Author: Jvadmin

  • কক্সবাজার-বান্দরবান সীমান্তে স্থলমাইনের বিভীষিকা: থামছে না হতাহতের মিছিল

    কক্সবাজার-বান্দরবান সীমান্তে স্থলমাইনের বিভীষিকা: থামছে না হতাহতের মিছিল

    এস.এম. হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার

    বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কক্সবাজার ও বান্দরবানের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে স্থলমাইনের আতঙ্ক এখনো বাস্তব ও ভয়াবহ। বিশেষ করে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম, তুমব্রু, দোছড়ি, আশারতলী, চাকঢালা এবং কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সংলগ্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতিনিয়ত প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঘটনা ঘটছে। সীমান্তে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, কাঠ সংগ্রহকারী, এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও এই মরণফাঁদ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।

    সাড়ে ৮ বছরে হতাহত অন্তত ৫৭ জন পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি ও পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকায় অন্তত ৫৭ জন হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫ জন নিহত এবং ৪৪ জন পা হারিয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন।

    ২০২৫-২০২৬: উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে মাইন বিস্ফোরণ
    শুধু ২০২৫ ও ২০২৬ সালেই সীমান্তে একের পর এক মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

    উল্লেখযোগ্য ঘটনা ২৪ জানুয়ারি ২০২৫ নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে পৃথক বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশি আহত হন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে এক বিজিবি সদস্য গুরুতর আহত হন।

    ২০২৬ সালের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত অন্তত ৭ জন পা হারানোর ঘটনা গণমাধ্যমে উঠে আসে। সম্প্রতি নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তে চার ঘণ্টার ব্যবধানে ৩ জন আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।

    ২৪ মে ২০২৬ ঘুমধুম সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন, যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা।

    জুন ২০২৬-এ পৃথক ঘটনায় এক রোহিঙ্গা শ্রমিক নিহত এবং আরেক রোহিঙ্গা শ্রমিক আহত হন। একজন আনসার সদস্যও মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন।

    সীমান্তবাসীর জীবনে স্থায়ী আতঙ্ক স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সীমান্তের পাহাড়ি ঝিরি, বনাঞ্চল ও কৃষিজমিতে কাজ করতে গেলেই মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়। অনেক পরিবার তাদের উপার্জনক্ষম সদস্য হারিয়েছে। কেউ হারিয়েছেন পা, কেউ হারিয়েছেন জীবিকা। ফলে সীমান্ত এলাকার অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমার সীমান্তের বিভিন্ন অংশে পূর্বে পুঁতে রাখা স্থলমাইন এখনো সক্রিয় রয়েছে। বর্ষাকাল, পাহাড়ি ঢল ও মাটির ক্ষয়ের কারণে অনেক মাইন স্থান পরিবর্তন করে নতুন এলাকায় চলে আসছে। ফলে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে দূরের এলাকাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

    বিশেষজ্ঞরা সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মাইন অপসারণ উদ্যোগ এবং আহতদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

    কক্সবাজার-বান্দরবান সীমান্তে স্থলমাইন এখন শুধু নিরাপত্তা ইস্যু নয়, এটি একটি মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। গত কয়েক বছরে নিহতের চেয়ে পঙ্গুত্বের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় শতাধিক মানুষ ও পরিবার দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। সীমান্তে নতুন করে প্রাণহানি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই নীরব মৃত্যুফাঁদ আরও বহু মানুষের জীবন বিপন্ন করবে।

  • ফরিদপুরের নগরকান্দার তালমায় খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

    ফরিদপুরের নগরকান্দার তালমায় খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

    ফরিদপুর প্রতিনিধি

    ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের তালমা সুইচগেট থেকে সন্তোষী পর্যন্ত চলমান খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে তিনি প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন এবং খননকাজের অগ্রগতি, গুণগত মান ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

    পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বলেন, খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের মান বজায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাইফুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আমিনুল ইসলাম, তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে নাব্যতা হারানোর কারণে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি কৃষিকাজও ব্যাহত হতো।

