এম টি রহমান মাহমুদ, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত দাঁতের চিকিৎসা পাওয়া এখন এক দীর্ঘ বিড়ম্বনার নাম। আধুনিক বিশেষায়িত চিকিৎসার আশায় ২০১৮ সালে শুরু হওয়া ‘গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল’ নির্মাণকাজ আট বছর পেরিয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি। দফায় দফায় সময় বৃদ্ধি আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ঝুলে আছে জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের ভাগ্য। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তা স্থবির হয়ে পড়ায় জনমনে চরম ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।
সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে প্রায় ৭.৫ একর জমির ওপর বাস্তবায়িত হচ্ছে এই বিশাল প্রকল্প। ১৩টি পৃথক অবকাঠামো নিয়ে গঠিত এই কমপ্লেক্সে হাসপাতাল ও একাডেমিক ভবনসহ প্রায় সব কাঠামোর কাজই দৃশ্যমান। তবে পরিসংখ্যান বলছে, এই দীর্ঘ সময়ে প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বেড়েছে কয়েক গুণ: দেখার কেউ নেই..?
শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৩ কোটি ৯২ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।
• প্রথম দফায় ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ১১২ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ সালের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) এবং একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় সংশোধন করে প্রকল্পের ব্যয় বর্তমানে ১৩৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
• ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ছিল প্রায় ৭২% এবং আর্থিক অগ্রগতি ছিল ৫৯%।
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রশাসনিক রদবদলের কারণে বর্তমানে প্রকল্পের ফান্ড বা অর্থ বরাদ্দ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ফলে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও তা উদ্বোধনের মুখ দেখছে না। গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মেয়াদ পুনরায় ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং বকেয়া বরাদ্দ পাসের জন্য মন্ত্রণালয়ে নতুন করে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুততম সময়ে বাকি ২৮% কাজ শেষ করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি।
একটি পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল হাসপাতাল না থাকায় জেলার রোগীদের দাঁতের জটিল সমস্যার জন্য ঢাকা বা পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ছুটতে হচ্ছে। এতে যেমন সময়ের অপচয় হচ্ছে, তেমনি চিকিৎসার ব্যয়ভার সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অথচ এই কলেজটি চালু হলে প্রতি বছর কয়েকশ শিক্ষার্থী ডেন্টাল সার্জারিতে (BDS) পড়ার সুযোগ পেত এবং হাজার হাজার মানুষ স্বল্পমূল্যে আধুনিক চিকিৎসা সেবা পেত।
গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল শুধু একটি ইটের দালান নয়, এটি এই অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বপ্ন। অবকাঠামো তৈরি হয়ে পড়ে থাকা মানে রাষ্ট্রের বড় অঙ্কের বিনিয়োগের অপচয়। বর্তমান সরকারের কাছে জেলাবাসীর দাবি, জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত অর্থ অবমুক্ত করা হোক। ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে যেন এই হাসপাতালের দুয়ার রোগীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়, সেটিই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। গোপালগঞ্জ বাসী বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এর কাছে জোর দাবী জানান যেন দক্ষিণ বাংলার জনগণ যেমন বাগেরহাট, পিরোজপুর, নড়াইল, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ জেলা সকল জেলার সাধারণ মানুষ এই সেবা পাবে আপনার ভালবাসায়। এই প্রত্যাশা সাধারণ জনগণের।










