পনা-কল্পনায় ঘি ঢালা প্রয়োজনীয় মনে করেননি। তার মনোযোগ দৃঢ়ভাবে তার কাজ ও সামনের প্রতিশ্রুতিগুলোর ওপর রয়েছে।

    এছাড়া রণবীর সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি শ্রদ্ধা ও সদিচ্ছা বজায় রেখেছেন এবং ‘ডন ৩’ ফ্র্যাঞ্চাইহির ধারাবাহিক সাফল্য কামনা করেন। এ ধরনের মুহূর্তে সংযম ও সৌজন্যতা বজায় রাখা সবসময়ই তার পক্ষে থেকে সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল এবং ভবিষ্যতেও তিনি একই অবস্থান বজায় রাখবেন বলে জানানো হয়েছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার মধ্যেই শুরু হলো পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা

    মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার মধ্যেই শুরু হলো পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    মার্কিন-ইরান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতার আবহে সৌদি আরবে আজ সোমবার (২৫ মে/৮ জিলহজ) থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র হজের মূল আচার-অনুষ্ঠানিকতা। গতকাল রবিবার রাত থেকেই হজযাত্রীরা মক্কা থেকে তাঁবুর শহর মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে সৌদির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

    পবিত্র কাবা শরীফ সাতবার তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ শেষে হজযাত্রীরা বাসে চেপে কিংবা পায়ে হেঁটে মিনার দিকে রওনা হন। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এবারের হজে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৫ লাখ বিদেশি হজযাত্রীর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সৌদি আরবের আরও কয়েক লাখ স্থানীয় নাগরিক। ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই হজ পালন সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জীবনে অন্তত একবার আবশ্যিক।

    হজের এই আধ্যাত্মিক কার্যক্রম মোট ছয় দিনব্যাপী স্থায়ী হবে। সাধারণত ঈদুল আজহার তিন দিন আগে থেকে শুরু হয়ে ঈদের দুই দিন পর পর্যন্ত এই আনুষ্ঠানিকতা চলে। সৌদি আরবে আগামী ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার কথা রয়েছে, সেই অনুযায়ী ২৯ মে হবে এবারের হজের শেষ দিন।

    হজযাত্রীদের যাত্রা ও অবস্থান নির্বিঘ্ন করতে সৌদি সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আবাসন, আতিথেয়তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জিলকদ মাস থেকে এ পর্যন্ত হাজিদের তাঁবু ও সেবাকেন্দ্রগুলোতে ৮৩ হাজারেরও বেশি মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। মিনার ক্যাম্পে হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, খাদ্য ও পরিবহন সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধানের জন্য বিশেষ তদারকি দল মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে সৌদি গেজেট সূত্রে জানা গেছে।

  • ছয় মুসলিম দেশকে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করতে বললেন ট্রাম্প

    ছয় মুসলিম দেশকে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করতে বললেন ট্রাম্প

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ইসরায়েলের সঙ্গে পাকিস্তানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় মুসলিম দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা ‘বাধ্যতামূলক’ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ জন্য আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

    সোমবার (২৫ মে) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে! হয় সবার জন্য একটি দারুণ চুক্তি হবে, নয়তো কোনো চুক্তিই হবে না। আবার যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরতে হবে, তবে আগের চেয়েও বড় ও শক্তিশালী হয়ে। আর তা কেউই চায় না!

    তিনি বলেন, শনিবার সৌদি আরবের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি, প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম বিন জাবের আল থানি ও মন্ত্রী আলী আল-থাওয়াদি, পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ এবং বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফার সঙ্গে আলোচনার সময় আমি বলেছি যে, এই অত্যন্ত জটিল ধাঁধাটি সমাধান করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত প্রচেষ্টার পর, এই সমস্ত দেশগুলোর জন্য ন্যূনতম হলেও একযোগে আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।

    ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহারাইন একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এটিই আব্রাহাম চুক্তি। এর মাধ্যমে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল উপসাগরীয় দেশ দুটি। যদিও বলা হয়, চুক্তির উদ্দেশ্য দশকব্যাপী শত্রুতা ও দূরত্ব কমিয়ে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

    এর আগে সৌদি আরবের যুবরাজ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাব্য আগ্রহ প্রকাশ করলেও রিয়াদ বলেছে, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শর্তেই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

