বগুড়ায় পৃথক ডাকাতির ঘটনায় চক্রের পাঁচ সদস্য গ্রেপ্তার

 

বগুড়া প্রতিনিধি 

বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও শিবগঞ্জ উপজেলায় পৃথক দুটি ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) বেলা সাড়ে ১২টায় বগুড়া জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া শাবলা এলাকার আসলাম সাকিদার (২৭), তালোড়া ভেলুরচক এলাকার জিয়ারুল ইসলাম (৪৬), তালোড়া নওদাপাড়া এলাকার জুয়েল প্রামানিক (২৪), শিবগঞ্জের রহবল পশ্চিমপাড়া এলাকার সাইদুর মন্ডল (৩৬) এবং কাহালুর প্রতাপপুর এলাকার আঃ ওহাব (২৮)।

জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে আসলাম ও জুয়েল পেশাদার ডাকাত। গত বছরের ১৭ অক্টোবর দুপচাঁচিয়ার তালোড়া বাজারে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যা ও ডাকাতির ঘটনার মূল হোতা ছিলেন এই জুয়েল ও আসলাম। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছিলেন তাঁরা। মাত্র ৪ মাস পর জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও তাঁরা ডাকাতি চক্র গড়ে তোলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান জানান, গত ১২ মে রাত ২টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার বীরপলি ফকিরপাড়া গ্রামের মোঃ রশিদুল আলমের বাড়িতে ৮ থেকে ১০ জনের একটি ডাকাত দল প্রবেশ করে। তারা পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে একটি মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার, টেলিভিশন, মোবাইল ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় মামলা হলে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় ছায়াতদন্ত শুরু করে ডিবি পুলিশ।

শুক্রবার (৫ জুন) ডিবি পুলিশ কাহালু, দুপচাঁচিয়া ও সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসলাম সাকিদার, জিয়ারুল ইসলাম ও সাইদুর মন্ডলকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মোটরসাইকেল, একটি বাটন মোবাইল ও নগদ ৫ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, গত ৩১ মে রাত ২টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ দহপাড়া গ্রামের জিয়াউল হকের বাড়িতে একই কায়দায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতেরা গৃহকর্তাকে মারধর ও রক্তাক্ত জখম করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও স্মার্টফোনসহ মূল্যবান কাগজপত্র লুট করে। এঘটনায় শুক্রবার (৫ জুন) ডিবির একই দল শিবগঞ্জ ও কাহালু থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুয়েল প্রামানিক ও আব্দুল ওহাবকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তাঁদের কাছে থেকে লুণ্ঠিত সাড়ে ৭ আনা স্বর্ণালংকার এবং কিছু ইমিটেশনের গহনা উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে জুয়েল প্রামানিকের বিরুদ্ধে ১০টি, আসলাম সাকিদারের বিরুদ্ধে ৫টি, সাইদুর মন্ডলের বিরুদ্ধে ২টি এবং জিয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১টি মামলা রয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত অন্যান্য মালামাল উদ্ধারে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।