Author: Jvadmin

  • বিশ্বকাপ শুরুর আগে জেনে নিন চমকপ্রদ ৫ তথ্য

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে জেনে নিন চমকপ্রদ ৫ তথ্য

    স্পোর্টস ডেস্ক 

    বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর মাত্র এক দিন বাকি। ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষার প্রহর প্রায় শেষের পথে। এবারের আসরটি শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্যই নয়, বরং বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী ঘটনার কারণেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। নতুন ফরম্যাট, নতুন দল এবং নতুন রেকর্ডের সম্ভাবনায় ভরপুর এই বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা।

    চলুন আসন্ন টুর্নামেন্ট সম্পর্কে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ও চমকপ্রদ তথ্য জেনে নেওয়া যাক

    ১. বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বেশি দল অংশ নিতে যাচ্ছে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে যেখানে ৩২টি দল খেলেছিল, সেখানে ২০২৬ সালের আসরে অংশ নেবে ৪৮টি দল। নতুন এই কাঠামোয় ১২টি গ্রুপ থাকবে এবং প্রতিটি গ্রুপে থাকবে চারটি করে দল। দলসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ম্যাচের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের আসরে ৬৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলেও এবার সেই সংখ্যা দাঁড়াবে ১০৪-এ। ফলে বিশ্বকাপের সময়কালও বাড়ানো হয়েছে এবং পুরো টুর্নামেন্ট প্রায় ৩৯ দিন ধরে চলবে।

    ২. আয়োজক দেশ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এবার তৈরি হয়েছে নতুন ইতিহাস। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা একসঙ্গে এই বিশাল আয়োজনের দায়িত্ব পালন করবে। এর আগে বিশ্বকাপ এক বা দুই দেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলেও তিন দেশের যৌথ আয়োজনে এটিই প্রথম বিশ্বকাপ।

    ৩. এবারের বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়ে নতুন এক রেকর্ড গড়েছে কুরাসাও। মাত্র প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার জনসংখ্যার এই ক্যারিবীয় দেশটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের অনেক শহরের চেয়েও ছোট এই দেশটি এখন বিশ্বের সেরা ফুটবল শক্তিগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাবে। তাদের এই সাফল্য ছোট দেশগুলোর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

    ৪. দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে দুটি নাম ডিআর কঙ্গো ও হাইতি। দুই দেশই সর্বশেষ ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর কেটে গেছে পাঁচ দশকেরও বেশি সময়। অবশেষে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে তারা সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা এই দুই দলের প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে এবারের আসরের অন্যতম আবেগঘন ঘটনা।

    ৫. বিশ্বকাপ ২০২৬ হবে চারটি দেশের জন্য একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা। কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান এবং উজবেকিস্তান ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশ নিতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা, পরিকল্পনা এবং উন্নয়নের ফল হিসেবে তারা এই সাফল্য অর্জন করেছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলো সাধারণত বাড়তি উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামে, যা অনেক সময় বড় দলগুলোর জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

    সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ ২০২৬ শুধু আরেকটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়; এটি হতে যাচ্ছে নতুন ইতিহাস, নতুন রেকর্ড এবং নতুন স্বপ্নের এক মহোৎসব। বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত শক্তিগুলোর পাশাপাশি নতুন ও উদীয়মান দলগুলোর উপস্থিতি এবারের আসরকে আরও বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয় করে তুলবে। ফুটবলপ্রেমীরা তাই আশা করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে তারা উপভোগ করতে পারবেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় এক আসর।

  • ব্যবসায়ীদের সুবিধা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব পাচ্ছে ২০২৬-২৭ বাজেট

    ব্যবসায়ীদের সুবিধা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব পাচ্ছে ২০২৬-২৭ বাজেট

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন, সে লক্ষ্য সামনে রেখেই এবারের বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে।

    বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের পতনের আগে এবং পরে আমরা আরও স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি, কীভাবে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। দেশকে পুনর্গঠন করতে হলে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করাও জরুরি।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ১১ জুন বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করা হবে। সেই বাজেট প্রণয়নের সময় আমরা দেশের সব ধরনের ব্যবসায়ীর কথা বিবেচনায় নিয়েছি। তারা ট্রেডার হোন কিংবা শিল্পোদ্যোক্তা, সবার জন্য এমন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে তারা নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হন।

