Author: Jvadmin

  • লঞ্চঘাটে অবৈধ চাঁদার প্রতিবাদ, ভোগান্তিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

    লঞ্চঘাটে অবৈধ চাঁদার প্রতিবাদ, ভোগান্তিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

     

    ববি প্রতিনিধি

    চাঁদপুর লঞ্চঘাটে রশিদবিহীন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং এর প্রতিবাদ করায় এক যাত্রীসহ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ঘাটের ইজারাদার মোস্তফা মাল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    এতে আহত হয়েছেন যাত্রী মো. সজীব সন্ন্যামাত এবং ববি শিক্ষার্থী ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. মাসুদ রানা। ঘটনার পর চাঁদপুর সদর থানায় দুইটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন দুই ভুক্তভোগী। জিডির ট্র্যাকিং নম্বর যথাক্রমে LC6MJO এবং 8NHNOO। এছাড়াও চাঁদপুর নৌ থানায় মৌখিক অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

    ‎প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বরিশালগামী সুন্দরবন-১২ লঞ্চে দুটি মোটরসাইকেল উঠাতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ঘাটের লোক পরিচয় দিয়ে রশিদ বিহীন কয়েকশ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

    ‎ভুক্তভোগীদের দাবি, টাকা আদায়ের বিপরীতে কোনো রশিদ দেখানো হয়নি। রশিদ ছাড়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বাকবিতন্ডার মধ্যে এক পর্যায়ে তারা মারধরের শিকার হয়।

    ‎জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যাত্রী মো. সজীব সন্ন্যামাত মোটরসাইকেল নিয়ে বরিশালে ফেরার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে পৌঁছালে তার কাছে দুই হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে ঘাটের কয়েকজন লোক। এসময় রশিদবিহীন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ও রশিদ চাওয়ায় কয়েকজন ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় তার কাছে ছবি ও ভিডিও প্রমাণ রয়েছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ‎একই ঘটনায় দায়ের করা অপর জিডিতে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাসুদ রানা উল্লেখ করেন, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থল বরিশালে ফেরার পথে তিনি ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল নিয়ে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে পৌঁছান। সুন্দরবন-১২ লঞ্চে মোটরসাইকেল উঠাতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা আদায়ের কারণ ও রশিদ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা রশিদ ছাড়া টাকা দিতে চাপ দেন।

    পরে তিনি সাংবাদিক পরিচয় দিলে তাকে লঞ্চে উঠতে বলা হয়। ইতোমধ্যে অপর মোটরসাইকেল আরোহী সজীব সন্ন্যামাতও রশিদ ছাড়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তখন হঠাৎ ইজারাদার মোস্তফা মাল ঘটনাস্থলে এসে সজীবকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে সাংবাদিক মাসুদ রানার কাছেও এসে রশিদ ছাড়া টাকা না দেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং শারীরিক হামলা চালানো হয় বলে জিডিতে উল্লেখ রয়েছে।

    এতে তার কান, গলা, মুখ, হাত ও পায়ে আঘাত লাগে এবং মোটরসাইকেলেরও ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সুন্দরবন-১২ লঞ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জিডিতে দাবি করা হয়েছে।

    ‎ভুক্তভোগী মো. সজীব সন্ন্যামাত বলেন, আমি লঞ্চে মোটরসাইকেল উঠাতে গেলে তিন-চারজন ব্যক্তি আমার কাছে দুই হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি তাদের কাছে রশিদ চাইলে তারা কোনো রশিদ দেখাতে পারেননি। রশিদবিহীন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করেন। এ সময় আমার বোন আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে রশিদ ছাড়াই টাকা পরিশোধ করে মোটরসাইকেলসহ লঞ্চে উঠতে হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

    ‎হামলার শিকার ববি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক মাসুদ রানা বলেন, বাসা থেকে কর্মস্থল বরিশালে যাওয়ার পথে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে আমার ও আরেক যাত্রীর দুটি মোটরসাইকেল লঞ্চে তুলতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি কোনো রশিদ ছাড়াই বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করেন। রশিদ ছাড়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন এবং গালিগালাজ করেন। পরে আমি পেশাগত পরিচয় দিলে মোস্তফা মাল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে হঠাৎ করে এসে কোনো কথা না শুনেই ইজারাদার মোস্তফা মাল আমাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। এতে আমার কান, গলা, মুখ, হাত ও পায়ে আঘাত লাগে। পড়ে গিয়ে বাইক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।

    ‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত চাঁদাবাজ ঘাট ইজারাদার মোস্তফা মাল তার ভুল শিকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন।

    চাঁদপুর নৌ থানার ওসি ইকবাল বলেন, হামলার বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। এছাড়া জিডির কপিও হাতে পেয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর মুখ খুললেন দীপেন দেওয়ান

    মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর মুখ খুললেন দীপেন দেওয়ান

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের পর প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। এক বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের উদ্দেশ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    বুধবার (৩ জুন) রাত ৯টার ফেসবুক একাউন্টের টাইমলাইনে প্রদত্ত এক বার্তায় তিনি লিখেন, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে আমার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে যে আবেগ, উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে আমি গভীরভাবে অবগত রয়েছি।

    আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল পাহাড়ি, বাঙালি এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি যে, আপনারা শান্ত থাকুন, ধৈর্য ধারণ করুন এবং আইন-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন। কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখুন।

    আমি বিশ্বাস করি, পার্বত্য চট্টগ্রাম আমাদের সবার। এই অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্বও আমাদের সবার। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সকল জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় হোক- এটাই আমার প্রত্যাশা।

    আমি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করছি যে, আমার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা আমার রাজনৈতিক জীবনের প্রেরণা। আমি দেশনেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহ, দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছি। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আমি বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছি।

    আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আমার রাজনৈতিক আদর্শের ঠিকানা। আমি জীবনের অবশিষ্ট সময়ও এই প্রিয় দল, এর আদর্শ এবং দেশের জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে যেতে চাই। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যেকোনো পরিস্থিতিতেই আমি দলের প্রতি আমার আনুগত্য ও অঙ্গীকার অটুট রাখব। এই দল আমি কখনো ত্যাগ করব না।

    আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ব্যক্তি নয়, জনগণের কল্যাণই সবচেয়ে বড় বিষয়। তাই আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জনগণের কাছে আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। মত-পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বিভেদ নয়, প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু সংঘাত নয়। আমার একান্ত কামনা, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করুক, উন্নয়নের সুফল ভোগ করুক এবং এই অঞ্চল সম্প্রীতি, স্থিতিশীলতা ও শান্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে উঠুক।

    পরিশেষে বলতে চাই- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান নেতৃত্বের প্রতি আমি  পূর্ণ আস্থাশীল, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে চাই। আমি আবারো দীপ্ত কন্ঠে ঘোষণা করছি- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আমার শেষ ঠিকানা।

    সকলের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইল। সবার আগে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

  • হবিগঞ্জে বাংলাদেশ স্কাউটসের জেলা মাল্টিপারপাস ওয়ার্কশপ-২০২৬ অনুষ্ঠিত

    হবিগঞ্জে বাংলাদেশ স্কাউটসের জেলা মাল্টিপারপাস ওয়ার্কশপ-২০২৬ অনুষ্ঠিত

     

    হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ স্কাউটস, হবিগঞ্জ জেলার উদ্যোগে জেলা মাল্টিপারপাস ওয়ার্কশপ-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩ জুন ২০২৬) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের স্কাউট নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

    কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন হবিগঞ্জ জেলার সম্মানিত জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, স্কাউটিং তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে। দেশ গঠন ও সমাজ উন্নয়নে স্কাউট সদস্যদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সৈয়দ মুনিম আহমদ। তিনি স্কাউট আন্দোলনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তুলতে স্কাউটিংয়ের গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন।

    কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং বাংলাদেশ স্কাউটস, হবিগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি পাপিয়া আক্তার। তিনি কর্মশালার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য তুলে ধরে জেলার স্কাউট কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ সময় বাংলাদেশ স্কাউটসের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ, স্কাউটার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় স্কাউটিং কার্যক্রমের উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, নেতৃত্ব বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।

  • জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কাজ কী?

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কাজ কী?

