সচেতন
সামনে গর্ত পিছনে শেয়াল
ডানে আদেশ বাঁয়ে দেয়াল।
আমার দুই কাঁধে আছেরে বসে,
লিখছে আমার দুইজনা লেখক।
প্রাণ আমার তারে-নারে,
কর্ম আমার দুইভাগে ভাগ
লেখক আমার সচেতন।
একলা বসে ভাবছে রে মিলু
নিজের কর্ম নিজে সচেতন।
কবিঃ জাহাঙ্গীর আলম মিলু

সচেতন
সামনে গর্ত পিছনে শেয়াল
ডানে আদেশ বাঁয়ে দেয়াল।
আমার দুই কাঁধে আছেরে বসে,
লিখছে আমার দুইজনা লেখক।
প্রাণ আমার তারে-নারে,
কর্ম আমার দুইভাগে ভাগ
লেখক আমার সচেতন।
একলা বসে ভাবছে রে মিলু
নিজের কর্ম নিজে সচেতন।
কবিঃ জাহাঙ্গীর আলম মিলু

নাফীজ আহমেদ, ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াতকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে চালু করা বৈদ্যুতিক শাটল (ইভি) সেবা প্রত্যাশিত সফলতা অর্জন করতে পারেনি। পরিবেশবান্ধব এ উদ্যোগটি শুরুতে আশাবাদ তৈরি করলেও বর্তমানে যাত্রী সংকট, সীমিত আয় এবং ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত নানা জটিলতায় প্রকল্পটি আর্থিকভাবে টেকসই থাকবে কি না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।
২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ১৪ আসনের চারটি বৈদ্যুতিক শাটল কার চালু করা হয়। প্রশাসন ভবন চত্বরে এর উদ্বোধন করেন তৎকালীন উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। জনপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয় পাঁচ টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কিস্তিতে গাড়ি কিনলে প্রতিটির দাম প্রায় ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত পড়ত। তাই প্রশাসন অভ্যন্তরীণ তহবিল থেকে নগদ অর্থ নিয়ে প্রায় ৪৪ লাখ টাকায় চারটি গাড়ি কেনা হয়। এতে বাইরের উচ্চ সুদ এড়ানো গেলেও তহবিলের বিপরীতে কিছু সুদ দিতে হচ্ছে।
প্রথম দিন চারটি ইভি থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। শুরুতে ধারণা ছিল, পরিচিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়ও বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে সময়ের সঙ্গে আয় কমে যায়। হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পের সুদ ও ব্যয় মেটাতে মাসে অন্তত ৬০ হাজার টাকা আয় প্রয়োজন।
প্রথমদিকে চালকদের বেতনভিত্তিকভাবে নিয়োগ দেওয়ার চিন্তা থাকলেও তা বাস্তবসম্মত হয়নি। কারণ ইভি থেকে যে আয় হচ্ছিল, তা দিয়ে সুদ পরিশোধের পাশাপাশি চালকদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পরে সিদ্ধান্ত হয়, চারটি ইভি সাপ্তাহিক চুক্তিভিত্তিক চালকদের কাছে দেওয়া হবে। শর্ত অনুযায়ী, প্রতিটি গাড়ির জন্য সপ্তাহে ৪ হাজার টাকা করে জমা দেওয়ার চুক্তি করেন তারা।
তবে বাস্তবে সেই লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হচ্ছে না। বিগত সপ্তাহে চালকেরা নির্ধারিত ৪ হাজার টাকার পরিবর্তে কেউ ৩২০০ টাকা, কেউ ৩৭০০ টাকা, কেউ ৩৮০০ টাকা জমা দিয়েছেন। এতে প্রকল্পটি এখনো লোকসানে রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
শুরু থেকেই প্রকল্পটি নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়। একটি ইভি স্থানীয় ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। এছাড়া আরেকটি গাড়ি ব্যাটারি সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি জানানো হলেও এখনো সমাধান হয়নি।
পরিবহন অফিস সূত্রে, ক্যাম্পাসে চলাচলকারী ভ্যানগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় এনে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করলে ইভির যাত্রী বাড়তে পারে এমন প্রস্তাবও উঠেছিল। এ বিষয়ে ট্রেজারার ও উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হলেও প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা আপত্তি জানান। তাদের আশঙ্কা ছিল, স্থানীয় ভ্যানচালকদের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হতে পারে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় বাইরের দর্শনার্থী, ঘুরতে আসা অতিথি এবং ছুটির দিনের পর্যটকেরাই ইভিতে বেশি ওঠেন। শিক্ষার্থীদের অনেকে নিয়মিত এই সেবা ব্যবহার করেন না।