    তিনি বলেন, এবারের বাজেটও সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই প্রস্তুত করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

    জাতীয় সংসদে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশি বা কোনো বিদেশি নাগরিক দেশে বিনিয়োগ নিয়ে এলে তাকে ওই বিনিয়োগের পরিমাণের ১ দশমিক ৫ শতাংশ (দেড়) ইনসেনটিভ বা কমিশন দেওয়া হবে।

    একই সঙ্গে প্রকৃত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তায় ৯ শতাংশ সুদে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাই না, দেশীয় বিনিয়োগকারীদেরও উৎসাহিত করতে চাই। এ লক্ষ্যে ডিরেগুলেশন (নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ) পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

    ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো হবে কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন সমীকরণ রয়েছে। বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সুদের হার কমালে যদি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায় এবং দেশের অর্থনীতি উপকৃত হয়, তাহলে সরকার অবশ্যই সে বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এখনো এ ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম সাবিকুন নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের ভুল নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, অর্থনীতির সুফল বা কুফল একদিনে দৃশ্যমান হয় না। অতীতের ভুল নীতির প্রভাব যেমন ধীরে ধীরে সামনে এসেছে, তেমনি বর্তমান সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর সুফল পেতেও কিছুটা সময় লাগবে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রপ্তানির উদ্দেশ্যে আমদানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা দূর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বন্ডেড ও নন-বন্ডেড সব প্রতিষ্ঠানকে এফওসি ভিত্তিতে আমদানির সুযোগের আওতা আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।

    আমদানি সহজীকরণের লক্ষ্যে মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি সহজ করা হচ্ছে এবং সকল আমদানিকারকের জন্য মূল্যসীমা নির্বিশেষে এলসি ব্যতীত চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ রাখা হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার চুক্তি বাস্তবায়ন ও ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের মাধ্যমে বাণিজ্য প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাণিজ্য সহজীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    তারেক রহমান বলেন, এছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হলো: বিনিয়োগ উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের একীভূতকরণ: বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা হ্রাস ও সেবার দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ একীভূতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগকারীরা একটি একক প্ল্যাটফর্ম থেকে সমন্বিত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে নীতিগত অসামঞ্জস্য ও সেবার পুনরাবৃত্তি কমবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

  • বিএসএফকে কড়া জবাব বিজিবির: আপনি গুলি করলে আমরা কী বসে থাকব?

    বিএসএফকে কড়া জবাব বিজিবির: আপনি গুলি করলে আমরা কী বসে থাকব?

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তে একজনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর (বিএসএফ) মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পতাকা বৈঠকে দুই বাহিনীই ওই ব্যক্তিকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে বিএসএফের এক সদস্য গুলি করার কথা বললে তীব্র প্রতিবাদ জানায় বিজিবি। সদস্যরা পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আপনারা গুলি করলে কি আমরা বসে থাকবো? আমাদের কি গুলি নাই?

    বুধবার (১০ জুন) সকালে সীমান্তের শূন্যরেখায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও বিজিবি সদস্য ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

    স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, ভারতের নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা প্রায় ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির সদস্যরা এবং সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজন সেখানে অবস্থান নেন। বাধার মুখে ওই ব্যক্তি শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন।

    পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সীমান্তে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে জামালপুর ৩৫ বিজিবির সহকারী পরিচালক এবং নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের এক পরিদর্শক নেতৃত্ব দেন। তবে বৈঠকে কোনো সমাধান হয়নি। বিএসএফ ওই ব্যক্তিকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাকে নো-ম্যানস ল্যান্ডে রেখেই ফিরে যায়।

    বৈঠক চলাকালে দুই বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএসএফের এক সদস্য গুলি করার কথা বললে বিজিবি সদস্যরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তারা বলেন, ‘আপনি কেন গুলি করার কথা বললেন? গুলি আপনার কাছে আছে, আমাদের কাছে নেই? আপনারা গুলি করলে আমরা কী বসে থাকব?’