    খাল পুনঃখনন কাজ শেষ হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

    পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

    এর আগে তিনি নগরকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

  • টেকনাফে ৫ লাখ ইয়াবাসহ মিয়ানমারের দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

    টেকনাফে ৫ লাখ ইয়াবাসহ মিয়ানমারের দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

    কক্সবাজার প্রতিনিধি 

    কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ লাখ পিস ইয়াবাসহ মিয়ানমারের কুখ্যাত মাদক চোরাকারবারি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৫।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফের সাবরাং খালের দক্ষিণ পাশে মন্ডলপাড়া এলাকায় মো. কবির হোসেনের জমিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    র‌্যাব-১৫ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মিয়ানমারের সংঘবদ্ধ একটি মাদক চক্র বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান নিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল এলাকায় অবস্থান নিয়ে অভিযান চালায়।

    অভিযানের সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন মাদক কারবারি পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় দুইজনকে আটক করা হলেও আরও ৪ থেকে ৫ জন পালিয়ে যায়। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মন্ডু থানার ভুসিডং জেলার হায়েংখালী গ্রামের মৃত নূর মোহাম্মদ সায়েদের ছেলে মো. সাজেদ (৩২) এবং দলিয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে এনামুল হাসান (৩৩)।

    র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় চালানটি বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৫ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।

    র‌্যাব-১৫ জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক নির্মূলে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

    গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

  • ববি বাসে আইকনিক এক্সপ্রেসের ধাক্কা আহত তিন শিক্ষার্থী, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    ববি বাসে আইকনিক এক্সপ্রেসের ধাক্কা আহত তিন শিক্ষার্থী, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    ববি প্রতিনিধি

    বরিশালের দপদপিয়া সেতু এলাকায় ওভারটেক করতে গিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) একটি বাসের পেছনে ধাক্কা দেয় একটি যাত্রীবাহী বাস। এ ঘটনায় উভয় বাসই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে দপদপিয়া সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বহনকারী বাসটি নির্ধারিত গন্তব্যে যাওয়ার পথে দপদপিয়া সেতু অতিক্রম করছিল। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটিকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। ওভারটেকের একপর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের পেছনের অংশে সজোরে ধাক্কা দেয়।
    সংঘর্ষের ফলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের পেছনের অংশ এবং যাত্রীবাহী বাসটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করলেও বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এতে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তবে আকস্মিক এ ঘটনায় বাসে থাকা যাত্রীরা কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

    দুর্ঘটনার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট যাত্রীবাহী বাসটিকে আটক অবস্থায় রাখে। পরবর্তীতে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, সড়কে বেপরোয়া ওভারটেকিংয়ের প্রবণতা প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে যানবাহন চালকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রশংসিত চাপরতলা ইউনিয়নের তরুণ জনপ্রতিনিধি রুবেল

    উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রশংসিত চাপরতলা ইউনিয়নের তরুণ জনপ্রতিনিধি রুবেল

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়নের খান্দুরা গ্রামের তরুণ জনপ্রতিনিধি ও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুবেল মেম্বার একের পর এক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়াচ্ছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তার এসব উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

    এলাকাবাসীর দাবি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের পথে একাধিকবার নানা বাধা ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন রুবেল মেম্বার। তবে তিনি কখনো পিছিয়ে যাননি। বরং জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছেন।

    এ বিষয়ে রুবেল মেম্বার বলেন, “যত বাধাই আসুক না কেন, জনগণের স্বার্থে আমরা কাজ করে যাব। এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণই আমার প্রধান লক্ষ্য।”

    তিনি আরও বলেন, “সংসদ সদস্য এম এ হান্নান মহোদয় এবং চাপরতলা ইউনিয়নে তাঁর প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ সোহেল আবদালের সার্বিক সহযোগিতার কারণেই আমি উন্নয়নমূলক কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে পারছি। ভবিষ্যতেও এলাকার উন্নয়নে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চাই।”

