Author: Jvadmin

  • রাশিয়ায় বিক্রি হওয়া ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে গোপালগঞ্জের ৩ জন, পরিবারে চরম আতঙ্ক

    রাশিয়ায় বিক্রি হওয়া ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে গোপালগঞ্জের ৩ জন, পরিবারে চরম আতঙ্ক

    গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

    বিদেশে ভাল চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে ৩০ যুবককে রাশিয়া নিয়ে ইউক্রেনের সাথে যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে এজেন্সি ও দালাল চক্র। এদের মধ্যে ৩ জন রয়েছে গোপালগঞ্জ জেলার। ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর দাবি ভাল চাকরি ও উচ্চ বেতনের কথা বলে রাশিয়ায় নিয়ে জনপ্রতি ৩০ লাখ টাকা করে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে তাদের বিক্রি করা হয়েছে। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবার গুলোকে সব ধরনের সহযোগীতা করা হবে।

    ভালো চাকরি ও উচ্চ বেতনের আশায় দালালের খপ্পরে পড়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমান গোপালগঞ্জ সদরের সিতারকুল এলাকার লিচু ফকিরের ছেলে রনি ফকির। রাশিয়ায় পৌঁছানোর সেখানকার সেনাবাহিনী তাকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে নেয়। পরে তাকে জোর করে একবছরের চুক্তি করানো হয়। যেখানে উল্লেখ করা আছে রাশিয়া – ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য তাদের চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে। পরে রনি জানতে পারে বাংলাদেশী জাবালে নুর এজেন্সি ও দালাল চক্র তাকে ৩০ লাখ টাকায় রাশিয়ান সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। বর্তমানে তাকে দেওয়া হচ্ছে যুদ্ধের সাময়িক প্রশিক্ষণ, এমনটাই পরিবারকে জানিয়েছে রনি।

    ভুক্তভোগী রনির পরিবার শুধু রনি নয়। রনির সাথে বাংলাদেশী আরও ৩০ জনকে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সেখানকার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জ সদরের ৩ যুবক। অন্যরা হলেন সদর উপজেলার ঘোষের চর গ্রামের জামিল শেখের ছেলে পলাশ শেখ ও বলাকৈড় গ্রামের কবির মোল্লার ছেলে সৌরভ মোলা। ভুক্তভোগীদের বাড়িতে এখন শুধু কান্নার রোল। ভুক্তভোগী সৌরভের পরিবার।

    ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বলছে, তাদের সন্তানদের অক্ষত ও জীবিত ফেরত চান পিতা মাতা ও পরিবার ভুক্তভোগীদের স্বজন।

    এদিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে অভিযোগ পেলে স্থানীয় দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানালেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। গোপালগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ ও কৌশিক আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ।

    বাংলাদেশ সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের দেশে ফিরিয়ে আনবে এমনটাই প্রত্যাশা পরিবার গুলোর। তাঁরা সরকারের সাহায্য কামনা করেছেন। আর যেন কোন বাবা মায়ের সন্তান এই সমস্যায় না পড়ে! সরকার এই ব্যাপারে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়াছেন পরিবার পাশে দাঁড়াতে!

  • প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জাপানের বায়োটেক পুরস্কার পেলেন কুবি শিক্ষিকা ড. জান্নাতুল ফেরদৌস

    প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জাপানের বায়োটেক পুরস্কার পেলেন কুবি শিক্ষিকা ড. জান্নাতুল ফেরদৌস

    কুবি প্রতিনিধি

    জাপানের ‘এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অর্জন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। এ সম্মাননা অর্জনের মাধ্যমে তিনি প্রথম বাংলাদেশি গবেষক হিসেবে এ পুরস্কার লাভের গৌরব অর্জন করেছেন।

    মঙ্গলবার (২ জুন) তার এই পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ড. জান্নাতুল ফেরদৌস।

    বায়োটেকনোলজি গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাপানের সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি (এসবিজে) তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করে।

    নিজের গবেষণা ও অর্জন প্রসঙ্গে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “আমার গবেষণার মূল বিষয় ছিল ন্যানোটেকনোলজির মাধ্যমে উন্নত ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম উদ্ভাবন। ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দ্রাব্যতা ও স্থায়িত্ব সংক্রান্ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হই। এছাড়া গ্রোথ ফ্যাক্টর, প্রোটিনসহ বিভিন্ন জৈব অণু নিয়ে কাজ করতে গিয়েও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়।

