জেভি২৪ ডেস্ক
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর অংশ এখন যেন আতঙ্কের আরেক নাম। খানাখন্দে ভরা এই সড়কে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো যাত্রী ও চালক। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও জমে থাকা বৃষ্টির পানি-সব মিলিয়ে মহাসড়কটি ধীরে ধীরে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে মাদারীপুরের কালকিনির ভুরঘাটা পর্যন্ত প্রায় ৪৭ কিলোমিটার সড়ক মাদারীপুর সড়ক বিভাগের আওতায়। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। এতে যেমন যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
মহাসড়কের অধিকাংশ অংশে পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানি জমে থাকায় গর্তের গভীরতা বোঝা যাচ্ছে না। ফলে ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চালাতে হচ্ছে চালকদের। ভুরঘাটা, পাথুরিয়ারপাড়, কর্ণপাড়া, ভাঙ্গাসেতু, তাঁতিবাড়ি, মোস্তফাপুর, ঘটকচর, সমাদ্দার, সানেরপাড়, রাজৈর, টেকেরহাট, দিকনগর, ছাগলছিড়া, বরইতলা ও বাবনাতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য এই মহাসড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা ছাড়াও মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জের লাখো মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। বিশেষ করে পদ্মা সেতু চালুর পর সড়কে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে সড়কের উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর সংস্কারের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে তা বেশি দিন টেকে না। সড়ক বিভাগ ইট, বালু ও সুরকি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সাময়িকভাবে মেরামত করলেও বৃষ্টিতে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বাসযাত্রী আসলাম অনিক বলেন, এই সড়কে বাসে উঠলেই মাথাব্যথা শুরু হয়। একটু পরপর গর্ত। কবে যে এই দুর্ভোগ শেষ হবে, জানি না।
বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী মজনু বলেন, বরিশাল থেকে মাদারীপুর অংশে ঢুকলেই আতঙ্ক শুরু হয়। কখন দুর্ঘটনায় পড়ি, সেই ভয় থাকে। সময়মতো গন্তব্যেও পৌঁছানো যায় না।
মাইক্রোবাসচালক তুষার বলেন, রাস্তাটির অবস্থা খুব খারাপ। গাড়ি চালাতে ভয় লাগে। দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
পিকআপচালক জাহাঙ্গীর বলেন, ভাঙ্গা থেকে ভুরঘাটা পর্যন্ত প্রায় সবখানেই বড় বড় গর্ত। এই রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ছি।
চন্দ্রা পরিবহনের চালক লিটন বলেন, গর্তের কারণে প্রায়ই গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। সড়কটি ভালোভাবে মেরামত করা হলে যাতায়াত অনেক সহজ হতো।
মোস্তফাপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম রসুল বলেন, অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে আমরা নিয়মিত কাজ করছি। রাস্তা সরু হওয়া এবং অবৈধ পরিবহনের কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মাদারীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে নিজস্ব অর্থায়নে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে ইট, বালু ও সুরকি দিয়ে মেরামতের কাজ চলছে। টেকসই সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি।
তিনি আরও বলেন, বরাদ্দ অনুমোদন হলে সড়কের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তা বাস্তবায়িত হলে যাত্রীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবেন।