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের সদস্য ১৯০টি দেশের গোপন ভোটাভুটিতে ৯৯ ভোট পেয়ে এই পদে জয়লাভ করেছেন তিনি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পেয়েছেন ৯১ ভোট। অর্থাৎ আট ভোটে জিতেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    এর মধ্য দিয়ে সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে দ্বিতীয়বারের মতো বসতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি। ৪০ বছর আগে ১৯৮৬ সালে সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।

    আগামী আটই সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ৮১তম অধিবেশনের এক বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন মি. রহমান। তবে কোন কোন দেশ বাংলাদেশকে ভোট দিয়েছে, তা জানা সম্ভব নয়। কারণ এই নির্বাচন গোপন ব্যালটে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র একটি করে ভোট দেয়, কিন্তু কোন দেশ কাকে ভোট দিয়েছে তা সাধারণত প্রকাশ করা হয় না।

    ব্রাজিল আগেই প্রকাশ্যে বাংলাদেশের প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিল এবং অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন বা ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে প্রচারণা চালানোর ঘোষণা দিয়েছিল। তাই ধারণা করা যায়, ওআইসিভুক্ত অনেক দেশ সমর্থন করেছে বাংলাদেশকে।

    ফলে মানুষের মাঝে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে যে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে মি. রহমান কী কাজ করবেন? তার দায়িত্ব কী কী? এই দায়িত্বই বা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

    সভাপতির কাজ

    জাতিসংঘের পাঁচটি আঞ্চলিক গোষ্ঠী পর্যায়ক্রমে এই সভাপতি পদে প্রতিনিধিত্ব করেন। এবারে সাধারণ পরিষদের এই ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্বের দায়িত্ব পড়েছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গোষ্ঠীর ভাগে।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির প্রধান কাজ হলো, সাধারণ পরিষদের অধিবেশন পরিচালনা করা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনাকে সমন্বয় করা। নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে সকল রাষ্ট্রকে আস্থায় এনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি।

    সাধারণ পরিষদের সভাপতি জাতিসংঘের প্রধান নির্বাহী নন। জাতিসংঘের প্রশাসনিক প্রধান হলেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সাধারণ পরিষদের সভাপতি মূলত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন।

    প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনে ১৬৫টির মতো এজেন্ডা বা আলোচ্য সূচি থাকে। এখানে সভাপতির কাজ হলো এজেন্ডাগুলোর ওপর ডিসকাশন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই অধিবেশনে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা অংশ নেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা ও আলোচনার পরে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার কাজটিও করেন সভাপতি।

    আর্থিক দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও পালন করতে হয়। একটি হলো- পিস কিপিং বাজেট এবং অন্যটি পুরো জাতিসংঘের অর্থাৎ এর অধীনে থাকা ছয়টি সংস্থার মোট বাজেট পরিচালনার কাজ। অর্থাৎ জাতিসংঘের অর্থ পরিচালনার কাজটা পুরোটাই মোটাদাগে সাধারণ পরিষদ করে এবং এখানে যিনি সভাপতি হন তার একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। এই দুটো ম্যান্ডেটরি বিষয় মানতে বাধ্য জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র।

    এছাড়াও সাধারণ পরিষদের আরেকটি ক্ষমতা আছে, যখন নিরাপত্তা পরিষদ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয় তখন সদস্য রাষ্ট্ররা সেই প্রস্তাবটিকে সাধারণ পরিষদে নিয়ে আসে। এক্ষেত্রে সভাপতির একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হয়।

    যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয় সভাপতিকে

    জাতিসংঘের বর্তমান সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক বলেছেন, এই নির্বাচন এমন এক পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হলো যখন বহুপাক্ষিক কূটনীতির জন্য একটি ব্যতিক্রমী কঠিন সময়। ইউএন নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটের পর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে মিজ বেয়ারবক বলেন, জাতিসংঘ কেবল প্রতিকূল পরিস্থিতিরই মুখোমুখি হচ্ছে না, বরং প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে।

    মিজ বেয়ারবক বলেন, সাধারণ পরিষদ প্যাক্ট ফর দ্য ফিউচার বা ভবিষ্যতের চুক্তি বাস্তবায়ন, ‘ইউএন৮০’ উদ্যোগের মাধ্যমে সংস্কার প্রচেষ্টা এগিয়ে নেয়া এবং ব্যাপক ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন কাটিয়ে ওঠার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি মি. রহমানকে তার কাজের ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করতে হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বর্তমান সভাপতি।

    জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ধীরগতি, মানবিক কার্যক্রম ও উন্নয়নের জন্য তহবিল কমে যাওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আজকের বিশ্বের পরিবর্তে ১৯৪৫ সালের মতো সেই পুরোনো বিশ্বেই আটকে রয়েছে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

    যে ৬ লক্ষ্যে কাজ করবেন খলিলুর রহমান

    সভাপতি পদে প্রার্থিতার সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তার ভিশন স্টেটমেন্টে ছয়টি লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। তার এই ভিশন স্টেটমেন্টের শিরোনাম, ‘রিস্টোরিং ট্রাস্ট, ম্যানেজিং ট্রান্সফরমেশন: এ ইউনাইটেড ন্যাশনস দ্যাট ডেলিভারস ফর অল।’

    সভাপতি নির্বাচনের আগে দেয়া এই স্টেটমেন্টে মি. রহমান জানিয়েছেন, শান্তি, নিরাপত্তা ও সকলের জন্য ন্যায়বিচার, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার(এসডিজিএস) অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা এবং জলবায়ু পদক্ষেপ ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে কাজ করবেন তিনি।

    একইসঙ্গে, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, অভিবাসী ও শরণার্থী এবং মানবাধিকার, অন্তর্ভূক্তিমূলক উদ্ভাবনের আওতায় ডিজিটাল গভর্নেন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উদীয়মান প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ এবং জাতিসংঘের সংস্কার করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিরোধমূলক কূটনীতি, শান্তি বিনির্মাণ এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় সমর্থন দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন খলিলুর রহমান।

  • মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করবেন ড. খলিলুর রহমান

    মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করবেন ড. খলিলুর রহমান

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে দেওয়া পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার রক্ষায় তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে রে দাঁড়াতে পারেন বলে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন চলছে।

    বুধবার (৩ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, ড. খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকবেন কি না সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

    শামা ওবায়েদ বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে যদি নিবেদিতভাবে ওনার এই কাজটা করতে হয় (জাতিসংঘের সভাপতির কাজ) তাহলে ওখানে (জাতিসংঘে) সময়টা দিতেই হবে। তার মানে এই নয় যে, উনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এটা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি, এটা ওনাদের দুজনের (প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী) সিদ্ধান্তে হবে।

    বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ড. খলিলুর রহমানের এই বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক প্রভাবের সুস্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে দেখছে দল ও সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল। আর আন্তর্জাতিক অঙ্গণে দেশের এই উদীয়মান ভাবমূর্তি ধরে রাখতে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ড. খলিলুর রহমানকে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন করতে দিতে চায় সরকার ও বিএনপির হাইকমান্ড। সেজন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে ‘আপাতত’ তাকে সরিয়ে রাখতেও দ্বিধা করবেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সরকারের একটি সূত্র জানায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটে বিজয়কে খুব ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সাফল্য বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা নয় বরং এটি বহুপাক্ষিক কূটনীতি, শান্তি, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দেশের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক অর্জনের পেছনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সীমিত সময়ে বাংলাদেশের সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং প্রার্থী ড. খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতাও মূল ভূমিকা পালন করেছে বলে সরকার মনে করছে।

    সূত্র আরও, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় নির্বাচনের জন্য মাত্র তিন মাসের মতো সময় অবশিষ্ট ছিল। সেই সীমিত সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রার্থিতা নিয়ে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে বিজয়ের ব্যাপারে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২ জুন) সদস্য দেশগুলোর প্রত্যক্ষ ভোটে বিশ্বমঞ্চে মর্যাদাপূর্ণ আসনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পেয়েছিলেন ৯১ ভোট। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ড. খলিলুর রহমান।

    এর আগে, গত ১৩ মে বুধবার বিকালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ৮১তম সাধারণ পরিষদের সেশনে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেন তিনি ড. খলিলুর রহমান। ওই সেশনে দেয়া বক্তব্যেও তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে একজন ‘পূর্ণকালীন প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