    এরপরও বিএসএফ সদস্যরা কয়েক দফা ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের অবস্থানের কারণে তারা সফল হতে পারেনি।

    সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে নো-ম্যানস ল্যান্ডে রেখেই উভয় পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে ফিরে যায়। তবে ঘটনাটি সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

    জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে এই সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আজ সকালে এক ব্যক্তিকে ভারত থেকে শূন্যরেখায় ঠেলে পাঠায় বিএসএফ। এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিয়েছে।’

  • উপজেলা বাস্তবায়ন-সীমান্তসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ-হিমাগার স্থাপনের দাবিতে স্মারকলিপি

    উপজেলা বাস্তবায়ন-সীমান্তসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ-হিমাগার স্থাপনের দাবিতে স্মারকলিপি

    এস.এম হুমায়ুন কবির,কক্সবাজার

    কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার পূর্বাঞ্চলীয় চার ইউনিয়ন নিয়ে নতুন “বাঁকখালী উপজেলা” বা “পুর্বসীমান্ত উপজেলা” প্রতিষ্ঠা, রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি-গর্জনিয়া সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং গর্জনিয়া বাজারে একটি আধুনিক হিমাগার স্থাপনের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে “পূর্ব সীমান্ত মিডিয়া নেটওয়ার্ক”।

    বুধবার( ১০ জুন) কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, রামু উপজেলার দুর্গম ও অবহেলিত গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, ঈদগড় ও কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এ জনপদ প্রশাসনিক অবহেলা, যোগাযোগ সংকট এবং উন্নয়নবঞ্চনার শিকার হয়ে রয়েছে।

    সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে,প্রস্তাবিত উপজেলার নাম “বাঁকখালী উপজেলা” অথবা “পূর্বসীমান্ত উপজেলা” রাখা যেতে পারে। এতে সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

    স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি-গর্জনিয়া সড়ক দেশের পূর্ব সীমান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সেনাবাহিনী, বিজিবি ও সাধারণ মানুষ চলাচল করে। সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় সড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করা সময়ের দাবি বলে দাবি করেন তারা।

    এছাড়া কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের দুই লক্ষাধিক মানুষের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংরক্ষণের সুবিধার্থে গর্জনিয়া বাজারে একটি আধুনিক মানের হিমাগার স্থাপনেরও দাবি জানানো হয়েছে। এতে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং কৃষিপণ্যের অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

    স্মারকলিপি প্রদান করার সময় উপস্থিত ছিলেন পূর্ব সীমান্ত মিডিয়া নেটওয়ার্কের সভাপতি দৈনিক আজকের পত্রিকার মাঈনুদ্দীন খালেদ,সাধারণ সম্পাদক জাতীয় ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি মর্নিং গ্লোরি ও দৈনিক গণমুক্তির কক্সবাজার ব্যুরো চীফ এস. এম. হুমায়ুন কবির,সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য দৈনিক সমকাল ও বাসসের কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি ইব্রাহিম খলিল মামুন ও দৈনিক খোলা কাগজের জেলা প্রতিনিধি নেজাম উদ্দিন,সিনিয়র সহ-সভাপতি দৈনিক জনতার নিজস্ব প্রতিবেদক আবু তালেব সিকদার,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিউজ ভিশনের স্টাফ রিপোর্টার জাবেদুল আনোয়ার এবং তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক কক্সবাজার কন্ঠের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নুরুল হাকিম হিরো ও জাতীয় ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি মর্নিং ভয়েস ও দৈনিক ঘোষণার কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি এস এম লুৎফুর কবির প্রমূখ।

    স্মারকলিপির অনুলিপি প্রধান উপদেষ্টা, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এ দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে সীমান্তবর্তী এ জনপদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, প্রশাসনিক সেবার পরিধি বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।

  • রাজশাহীর মোহনপুরে মাহিন্দ্রা ওট্রাক সংঘর্ষে নিহত-২

    রাজশাহীর মোহনপুরে মাহিন্দ্রা ওট্রাক সংঘর্ষে নিহত-২

     

    রাজশাহী প্রতিনিধি

    রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় মাহিন্দ্রা ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    বুধবার সকাল সাড়ে১০টায় উপজেলার খাড়ইল মিলঘরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহনপুর উপজেলার খাড়ইল মিলঘরের সামনে একটি যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রার সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মাহিন্দ্রায় থাকা যাত্রী, কেশরহাট ইসলামী ব্যাংকের কর্মরত কর্মকর্তা মারুফ হোসেন (৩৭) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

    নিহত মারুফ হোসেনে নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার চক শ্যামরাই গ্রামের মোহাম্মদ আলী ছেলে।

    দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া আরও একজন আহত ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