    তিনি আরও বলেন, আমার গবেষণার লক্ষ্য ছিল ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে এমন একটি ক্যারিয়ার সিস্টেম তৈরি করা, যা এসব জৈব অণুকে কার্যকরভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। এই প্রযুক্তি বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের চিকিৎসা, চোখে ওষুধ সরবরাহ, এমনকি ক্যান্সার থেরাপিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মূলত একটি বহুমুখী ও কার্যকর ডেলিভারি সিস্টেম হিসেবে ‘ন্যানোজেল ডিসপারশন’ প্রযুক্তির উন্নয়নই ছিল আমার গবেষণার প্রধান বিষয়। এই গবেষণার জন্য আমরা জাপানে একটি পেটেন্টও অর্জন করেছি, যা পরবর্তীতে গবেষণাটিকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এটিকে একটি আদর্শ ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম হিসেবে আরও উন্নত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

    মর্যদাপূর্ণ অর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি যে পুরস্কারটি পেয়েছি, তা আমার ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম বড়ো অর্জন। একই সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে এই স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি।

    এই গৌরবময় সাফল্যযাত্রায় গবেষণা সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এই অর্জনের পেছনে দীর্ঘ গবেষণা-যাত্রা রয়েছে। আমার পিএইচডি গবেষণা এবং পরবর্তীতে জাপানে আমার সুপারভাইজারের গবেষণাগারে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের ফলস্বরূপ আমি এই পুরস্কার অর্জন করেছি। এ ক্ষেত্রে আমার জাপানি সুপারভাইজার, গবেষণাগারের সহকর্মী এবং ল্যাবমেটদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে শিক্ষা ছুটি প্রদান এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে। আমার বিভাগের সহকর্মীরা সবসময় সহযোগিতা করেছেন এবং শিক্ষার্থীরাও আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আমি গবেষণার মাধ্যমে যা শিখেছি, তা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং তাদের গবেষণায় উৎসাহিত করার চেষ্টা করি। এছাড়া আমার পরিবারও এই দীর্ঘ যাত্রায় সবসময় আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে।

    ন্যানোজেল প্রযুক্তি আবিষ্কার বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার হতে পারে উল্লেখ করে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস আরও বলেন, “এটি একটি আধুনিক ও উন্নত ড্রাগ ডেলিভারি প্রযুক্তি। বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় প্রযুক্তিগত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশীয় গবেষক ও ওষুধ কোম্পানিগুলো নিজস্ব পেটেন্ট, নতুন ড্রাগ মলিকিউল এবং উন্নত ক্যারিয়ার সিস্টেম উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্যান্সারের মতো জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম। জাপানে আমি যে ক্যারিয়ার সিস্টেম নিয়ে কাজ করেছি, তার অনুরূপ গবেষণা বাংলাদেশেও পরিচালিত হলে দেশের চিকিৎসা ও ওষুধ গবেষণা খাতে তা একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।”

    উল্লেখ্য, সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি, জাপান (এসবিজে) জাপানের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সংগঠন। ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনটি জীববিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি (বায়োটেকনোলজি) এবং জীবনবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক গবেষণার উন্নয়নে কাজ করে আসছে।

  • নবীনগরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ: ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর আহত-১০

    নবীনগরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ: ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর আহত-১০

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার টিয়ারা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে স্থানীয়ভাবে পরিচিত শিশু গ্রুপ ও হোসেন গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

    আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে স্থানীয় বাছির মেম্বারের বাড়িতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সকালে বাজার এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

    হোসেন গ্রুপের পক্ষ থেকে আহমেদ হোসেন অভিযোগ করেন, বাজার এলাকায় তাদের লোকজনের ওপর প্রতিপক্ষ অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।

    অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শিশু গ্রুপের প্রধান আতিকুর রহমান শিশু বলেন, তাদের এক সমর্থককে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, যার ফলে তার একটি চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তাদের পক্ষ থেকে আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নেওয়া হয়েছিল।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের পাশাপাশি মালামাল লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

    ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

    নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • রাজশাহীর তিন উপজেলায় ভূমি অফিসে চুরি, থানায় মামলা দায়ের