    লিখিত বক্তব্যে ছয়টি পরিকল্পনার প্রস্তাব তুলে ধরে ড.খলিল জাতিসংঘ সনদ সমুন্নত রাখা, ছোট প্রতিনিধিদলগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেয়া এবং মতপার্থক্যের মধ্যেও ঐকমত্যের ভিত্তি খুঁজে বের করার চেষ্টার প্রতিশ্রুতি দেন।

    সভাপতি নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি সামগ্রিক পদ্ধতির পক্ষে কথা বলবেন। পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থায়নের ঘাটতি, ঋণের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ‘ক্ষয়ক্ষতি’ তহবিলকে সমর্থন এবং জীববৈচিত্র্য ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

    রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মানবাধিকার ব্যবস্থা সমুন্নত রাখা, মানবিক পরিসর রক্ষা এবং শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের সহায়তার ওপর জোর দেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিচক্ষণ ও ন্যায়সংগত শাসনের আহ্বান জানান তিনি। সবশেষে জাতিসংঘের সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

  • কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, বাদ যাচ্ছে না বাংলাদেশও

    কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, বাদ যাচ্ছে না বাংলাদেশও

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর শ্রম আইন নিয়ে সোচ্চার হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    এ নিয়ে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় নির্বাচিত হয়ে আসার পর ‍দ্বিতীয়বারের মতো শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলো ট্রাম্প প্রশাসন।

    মঙ্গলবার (২ জুন) এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি জারি করেছে ইউএসটিআর। জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে এবার এসব দেশের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় এক তদন্তের পর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’-এর অধীনে এই সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

    এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    তদন্ত প্রতিবেদনে দেশগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে ইউএসটিআর। যেসব দেশ আংশিক নিয়ম কার্যকর করেছে বা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে জোরপূর্বক শ্রমের পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এবং যেসব দেশ সম্পূর্ণভাবে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে।

    প্রথম তালিকায় রয়েছে কানাডা, মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ইকুয়েডর, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান।

    অন্যদিকে দ্বিতীয়টিতে রয়েছে যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়াসহ ৫৪টি দেশ।

    বিজ্ঞপ্তিতে একটি ‘টেক্সটাইল মেকানিজম’-এর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য হ্রাসকৃত (কম) শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।

    তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য এটি স্বস্তির কারণ হতে পারে কি না, তা পরবর্তী শুনানিতে স্পষ্ট হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি অ্যাম্বাসেডর জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, ‘আমাদের প্রধান ব্যাবসায়িক অংশীদাররা জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকদের বৈশ্বিক বাজারে একটি অসমান প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আমরা এই বৈষম্য আর সহ্য করব না।’

    ইউএসটিআর-এর তদন্তে বলা হয়েছে, এই ৬০টি দেশের ব্যর্থতার কারণে তৈরি হওয়া সস্তা পণ্য মার্কিন বাজারে প্রবেশ করছে। এটি মার্কিন উৎপাদকদের জন্য অসদুপায় ও অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছে এবং বৈধভাবে ব্যাবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    তবে এই শুল্ক এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর করা হয়নি। এটি আপাতত একটি প্রস্তাব, যার ওপর অংশীজনদের মতামত ও শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম বাজার। নতুন এই প্রস্তাব কার্যকর হলে তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া সমস্ত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০% শুল্ক যোগ হবে। ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।

  • মুক্তিযুদ্ধ-মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানের চেষ্টা করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: নোয়াখালীতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

    মুক্তিযুদ্ধ-মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানের চেষ্টা করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: নোয়াখালীতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

     

    নোয়াখালী প্রতিনিধি 

    মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, আজ যারা ১৯৭১-কে মুছে ফেলতে চায়, আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন বিগত ১৭ বছর একটি দল মুক্তিযুদ্ধকে কুক্ষিগত করে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করেছিল। তারা বাংলাদেশে লুটপাট করেছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে এবং ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে। এখন আরেকটি দল ২০২৪ সালের জনগণের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানকে নিজেদের পকেটস্থ করে সেখান থেকে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে।

    বুধবার (৩ জুন) দুপুরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর নন্দিয়াপাড়া বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, যখন যে সরকার আসে তারা নতুন করে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করতে হবে। যেন মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আর কোনো বিকর্ত না হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আরিফ হোসেন।

  • গোপালগঞ্জে রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে সুপেয় পানি, ছাতা ও হাতপাখা বিতরণ