ক্যাম্পাসে বর্তমানে প্রায় ৫০টি ভ্যান চলাচল করে। দ্রুত ক্লাসে যাওয়া, সভা বা বিভাগীয় কাজে পৌঁছানোর জন্য শিক্ষার্থীরা ভ্যানকেই বেশি প্রাধান্য দেন। অন্যদিকে ইভি নির্দিষ্ট স্টপেজে দাঁড়ায় এবং চার-পাঁচজন যাত্রী না হলে ছাড়ে না। ফলে তাৎক্ষণিক যাতায়াতে শিক্ষার্থীরা ভ্যানকে বেশি সুবিধাজনক মনে করেন।
একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ইভি আরামদায়ক ও পরিবেশবান্ধব হলেও দৈনন্দিন দ্রুত চলাচলের জন্য এটি সবসময় কার্যকর নয়। ক্যাম্পাসে ক্লাস, পরীক্ষা, বিভাগীয় কার্যক্রম বা বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে তারা ভ্যানকেই বেশি সুবিধাজনক মনে করেন। শিক্ষার্থীদের মতে, ইভি সাধারণত ৪-৫ জন যাত্রী না হলে ছেড়ে যায় না, ফলে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া ইভির নির্দিষ্ট কিছু স্টপেজ রয়েছে, শুধুমাত্র সেসব স্থানেই এটি থামে। ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগে। এ কারণে সময় বাঁচাতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভ্যান ব্যবহারকেই বেশি প্রাধান্য দেন।
পরিবহন প্রশাসক আব্দুর রউফ বলেন, প্রকল্পটি সচল রাখতে প্রশাসন নানা উদ্যোগ নিয়েছে। টিকিট ব্যবস্থা, চালকদের চুক্তিভিত্তিক পরিচালনা, সচেতনতামূলক স্টিকার, ভ্যান নিবন্ধনের প্রস্তাব সবই বিবেচনায় আনা হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে একটি ইভিকে শিক্ষকদের পরিবহন, একটি শিক্ষার্থীদের সার্ভিসিং কার এবং আরেকটি কর্মকর্তা ও অতিথিদের ব্যবহারের জন্য চালুর প্রস্তাব দেওয়া যেতে পারে।

জেভি২৪ ডেস্ক
জিলহজ মাস শুরু হলেই বদলে যেতে থাকে মুসলিম বিশ্বের পরিবেশ। পবিত্র মক্কা, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফাসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে ধ্বনিত হয় তাকবির ও তালবিয়ার সুমধুর আহ্বান ‘আল্লাহু আকবার’ এবং ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’।
মসজিদ, ঘরবাড়ি, রাস্তা এমনকি বিভিন্ন জনসমাগমস্থলেও শোনা যায় তাকবিরে তাশরিকের ধ্বনি। এটি শুধু ধর্মীয় উচ্চারণ নয়; বরং মহান আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের গভীর বহিঃপ্রকাশ।
আরব বিশ্বসহ বিভিন্ন দেশে জিলহজের শুরু থেকেই বাড়ি ও জনবহুল এলাকায় তাকবিরের সাউন্ড বাজানো হয়। অন্যদিকে হজযাত্রীদের কণ্ঠে উচ্চারিত তালবিয়া যেন গোটা মুসলিম উম্মাহকে এক সুতোয় আবদ্ধ করে।
ইসলামে তাকবিরে তাশরিক ও তালবিয়ার গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আইয়ামে তাশরিকের পাঁচ দিনে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব। আর হজ পালনকারীদের জন্য তালবিয়া ও তাকবির উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ইবাদতের আবহ এবং আল্লাহর স্মরণে জিলহজ মাস মুসলমানদের জীবনে এনে দেয় এক অনন্য আধ্যাত্মিক অনুভূতি।
হজের সফরে রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরাম তালবিয়া ও তাকবির উভয়ই পাঠ করেছেন। হজের মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিনামুখী হাজিদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’।
তালবিয়ার এই ধ্বনি আর তাকবিরের ‘আল্লাহু আকবার’ উচ্চারণে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মক্কা নগরী, মিনা, আরাফার ময়দান ও মুজদালিফা।
জিলহজের ১৩ তারিখ পর্যন্ত সারা বিশ্বের মুসলমানরা তাকবির ও তালবিয়ার মাধ্যমে ঘোষণা করতে থাকেন আল্লাহর বড়ত্ব এবং তার স্মরণে নিজেকে নিয়োজিত রাখার অঙ্গীকার।
তাকবিরে তাশরিক
اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَ اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر وَ للهِ الْحَمْد
উচ্চারণ: ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’
অর্থ: ‘আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।’
হিজরি বছরের হিসাব অনুযায়ী জিলহজ মাজের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়তে হয়। হজে না গেলেও সারা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য এই তাকবির পড়া ওয়াজিব। একাধিকবার পড়া মুস্তাহাব।
তালবিয়া : বান্দার উপস্থিতির ঘোষণা
لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ
لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ
اِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ
لاَ شَرِيْكَ لَكَ
উচ্চারণ: লাব্বাইকা আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক,
লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক,
ইন্নাল হামদা ওয়ান্নিমাতা লাকা ওয়ালমুল্ক,
লা শারিকা লাক।
অর্থ: ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত।
আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোনো অংশীদার নেই।
নিশ্চয়ই সব প্রশংসা, নেয়ামত ও রাজত্ব আপনারই।
আপনার কোনো অংশীদার নেই।’
হাজিগণ উচ্চস্বরে (নারীরা নিচু স্বরে) তালবিয়া পাঠ করেন। বিশেষ করে
> আরাফাতের ময়দানে
> মিনায়
> মুজদালিফায়
> হজ ও ওমরার এক রোকন থেকে অন্য রোকনে যাওয়ার পথে
> উঁচু স্থানে আরোহন বা নিচে নামার সময়
এমনকি চলাফেরা, বিশ্রাম, ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া এবং ফরজ-নফল নামাজের পরও বেশি বেশি তালবিয়া ও তাকবির পাঠ করা সুন্নত ও ফজিলতপূর্ণ আমল।
তাকবির ও তালবিয়া শুধু কিছু শব্দের উচ্চারণ নয়; এটি একজন মুমিনের হৃদয়ের গভীরতম আত্মসমর্পণের ভাষা। এই ধ্বনি মুসলিম উম্মাহকে মনে করিয়ে দেয় আমরা সবাই এক আল্লাহর বান্দা, তারই ডাকে সাড়া দিয়ে জীবন পরিচালনা করি।
জিলহজের এই বরকতময় দিনগুলোতে তাকবিরে তাশরিক ও তালবিয়ার মাধ্যমে আল্লাহর স্মরণে নিজেকে ব্যস্ত রাখা শুধু একটি আমল নয়, বরং ইমানকে জীবন্ত রাখার এক অপূর্ব উপায়। আসুন, এই পবিত্র সময়গুলোতে আমরা সবাই আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করি, হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করি এবং তার সন্তুষ্টি অর্জনে নিজেদের নিয়োজিত রাখি।

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ৮ নং ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদে ঈদ উপলক্ষে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৩ মে) ইউনিয়নের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ চাল বিতরণ করা হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক সুবিধাভোগী অভিযোগ করেন, তাদের কম ওজনের চাল দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, ইউনিয়নে মোট ৫৫৫ জন সুবিধাভোগীর মাঝে চাল বিতরণ করা হয়।

চাল বিতরণের সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালামকে পরিষদে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি দাওয়াত খাইতে একজায়গায় আইছি। ট্যাগ অফিসারের প্রতিনিধি আছে, তারা থাইকা দিতেছে। তারা ১০ কেজি দিবে না ১১ কেজি দিবে তারা ভালো জানে।”
তবে পরিষদে মহিলা ইউপি সদস্য সালমা জাহানকে উপস্থিত থেকে প্রতিটি স্লিপে স্বাক্ষর করতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, বালতি ভরে ওজন করে চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। সুবিধাভোগীদের অভিযোগ, ১০ কেজির পরিবর্তে ৯ কেজি ৫০০ গ্রাম করে চাল দেওয়া হচ্ছে।
ট্যাগ অফিসারের প্রতিনিধি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “আমি এসে দেখি ১০ কেজির জায়গায় ৪০০ গ্রাম কম। পরে বলছি ওজন করে ঠিক করে দিতে। আমি একটু বাহিরে গেছি, এসময় একটু অনিয়ম হতে পারে।”
এদিকে চেয়ারম্যান পরিষদে উপস্থিত না থাকায় সুবিধাভোগীদের স্লিপে স্বাক্ষর নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
পরিষদ থেকে চাল নেওয়ার পর শ্রীরামদিয়া গ্রামের জয়ন্তী রানী,(স্বামী-পরিমল মন্ডল) তার চাল ডিজিটাল পাল্লায় ওজন করে দেখেন, ১০ কেজির পরিবর্তে ব্যাগে রয়েছে মাত্র ৯ কেজি ৩৯৬ গ্রাম চাল।
উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদ উপলক্ষে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের জন্য সরকার ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়। স্থানীয়দের দাবি, সঠিক ওজন নিশ্চিত করে স্বচ্ছতার মাধ্যমে চাল বিতরণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

জেভি২৪ ডেস্ক
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শনিবার (২৩ মে) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।