  • নিম্নমানের সামগ্রি দেয়ায় ববিতে বন্ধ হলো রাস্তা কাজ, ল্যাবে পাঠানো হলো পাথর

    নিম্নমানের সামগ্রি দেয়ায় ববিতে বন্ধ হলো রাস্তা কাজ, ল্যাবে পাঠানো হলো পাথর

    ববি প্রতিনিধি 

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) রাস্তার কাজে  নিম্নমানের পাথর ব্যবহারের অভিযোগে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। গতকাল রোববার (২৪ই মে) অভিযোগ ওঠে নিম্নমানের পাথর দিয়ে সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-০১ এর সম্মুখের  রাস্তা ঢালাই দেয়া হবে। এরপরে শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিল্যান্স টিম এর প্রতিবাদ জানালে ভেস্তে যায় কাজ, পরে পাথর টেস্টের জন্য পাঠানো হয় ল্যাবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাস্তাটির কাজের শুরু থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং রুল ফলো করা হয়নি। এস্টিমেট অনুযায়ী  কাজ না করে এলোমেলোভাবে কাজ করা হয়েছে। এস্টিমেট অনুযায়ী রাস্তার আগের নষ্ট ইট ফেলে দিয়ে নতুন ইট দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। এছাড়াও ইট তুলে বালু দিয়ে তারপরে নতুন ইট বসিয়ে রড দিয়ে ঢালাই করার কথা কিন্তু করা হয়েছে ঠিক তার উল্টো।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশলী দপ্তর সিদ্ধান্ত নেয়, পাথর পরীক্ষা পরে করা হবে ঢালাইয়ের কাজ। সেই উদ্দেশ্য সোমবার বরিশাল সড়ক ও জনপদের মাঠ পর্যায়ের মান নিয়ন্ত্রণ গবেষণাগারে পাথরের সেম্পল পাঠানো হয় টেস্টের জন্য। সেম্পল হিসেবে এর আগে যে পাথর দিয়ে কাজ করা হয়েছে তা নেয়া হয় এক বস্তা এবং বর্তমান যে পাথর দিয়ে কাজ করা হবে সেগুলো নেয়া হয় এক বস্তা। সড়ক ও জনপদের বরিশালের সহকারী প্রকৌশলী আলী আকবর পাথরের দুটো সেম্পল টেস্ট করেন। টেস্টে বর্তমান ব্যবহৃত পাথরের সাইজ ১৬.৪০ এবং আর এর আগে রাস্তাটির দুপাশের ড্রেনের কাজে ব্যবহৃত পাথরের সাইজ ৯.২০।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মধ্যরাতে ঢালাইয়ের জন্য রড প্রস্তুতের কাজ চলমান অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আজমাইন সাকিবসহ কিছু শিক্ষার্থী ঠিকাদারের কাছে জিজ্ঞাসা করেন নিম্নমানের পাথরের বিষয়ে। এসময় আমেনা কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার আওলাদ হোসেন মনুর সাথে তাদের বাকবিতন্ডা হয়। বাকবিতন্ডার পরে আজ সকালে ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ রেখে পাথরের সেম্পল টেস্ট করা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশলী দপ্তর সূত্রে জানা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-প্রধান প্রকৌশলী মুর্শিদ আবেদীনের যোগসাজশে নিম্নমানের পাথর দিয়ে ঢালাই দেয়ার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। কথা ছিলো আজকে সকাল সাতটা থেকে শুরু হবে ঢালাইয়ের কাজ তবে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে তা ভেস্তে গেছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের একটিসূত্র বলছে, রিপোর্ট পজিটিভ দেখানো হবে শিক্ষার্থীরা বাঁধা দিয়েছে এজন্য জাস্ট চোখো ধুলা দেয়ার জন্য পাথর নামেমাত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। বরিশাল সড়ক ওজনপদ ববি উপপ্রধান প্রকৌশলী মুর্শিদ আবেদীনের দখলে, উনার সুবিধা ও চাহিদামতো কাজ হবে।

    ভিজিল্যান্স টিমের কোনো সদস্য বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ খুলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সদস্য বলেন, আগে যে পাথর দিয়ে ঢালাই দেয়া হয়েছে তার থেকে নিম্নমানের পাথর এবার নিয়ে আসা হয়েছে। উপপ্রধান প্রকৌশল আবেদিন এর মূল ওর নেতৃত্বে এগুলো হয়। মোটামুটি মানের একটি পাথর দিয়ে ঢালাই করা হবে আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম’

