Author: Jvadmin

  • দুই দেশে হামলা চালাল ইরান

    দুই দেশে হামলা চালাল ইরান

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    মার্কিন হামলার পাল্টা জবাবে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমান ঘাঁটি ও কুয়েতের আলি আল সালেম ও আহমদ আল জাবের বিমান ঘাঁটিতে ড্র্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। খবর আলজাজিরা।

    পাশাপাশি এ হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, আইআরজিসি হরমুজে থাকা দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। হরমুজে সব ধরনের জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। এ ঘোষণার পরই তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে।

    আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালি অবৈধভাবে পার হওয়ার চেষ্টা করার সময় দুটি তেলের ট্যাঙ্কারে হামলা চালানো হয়েছে।

    এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে জোরালে হামলার হুমকি দেন। এর পর বন্দর আব্বাসসহ ইরানের কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানী তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

  • হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

    হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    দেশে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৩৯।

    বুধবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সময়ের।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯২। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৪৭ জন।

    হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৬ জন, সিলেট ও বরিশালে একজন করে মারা গেছে।

    এ ছাড়া নতুন করে ৯৪ নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৯২৭ জন। আর ৯৪৫ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে করে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২৯ জনে।

  • সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের সুসংবাদ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের সুসংবাদ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারি শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করবে সরকার।

    বুধবার (১০ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আবুল কালামের সরকারি শূন্যপদে নিয়োগ সংক্রান্ত এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এ মহান সংসদকে আমি এতটুকু জানাতে চাই- সরকারের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পদ খালি আছে; যেগুলো আরও গতিশীল করার জন্য, দেশের মানুষকে আরও সহজে সুবিধাজনকভাবে সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কতগুলো নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

    তিনি আরও বলেন, যত দ্রুত সম্ভব আমরা এ পোস্টগুলোতে (শূন্যপদ) নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করব ইনশাআল্লাহ।

    বিকাল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

    বৈঠকে প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোপর্ব। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিল তারকা চিহ্নিত ৫টি প্রশ্ন। এরমধ্যে ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারকা চিহ্নিত তিনটি প্রশ্ন এবং বিভিন্ন সংসদ সদস্যের এ সংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

    পাবনা-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের অনুপস্থিতিতে তার তারকা চিহ্নিত অপর এক প্রশ্ন উত্থাপন করেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম রেজা হাবিব।

    জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ৫ লাখ সরকারি কর্মচারি নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তারমধ্যে শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থাসমূহে শূন্যপদের বিপরীতে ২ হাজার ৮৭৯ জন লোক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    সরকার সম উন্নয়নে বিশ্বাসী উল্লেখ করে মাদারীপুর-২ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েকদিন আগে আপনার নেতৃত্বে আমরা কীভাবে এ সংসদ সেশনটা চলবে সেই বিষয়ে আমাদের কমিটির মিটিংয়ে বসেছিলাম।

    সেখানে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতাও ছিলেন। তিনি একটি বিষয় উল্লেখ করেছিলেন যে, ঈদের আগে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু কিছু সহযোগিতা দেওয়া হয়েছিল, যেগুলো বিরোধীদলীয় নেতারা হয়তো পাননি।

    আমি মিটিং থেকে বেরিয়ে এসে এলজিআরডি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উভয়কেই সাথে সাথে নির্দেশনা দিয়েছিলাম যে, যদি বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য কেউ না পেয়ে থাকেন, যাতে দ্রুত সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    তিনি বলেন, এ নির্দেশনা দিয়ে আমি এটাই বোঝাতে চাইছি- বর্তমান সরকার দেশের সম উন্নয়নে বিশ্বাস করে এবং সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকার উন্নয়ন করবেন, ঠিক একইভাবে সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে। বিরোধীদলীয় সদস্যবৃন্দ যারা আছে, তাদের এলাকায় আমরা সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।

  • আওয়ামী লীগ নেতাদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে?

    আওয়ামী লীগ নেতাদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে?

