কোরবানির পশুর বয়স কত হওয়া জরুরি

জেভি২৪ ডেস্ক 

সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর ঈদুল আজহার দিনগুলোতে কোরবানি করা ওয়াজিব। তবে কোরবানি সঠিক হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, কোরবানির পশুর নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হওয়া।

হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, বয়স পূর্ণ না হলে পশু যত বড় ও মোটাতাজাই হোক না কেন, তা দিয়ে কোরবানি আদায় হবে না।

হানাফি মাজহাব মতে, উটের বয়স কমপক্ষে পাঁচ বছর পূর্ণ হতে হবে। গরু ও মহিষের বয়স হতে হবে কমপক্ষে দুই বছর। ছাগল ও দুম্বার বয়স কমপক্ষে এক বছর পূর্ণ হওয়া জরুরি। তবে ভেড়ার ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় রয়েছে। যদি ভেড়া দেখতে এক বছরের মতো বড় ও হৃষ্টপুষ্ট মনে হয়, তাহলে ছয় মাস পূর্ণ হলেও তা দিয়ে কোরবানি করা জায়েজ। (ফতোয়া কাজিখান, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৩৪৮; বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২০৫-২০৬)

জাবের (রা.) বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা উপযুক্ত বয়সে উপনীত পশু ছাড়া কোরবানি করবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯৬৩)

ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোরবানির পশুর বয়স নির্ধারণের এই বিধান হাদিস দিয়ে প্রমাণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্ধারিত বয়সের পশু কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই শরিয়তের নির্দেশনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে বয়সের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

বর্তমানে গ্রামাঞ্চল ও পশুর হাটে সাধারণত দাঁত দেখে পশুর বয়স নির্ধারণ করা হয়। অভিজ্ঞদের মতে, গরু বা মহিষের সামনের দুটি স্থায়ী দাঁত উঠলে সাধারণত তার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে বলে ধরা হয়। তবে শুধু পশুর আকার দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বিশ্বস্ত বিক্রেতা বা অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

এ ছাড়া কোরবানির পশু সুস্থ ও ত্রুটিমুক্ত হওয়াও জরুরি। অন্ধ, খোঁড়া, অত্যন্ত দুর্বল কিংবা গুরুতর অসুস্থ পশু কোরবানির উপযুক্ত নয়। কারণ, ইসলাম আল্লাহর পথে উত্তম জিনিস উৎসর্গ করার শিক্ষা দেয়।

কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু পশু জবাই নয়, বরং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও তাকওয়া অর্জন। তাই কোরবানির সময় শরিয়তের বিধান যথাযথভাবে মেনে চলাই একজন মুমিনের দায়িত্ব। সঠিক নিয়মে কোরবানি আদায় করলে ইবাদতের সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি সমাজে ত্যাগ ও সহমর্মিতার শিক্ষাও ছড়িয়ে পড়ে।