    কাজের এস্টিমেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ঢালাইয়ে এ-গ্রেড কোয়ালিটি পাথর দেয়ার কথা। কিন্তু যে পাথর নিয়ে আসা হয়েছে তা দিয়ে ঢালাই করা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে প্রকৌশল দপ্তর ও ঢালাইয়ের কাজ তদারকি করার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই পাথর দিয়ে কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-প্রধান প্রকৌশলী মুর্শিদ আবেদীনের যোগসাজশে ঢালাই দিয়ে দেয়া হচ্ছে নিম্নমানের গ্রেডহীন পাথর দিয়ে।

    খোঁজ নিয়ো জানগেছে, ” প্রকৌশল দপ্তরের প্রকৌশলীরা নিম্নমানের পাথর দিয়ে কাজ করতে রাজি না থাকলেও মুর্শিদ আবেদীন এই পাথর দিয়ে কাজ করাতে চাপ দিচ্ছেন।

    ছাত্রদল যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  আজমাইন সাকিব বলেন, ” এর আগেও এই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের সামগ্রি দিয়ে কাজ করার অভিযোগ ওঠে। তখন প্রতিবাদ করি এবারও নিম্নমানের পাথর দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবাদ জানিয়েছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আীও শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়েছে। এখন বাকিটা দেখা যাক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি ব্যবস্থা নেয়, তবে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে ঢালাইয়ের কাজ করলে শিক্ষার্থীরা মেনে নিবে না।

    এ বিষয়ে উপ-প্রধান প্রকৌশলী মুর্শিদ আবেদিন বলেন, “টেন্ডার অনুযায়ী মানসম্পন্ন পাথর দিয়েই ঢালাইয়ের মিক্সিং তৈরি করা হবে। নিম্নমানের পাথর নয়, এসব পাথর দিয়ে ক্যান্টনমেন্টেও কাজ চলছে। কাজের  গুনগত মান বজায় রাখবে বলে ঠিকাদার আমাকে নিশ্চিত করেছেন। আমি সকালে নিজে সেখানে উপস্থিত থাকবো।”

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, শিক্ষার্থীরা কোনো কাজে বাঁধা দেয়নি। পাথরের মান নিয়ে ভিজিল্যান্স টিমের অভিযোগ ছিলো পরে আমি নির্দেশ দেয় ল্যাব টেস্ট করাতে। টেস্টের ফলাফল পজেটিভ এই পাথর দিয়ে ঢালাই দেয়া যাবে।  ফলাফল আসতে বিকেল হয়ো যাওয়ায় মিস্ত্রি সব চলে গেছে এজন্য বলেছি ঈদের পরে ঢালাইয়ের কাজ করার জন্য।”

  • রাতে ঘুমের মধ্যে ঘামা ক্যানসারের লক্ষণ নয় তো

    রাতে ঘুমের মধ্যে ঘামা ক্যানসারের লক্ষণ নয় তো

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    সাধারণত ঘামের মাধ্যমেই মানুষের শরীর নিজের তাপমাত্রা ঠিক রাখে। তাই শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে প্রাকৃতিকভাবেই আমরা ঘামি। এছাড়া অন্যান্য শারীরিক সমস্যা, ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও অন্যান্য আরও অনেক বিষয়েও মানুষের ঘামার সঙ্গে জড়িত।

    তবে ঘামের এই সাধারণ প্রক্রিয়াই আপনার শরীরের ক্যানসার বাসা বেঁধেছে কি না তার বড় একটি লক্ষণ হতে পারে। রাতের বেলা ঘুমের মধ্যে ঘামা মূলত ক্যানসারের একটি প্রাথমিক লক্ষণ।

    তবে মনে রাখবেন, যদিও রাতে ঘাম হওয়া ক্যানসারের একটি সাধারণ লক্ষণ, তবে ক্যানসার হওয়ার পেছনে আরও বেশ কিছু কারণ দায়ী থাকতে পারে। এছাড়াও রাতের ঘামার পেছনে রয়েছে কার্সিনয়েড টিউমার, লিউকেমিয়া, ফিস্ফোমা, হাড়ের ক্যানসার, লিভার ক্যানসার ও মেসোথেলিওমার মতো আরও অনেক সমস্যা।

