প্রতিনিধি শরীয়তপুর
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলা সদরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকারকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার সকালে বিদ্যালয়ের ফটকে কয়েকজন তরুন তাকে বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেন। এরপর মারধর করে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকসায় উঠিয়ে দেয়া হয়। আহত ওই শিক্ষককে তার স্বজনেরা চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
ডামুড্যা থানা ও বিদ্যালয় সূত্র জানায়,ডামুড্যা উপজেলা সদরে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অবস্থিত। প্রধান শিক্ষক হিসেবে সুজিৎ কর্মকার ২০১৩ সালে সেখানে নিয়োগ পান। দুই বছর আগে স্থানীয় একটি পক্ষর সাথে তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই পক্ষটি তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হেনস্তা করার অভিযোগ তোলেন। ওই বিরোধের জেরে ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয় স্থানীয় প্রশাসনের কাছে।ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই বছর ১৮ সেপ্টেম্বরের পর আর তিনি বিদ্যালয়ে যাননি। বিভিন্ন ভাবে ছুটি কাটিয়ে যাচ্ছিলেন।
রোববার সকালে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকসা যোগে প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকার বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে যান। অটোরিকসা থেকে নামার পর কয়েকজন তরুন তাকে মারধর করতে থাকেন। আবার কয়েকজন তরুন তাকে অটোরিকসায় উঠিয়ে দেন। তখন আরো কয়েকজন তরুন তাকে অটোরিকসার ভেতরে মারধর করছেন। ওই শিক্ষককে মারধরের এমন দৃশ্য স্থানীয় কয়েকজন মানুষ ভিডিও ধারন করে রাখেন।
ওই অটো রিকসা যোগে সুজিৎ কর্মকার প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে যান। নিরাপত্তার অভাব বোধ করে সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে আসেন। পরে স্বজনেরা তাকে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ফারহানা ডেইজি জানান,সুজিৎ কর্মকার নামের এক ব্যক্তিকে আমরা ভর্তি করেছি। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়েছে। মুখোমন্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলে গেছে। আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি।
ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকার বলেন,২০২৪ সালে সরকার পতনের পর ডামুড্যার একটি মহল আমাকে নানা ভাবে হুমকী দিয়ে আসছিল। বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন ওই পক্ষটিকে মদদ দিতেন। নিরাপত্তার অভাবে আমি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে যেতে পারছিলাম না। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাতে জানিয়ে রোববার বিদ্যালয়ে যাই। ওই চক্রর সদস্যরা বিদ্যালয়ের গেটে আমাকে বেদম মারধর করেছেন। আমি চিকিৎসা শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেব।
ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন,আমাদের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক তাকে বাঁধা দিয়েছেন। বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেননি এমন শুনেছি। আমার সাথে প্রধান শিক্ষকের কোন বিরোধ নেই। কেন তিনি এসবের জন্য আমাকে দায়ী করছেন তা বুঝতে পারছি না।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন,একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। ওই শিক্ষক এখনো লিখিত অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সালাউদ্দিন আইয়ূবী বলেন,স্থানীয় কিছু ঝামেলার কারনে প্রধান শিক্ষক দুই বছরের মত সময় ধরে বিদ্যালয়ে আসতে পারছিলেননা। তিনি বিভিন্ন ধরনের ছুটিতে ছিলেন। আজ বিদ্যালয়ে আসার সময় বিদ্যালয়ের গেটে তাকে মারধর করা হয়েছে এমন তথ্য তিনি ফোন করে আমাকে জানিয়েছেন। খবর পেয়ে আমি সেখানে পুলিশ পাঠাই। তিনি মৌখিক ভাবে এখনো লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ দেয়ার পর আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