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন, পাক পাঞ্জাতনের উসিলায় ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র থেকে আমাকে রক্ষা করুন এবং ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন।”

    তার এই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করেও এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা ও সমালোচনার মুখেও তিনি ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

    স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তরুণ এই জনপ্রতিনিধি ভবিষ্যতেও এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র পালের ‘থান্ডারবোল্ট’ মিসাইল প্রকল্প নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র পালের ‘থান্ডারবোল্ট’ মিসাইল প্রকল্প নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

    ববি প্রতিনিধি

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র পাল সম্প্রতি তার উদ্ভাবিত ‘থান্ডারবোল্ট’ মিসাইল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ মামুন অর রশিদ এর সাথে অদ‍্য ১১ জুন ২০২৬ তারিখ তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি প্রকল্পটির উদ্দেশ্য, প্রযুক্তিগত দিক এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন।

    সাক্ষাৎকালে উপাচার্য মহোদয় সুজনের গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং তরুণ গবেষকদের এ ধরনের সৃজনশীল কাজে এগিয়ে আসার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি প্রকল্পটির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং প্রয়োজনীয় একাডেমিক ও গবেষণা সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

    সুজন চন্দ্র পাল জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে কাজ করছেন। ‘থান্ডারবোল্ট’ প্রকল্পও তার গবেষণামূলক কাজের একটি অংশ, যার মাধ্যমে তিনি প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও গবেষণার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের চেষ্টা করছেন।

    তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ইতিবাচক আশ্বাস তাকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে উৎসাহিত করবে। সাক্ষাৎকালে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড.রহিমা নাসরিন, সহকারী অধ্যাপক ড. মোঃ আরিফুল ইসলাম এবং গবেষণা ও সম্প্রসারণ অফিসের পরিচালক ড. সোনিয়া খান সনি উপস্থিত ছিলেন।

  • গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পানের হাট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা, বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক

    গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পানের হাট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা, বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক

    গাইবান্ধা প্রতিনিধি

    গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় পানের হাটের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ভাঙচুর ও স্লোগান দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানের হাটের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে হাট এলাকায় উভয় পক্ষের সমর্থকরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ সময় কয়েকটি দোকান ও স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক দফা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে টহল জোরদার করেন।

    ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।

  • জমজমাট ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু আজ

    জমজমাট ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু আজ

     স্পোর্টস ডেস্ক 

    দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) পর্দা উঠতে যাচ্ছে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপের। ফুটবল ইতিহাসের বৃহত্তম এই মহাযজ্ঞ যৌথভাবে আয়োজন করছে উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্র (১৯৯৪) এবং মেক্সিকো (১৯৭০ ও ১৯৮৬) বিশ্বকাপ আয়োজন করলেও, কানাডার জন্য এবারই প্রথম বিশ্বমঞ্চের আয়োজক হওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তিন দেশের ১৬টি ভেন্যুতে ৩৯ দিনব্যাপী এই আসরে সর্বমোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ম্যাক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায় (আজটেকা স্টেডিয়াম) ম্যাক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের খেলা। আর ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এই বিশ্বযুদ্ধের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকছে

    বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশ মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে আয়োজিত হবে। এই প্রথমবারের মতো একটি বিশ্বকাপ তিন দেশে সমান্তরালভাবে উদ্বোধন করা হচ্ছে।

    বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনটি আয়োজক দেশে সমান্তরালভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিটি অনুষ্ঠান শুরু হবে সংশ্লিষ্ট আয়োজক দেশের উদ্বোধনী ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে। তিনটি অনুষ্ঠান আলাদা হলেও এগুলো একটি অভিন্ন থিমের মাধ্যমে যুক্ত থাকবে যেখানে ফুটবলের মাধ্যমে মানুষকে সীমান্ত পেরিয়ে একত্রিত করার বার্তা তুলে ধরা হবে।

