ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় রেললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধকে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ার হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে তোফায়েল আহমেদ (২০) নামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দ্রুতগামী আন্তঃনগর ‘সুবর্ণ এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সন্ধ্যায় কসবা রেলওয়ে স্টেশনে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহত তোফায়েল আহমেদ উপজেলার কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো সেদিনও বিকেলে কসবা রেলস্টেশনে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসেছিলেন তোফায়েল। সন্ধ্যার দিকে স্টেশনের একপাশে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি থামে। এ সময় ওই ট্রেন থেকে নেমে এক বৃদ্ধ অসাবধানতাবশত মাঝখানের রেললাইনের ওপর গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন।
ঠিক তখনই একই লাইন দিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী বিরতিহীন ‘সুবর্ণ এক্সপ্রেস’ দ্রুতগতিতে স্টেশন অতিক্রম করছিল। ট্রেনটি একটানা হর্ন দিলেও বৃদ্ধ তা শুনতে পাননি। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তোফায়েল দ্রুত রেললাইনে নেমে বৃদ্ধকে ধাক্কা দিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেন।
বৃদ্ধ প্রাণে বেঁচে গেলেও দ্রুতগতির সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি তোফায়েলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে দূরে গিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন ও তার সহপাঠীরা দ্রুত উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, তোফায়েল অত্যন্ত মানবিক ও পরোপকারী স্বভাবের ছিলেন। এমনকি ঘটনার দিন সকালেও তিনি এক যাত্রীকে সম্ভাব্য ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করেছিলেন।
কসবা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. হানিফ মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সুবর্ণ এক্সপ্রেস স্টেশন অতিক্রম করার সময় এক বৃদ্ধকে বাঁচাতে গিয়ে তোফায়েল আহমেদ নামে এক যুবক ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হন। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।”
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নিহতের পরিবারের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
একজন অসহায় বৃদ্ধকে বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করা তোফায়েলের এই আত্মত্যাগ স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণ করছেন অনেকে।

