স্পোর্টস ডেস্ক
মিরপুরে লেখা হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে পাওয়া ১৯২ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। এই জয়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।
প্রথম ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে জয় মানেই সিরিজ নিশ্চিত। সেই সুযোগ হাতছাড়া করেনি মেহেদী হাসান মিরাজের দল। বৃষ্টি, ভেজা আউটফিল্ড, ডিএলএসের নতুন লক্ষ্য, মাঝপথে উইকেট হারানোর চাপ সব সামলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।
মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শুরু হয়েছিল ধ্বংসস্তূপ দিয়ে। স্কোরবোর্ডে কোনো রান ওঠার আগেই ৩ উইকেট নেই। সেই জায়গা থেকে মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেট অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিলেও শেষ হাসি বাংলাদেশেরই। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে নির্ধারিত ৪১ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশ পেরিয়ে যায় ৩৫ ওভারেই। অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের জন্য এটি বড় এক অর্জন। ঘরের মাঠে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বোলিং, ব্যাটিং ও ম্যাচ শেষ করার দক্ষতা তিন জায়গাতেই নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম ওভারেই ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান ফেরান কুপার কনোলিকে। একই ওভারে ম্যাট রেনশকেও আউট করেন বাঁহাতি পেসার। কোনো রান তোলার আগেই ৩ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
৭.৩ ওভারে অ্যালেক্স ক্যারিও ফেরেন মোস্তাফিজের বলে। তখন অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৪ উইকেটে ২৫। শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় বাংলাদেশের হাতে। পরে অধিনায়ক জশ ইংলিস কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। ৩৮ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৩৪ রান। তাঁকে ফিরিয়ে দেন তানভীর ইসলাম।
এরপর ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে ইনিংস গুছানোর চেষ্টা করেন লাবুশেন। গ্রিন ৫০ বলে ২৫ করে তানভীরের বলে ফিরলেও অস্ট্রেলিয়ার আসল লড়াই শুরু হয় সপ্তম উইকেটে। লাবুশেনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন বার্টলেট। দুজন মিলে ১০০ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন।
লাবুশেন ৮৫ বলে ৩ চারে অপরাজিত থাকেন ৫৫ রানে। বার্টলেট খেলেন পাল্টা আক্রমণের ইনিংস। ৪৮ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৫২ রান। শেষ দিকে তাসকিন বার্টলেট ও অ্যাডাম জাম্পাকে পরপর দুই বলে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রান আটকে দেন। বৃষ্টির কারণে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রানে।
বাংলাদেশের হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ৭ ওভারে ২ মেডেনসহ ২৭ রানে নেন ৩ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ৮ ওভারে ৩৩ রানে নেন ৩ উইকেট। তানভীর ইসলাম নেন ২ উইকেট।
বৃষ্টি বিরতির পর বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২। রান তাড়ায় শুরুটা বাংলাদেশেরও ভালো হয়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই তানজিদ হাসান ফিরে যান কোনো রান না করে। তবে এরপর সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় উইকেটে ৮৬ রানের ভিত গড়ে দেন।
সৌম্য ৪৭ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৪২ রান। শান্তর ব্যাট থেকেও আসে ৫৩ বলে ৪২ রান। দুজনের জুটিতে চাপ কমে যায় বাংলাদেশের। তবে ৮৬ থেকে ১২২ রানের মধ্যে সৌম্য, শান্ত ও লিটন দাস ফিরে গেলে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফেরে। লিটন ১৮ বলে ২১ রান করেন।
মোসাদ্দেক হোসেন ১৪ বলে ১৫ রানের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস খেলেন। তবে শেষ কাজটা করেন তাওহিদ হৃদয় ও অধিনায়ক মিরাজ। হৃদয় এক প্রান্ত ধরে রাখেন, মিরাজ অন্য প্রান্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ম্যাচ শেষ করে আসেন। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৫১ রানের জুটিতে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।
হৃদয় ৫৫ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন। মিরাজ ২২ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ৩৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৫ রানে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বার্টলেট, ম্যাট রেনশ, রাইলি মেরেডিথ, অ্যাডাম জাম্পা ও ক্যামেরন গ্রিন একটি করে উইকেট নেন।
ম্যাচসেরা হন মোস্তাফিজুর রহমান। নতুন বলে তাঁর দুই ওভারই অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচের শুরুতে ছিটকে দেয়। তাসকিনের সঙ্গে তাঁর পেস আক্রমণই তৈরি করে দেয় বাংলাদেশের জয়ের ভিত্তি। ব্যাট হাতে সেই কাজ শেষ করেন সৌম্য, শান্ত, হৃদয় ও মিরাজ।