    গোপালগঞ্জে রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে সুপেয় পানি, ছাতা ও হাতপাখা বিতরণ

     

    গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 

    গোপালগঞ্জ তীব্র তাপদাহে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জেলা ইউনিটের উদ্যোগে সুপেয় পানি, ছাতা ও হাতপাখা বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

    গোপালগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট ট্রাফিক বক্স ও মডেল মসজিদ রোড সংলগ্ন এলাকায় পথচারী, রিকশাচালক, শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

    সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যাওয়ায় মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। কর্মসূচির আওতায় পথচারীদের মাঝে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের পাশাপাশি হাতপাখা ও ছাতা বিতরণ করা হয়, যা গরমের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি গোপালগঞ্জ জেলা ইউনিটের চেয়ারম্যান শরীফ রফিকউজ্জামান, ইউনিট লেভেল অফিসার বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, যুব প্রধান জুবায়ের খান সহ সংগঠনের অন্যান্য যুব সদস্যরা।

    রেড ক্রিসেন্টের নেতৃবৃন্দ জানান, তাপদাহের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় জনগণকে সচেতন করতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাইকিংয়ের মাধ্যমে হিট স্ট্রোকের লক্ষণ, প্রতিকার এবং অতিরিক্ত গরমে করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

    জেলা রেড ক্রিসেন্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী সাত দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি ছাতা, ১ হাজার লিটার সুপেয় পানি এবং ৫ হাজার হাতপাখা বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি তাপদাহ ও হিট স্ট্রোক থেকে নিরাপদ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান, অপ্রয়োজনে রোদে বের না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    স্থানীয়রা রেড ক্রিসেন্টের এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের কার্যক্রম সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এই সময় গোপালগঞ্জ সাংবাদিক ক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক ও রেডক্রিসেন্ট এর আজীবন সদস্য সাংবাদিক মাহমুদ উপস্থিত হয়ে সুপেয় পানি পান করেন। মানবতার সেবায় যুব রেডক্রিসেন্ট সদস্য ও সদস্যাদের এই পথচলা হোক মানুষের কল্যানে!

  • দামুড়হুদায় ভ্রাম্যমান আদালত মাদক মামলায় দু’জনের কারাদণ্ড

    দামুড়হুদায় ভ্রাম্যমান আদালত মাদক মামলায় দু’জনের কারাদণ্ড

     

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি 

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুরে ও দর্শনা পৌরসভায় মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা কর হয়। এসময় দু’জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

    বুধবার (০৩ জুন) দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন আলম।

    ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানাগেছে, মাদকদ্রব্যের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা থাকা ও মাদকদ্রব্য সেবনের অপরাধের “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮” অনুযায়ী উপজেলার জুড়ানপুর পশ্চিমপাড়ার আরজিবুল হোসেনের ছেলে শাকিব হোসেন (২৬) কে ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

    এছাড়া দর্শনা পৌর এলাকার দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের কিতাব আলী সর্দারের ছেলে আলম সরদার (৬৯) কে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

    মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

  • বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে এক নারী ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার

    বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে এক নারী ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর একটি কক্ষ থেকে এক নারী ও দুই কন্যা সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহত নারীর নাম স্মৃতি রানী। তিনি জেলার কালিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর পার্টটাইম ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া দুই শিশু ওই নারীর সন্তান।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডাকবাংলোর ৩ নম্বর কক্ষে আনুমানিক ৬ বছর বয়সী এক কন্যা শিশুর মরদেহ বিছানার ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পাশের ৪ নম্বর কক্ষ (খাকদন-৪) দরজা ভেঙে স্মৃতি রানী ও প্রায় ২ বছর বয়সী আরেক শিশু কন্যার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা জানান, বেলা এগারোটার দিকে দুই সন্তানসহ কাজে আসেন স্মৃতি রাণী। ধারণা করা হচ্ছে, দুই শিশু সন্তানকে হত্যা করে মা আত্মহত্যা করেন। তিনি আরও জানান, প্রতিবেশী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে স্মৃতি রাণী ঋণগ্রস্ত ছিলেন। এসব কারণে আত্মহত্যা করতে পারে।

    বরগুনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ. আলীম জানান, ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।