  • মাগুরায় কারা অভ্যন্তরে প্রবীণ বন্দিদের বিশেষ স্বাস্থ্য সেবা

    মাগুরায় কারা অভ্যন্তরে প্রবীণ বন্দিদের বিশেষ স্বাস্থ্য সেবা

    মাগুরা প্রতিনিধি

    বাংলাদেশের অধিকাংশ কারাগারের মতো মাগুরা জেলা কারাগারও দীর্ঘদিন ধরে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত বন্দির চাপ বহন করছে। ১৭২ জন ধারণক্ষমতার এই কারাগারে বর্তমানে অবস্থান করছেন প্রায় ৪০০ বন্দি। এমন বাস্তবতায় বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কারা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যেই প্রবীণ বন্দিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে মাগুরা জেলা কারাগার।

    মঙ্গলবার ৯ জুন কারাভ্যন্তরে প্রথমবারের মতো ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী ৪৫ জন বন্দিকে নিয়ে বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বন্দিদের রক্ত সংগ্রহ করে র‌্যান্ডম ব্লাড সুগার (আরবিএস), লিপিড প্রোফাইল, সিরাম ক্রিয়েটিনিন এবং ইসিজি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের কারাগারগুলোতে বন্দিদের নিয়মিত চিকিৎসা সেবা থাকলেও নির্দিষ্ট বয়সী বন্দিদের জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচির নজির খুব বেশি নেই। সে বিবেচনায় মাগুরা জেলা কারাগারের এ উদ্যোগ বন্দিকল্যাণে নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মাগুরা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মোহসিন উদ্দীন ফকির। এছাড়া কারা হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. এজাজ আহম্মেদ রোচি এবং জেলা কারাগারের ডিপ্লোমা নার্স বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেল সুপার শেখ মো. মহিউদ্দিন হায়দার।

    সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির বলেন, “বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, হৃদরোগসহ নানা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। অনেক সময় রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়। কারাগারে থাকা প্রবীণ বন্দিদের জন্য এ ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

    মাগুরা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মোহসিন উদ্দীন ফকির বলেন, “একজন মানুষ বন্দি হলেও তার স্বাস্থ্যসেবার অধিকার অক্ষুণ্ন থাকে। কারাগারে থাকা প্রবীণ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জটিলতা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।”

    স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচিতে অংশ নেন ৯৫ বছর বয়সী বন্দি মোহাম্মদ জলিল মোল্লা। এক বছর ধরে সাজাপ্রাপ্ত হিসেবে কারাগারে থাকা এই প্রবীণ বন্দি জানান, কারাগারে এমন উদ্যোগ তাকে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে নতুন করে জানার সুযোগ দিয়েছে। তিনি কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি চালুর আহ্বান জানান।

    অপরদিকে ৭০ বছর বয়সী বন্দি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “কারাগারের ভেতরে থেকেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পেরে ভালো লাগছে। এতে নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।”

    জেল সুপার শেখ মো. মহিউদ্দিন হায়দার বলেন, “বর্তমানে মাগুরা জেলা কারাগারে ৫০ বছরের বেশি বয়সী ৪৫ জন বন্দি রয়েছেন। তাদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহার হোসেনের নির্দেশনায় আমরা বন্দিদের কল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি। এর আগে কারারক্ষীদের নিয়েও একই ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে।” শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নয়, বন্দিদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করাও আধুনিক কারা ব্যবস্থাপনার অন্যতম লক্ষ্য। সেই চিন্তা থেকেই স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • নতুন দামে হার্টের রিং বিক্রির নির্দেশ দিল সরকার

    নতুন দামে হার্টের রিং বিক্রির নির্দেশ দিল সরকার

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    সরকারের বেঁধে দেওয়া হার্টের (হৃদরোগ) ২৯ ধরনের রিংয়ের (স্টেন্ট) দাম বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ)। হৃদরোগের চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতালগুলোকে নতুন দামে রিং বিক্রির বিষয়ে চিঠি দিয়েছে নিয়ন্ত্রণক সংস্থাটি।

    মঙ্গলবার ডিজিডিএ’র মহাপরিচালক মোহা. আলমগীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত হওয়া নতুন দামে এক হাজার থেকে শুরু করে ৪৮ হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে স্টেন্টের (রিং) দাম।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বিশেষজ্ঞ কমিটির পঞ্চম ও ষষ্ঠ সভায় সুপারিশের আলোকে স্টেন্টের (রিং) দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর গত ১৩ মে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় কিছু প্রতিষ্ঠানের মূল্য পুনর্বিবেচনার আবেদন পর্যালোচনা করে নতুন দাম চূড়ান্ত করা হয়।