    ক্যানসারের কারণেই যে রাতে ঘুমের মধ্যে ঘাম হয়, কোনো গবেষণায় এমন কোনো প্রমাণ স্পষ্ট নয়। হতে পারে শরীর ক্যানসার বা অন্য যে কোনো সমস্যার সঙ্গে লড়াই করার চেষ্টা করছে। এছাড়া শরীরের হরমোন পরিবর্তনের কারণেও রাতে ঘাম হতে পারে।

    গবেষণা বলে, ক্যানসার অনেক সময় জ্বর সৃষ্টি করে। আর এ সময় শরীর অতিরিক্ত ঘেমে সেই তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করে। কারণ তখন শরীর ঠান্ডা হওয়ার চেষ্টা করে। কখনো কেমোথেরাপি, হরমোন পরবর্তনকারী ওষুধ এবং মরফিনের মতো ক্যানসার চিকিৎসাও রাতে অতিরিক্ত ঘামের কারণ হতে পারে।

    তবে মনে রাখবেন, ক্যানসারের কারণে যদি রাতে ঘাম হয়, সেক্ষেত্রে ক্যানসারের অন্যান্য লক্ষণগুলো অনুভব করবেন আপনি। আর সেই অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর আসা ও হঠাৎ ওজন কমা।

    ক্যানসার ছাড়াও অন্যান্য কিছু কারণে রাতে ঘুমের মধ্যে ঘাম হতে পারে। যেমন, মেয়েদের পেরিমেনোপজ ও মেনোপজের সময় হরমোনের মাত্রার পরিবর্তন হলে রাতে ঘামের সমস্যা হতে পারে। অন্যদিকে, নারীদের গর্ভাবস্থায় হরমোন এবং শরীরের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। আর শরীরে কিছু ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের (যেমন যক্ষ্মা ও এন্ডোকার্ডাইটিস) ক্ষেত্রেও রাতে ঘামার সমস্যা হতে পারে।

    রাতে অতিরিক্ত ঘামার ক্ষেত্রে, ইডিওপ্যাথিক হাইপারহাইড্রোসিসও একটি কারণ হতে পারে। এটি মূলত এমন একটি অবস্থা যা শরীরে ঘন ঘন মাত্রাতিরিক্ত ঘাম তৈরি করে। আবার অতি সক্রিয় থাইরয়েড বা হাইপারথাইরয়েডিজম, মানসিক চাপ, উদ্বেগের কারণেও রাতে ঘুমের মধ্যে ঘাম হতে পারে।

    অন্যান্য কারণের মধ্যে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে গরম পানীয় পান করা, মদ্যপান, মসলাদার খাবার খাওয়া ইত্যাদি কারণেও ঘুমের মধ্যে ঘাম হতে পারে। তবে নিয়মিত মাত্রাতিরিক্ত ঘাম হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি করবেন না।

    মনে রাখবেন, বেশিরভাগ মানুষই কখনও না কখনও রাতে ঘাম হওয়ার সমস্যা অনুভব করেন। তবে সাধারণত এতে কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হয় না। যদি আপনার নিয়মিত রাতে ঘাম হয়, তবে এর পরিণতি নির্ভর করে মূলত এর কারণের ওপর। ক্রমাগত রাতে ঘাম হওয়া হলো আপনার শরীরের একটি সংকেত, যা আপনাকে জানিয়ে দেয় যে বড় কোনো সমস্যা হতে পারে।

    যদি নিয়মিত আপনার রাতে ঘামার সমস্যা দেখা দেয় তবে উপসর্গগুলো নিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আপনার রাতে ঘাম হওয়ার কারণ নির্ণয় করতে পারলে এটির চিকিৎসা করা সহজ হবে।

     

    সূত্র :  হেলথ লাইন

  • কালশীতে আগুন নেভাতে ১৩ ইউনিট, দেখা দিয়েছে পানিস্বল্পতা

    কালশীতে আগুন নেভাতে ১৩ ইউনিট, দেখা দিয়েছে পানিস্বল্পতা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    রাজধানীর কালশীর বস্তিতে লাগা ভয়াবহ আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। পানির সংকটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের। আগুন নেভাতে সবশেষ ১৩ ইউনিট যোগ দিয়েছে।

