গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ইদ্রাকপুর এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১ হাজার ৭০০ মিটার দীর্ঘ একটি পাকা সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১২ ঘণ্টা পরই সড়কের পিচ ও পাথর প্লাস্টিকের মতো উঠে আসতে শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দাবির পর সড়কটি পাকা করা হলেও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় কাজ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করে। হাত দিয়েই পিচ ও ইটের খোয়া টেনে তোলা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
ইদ্রাকপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “সরকার প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণ করলেও ঠিকাদার বাবলু ও ছগির নিম্নমানের কাজ করে পুরো প্রকল্পটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। রাস্তায় পর্যাপ্ত পিচ ব্যবহার করা হয়নি। সামান্য টান দিলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। আমরা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়কটি নতুন করে নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।”
সরেজমিনে দেখা যায়, নবনির্মিত সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং আলগা হয়ে পড়ে রয়েছে। স্থানীয়রা কোদাল ও খালি হাত দিয়েই রাস্তার পিচ ও ইটের খোয়া তুলে দেখাচ্ছেন। অনেক স্থানে সামান্য চাপ দিলেই কার্পেটিং উঠে নিচের বালু ও মাটি বেরিয়ে আসছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পান ‘ছগির’ নামের এক ঠিকাদার। পরে তিনি অধিক মুনাফার আশায় কাজটি বাবলু নামের অপর এক ব্যক্তির কাছে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে হস্তান্তর করেন। অভিযোগ রয়েছে, উপ-ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তড়িঘড়ি করে রাতের আঁধারে কাজ শেষ করেন। কাজ শেষ হওয়ার পরপরই সড়কের কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করলে এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠার পর অভিযুক্তরা মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মানসম্মতভাবে সড়কটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

