আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচে সম্ভাব্য বিজয়ীর নাম জানাল সুপার কম্পিউটার

স্পোর্টস ডেস্ক 

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করতে যাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বুধবার (১৭ জুন) কানসাস সিটিতে গ্রুপ ‘জে’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচের আগে পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাসে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে রাখা হয়েছে লিওনেল মেসিদের।

ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টার সুপারকম্পিউটার ২৫ হাজারবার ম্যাচটির সম্ভাব্য ফলাফল সিমুলেশন করে দেখেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জয়ী হিসেবে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জয়ের সম্ভাবনা ৬৭ দশমিক ৮ শতাংশ। বিপরীতে আলজেরিয়ার জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে মাত্র ১৩ শতাংশ। আর ম্যাচটি ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ১৯ দশমিক ২ শতাংশ।

শুধু এই ম্যাচ নয়, গ্রুপ পর্বের লড়াইয়েও আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে রাখছে সুপারকম্পিউটার। অস্ট্রিয়া ও জর্ডানকে নিয়ে গঠিত গ্রুপ ‘জে’-তে শীর্ষস্থান দখল করে শেষ ষোলোতে ওঠার সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে আলবিসেলেস্তেদের। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে ৬৯ দশমিক ২ শতাংশ। তবে আলজেরিয়াকেও একেবারে উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে না। আফ্রিকার প্রতিনিধিদের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়ার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৫৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

এই ম্যাচটি আরেকটি কারণে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ২৬টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড আগেই নিজের করে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। এবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামলেই তিনি গড়বেন নতুন এক মাইলফলক। ৩৮ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার কীর্তি গড়বেন। বিশ্বমঞ্চে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় যুক্ত হবে তার নামের পাশে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার এটি হবে প্রথম আনুষ্ঠানিক মুখোমুখি লড়াই। তবে দু’দলের একমাত্র পূর্ববর্তী সাক্ষাৎ হয়েছিল প্রায় দুই দশক আগে। ২০০৭ সালের জুনে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ৪-৩ গোলের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে তরুণ মেসির জন্যও। আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথমবারের মতো জোড়া গোল করেছিলেন তিনি, যা পরবর্তীতে তার কিংবদন্তি হয়ে ওঠার যাত্রার অন্যতম সূচনালগ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে এবার আর্জেন্টিনার ভরসা শুধু মেসি নন। দলের আক্রমণভাগে আছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দুজনই চারটি করে গোল করেছেন। স্কালোনির দল চাইবে সেই ধারাবাহিকতা বিশ্বকাপেও ধরে রাখতে। কাতারে শিরোপা জয়ের পর এবার তাদের লক্ষ্য আরও বড় ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়া।

পরিসংখ্যানও আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। ১৯৯০ সালে ক্যামেরুনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আর কখনো গোলশূন্য থাকেনি আর্জেন্টিনা। গত ৩৪ বছরে প্রতিটি বিশ্বকাপেই নিজেদের প্রথম ম্যাচে অন্তত একবার প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়েছে তারা।

অন্যদিকে, আলজেরিয়াও সহজ প্রতিপক্ষ নয়। আফ্রিকান বাছাইপর্বে ১০ ম্যাচে ২৪ গোল করে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়া দলটি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেই নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে। বিশেষ করে তাদের সবচেয়ে বড় ভরসা মোহাম্মদ আমৌরা। উলফসবার্গের এই ফরোয়ার্ড বাছাইপর্বে একাই করেছেন ১০ গোল, সঙ্গে ছিল ৪টি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ দলের মোট গোলের ৫৮ শতাংশেই ছিল তার সরাসরি অবদান। ফলে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরেই।

সব মিলিয়ে কাগজে-কলমে এবং পরিসংখ্যানের বিচারে এগিয়ে আছে আর্জেন্টিনা। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চ বহুবার দেখিয়েছে, পূর্বাভাস সব সময় বাস্তবে মেলে না। তাই কানসাস সিটির লড়াইয়ে সুপারকম্পিউটার মেসিদের পক্ষে রায় দিলেও মাঠের ৯০ মিনিটই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে আসল গল্প।