    রাজশাহীর তিন উপজেলায় ভূমি অফিসে চুরি, থানায় মামলা দায়ের

    রাজশাহী প্রতিনিধি

    রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ভূমি অফিস এবং পুঠিয়া ও বাঘার কয়েকটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    ঈদের সরকারি ছুটির সুযোগে সংঘটিত এসব ঘটনায় কম্পিউটারসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাদী হয়ে পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করেছেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটির কারণে অফিসগুলো বন্ধ ছিল। এই সময়ের মধ্যে চোরচক্র জানালার থাই গ্লাস ও লক ভেঙে অফিসে প্রবেশ করে মূল্যবান তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম নিয়ে যায়।

    ২ জুন সরেজমিনে দুর্গাপুর উপজেলার সিংগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে চুরির ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অটোমেশন প্রকল্পের আওতায় সরবরাহ করা কম্পিউটারের ২৫৬ জিবি এসএসডি, প্রসেসর, র‍্যাম, রাউটারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে। চোরেরা মনিটরের ভাঙা অংশ ফেলে রেখে যায়।

    স্থানীয়দের ধারণা, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ। তাদের মতে, সরকারি তথ্য ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করেই পরিকল্পিতভাবে এ চুরি সংঘটিত হয়েছে।

    দুর্গাপুর থানা সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলা নং-০১ ও ০২ এবং জিআর নং-৫৩ ও ৫৪/২৬ রুজু হয়েছে। তবে মামলার এজাহারে আসামির নাম উল্লেখ্য নেই।

    এদিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে অফিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অশিকার করেন।
    চুরির ঘটনায় ভূমি অফিসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সরকারি তথ্যের সুরক্ষা এবং নৈশপ্রহরী নিয়োগ ও তদারকি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    দুর্গাপুর সিংগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) নওসাদ আলী বলেন, “সাত দিনের সরকারি ছুটির মধ্যে কোনো একসময় চুরির ঘটনা ঘটেছে। অফিসে সিসিটিভি ক্যামেরা ও নৈশপ্রহরীর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় চোরেরা সুযোগ পেয়েছে। ইতোমধ্যে থানায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমার ইউজার আইডির মাধ্যমে ভূমিসেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে, ফলে গ্রাহকদের সেবা প্রদানে বড় ধরনের সমস্যা হবে না। তবে অফিসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসএসডিতে সংরক্ষিত ছিল।”

    দুর্গাপুর উপজেলা ভূমি অফিসের নৈশপ্রহরী ইব্রাহিম বলেন, “চুরির ঘটনা সত্য। তবে ঈদের ছুটির সুযোগে বাইরের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমার ধারণা।”

    দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু বলেন, “চুরির ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গেই থানায় মামলা করা হয়েছে। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। অফিসের সিসিটিভি ফুটেজেও সন্দেহভাজন চোরের উপস্থিতি দেখা গেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি।”

    দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চনন্দন সরকার বলেন, “চুরির খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় দুটি মামলা হয়েছে। তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

    উল্লেখ্য, একই সময়ে রাজশাহীর পুঠিয়া ও বাঘা উপজেলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এসব ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • রামুতে ৮ হাজার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

    রামুতে ৮ হাজার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

     

    কক্সবাজার প্রতিনিধি

    কক্সবাজারের রামু উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৮ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে রামু থানা পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২ জুন) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামু থানার ফতেখারকুল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চৌমুহনী কাঁচাবাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    পুলিশ জানায়, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমানের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধানে এবং রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুইয়ার নেতৃত্বে এসআই জয়নাল আবদীন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন।

    অভিযানকালে রামু-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ওয়াজেদ কমপ্লেক্সের সামনে একটি সিএনজি অটোরিকশা তল্লাশি করে মো. সফিউল আলম (২৬) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তার হেফাজত থেকে ৮ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    আটক সফিউল আলম রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দারিয়ারদিঘী মৌলভীবাজার পূর্বপাড়া এলাকার আব্দুল্লাহর ছেলে।

    এসময় ইয়াবা বহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা, একটি ওয়ানপ্লাস অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং একটি সিম্ফনি বাটন মোবাইল জব্দ করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • পোশাক নিয়ে হেনস্তার অভিযোগে নায়লা নাঈমের ক্ষোভ

    পোশাক নিয়ে হেনস্তার অভিযোগে নায়লা নাঈমের ক্ষোভ

    বিনোদন ডেস্ক 

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এক অপ্রীতিকর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আলোচিত মডেল ও অভিনেত্রী নায়লা নাইম।

    তিনি দাবি করেছেন, সাভারের একটি স্থানীয় বাজারে সবজি কিনতে গেলে এক ব্যক্তি তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং পোশাক নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

    সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে নায়লা নাঈম লেখেন, ‘এটা স্বাধীন রাষ্ট্র? আমাকে উত্তর দিন? ব্যক্তিগতভাবে যারা আমাকে চেনেন সবাই জানেন আমি কতটুকু শালীন পোশাক পরে চলাফেরা করি। উল্লেখ্য, আমি একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি।’

    পোস্টে তিনি জানান, মায়ের সঙ্গে সাভারের একটি স্থানীয় বাজারে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সবজি কিনছিলেন তিনি। এ সময় টুপি পরা ও দাড়িওয়ালা মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি হঠাৎ এসে তাকে দুই হাত দিয়ে ধাক্কা দেন।

    এ বিষয়ে নায়লা নাঈম বলেন, ‘মাথায় টুপি পরা দাড়িওয়ালা ৪২-৪৫ বছরের এক লোক আমাকে দুই হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে বলেছে, আমার মাথায় পর্দা নেই… আমি কেন এরকম বাজারে বেপর্দা ঘোরাফেরা করছি।’

    ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাটিতে পড়ে যান বলে দাবি করেন। এতে তার হাত থেকে বাজারের ব্যাগ পড়ে যায় এবং বাম হাতে আঘাত পান।

    পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘ঘটনার আকস্মিকতা আমি বুঝে ওঠার আগেই আম্মু আমাকে টেনে নিয়ে অটোতে করে ওখান থেকে সরে যায়।’

    মায়ের আতঙ্কের কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, তার মা তাকে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাতে নিষেধ করেন।

    নায়লা নাঈমের দাবি, তার মা তখন বলেছিলেন, ‘গায়ে যদি কাপড় নিয়ে ফিরতে চাও, একটা টুঁ শব্দ করবে না।’

    ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে নায়লা নাঈম লেখেন, ‘আমার মা এখনো ভয়ে কাঁপছে। থুঁতু মারলাম এ রাষ্ট্রের কপালের মধ্যে।’

    তবে এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করেছেন কি না, সেটি স্পষ্ট করেননি তিনি।

  • শাহবাজপুরে রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদ; কওমি ঐক্য পরিষদের মানববন্ধন

    শাহবাজপুরে রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদ; কওমি ঐক্য পরিষদের মানববন্ধন

     

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কওমি ঐক্য পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

    সংগঠনটির দাবি, ওই বক্তব্যে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে, যা মুসলিম জনসাধারণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

    এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৪টায় সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

    সোমবার (১ জুন) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসায় অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভা থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামের পবিত্র বিষয়সমূহ সম্পর্কে দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল বক্তব্য প্রদান করা সকলের কর্তব্য।

    সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে দেওয়া বক্তব্যে কোরআন তেলাওয়াত ও আজানের প্রসঙ্গ এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

    কওমি ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, পবিত্র কোরআন ও আজান মুসলমানদের ঈমান, বিশ্বাস ও আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই এসব বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।

    জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন কওমি ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা ও জেলা হেফাজতে ইসলামের সেক্রেটারি মাওলানা আলী আযম কাসেমী। এতে বিভিন্ন মাদরাসার আলেম, শিক্ষক ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, ঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
    উল্লেখ্য, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

  • প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর

    প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ গঠন করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সোমবার (১ জুন) মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
    মঙ্গলবার (২ জুন) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিষয়টি জানান।
    আদেশ অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব/যুগ্মসচিবকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের এ সেল গঠন করা হয়েছে।
    মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, এ আদেশ আজ মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে। এই অভিযোগ সেলে প্রবাসীরা তাদের অভিযোগ জমা দিতে পারবেন।
    হোয়াটসঅ্যাপেও তাদের অভিযোগ জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া যুক্ত করা হবে।
    সেলের অন্য সদস্যরা হলেন- কল্যাণ অধিশাখার যুগ্মসচিব/উপসচিব, আইন শাখার উপসচিব/সিনিয়র সহকারী সচিব, সেবা ও প্রটোকল শাখার উপসচিব/সিনিয়র সহকারী সচিব এবং এনফোর্সমেন্ট-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব। এনফোর্সমেন্ট-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
    অফিস আদেশে বলা হয়, minister@probashi.gov.bd এবং minister.expat@gmail.com ই-মেইল ঠিকানায় প্রাপ্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই সেল।
    এছাড়া প্রাপ্ত আবেদন ও অভিযোগ এবং সেগুলোর বিষয়ে গৃহীত ব্যবস্থা দৈনিক বা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে মন্ত্রী ও সচিবের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
  • জাজিরায় অগ্নিকাণ্ডে ভ্যানচালকের একমাত্র বসতঘর পুড়ে ছাই

