বিষ দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগে প্রশাসনের নজরদারি

 

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের পূর্ব ফুলবাড়ীয়া দোহা বাঁওড়ে গ্যাস ট্যাবলেট ও বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ নিধনের অভিযোগে প্রশাসন সক্রিয় হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর গত ৩ জুন বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন এবং উপজেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনের সময় ইউএনও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বাঁওড়ের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন। এ সময় তিনি পরিবেশ ও জলজ সম্পদ ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, “পূর্ব ফুলবাড়ীয়া দোহা বাঁওড় প্রায় ১২১ একর আয়তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলমহল। বর্তমান সরকারের নীতি অনুযায়ী এসব জলমহল মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যদের ইজারা দেওয়া হয়। গ্যাস ট্যাবলেট কিংবা যেকোনো ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ শিকার সম্পূর্ণ বেআইনি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে ইজারা বাতিলসহ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল-জরিমানার আওতায় আনা হবে। পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় প্রশাসন কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।”

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও পরিচালনা করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র রাতের আঁধারে বাঁওড়ে গ্যাস ট্যাবলেট ও বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ শিকার করছে। এতে দেশীয় মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে এবং বাঁওড়ের পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে উঠছে।

এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও বাঁওড়ের পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করার অনুরোধ করেন।

প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাঁওড়ের পরিবেশ ও জলজ সম্পদ রক্ষা পাবে এবং দোষীরা আইনের আওতায় আসবে।