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনেরও প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন বা ইসি। এই নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচনী বিধিমালায়ও কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বুধবার সেই বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইসি।

    দলীয় প্রতীক ছাড়া এই নির্বাচন আয়োজনে ইসির পক্ষ থেকে যে বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে, সেখানে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য হলে যে কেউ অংশ নিতে পারবে এই নির্বাচনে।

    এই বিধিমালা পাশ হলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ যে কোন দলের কর্মী সমর্থকরা অংশ নিতে পারবে নির্বাচনে।

    এই বিধিমালা প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেছেন, কোনো দল বাদ দেওয়ার মতো কোনো বিধান আচরণবিধিতে রাখা হয়নি। প্রার্থী হওয়ার যোগ্য যে কেউ অংশ নিতে পারবেন নির্বাচনে।

    ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সংসদে আইন পাশের পর প্রথমেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালায় পরিবর্তন আনতে বেশ কিছু নতুন প্রস্তাবনা আনা হয়েছিল।

    সেখানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিষিদ্ধ বা নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই, এই মর্মে ইসির তৈরি করা অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর দেওয়ার বিধানও প্রস্তাবনায় রাখা হয়েছিল।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের পর পৌরসভা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন নির্বাচনেরও বিধিমালা চূড়ান্ত করা হবে নতুন আইন অনুযায়ী। সেক্ষেত্রে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতায় একই বিধান বহাল রাখা হবে।

    প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার এ নিয়ে সচিবালয়ে একটি ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শর্ত মানলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অংশ নিতে পারবেন।

    সূত্রঃ বিবিসি বাংলা 

  • দেশের মাথাপিছু আয় প্রথমবার ৩ হাজার ডলার ছাড়াল

    দেশের মাথাপিছু আয় প্রথমবার ৩ হাজার ডলার ছাড়াল

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশবাসীর মাথাপিছু আয় বেড়ে তিন হাজার ২০ মার্কিন ডলার হয়েছে। যা টাকার হিসাবে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ১৫ পয়সা ধরে)। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার ছাড়াল।

    এদিকে দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), অর্থাৎ অর্থনীতির আকারও ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৫০১ বিলিয়ন ডলার।

    বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

    বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগ ও সঞ্চয় স্থবিরতার মধ্যেও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা ডলারের হিসাবে ৫০১ বিলিয়ন। আগের অর্থবছর জিডিপির আকার ছিল ৫৫ হাজার ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা বা ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার। ডলার প্রতি ১২২ টাকা ১৪ পয়সা বিনিময় হার ধরে জিডিপির আকার ঘোষণা করা হয়েছে।

    এ হিসেবে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

    খাতভেদে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে সেবা খাতে। এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

    এ ছাড়া শিল্পে ২ দশমিক ৮৬ এবং কৃষিতে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কমলেও শিল্প খাতে বেড়েছে।

    অন্যদিকে গত অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে তিন হাজার ২০ মার্কিন ডলার। এ হিসাবে বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ২৫১ মার্কিন ডলার।

    বিবিএসের সংক্ষিপ্ত পর্যবেক্ষণ বলা হয়, সামগ্রিকভাবে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে উন্নীত হওয়া এবং মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করা ইতিবাচক লক্ষণ। তবে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং জিডিপির তুলনায় জাতীয় সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হার কিছুটা হ্রাস পাওয়া সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য একটি সতর্কবার্তা।

  • ভবিষ্যৎ শান্তিরক্ষা মিশন হবে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর : প্রধানমন্ত্রী

    ভবিষ্যৎ শান্তিরক্ষা মিশন হবে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর : প্রধানমন্ত্রী

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ দিন দিন জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। তাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে।

    মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে সারা বিশ্বের সেই সাহসীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

    তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে শহীদদের এই আত্মদান, যুদ্ধবিরোধী ও শান্তিকামী মানুষের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয় জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে যে কোনো মূল্যে শান্তিরক্ষায় বদ্ধপরিকর।

    কিন্তু এ পথ বন্ধুর ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বমঞ্চে যে গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা সহজ ছিলো না। শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এই মহান ও মানবিক দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে তাদের।

    শান্তিরক্ষীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে একটি প্রতিকূল পরিবেশে আপনারা নিষ্ঠা, সাহস ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনাদের এই অবদানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

    অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে দেশের সামরিক বাহিনীর অবদান তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে শহীদ হওয়া শান্তিরক্ষীদের পরিবার ও আহতদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩ টি দেশের প্রায় ৬৩ টি শান্তিরক্ষা মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০ টি শান্তিরক্ষা মিশনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেয়ারও প্রস্তুতি চলছে।

    তিনি বলেন, পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য সাহসের সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু বিশ্ব শান্তি রক্ষায় আমাদের এই গৌরবের ইতিহাস একদিনে রচিত হয়নি। প্রায় চার দশক ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী একটি আস্থা ও নির্ভরতার নাম।

    সশস্ত্রবাহিনী একটি দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই গৌরব ও অহংকার আমাদের সশস্ত্রবাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। তাই এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয় সেটি রক্ষা করা সশস্ত্রবাহিনীর কর্তব্য।