আইন ও বিচার বিভাগ শাখার ডেপুটি সলিসিটর (জিপি-পিপি) মো. রফিকুল ইসলামের সই করা ওই আদেশে বলা হয়, দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮ এর ৪৯২ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন পল্লবী থানার মামলা নম্বর ৩৫, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯(২)/৩০ তৎসহ ২০১ পেনাল কোডে রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো। জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এদিকে শনিবার শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ডিএনএ রিপোর্ট হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা ডিএনএ রিপোর্ট হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। একই দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত গ্রেপ্তার সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানায়, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল জোরপূর্বক তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বাথরুমে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এতে শিশু রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এর মধ্যেই তার মা রামিসার খোঁজে তাদের দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন।
ওই সময় গ্রেপ্তার সোহেল রানা ছোট্ট রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে শরীর থেকে আলাদা করেন। সেই সঙ্গে দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। একই সময় শিশুটির সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয়। ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী একই রুমে ছিল। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল।
আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে করা পুলিশের আবেদনে বলা হয়, হত্যার শিকার শিশু রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিশুটিকে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। পরে অনেক ডাকাডাকিতেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন শিশুটির স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ওই সময় ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে শিশুটির মাথাবিহীন মরদেহ পড়ে ছিল। এছাড়া আরেকটি কক্ষের ভেতরে একটি বালতির মধ্যে তার মাথাটি রাখা ছিল।
আবেদনে আরও বলা হয়, মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশু রামিসার মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়। সেই সঙ্গে তার সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে কাটা মাথাটি বালতির মধ্যে রাখা হয়।
অন্যদিকে ঘটনার পর কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলেও পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শাহ্ জালাল, ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬ উপলক্ষে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, বিষয়ভিত্তিক কুইজ ও কাবিং প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন-এ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাদের অভিনন্দন জানান।
বক্তারা বলেন, প্রাথমিক স্তরে সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমন প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মাঝে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি করার পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আনন্দ-উৎসবমুখর পরিবেশে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

এম টি রহমান মাহমুদ, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত দাঁতের চিকিৎসা পাওয়া এখন এক দীর্ঘ বিড়ম্বনার নাম। আধুনিক বিশেষায়িত চিকিৎসার আশায় ২০১৮ সালে শুরু হওয়া ‘গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল’ নির্মাণকাজ আট বছর পেরিয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি। দফায় দফায় সময় বৃদ্ধি আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ঝুলে আছে জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের ভাগ্য। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তা স্থবির হয়ে পড়ায় জনমনে চরম ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।
সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে প্রায় ৭.৫ একর জমির ওপর বাস্তবায়িত হচ্ছে এই বিশাল প্রকল্প। ১৩টি পৃথক অবকাঠামো নিয়ে গঠিত এই কমপ্লেক্সে হাসপাতাল ও একাডেমিক ভবনসহ প্রায় সব কাঠামোর কাজই দৃশ্যমান। তবে পরিসংখ্যান বলছে, এই দীর্ঘ সময়ে প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বেড়েছে কয়েক গুণ: দেখার কেউ নেই..?
শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৩ কোটি ৯২ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।
• প্রথম দফায় ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ১১২ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ সালের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) এবং একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় সংশোধন করে প্রকল্পের ব্যয় বর্তমানে ১৩৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
• ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ছিল প্রায় ৭২% এবং আর্থিক অগ্রগতি ছিল ৫৯%।
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রশাসনিক রদবদলের কারণে বর্তমানে প্রকল্পের ফান্ড বা অর্থ বরাদ্দ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ফলে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও তা উদ্বোধনের মুখ দেখছে না। গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মেয়াদ পুনরায় ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং বকেয়া বরাদ্দ পাসের জন্য মন্ত্রণালয়ে নতুন করে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুততম সময়ে বাকি ২৮% কাজ শেষ করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি।
একটি পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল হাসপাতাল না থাকায় জেলার রোগীদের দাঁতের জটিল সমস্যার জন্য ঢাকা বা পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ছুটতে হচ্ছে। এতে যেমন সময়ের অপচয় হচ্ছে, তেমনি চিকিৎসার ব্যয়ভার সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অথচ এই কলেজটি চালু হলে প্রতি বছর কয়েকশ শিক্ষার্থী ডেন্টাল সার্জারিতে (BDS) পড়ার সুযোগ পেত এবং হাজার হাজার মানুষ স্বল্পমূল্যে আধুনিক চিকিৎসা সেবা পেত।
গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল শুধু একটি ইটের দালান নয়, এটি এই অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বপ্ন। অবকাঠামো তৈরি হয়ে পড়ে থাকা মানে রাষ্ট্রের বড় অঙ্কের বিনিয়োগের অপচয়। বর্তমান সরকারের কাছে জেলাবাসীর দাবি, জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত অর্থ অবমুক্ত করা হোক। ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে যেন এই হাসপাতালের দুয়ার রোগীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়, সেটিই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। গোপালগঞ্জ বাসী বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এর কাছে জোর দাবী জানান যেন দক্ষিণ বাংলার জনগণ যেমন বাগেরহাট, পিরোজপুর, নড়াইল, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ জেলা সকল জেলার সাধারণ মানুষ এই সেবা পাবে আপনার ভালবাসায়। এই প্রত্যাশা সাধারণ জনগণের।

স্টাফ রিপোর্টার
কুষ্টিয়ায় ট্রেনের ছাদ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় নুরুল আবসার (৩০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন কোর্ট স্টেশনে পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে ট্রেনের ছাদ থেকে লাশটি উদ্ধার করে পোড়াদহ রেলওয়ে পুলিশ।
নিহত নুরুল ইসলাম চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানার সাধনপুর এলাকার বজল আহমেদের ছেলে।
পুলিশ বলছে, লাশের পকেটে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি যাচাই করে পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুষ্টিয়া শহরের মিললাইন রেলগেট ক্রস করার সময় নির্মাণশ্রমিকেরা ট্রেনের ছাদে রক্তাক্ত অবস্থায় নুরুল ইসলামকে পড়ে থাকতে দেখে।
