পচাগলিত মরদেহ গ্রহণে অনীহা স্বজনদের, বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন পারভীন আক্তারকে

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরাসার এলাকার বাসিন্দা পারভীন আক্তার (৫৫)-এর পচাগলিত মরদেহ স্বজনরা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করায় মানবিক উদ্যোগে তাকে বেওয়ারিশ কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সামাজিক সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ মরদেহ দাফনের দায়িত্ব পালন করে।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে শহরের পূর্ব মেড্ডা তিতাস নদীসংলগ্ন বেওয়ারিশ কবরস্থানে মরদেহটি দাফন করা হয়। সংগঠনটির তথ্যমতে, এ নিয়ে তাদের উদ্যোগে ২৫৫টি স্বজনহীন বা বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন করা হলো।

জানা গেছে, ঈদের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের বিরাসার গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে পারভীন আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে পড়ে থাকায় মরদেহে পচন ধরে এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিবারের সদস্যরা মরদেহ গ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে পারিবারিকভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের কাছে মরদেহ দাফনের অনুরোধ জানানো হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পারভীন আক্তার দীর্ঘদিন ধরে একা বসবাস করছিলেন। জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি পারিবারিক ও শারীরিক নানা সংকটের মধ্য দিয়ে গেছেন। স্বজনদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্ব এবং মরদেহের অবস্থার কারণে পরিবার দাফনের দায়িত্ব নিতে অনীহা দেখায় বলে জানা গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম রকীব উর রাজা বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের মানবিক উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন।

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর দীর্ঘদিন ধরে বেওয়ারিশ লাশ দাফন, অসহায় রোগীদের সহায়তা, রক্তদান ও অক্সিজেন সেবাসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।