জেভি২৪ ডেস্ক
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে বিস্ময়কর মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ করা উচিত হয়নি। তবে একই সঙ্গে তার দাবি, কয়েক মাস আগে মার্কিন বাহিনী বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে হামলা না চালালে ইরান এখন পরমাণু অস্ত্রের মালিক হয়ে যেত। এছাড়া ইরানের সামরিক বাহিনীকে ইচ্ছাকৃতভাবে পুরোপুরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান নিয়ে তার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে (হামলা চালাতে) যাওয়া উচিত হয়নি। ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প একথা বলেন। একই সাক্ষাৎকারে ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাগদাদে কিংবা ইরানে মার্কিন বাহিনীর যাওয়া উচিত হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ইরাকে যা ঘটেছিল, তা দেখুন। আমরা খুব খারাপ করেছি। আমরা যা করেছিলাম, তা ছিল অত্যন্ত বোকামি। আসলে প্রথম থেকেই আমাদের সেখানে (হামলা চালাতে) যাওয়া উচিত ছিল না।’
এরপর তিনি ইরানের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘আমাদের ইরানেও (হামলা চালাতে যাওয়া) উচিত হয়নি। কিন্তু ইরানের সেই সক্ষমতা আছে। যদি আমরা ৯ মাস আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে তাদের ওপর হামলা না চালাতাম, তাহলে এই মুহূর্তে তাদের হাতে একটি পরমাণু অস্ত্র থাকত এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘সম্ভবত তখন ইসরায়েল থাকত না। হয়তো পুরো মধ্যপ্রাচ্যই থাকত না। এরপর পরিস্থিতি কোথায় গড়াত, তা কল্পনা করাও কঠিন’। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবেই ইরানের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি লক্ষ্যবস্তু করেনি।
তার ভাষায়, ‘তাদের সামরিক বাহিনীকে আমরা মোটামুটি ছেড়ে দিয়েছি, কারণ আমরা মনে করি তাদের সামরিক বাহিনী কিছুটা মধ্যপন্থি। তবে অন্য কিছু লোক আছে, যারা মধ্যপন্থি নয়। আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি। নেতৃত্বের বিভিন্ন স্তরের লোকজনকে আমরা লক্ষ্যবস্তু করেছি। কিন্তু সামরিক বাহিনীকে আমরা আসলে ছেড়ে দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে এটা শুনে বিস্মিত হতে পারেন। কারণ যুদ্ধে এমন ভুল হয়েছে, যেখানে সবাইকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। তারপর এমন একটি দেশ তৈরি হয়েছে, যা ৪০ বছরেও আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।’

