বগুড়া প্রতিনিধি
৬দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। রবিবার (৭ জুন) সকাল থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়। পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন তারা।
মানববন্ধনে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টর’স অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) সভাপতি নিয়ামুল বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক একটি অঘোষিত নোটিশের বিরুদ্ধে আজকের এই কর্মবিরতি। ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সারা বাংলাদেশের সকল মেডিকেলের ইন্টার্ন একসাথে কর্মবিরতি শুরু করেছেন।
আমাদের ভাতা ৩০ হাজার টাকায় এবং মিড লেভেল ট্রেইনি ডাক্তারদের বেতন ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করাসহ বিসিপিএস-এর পরীক্ষার ফি কমানো এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক এবং আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত এগুলো বাস্তবায়ন করুক। এসময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাফিউন জান্নাত ও ইন্টার্ন চিকিৎসক উপমাসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে ৬দফা দাবির তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো-স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল, বিএমইউ ও বিসিপিএস-এর ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে আনা, নতুন পে-স্কেলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন ৯ম গ্রেডের সমপর্যায়ে উন্নীতকরণ এবং প্রতি মাসে তা যথাসময়ে প্রদান, অবিলম্বে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, বিসিএস স্বাস্থ্য চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা সাধারণ প্রার্থীদের চেয়ে ২ বছর বাড়িয়ে ৩৪ বছর করা এবং শ্রম আইন ২০০৬-এর যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা।
মানবন্ধনে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বলেন, আমাদের পেশাটি মূলত সেবামূলক। আমরাও চাই না বারবার রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলতে। হাসপাতালে যেকোনো রোগীর ক্ষেত্রে ফার্স্ট ডিফেন্স হিসেবে আমরাই প্রথম চিকিৎসাসেবা দিই। কিন্তু দুঃখজনকভাবে প্রতিনিয়ত দেশের কোনো না কোনো মেডিকেল কলেজে আমরাই হামলার শিকার হচ্ছি। চিকিৎসকদের সুরক্ষায় এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর নিরাপত্তা আইন করা হয়নি।
তারা বলেন, যদি মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো মেনে না নেয়। তবে দেশব্যাপী সমন্বিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