    সোমবার (২৫ মে) রাত ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে এখন ১৩টি ইউনিট কাজ করছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের বেগ পেতে হচ্ছে। কারণ সেখানে পানির স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে পানির জন্য ওয়াসাকে জানানো হয়েছে। তারা পানি নিয়ে আসছে।

    এর আগে সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বরত কর্মকর্তা শিহাব সরকার নিশ্চিত করেছেন। তখন তিনি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেননি।

    খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আগুনের তীব্রতা বাড়লে সাতটি ইউনিট যোগ দেয়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ধাপে ধাপে ১৩টি ইউনিট যুক্ত হয়েছে।

    এদিকে বস্তি এলাকায় আগুনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন যাতে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোয় ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য চেষ্টা করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

  • ইরান যুদ্ধ শেষে ইসরায়েলের সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোকে মিত্রতার আহ্বান ট্রাম্পের

    ইরান যুদ্ধ শেষে ইসরায়েলের সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোকে মিত্রতার আহ্বান ট্রাম্পের

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ অবসানের পর আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি বা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    গত শনিবার বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক যৌথ ফোনালাপে তিনি এই বিশেষ অনুরোধ জানান। দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। ফোনালাপে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার পর তার পরবর্তী বড় পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে ইসরায়েল ও বিভিন্ন মুসলিম দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা, যা মূলত ঐতিহাসিক আব্রাহাম চুক্তিরই একটি বর্ধিত রূপ। বিশেষ করে একটি সৌদি-ইসরায়েল শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, যদিও বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের কারণে এই পথে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে।

    এই গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান এবং বাহরাইনের নেতারা যুক্ত ছিলেন। মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদসহ অন্য নেতারা এই শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের সংহতি প্রকাশ করেছেন। ওই কর্মকর্তার ভাষ্যমতে নেতারা ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘তারা সবাই বলেছেন, এই চুক্তিতে আমরা আপনার সঙ্গে আছি। আর যদি এটি কাজ না-ও করে, তবুও আমরা আপনার সঙ্গেই থাকব।’ ফোনালাপ চলাকালীন ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন যে, ইরান সংকট মিটে যাওয়ার পর তিনি আশা করেন যারা এখনও ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করেননি, তারা দ্রুতই এই প্রক্রিয়ায় শামিল হবেন। তবে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও কাতারের মতো দেশগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে এই অনুরোধটি এতটাই অভাবিত ছিল যে, আলোচনার মাঝে এক পর্যায়ে স্তব্ধতা নেমে আসে। ওই মুহূর্তের

    বর্ণনা দিয়ে একজন কর্মকর্তা জানান, ‘অনুরোধের পর লাইনে সম্পূর্ণ নীরবতা নেমে এসেছিল এবং ট্রাম্প রসিকতা করে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে তারা এখনও লাইনে আছেন কি না।’ এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী তদারকির দায়িত্ব জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

    পরদিন রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে লিখেন, ‘আমি মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশকে এ পর্যন্ত তাদের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই, যা ঐতিহাসিক আব্রাহাম চুক্তিতে তাদের যোগদানের মাধ্যমে আরও বৃদ্ধি ও শক্তিশালী হবে।’ তিনি এমনকি সুদূর ভবিষ্যতে ইরানকেও এই শান্তি প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার একটি ক্ষীণ সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন, যদিও তার পূর্বশর্ত হিসেবে তেহরানকে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে হবে। এদিকে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে আরব নেতাদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ না করা হবে একটি ঐতিহাসিক ভুল এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সৌদি আরব এখনো ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থি সরকারের নীতি নিয়ে সন্দিহান এবং তারা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়ে অনড় প্রতিশ্রুতি দাবি করে আসছে।

  • কন্যার নিরাপত্তার জন্য শর্টগান চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন

    কন্যার নিরাপত্তার জন্য শর্টগান চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    চার বছর বয়সি নিজ কন্যাসন্তানের নিরাপত্তার জন্য শর্টগান চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছেন বরগুনার এক বাসিন্দা।

    বৃহস্পতিবার (২১ মে) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে এ আবেদন করেন মাসুদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি।