এ সময় রেলগেট ক্রসিংয়ে অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিরা স্থানীয় সাংবাদিক রবিউল ইসলাম হৃদয়কে ঘটনাটি জানান। ট্রেনটি রেলগেট ক্রস করলে সাংবাদিক হৃদয় ও কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ কনস্টেবল সোহেল তাৎক্ষণিক কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে গিয়ে রেলওয়ে পুলিশকে জানান। সংবাদ প্রদান করার পর ট্রেন থামিয়ে ছাদ থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পোড়াদহ রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম বলেন, ট্রেনের ছাদ থেকে রক্তাক্ত একটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের একটি ফটোকপির মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। মাথায় আঘাত লেগেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ব্রিজ কিংবা গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মৃত্যু হতে পারে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জেভি২৪ ডেস্ক
রাজধানীতে রামিসা হত্যার ঘটনার উত্তেজনা শেষ না হতেই এবার যশোরের শার্শায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আলম গাজী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে ধর্ষণচেষ্টার এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (২২ মে) রাত ১টার দিকে শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে শার্শা থানা পুলিশ আলমকে গ্রেপ্তার করে। আলম শার্শার সরুপদাহ গ্রামের জহুর গাজীর ছেলে।
শিশুটির পরিবার জানান, কাঠি ভাজা খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি টং ঘরে নিয়ে নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টা চালায় আলম। পরে শিশুটির চিৎকারে লোকজন এলে অভিযুক্ত আলম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধর্ষণচেষ্টার সত্যতা পায় এবং অভিযুক্ত আলম গাজীকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহ পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে (৭) ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ১৯ মে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।
তদন্তের পর পুলিশ জানায়, স্কুলে যাওয়ার সময় রামিসাকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে অপরাধ ঢাকতে তাকে গলা কেটে হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টা চালায়।
এ ঘটনায় মূল ঘাতক সোহেল রানা ও তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোহেল আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও দ্রুত বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জেভি২৪ স্পোর্টস ডেস্ক
ক্রিকেট বেশ কিছু নিয়মে পরিবর্তন আনার চিন্তা ভাবনা করছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আগামী ৩০ মে ভারতের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসির বোর্ড সভায় অনুমোদন হয়ে গেলে শিগগিরই কার্যকর হতে পারে নতুন কিছু নিয়ম।
ওয়ানডে ম্যাচে ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট পরপর দুইবার পানিপান বিরতি থাকে। পানি পানের এই বিরতির সময় হেড কোচ মাঠে ঢুকে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারবেন। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ইনিংস বিরতি কমানো হচ্ছে। বর্তমানে দুই ইনিংসের মাঝে ২০ মিনিট বিরতি থাকে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী সেটি কমিয়ে ১৫ মিনিট করা হতে পারে।
অবৈধ বোলিং অ্যাকশন ধরতে হক-আই প্রযুক্তির ব্যবহারেরও কথা ভাবা হচ্ছে। অন-ফিল্ড আম্পায়ারদের হক-আই ডেটা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে আইসিসি। এর মাধ্যমে ম্যাচ চলাকালেই সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশন পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে।
টেস্ট ম্যাচ চলাকালীন প্রয়োজনে লাল বলের বদলে পিঙ্ক বা গোলাপী বল ব্যবহার হতে পারে। আবহাওয়া বা আলোজনিত সমস্যায় দুই দলের সম্মতিতে ডে-নাইট কন্ডিশনে খেলা চালিয়ে যেতেই এই পরিকল্পনা।