    তিনি বলেন, তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে, দেশে সশস্ত্রবাহিনীর কিংবা সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে কিছু অপতৎপরতা কখনো কখনো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণ হয়েছে। দেশে বিদেশে সশস্ত্রবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট করতে নানা তৎপরতাও বিদ্যমান ছিল। তবে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ১৯৭৫ এর সাত নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

    তারেক রহমান বলেন, এরপরও বিভিন্ন সময়ে নানারকম ঘটনায় সশস্ত্রবাহিনীর ঐক্য বিনষ্টের তৎপরতা চলেছে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সশস্ত্রবাহিনীর ওপর সর্বগ্রাসী আঘাতটি এসেছিল। সেই আঘাতের ফলে বাংলাদেশে কি ঘটেছিলো সেটি আমাদের সবার জানা। তাই, ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রধান বার্তাটি হলো, ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অফ কমান্ড’ ছাড়া সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুই অতীত চর্চা নয় বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সামনে স্বমহিমায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারা সশস্ত্রবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন অথবা সরকারে বা জনপ্রশাসনে রয়েছেন, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা দেশে বা বিদেশে যেখানে যে দায়িত্ব পালন করছি, সেই দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করাই হোক আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার।

    বর্তমান বিশ্ব এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায়।

    বাংলাদেশ সব সময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাই আমাদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী এবং প্রযুক্তিনির্ভর। এমন পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিম-লে দায়িত্ব পালনের জন্য সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনী আধুনিক করতে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংবিধানে বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সহাবস্থান ও ন্যায়বিচারের প্রতি যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে, আমরা তা বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ যে কোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তুলতে বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা তাদের আন্তরিকতা, কর্তব্যবোধ এবং পেশাদারিত্বের গৌরবোজ্জ¦ল দৃষ্টান্ত বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শান্তিরক্ষা মিশনের প্রতিটি সদস্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের প্রতিনিধি, দেশের মান-সম্মানের বাহক। আশা করি, আগামী দিনেও যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্ব পালন করতে বিভিন্ন দেশে যাবেন, তারা একইভাবে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সুনাম সমুন্নত রাখবেন।

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানসহ সশস্ত্রবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। কিন্তু এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ ১০ জুন এটি পালিত হচ্ছে।

  • ১৩ জুন পার্বতীপুরে যুবদলের উদ্যোগে ঈদ পুনমিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    ১৩ জুন পার্বতীপুরে যুবদলের উদ্যোগে ঈদ পুনমিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    দিনাজপুর প্রতিনিধি

    বিএনপির ও যুব দলের উদ্যোগে আগামী ১৩ জুন পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালে গণতন্ত্র, উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির মহামিলন, ঈদ পূনমিলনী ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা এ অনুষ্ঠানকে ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান বলে ঘোষণা করেছেন।

    এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত আইন বিষয়ক উপদেষ্টা ও ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিষ্টার কামরুজ্জামান।

    বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন- জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. বখতিয়ার আহমেদ কচি, প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত থাকবেন- বিএনপি জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ আমিনুল ইসলাম, এ অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ঢাকা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, বাংলাদেশ রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ারকন্ডিশনিং মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম।

    এতে সভাপতিত্ব করবেন- পার্বতীপুর উপজেলা যুব দলের আহবায়ক মোঃ মমিনুল ইসলাম (ডাক্তার) ও সার্বিক তত্বাবধায়নে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মাহাবুব রশিদ সংগ্রাম।

    ১০ জুন বুধবার দুপুরে উপজেলা যুবদল কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানপূর্ব প্রস্তুতি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে ১৩ জুন শনিবারের অনুষ্ঠানকে ঐতিহাসিক বলে ঘোষণা দিয়ে আয়োজকরা জানান, এখানে একদিকে যেমন বিশাল দলীয় কর্মী সমাবেশ হবে একই সাথে সাধারণ মানুষের বিনোদনের জন্য দেশ খ্যাত শিল্পী মনির খান, সালমা, আকাশ মাহমুদ, মহুয়া মৌ ও সুকুমার বডুরাসহ দেশের বহু বিশিষ্ট শিল্পী গান পরিবেশন করবেন। এছাড়াও এ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দিনাজপুর-৫ আসনের অন্তর্ভুক্ত পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলার জনসাধারণের কাঙ্খিত উন্নয়ন, স্থানীয় বিএনপি’র সাংগঠনিক পূর্নজাগরণের সূচনা করা হবে বলে আয়োজকরা জানান।

    বিএনপির ১৩ জুনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতিমধ্যে স্থানীয় সংগীত প্রিয় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিপুল আগ্রহ ও উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

  • ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে বহুতল ভবনে আগুন

    ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে বহুতল ভবনে আগুন

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে একটি বহুতল ভবনে আগুন লেগেছে।

    বুধবার (১০ জুন) বিকেলে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের বাংলাদেশ আই হসপিটালের পাশের ওই ভবনটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ করছে।

    তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

     

  • বগুড়ায় ফসলি জমিতে পুকুর খনন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি এলাকাবাসীর

    বগুড়ায় ফসলি জমিতে পুকুর খনন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি এলাকাবাসীর

    বগুড়া প্রতিনিধি

    বগুড়া সদর উপজেলার সাবগ্রাম ইউনিয়নের চক আলম মৌজার ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন করছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজ্জাক।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কৃষি কাজে ব্যবহৃত উর্বর জমিতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পুকুর খনন করা হচ্ছে। প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে অনিচ্ছুক বলেও জানিয়েছেন তারা।

    স্থানীয়দের দাবি, পুকুর খননের সময় জমির ওপরের উর্বর মাটির স্তর (টপসয়েল) কেটে ফেলা হচ্ছে। কৃষিবিদদের মতে টপসয়েল জমির সবচেয়ে উর্বর স্তর হিসেবে বিবেচিত। টপসয়েল অপসারণ হলে জমির উর্বরতা কমে যায়, ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এবং কৃষি জমি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া বৃষ্টির সময় মাটিক্ষয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

    এ বিষয়ে রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ফসলি জমিতে পুকুর খননের জন্য কোনো অনুমতি নিয়েছেন কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কার কাছ থেকে অনুমতি নেব?

    এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাদের আপত্তি উপেক্ষা করে জোরপূর্বকভাবে পুকুর খননের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে । এতে এলাকার কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তারা।

    বিষয়টি নিয়ে বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনার কাছ থেকেই প্রথম বিষয়টি শুনলাম। অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে এবং ফসলি জমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

  • বার্ডে গ্রামীণ নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও One Health পদ্ধতি বিষয়ে সেমিনার

    বার্ডে গ্রামীণ নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও One Health পদ্ধতি বিষয়ে সেমিনার

    কুমিল্লা প্রতিনিধি

    গ্রামীণ নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কিশোরী স্বাস্থ্য উন্নয়ন, ক্যান্সার সচেতনতা এবং One Health পদ্ধতির মাধ্যমে টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)-এ একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) বার্ডের লালমাই অডিটোরিয়ামে রাজস্ব বাজেটের আওতায় পরিচালিত “স্বাস্থ্য-ই-শক্তি: সমন্বিত স্বাস্থ্য উদ্যোগের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন” শীর্ষক প্রায়োগিক গবেষণার উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বার্ডের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) আবদুল্লাহ আল মামুন। স্বাগত বক্তব্য দেন যুগ্মপরিচালক (প্রশিক্ষণ) আযমা মাহমুদা। সেমিনার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যুগ্মপরিচালক (পল্লী প্রশাসন) আফরীন খান এবং সহযোগী সেমিনার পরিচালক ছিলেন উপপরিচালক (গবেষণা) ফরিদা ইয়াসমিন।

    সেমিনারে গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বার্ডের যুগ্মপরিচালক (পল্লী প্রশাসন) ও প্রধান গবেষক আফরীন খান। তিনি বলেন, গ্রামীণ নারী ও কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, মাতৃস্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, ক্যান্সার সচেতনতা এবং স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ জরুরি।

    এছাড়া জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পুষ্টিবিদ ছাঈদা লিয়াকত কিশোরীদের কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সচেতনতা বিষয়ে, নারী উন্নয়ন কেন্দ্র (NUK)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মাশহুদা খাতুন শেফালী নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য ও ক্যান্সার ঝুঁকি বিষয়ে এবং আইইডিসিআরের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ফয়জুল ইসলাম গ্রামীণ স্বাস্থ্য উন্নয়নে One Health পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

    আলোচনায় অংশ নেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ, শিক্ষা স্বাস্থ্য উন্নয়ন কর্মসূচি (SHISUK)-এর নির্বাহী পরিচালক সাকিউল মিল্লাত মোর্শেদ এবং সদর দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দীন।

    বক্তারা গ্রামীণ নারীর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, কিশোরী স্বাস্থ্য উন্নয়ন, ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিকাশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, নারীর স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে টেকসই গ্রামীণ উন্নয়ন সম্ভব নয়।

    সভাপতির বক্তব্যে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গবেষণাভিত্তিক জ্ঞান, স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগের সমন্বয়ের মাধ্যমে নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব। তিনি গবেষণালব্ধ সুপারিশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।