    আবেদনে তিনি বলেন, ‘আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী স্বাধীন বাংলাদেশের একজন বৈধ নাগরিক। আমার কন্যাসন্তান আছে, যার বয়স ৪ বছর। কিছু বছর যাবৎ শিশুদের প্রতি বর্বরতার চিত্র ও তা নিয়ে রাষ্ট্রের উদাসীনতা দেখে আমি আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবন পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছি।’

    আবেদনে মাসুদুল আরও উল্লেখ করেন, ‘বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষণে দেখলাম সন্তান আমার, রাষ্ট্রের নয়। তাই রাষ্ট্রের কাছে তার নিরাপত্তা চেয়ে মহামান্যদের উপভোগ্য ক্ষমতার মহামূল্যবান সময় নষ্ট করে নিজেকে কলুষিত করব না। আমার নিষ্পাপ সন্তানের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমি নিজেই নিতে চাই বিধায় বৈধ উপায়ে একটি শটগান একান্ত প্রয়োজন।’

    এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জননিরাপত্তা বিভাগের মাধ্যমে একটি শটগান বরাদ্দে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন আমতলীর এ বাসিন্দা।

  • আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরে আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে, মনে করেন সাবেক উপদেষ্টা

    আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরে আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে, মনে করেন সাবেক উপদেষ্টা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরে আগামী নির্বাচনেই অংশ নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন।

    সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এই শীর্ষ কূটনীতিক এমন মন্তব্য করেন।

    তৌহিদ হোসেন বলেন, আমি মনে করি যে আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে যে একেবারে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে, এ রকম থাকবে না। আমাদের মানুষজনের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ না। আমি মনে করি, তারা রাজনীতিতে ফিরে আসবে এবং আমার অনুমান দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

    বারবার দায়িত্ব নিয়ে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনতে দিল্লিকে চিঠি লিখলেও সেটা যে কোনো কাজে আসবে না, তা তিনি এক প্রশ্ন রাখা হয়।

    এর জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, উত্তর কি আশা করেছিলাম আমরা? আমি আশা করিনি। আমি মনে করি যে আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে যে একেবারে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে, এ রকম থাকবে না। আমাদের মানুষজনের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ না। আমি মনে করি, তারা রাজনীতিতে ফিরে আসবে এবং আমার অনুমান দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

    নিজ মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল জানিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, এ ক্ষেত্রে তাদের কোনো এক্সপার্টিজও নেই। তবু তাদের মতামতকে যথেষ্টকে গুরুত্ব দিতে হতো। কারণ, উচ্চপর্যায়ে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিত। আমি তিনবার কুইট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তারা রিকোয়েস্ট করেছিল যে এটা খুব এম্বারেসিং (বিব্রতকর) হবে সরকারের জন্য।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ডিপ স্টেট সক্রি ছিল কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ডিপ স্টেট সারা পৃথিবীতে প্রতিটা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে। পৃথিবীতে কিছুই ঘটে না, যেটাতে ডিপ স্টেট কোনো না কোনোভাবে জড়িত থাকে না। ডিপ স্টেট ইনভলভড হয়। কিন্তু স্রোতের বিরুদ্ধে না। তারপর সেটাকে তারা মেনিপুলেট করে।

    ক্ষমতায় থাকাকালে কয়েকজন উপদেষ্টার সমন্বয়ে কিচেন কেবিনেট সব সিদ্ধান্ত নিত দাবি করে তৌহিদ হোসেন বলেন, কোনো এক উপলক্ষে এই কিচেন ক্যাবিনেটের একটা মিটিংয়ে আমাকে যেতে হয়েছিল, যমুনাতেই। এবং আমি পরে জেনেছি যে প্রতি মঙ্গলবারে তারা বসেন। সিদ্ধান্ত নেয় কেউ কেউ; এ ধরনের কথাবার্তা শোনা যেত। আমার কানেও আসত। কিন্তু এর বাইরে আসলে আমার জানা ছিল না যে এ রকম একটা গ্রুপ আছে যারা নিয়মিত বসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি হযেছে, তার সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন সাবেক এই উপদেষ্টা।

    এ বিষয়ে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অথবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামান্যতম ইনভলভ ছিল না এটাতে। এটাতে ইনভলভ ছিল কমার্স মিনিস্ট্রি এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার। কোনো কারণ হয়তো ছিল যে আমরা এটা করতে বাধ্য ছিলাম। বাধ্যবাধকতা না থাকলে এটা নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া যথাযথ ছিল।