স্টাফ রিপোর্টার
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে বাবা ও মেয়েকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার মাসালিয়া গ্রামের আমতলা মোড়ে এই ভয়াবহ ছিনতাইচেষ্টার ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘটনাস্থলে পাশে থাকা তাদের একটি সন্দেহভাজন মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
আহতরা হলেন, উপজেলার রাধানগর গ্রামের বাসিন্দা শেরমত সরদার ও তার মেয়ে জামিলা খাতুন জিম (১৮)। জিম ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে আসা মেয়ে জিমকে বাসস্ট্যান্ড থেকে নিয়ে ভ্যানযোগে বাড়ি ফিরছিলেন শেরমত সরদার। পথি মধ্যে মাসালিয়া গ্রামের আমতলা মোড়ে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা মুখোশ পরা তিন যুবক ধারালো দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের পথরোধ করে বলে জানা যায়। দুর্বৃত্তরা শেরমত সরদারের গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে সবকিছু ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।
এ সময় আতঙ্কিত না হয়ে শেরমত সরদার চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের বাড়ির মানুষ ছুটে আসে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে দুর্বৃত্তরা বাবা ও মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মাঝে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার কিছু দূর সটকে পড়া একটি মোটরসাইকেল দেখতে পেয়ে সেটিকে হামলাকারীদের ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করে উত্তেজিত জনতা আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে ডায়াং ব্র্যান্ডের ৮০ সিসি (নম্বর: ঝিনাইদহ হ-১১-৮৫৮১) মোটরসাইকেলটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
খবর পেয়ে খোকসা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেলটির সূত্র ধরে হামলাকারীদের শনাক্ত করতে জোর তদন্ত চলছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