    অনুষ্ঠানগুলোর প্রযোজক হিসেবে দায়িত্বে আছেন মার্কো বালি। তিনি একাধিক অলিম্পিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিটি শো আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করলেও সবগুলোই ফুটবলের ঐক্যের বার্তার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

    প্রতিটি দেশ নিজেদের সংস্কৃতি ও ভিজ্যুয়াল পরিচয় তুলে ধরবে

    কানাডা: ‘কালচারাল মোজাইক’ বা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য

    মেক্সিকো: ঐতিহ্যবাহী ‘পাপেল পিকাডো’ শিল্প

    যুক্তরাষ্ট্র: ‘ঝলমলে, উজ্জ্বল’ কাপ থিম

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘বিশ্বকাপের সূচনা এমন একটি মুহূর্ত, যা পুরো বিশ্ব একসঙ্গে ভাগ করে নেয়। মেক্সিকো সিটি থেকে শুরু হয়ে টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসে এই অনুষ্ঠানগুলো অনুষ্ঠিত হবে, যা সংগীত, সংস্কৃতি ও ফুটবলের এক অভিন্ন উদ্‌যাপন হবে।’

    সময় ও স্থানভিত্তিক আয়োজন

    মেক্সিকো সিটি (১১ জুন)

    মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে স্বদেশীয় সংস্কৃতি, আধুনিক লোকশিল্প এবং ‘পাপেল পিকাডো’ প্রদর্শিত হবে। এতে শাকিরা, জে বালভিন, মানা, লিলা ডাউনসসহ আরও অনেক আন্তর্জাতিক সংগীতশিল্পী অংশ নেবেন।

    টরন্টো (১২ জুন)

    কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এখানে দেশটির বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক মিশ্রণ তুলে ধরা হবে। এতে পারফর্ম করবেন আলানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে, এলেসিয়া কারা, জেসি রেইজস, নোরা ফাতেহি, সঞ্জয়সহ অনেকে। এটি কানাডার জন্য ঘরের মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচের আগে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে।

    লস অ্যাঞ্জেলেস (১২ জুন)

    যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে। এতে থাকবে বৃহৎ ভিজ্যুয়াল শো এবং কেটি পেরি, ফিউচার, আনিতা, এলএলএ ও রেমার মতো প্রমুখ শিল্পিদের পারফরম্যান্স। প্রতিটি অনুষ্ঠানের পর মাঠে খেলোয়াড়দের ওয়ার্ম-আপ, প্রি-ম্যাচ অনুষ্ঠান এবং আনুষ্ঠানিক কিক-অফ প্রোটোকল সম্পন্ন হবে।

    মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠান প্রায় ১৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড, আর টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের অনুষ্ঠান প্রায় ১৩ মিনিট করে চলবে।

     

  • বিলাইছড়িতে কৃষি অফিস কর্তৃক চারা বিতরণ

    বিলাইছড়িতে কৃষি অফিস কর্তৃক চারা বিতরণ

    রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

    বিলাইছড়ি উপজেলা কৃষি অফিস কর্তৃক চারা বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ( ১১ জুন) সকালে উপজেলা ঘাট হতে উপজেলা কৃষি অফিসার রাজেশ প্রসাদ রায় নিজেই উপস্থিত থেকে এইসব চারা বিতরণ করেন।

    এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-সহকারী কৃষি অফিসার অনুময় চাকমা, বদিউল আলম, রুবেল বড়ুয়া, সুকান্ত কুমার মদক,থুইপ্রু কার্বারী, বিশ্বজিৎ চাকমা, বীথিময় তঞ্চঙ্গ্যা,সূর্য কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, প্রমূখ।

    জানা গেছে, কাজুবাদাম ও কপি গবেষণা ও উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায়, কফি বাণিজ্যিক প্রকল্প, কাজুবাদাম বাদাম প্রকল্প,কফি জাত ও পদ্ধতি প্রকল্প,কাজুবাদাম জাত ও প্রদর্শনী প্রকল্পের আওতায় ১৩ জনের মধ্যে ৬৪৩৫ টি চারা ফারুয়া, বিলাইছড়ি ও কেংড়াছড়ি ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে।

  • দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা আজ, থাকছে বিশাল ঘাটতিও

    দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা আজ, থাকছে বিশাল ঘাটতিও

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট এবং রেকর্ড পরিমাণ ঘাটতির প্রস্তাব নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য এই বাজেটের মাধ্যমে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার রূপরেখা তুলে ধরবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। 

    একই সঙ্গে ৫৫তম জাতীয় এই বাজেটে ২ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বেশি সম্ভাব্য ঘাটতির কারণে এটিই হতে যাচ্ছে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি বৈদেশিক অনুদান থেকে ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট আয় ধরা হয়েছে ৭ লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

    ফলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। অনুদান বাদ দিলে ঘাটতির পরিমাণ হবে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। টাকার অঙ্কে এটিই হবে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট ঘাটতি।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী অর্থবছরে দেশের জিডিপির আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত বাজেট অধিবেশন চলবে।

    অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে ঘোষণা দিতে পারেন যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণকে প্রধান বিবেচনায় রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে জনগণের আর্থিক পুনরুদ্ধার ও কল্যাণ নিশ্চিত করে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করাই এ বাজেটের মূল লক্ষ্য।

    রাজস্ব আদায়ে গতি বৃদ্ধি, বাজেট ঘাটতিকে সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে দেশের ক্রেডিট রেটিং মাঝারি ঝুঁকি থেকে নিম্ন ঝুঁকির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও বাজেট বক্তৃতায় উঠে আসতে পারে।

    প্রস্তাবিত বাজেটে কর রাজস্ব থেকে আয় করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআর-বহির্ভূত উৎস থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কর-বহির্ভূত রাজস্ব থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরে এনবিআরকে অতিরিক্ত ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে, যা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় লক্ষ্যমাত্রা।

    নতুন অর্থবছরে পরিচালন ব্যয়ের জন্য ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে পুনরাবৃত্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫১ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। শুধু সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশীয় ঋণের সুদ ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

    উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য মোট ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য ৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বিশেষ প্রকল্প, স্কিম এবং খাদ্যের বিনিময়ে কর্মসূচির জন্যও পৃথক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    ঘাটতি অর্থায়নের জন্য সরকার বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় উৎস থেকেই ঋণ নেবে। বৈদেশিক উৎস থেকে নিট ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা অর্থায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য নতুন করে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে, বিপরীতে পরিশোধ করা হবে ৪৬ হাজার কোটি টাকা।

    অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নিট ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং ব্যাংক-বহির্ভূত উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার লক্ষ্যে লাইসেন্স, অনুমোদন ও কর ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনার পাশাপাশি ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসাসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।

    এছাড়া উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে।

    সামাজিক ও মানবসম্পদ উন্নয়নের অংশ হিসেবে ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ নতুন কয়েকটি কর্মসূচি যুক্ত করা এবং বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোর বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রেখে সৃজনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব থাকতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এবারের বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা পর্যন্ত উন্নীত হতে পারে, যা জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা।

    একইভাবে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় জিডিপির শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১ দশমিক ০১ শতাংশে উন্নীত হবে। পর্যায়ক্রমে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার ঘোষণাও আসতে পারে।

    এছাড়া কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি আগামী অর্থবছরের অগ্রাধিকার খাত হিসেবে থাকছে। পাশাপাশি সৃজনশীল অর্থনীতি, ক্রীড়া অর্থনীতি, সবুজ অর্থনীতি এবং সুনীল অর্থনীতিকে জাতীয় অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করার পরিকল্পনাও বাজেটে প্রতিফলিত হতে পারে।

    উল্লেখ্য, জাতীয় বাজেট ঘোষণার দুই দিন আগে গত ৯ জুন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার একটি ছায়া বাজেট প্রকাশ করে।