    নির্দেশনা বলা হয়েছে, স্টেন্টসমূহের (রিং) হালনাগাদ মূল্য তালিকা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য সংশ্লিষ্ট সকল হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে উম্মুক্ত স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য অনুসরণ করে ক্রয় ও বিক্রয় করতে হবে। তবে কোনোভাবেই চিকিৎসা প্যাকেজের মধ্যে এই মূল্য অন্তভুক্ত করা যাবে না।

    পাশাপাশি স্টেন্টের (রিং) নাম, সর্বোচ্চ মূল্য ও উৎপাদনকারীর নাম উল্লেখসহ পৃথক ক্যাশমেমো প্রদান করতে হবে। এছাড়াও ব্যবহৃত স্টেন্টের প্যাকেটটি রোগীকে সরবরাহের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

  • নগরকান্দায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের খেলোয়াড়দের ভাতা বিতরণ করলেন ইউএনও সাইফুল ইসলাম

    নগরকান্দায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের খেলোয়াড়দের ভাতা বিতরণ করলেন ইউএনও সাইফুল ইসলাম

    ফরিদপুর প্রতিনিধি

    ফরিদপুরের নগরকান্দায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের মাঝে সরকারের প্রদত্ত সম্মানী ভাতা বিতরণ করা হয়েছে।

    সোমবার (৯ জুন) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খেলোয়াড়দের হাতে সম্মানী ভাতার অর্থ তুলে দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সামচুল হুদা হুদু, নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত আলী শরীফ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রাজিব হোসেন, ইউনুস আলী খানসহ স্থানীয় ক্রীড়া ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা খেলোয়াড়দের নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের আহ্বান জানান।

    সম্মানী ভাতা পেয়ে খেলোয়াড়রা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় ও তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ফরিদপুরে শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার এএসপি মুহম্মদ আল ফাহাদ

    ফরিদপুরে শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার এএসপি মুহম্মদ আল ফাহাদ

    ফরিদপুর প্রতিনিধি

    ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহম্মদ আল ফাহাদ। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক মাসের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার ওয়ারেন্ট নিষ্পত্তিতে বিশেষ অবদান রাখায় তিনি এ স্বীকৃতি অর্জন করেন।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে মো. নজরুল ইসলাম তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন।

    সম্মাননা গ্রহণ করে এএসপি মুহম্মদ আল ফাহাদ বলেন, এ অর্জন সার্কেলের সব পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও সেবার মান উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল মনে করছে, তার নেতৃত্বে নগরকান্দা সার্কেলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম নতুন গতি পাবে।

  • ইবির আল-ফিকহ বিভাগ: মানা হচ্ছে না মাদ্রাসা-কলেজ সমান ভর্তির শর্ত

    ইবির আল-ফিকহ বিভাগ: মানা হচ্ছে না মাদ্রাসা-কলেজ সমান ভর্তির শর্ত

    ইবি প্রতিনিধি

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-ফিকহ্ অ্যান্ড ল’ বিভাগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মাদ্রাসা ও কলেজ ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ৫০:৫০ অনুসারে ভর্তিনীতি বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। অনুমোদিত নীতিমালায় সমান হারে শিক্ষার্থী ভর্তির বিধান থাকলেও চলমান গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রমে সেই শর্ত অনুসরণ করা হচ্ছে না।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ ডিসেম্বর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আল-ফিকহ্ অ্যান্ড ল’ বিভাগে মাদ্রাসা ও কলেজ ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০:৫০ অনুপাতে আসন বণ্টনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে চলমান ভর্তি কার্যক্রমে ওই নীতির বাস্তবায়ন হয়নি। বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ভর্তির জন্য টাকা জমা দেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই কলেজ ব্যাকগ্রাউন্ডের। ফলে অনুমোদিত নীতিমালার সঙ্গে বাস্তব চিত্রের বড় ধরনের অমিল দেখা দিয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল কমিটি জানায়, আল-ফিকহ্ অ্যান্ড ল’ বিভাগে এ ইউনিট থেকে ৩২ জন, বি ইউনিট থেকে ৪০ জন এবং সি ইউনিট থেকে ৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে বিজ্ঞপ্তিতে মাদ্রাসা ও কলেজ শিক্ষার্থীদের সমান বণ্টনের কথা উল্লেখ থাকলেও ইউনিটভিত্তিক আসন বণ্টনের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় হিসাব নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে পরবর্তী মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া থেকে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।

