Author: Jvadmin

  • র‍‍্যাবের নাম পাল্টে হচ্ছে এসআরবি শিগগির মন্ত্রিসভায় উত্থাপন

    র‍‍্যাবের নাম পাল্টে হচ্ছে এসআরবি শিগগির মন্ত্রিসভায় উত্থাপন

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    আলোচিত-সমালোচিত এলিট ফোর্স র‌্যাবের নাম পরিবর্তন করতে যাচ্ছে সরকার। র‌্যাবের পরিবর্তে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে র‌্যাব বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করে নতুন আইনের একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    খসড়া আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, “দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে সুসংহতকরণ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান অধ্যাদেশ ১৯৭৯’-এর অধীন গঠিত ‘র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান’ (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে বাংলাদেশ পুলিশের সহায়ক একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠন, উহার নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা, শৃঙ্খলা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে আইন করা সমীচীন।”

    খসড়া আইনটি এখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘প্রস্তুতি’ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যে খসড়াটি প্রস্তুত করা হয়েছে এতে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। তবে মৌলিক কোনো পরিবর্তন করা হবে না। শিগগির খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে প্রাথমিক অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এরপর এটা ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। ভেটিংয়ের পর সেটা ফের মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। নীতিগত অনুমোদনের পর তা সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। বিল পাস হলেই তা পরিণত হবে আইনে।

    এর আগে গত মাসে র‍্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে র‌্যাব বিলুপ্তির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে আগামীদিনে একটি আধুনিক ও পেশাদার এলিট ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।’

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগে র‌্যাবকে জবাবদিহির আওতায় আনার কোনো উপায় ছিল না। সে জন্য র‌্যাব নানা বিতর্কের জন্ম দেয়। এবার বিশেষায়িত এই বাহিনীকে জবাবদিহি ও গণমুখী করার চিন্তা করছে সরকার। সে জন্য সুনির্দিষ্ট আইন তৈরি করা হচ্ছে। আইনে জবাবদিহির বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে এই বিশেষায়িত বাহিনী জনগণের সেবায় কাজ করতে পারে। আর কোনো বিতর্কের জন্ম না দেয়।

    খসড়া আইনে বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন কোনো বিধিমালা জারি না হওয়া পর্যন্ত ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান’ অধ্যাদেশ ১৯৭৯-এর ধারা ১৪ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে জারিকৃত র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (কোর্ট পদ্ধতি ও বিভাগীয় কার্যধারা) বিধিমালা, ২০০৫ এবং এতৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিধিমালা বহাল থাকবে। ওই অধ্যাদেশের অধীন র‌্যাব-এর সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, দায়, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি উক্ত সম্পত্তিতে যাবতীয় অধিকার ও স্বার্থ, সকল হিসাব বহি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র এবং এতৎসংক্রান্ত সকল দলিল এই আইনের অধীন গঠিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-এর নিকট তৎক্ষণাৎ স্থানান্তরিত এবং ন্যস্ত হবে। উক্ত আইনের অধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান, কোনো চুক্তি, আইনগত দলিল বা চাকরির শর্তে যা কিছুই থাকুক না কেন, র‌্যাব এর সকল কর্মকর্তা ও আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারী এই আইনের অধীন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এর সদস্য হবেন এবং এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে তারা যে শর্তাধীনে চাকুরিতে নিয়োজিত ছিলেন, এই আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এর চাকুরিতে নিয়োজিত থাকবেন। উক্ত আইনের অধীন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সকল দায় ও দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা, উহার পক্ষে, বা উহার সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি যথাক্রমে এই আইনের অধীন এসআরবি-এর দায় ও দায়িত্ব এবং এর দ্বারা, এর পক্ষে বা সাথে সম্পাদিত

    চুক্তি বলে গণ্য হবে। উক্ত আইনের অধীন প্রণীত সকল বিধি, প্রবিধান বা আদেশ যা উক্ত আইন রহিত হওয়ার অব্যবহিত পূর্ব পর্যন্ত কার্যকর ছিল তা এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি, প্রবিধান বা আদেশ দ্বারা রহিত বা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ, যতদূর পর্যন্ত এই আইনের বিধানাবলির পরিপন্থি না হয় ততদূর পর্যন্ত, কার্যকর থাকবে।