    জাজিরায় অগ্নিকাণ্ডে ভ্যানচালকের একমাত্র বসতঘর পুড়ে ছাই

    শরীয়তপুর প্রতিনিধি

    শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জাজিরা ইউনিয়নের জব্বার আলী আকন কান্দি এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভ্যানচালক শুক্কুর আকনের একমাত্র বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

    আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পরিবারের বহু বছরের সঞ্চয় মুহূর্তেই ভস্মীভূত হয়ে যায়। এতে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অসহায় এই ভ্যানচালক।

    মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে উপজেলার জাজিরা ইউনিয়নের জব্বার আলী আকন কান্দি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন শুক্কুর আকন। এ সময় হঠাৎ তার বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রতিবেশীরা আগুন ও ধোঁয়া দেখতে পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। তবে ঘরটি দাহ্য উপকরণে নির্মিত হওয়ায় আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ঘরের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে নিজের একমাত্র আশ্রয়স্থল আগুনে ধ্বংস হতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন শুক্কুর আকন। বহু কষ্টে গড়ে তোলা ঘরটি মুহূর্তের মধ্যে হারিয়ে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

    পেশায় ভ্যানচালক শুক্কুর আকন দিন এনে দিন খাওয়া একজন শ্রমজীবী মানুষ। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত অর্থে নির্মাণ করেছিলেন ছোট্ট একটি বসতঘর। সেই ঘরেই স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। তার দুই মেয়ে স্থানীয় বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে এবং ছোট ছেলে এখনও বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি।

    কান্নাজড়িত কণ্ঠে শুক্কুর আকন বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেছে। অনেক কষ্ট করে ঘরটা বানিয়েছিলাম। এখন মাথা গোঁজার কোনো জায়গা নেই। তিনটা সন্তান নিয়ে কোথায় থাকবো, কীভাবে থাকবো জানি না। আল্লাহ ছাড়া আমার আর কেউ নেই। মানুষের সহযোগিতা ছাড়া এই অবস্থায় ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব না।

    প্রতিবেশী রাসেল আকন বলেন, শুক্কুর খুবই গরিব মানুষ। ভ্যান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়েই সংসার চলে। তার একমাত্র বসতঘরটি আজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবে, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

    অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জাজিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, “ঘটনাটি জানার পর আমি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজ নিতে সেখানে গিয়েছি। শুক্কুর আকন অত্যন্ত অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষ। তার একমাত্র বসতঘরটি পুড়ে যাওয়ায় পরিবারটি মানবেতর পরিস্থিতিতে পড়েছে। ব্যক্তিগতভাবে এবং ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি সরকারি সহায়তা পাওয়ার বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

    স্থানীয়দের দাবি, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে সরকার, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবান মানুষদের দ্রুত এগিয়ে আসা জরুরি। কারণ এক নিমিষেই মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে ভ্যানচালক শুক্কুর আকনের পাঁচ সদস্যের পরিবার।

  • ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পদত্যাগের দাবীতে নীলফামারীতে মানববন্ধন

    ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পদত্যাগের দাবীতে নীলফামারীতে মানববন্ধন

     

    নীলফামারী প্রতিনিধি

    ইসলামী ব্যাংকের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো: খুরশিদ আলমের পদত্যাগের দাবীতে নীলফামারীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ১২টার ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে ঘন্টা ব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    এসময় ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম নীলফামারী জেলা শাখার সদস্য সচিব আরিফ আল মামুনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহবায়ক মোস্তাকিমুল ইসলাম, সদস্য মাওলানা নাজমুল হুদা,ময়নুল ইসলাম, এনামুল হক প্রমূখ।

    বক্তারা বলেন অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংক থেকে ব্যাংক লুটেরা এস আলম গ্রুপের উত্তরসূরিদের অপসারণ করতে হবে এবং ফ্যাসিবাদের দোসর খুরশিদ আলমের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ বাতিল করতে হবে। তা না হলে ইসলামী ব্যাংকের কোটি কোটি গ্রাহক রাজপথে দৃর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।

    ইসলামী ব্যাংক নীলফামারী শাখা কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেয়।