জেভি২৪ ডেস্ক
রাজধানীর মিরপুরের শিশু রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি এক মাসের মধ্যে বর্তমান সরকার নিশ্চিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২৩ মে) বিকেলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনীতে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ঢাকার মিরপুরে একটি নিষ্পাপ শিশুর নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের মানবিক মূল্যবোধের চূড়ান্ত অবক্ষয়ের প্রমাণ মিলেছে। আপনাদের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে চাই, এই ধরনের শিশু নির্যাতন বা নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। বর্তমান সরকার রামিসার এই হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করবে এবং সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।
তিনি আরও বলেন, আমাদেরকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটাতে হবে। একইসঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমানকাল পর ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনর্জীবন ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রেও কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী ও কর্ম আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক।
সরকারপ্রধান বলেন, দুই দশক পর ত্রিশালে জাতীয়ভাবে নজরুল জন্মজয়ন্তী পালন করতে পেরে সরকার গৌরব বোধ করছে। ১৯৭৬ সালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় কবির নামাজে জানাজার পর কবির লাশবাহী খাটিয়া যারা কাঁধে করে বহন করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালের সেপ্টেম্বর ২৫ মে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকার ফার্মগেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির মাজার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত একটি র্যালিতেও অংশ নিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
তিনি আরও বলেন, ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এভাবে জাতীর কবির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা এবং সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে কাউকে সম্মান জানালে নিজের সম্মান নষ্ট হয় না। বরং বিনয় মানুষকে মহিমান্বিত করে। আমি মনে করি, এইসব কালজয়ী আদর্শ থেকে দূরে চলে যাওয়ার কারণেই বর্তমানে আমাদের সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় দৃশ্যমান।
আমাদের জাতীয় ইতিহাসে অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কবির জীবন ও কর্ম বিশ্ব দরবারে আরও বেশি ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তার জীবনবোধ ও তার জীবনদর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্ম পৌঁছে দিতে হবে। এরই অংশ হিসেবে আমাদের জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালকে নজরুল স্মৃতি হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না, এ ব্যাপারে সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য আমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
এ সময় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