    এ বিষয়ে বিজ্ঞান ইউনিট থেকে বিভাগটিতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, “ভর্তি নির্দেশিকায় মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ শতাংশ হারে আসন বরাদ্দের বিষয়টি দেখেছিলাম। যদি পরে সেই শর্ত পরিবর্তন হয়ে থাকে, তবে তা শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায় হবে। ভর্তির ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত দেখিয়ে পরে তা বাস্তবায়ন না করা প্রতারণার শামিল। কারণ শিক্ষার্থীরা নির্দেশিকায় উল্লেখিত শর্তের ভিত্তিতেই সাবজেক্ট চয়েস দিয়েছে।”

    গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য এবং ইবির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ-এর অধ্যাপক ড. নাছির উদ্দিন খান বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবগত করা হয়েছে। পরবর্তী মাইগ্রেশনে সমন্বয়ের সুযোগ আছে।”

    অন্যদিকে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির দায়িত্বে থাকা ইউএফটিবি-এর রুবেল শেখ বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তরাই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।”

    বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মাকসুদুল হক তালুকদার বলেন, “যদি কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়ে থাকে তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের আগেই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত ছিল। আমি বর্তমানে এখানে রুটিন দায়িত্বে আছি। ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলো সরাসরি তদারকি করেছেন শিক্ষা শাখার কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।”

    এ বিষয়ে উপ-রেজিস্ট্রার শহীদুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসা-কলেজ ভারসাম্য নীতি অনুযায়ী ভর্তি করানো হবে। প্রথম মেরিটে হয়তোবা এরকম পাওয়া যায়নি কিন্তু আগামী ম্যারিট থেকে এ শর্ত অনুযায়ী ভর্তি করানো হবে।

    বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ইসলামী ও প্রচলিত আইনের সমন্বয়ে শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষে আইন ও শরিয়াহ অনুষদের অধীনে আল-ফিকহ্ বিভাগ চালু হয়। শুরুতে আরবিতে দক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হলেও পরবর্তীতে ভর্তি পদ্ধতিতে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে মাদ্রাসা ও কলেজ পটভূমির শিক্ষার্থীদের সমানসংখ্যক ভর্তির ব্যবস্থা চালু করা হলেও পরে গুচ্ছভিত্তিক উন্মুক্ত ভর্তি নীতির আওতায় সেই ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যায়।

    বিভাগের শিক্ষকদের দাবি, অনার্স ও মাস্টার্স মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার নম্বরের আরবি ও ফিকহভিত্তিক কোর্স রয়েছে। আরবিতে তুলনামূলক দুর্বল শিক্ষার্থীরা এসব কোর্সে পিছিয়ে পড়ায় ফলাফল খারাপ হওয়া, রিটেক পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সেশনজটের মতো সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ৪০ জন মাদ্রাসা ও ৪০ জন কলেজ পটভূমির শিক্ষার্থীর জন্য আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক বলেন, “বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ শর্ত যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ভর্তি কার্যক্রমে কেন তা অনুসরণ করা হচ্ছে না, সে বিষয়ে আমি অবগত নই।”

    উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে -এর নির্দেশে গঠিত -এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ধারা ১.২.১ ও ৫.১৪-এ ভর্তির ক্ষেত্রে জেনারেল ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সমানসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির বিধান রাখা হয়েছিল। ১৯৮৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ৫০ শতাংশ মাদ্রাসা থেকে নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। পাশাপাশি দুই ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথকভাবে ১০০ নম্বরের ইংরেজি অথবা আরবি ও ইসলামিয়াত পরীক্ষাও আবশ্যিক ছিল।

    তবে সময়ের সঙ্গে সেই ভারসাম্য নীতি বিলুপ্ত হয়েছে। বর্তমানে ধর্মতত্ত্ব অনুষদেও জেনারেল ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫০ শতাংশ ভারসাম্য নীতি নেই। এমন পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র আল-ফিকহ্ অ্যান্ড ল’ বিভাগে নীতিটি পুনরায় কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও চলমান ভর্তি কার্যক্রমে তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।