    নতুন এই বাহিনীর দায়িত্ব ও কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা; গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ; বেআইনি অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার; মাদকদ্রব্য উদ্ধার; সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন; অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা; সরকার বা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত তদন্ত বা দায়িত্ব। এ ছাড়া প্রবেশ, তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও থাকেছে নতুন এই বাহিনীর। মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, অবৈধ কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন বা আশ্রয়স্থল কিংবা সন্দেহজনক স্থান; কাউকে সন্ত্রাসী কার্য বা আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত সন্দেহ মৰ্মে; বা অবৈধ অস্ত্ৰ বা সন্ত্রাসী কর্মে ব্যবহৃত উপাদান লুকোনো স্থানে প্রবেশ ও তল্লাশির ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নকারী কোন অপরাধ; সরকার, বা মহা-পুলিশ পরিদর্শকের নির্দেশমতে, বাহিনী কোনো অপরাধস্থল বা অপরাধীকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে কার্যকর যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

    এ ব্যাপারে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ কালবেলাকে বলেন, ‘দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো যখন থেকে র‌্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন থেকে আমিও র‌্যাবের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছি। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার পর র‌্যাবের বিরুদ্ধে সবাই কথা বলতে থাকে। তিনি আরও বলেন, আমার কথা হচ্ছে, র‌্যাব বিলুপ্ত নয়, সরকার নাম পরিবর্তন করতে পারে। কারণ, এই বাহিনীতে অনেক দক্ষ লোক তৈরি হয়েছে। অনেক ভালো কাজও করেছে। সে কারণে যারা এই বাহিনীর ভেতরে থেকে অপরাধ করে, তাদের বিচার হোক। সে জন্য চাই, যে নামেই বাহিনী হোক না কেন, এই বাহিনীর সদস্যদের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা যেন নিশ্চিত করা হয়। এই বাহিনী দিয়ে আর যেন কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটে।’

    মূলত র‌্যাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস দমনের উদ্দেশ্যে গঠিত বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ইউনিট। বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে পরিচালিত এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ গঠিত হয় এবং একই বছরের ১৪ এপ্রিল তাদের কার্যক্রম শুরু করে। দ্য আর্মড পুলিশ অর্ডিন্যান্স ১৯৭৯ (সংশোধনী ২০০৪) অনুসারে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদস্যদের নিয়ে র‍্যাব গঠিত হয়। র‍্যাবের সদর দপ্তর ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত।

    র‌্যাব গঠনের পর থেকেই এর কর্মকাণ্ড সমালোচনার মুখে পড়তে থাকে। এটি গঠনের পর র‍্যাবের ‘ক্রসফায়ারে’ ঢাকায় পিচ্চি হান্নানসহ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসী এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ‘চরমপন্থি সন্ত্রাসীরা’ একের পর এক নিহত হয়। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসে র‍্যাব। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাবের ভূমিকা সবাইকে অবাক করে দেয়। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর হোসেনের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে র‍্যাব-১১-এর তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদসহ ১১ জন র‍্যাব সদস্য এ খুনের ঘটনাগুলোয় জড়িয়েছিলেন। গুম-খুনের কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সংস্থাটি। দেশীয় গণ্ডি পেরিয়ে এ সমালোচনা চলতে থাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সংগঠনটির কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানায়।

    গত দুই দশকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে গুম ও ক্রসফায়ারের ঘটনায়। আর এসব গুম ও ক্রসফায়ারের পেছনে বড় ভূমিকা রাখে র‌্যাব। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই র‍্যাব বিলুপ্ত করার পরামর্শ দিয়েছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

    বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ ও গুরুতর আহতসহ অনেক বিক্ষোভকারীর সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন দেয় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধান দল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কে সামনে রেখে গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে র‍্যাবের বলপ্রয়োগ ও গ্রেপ্তারের কথা উঠে আসে। ওএইচসিএইচআর ওই প্রতিবেদনে র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে।

    এমন বাস্তবতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনও র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে। গত বছরের ৫ জানুয়ারি গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের দেওয়া এক হিসাবে উঠে এসেছে, মোট গুমের ঘটনার প্রায় ২৫ শতাংশের সঙ্গেই র‍্যাব জড়িত ছিল। একক বাহিনী হিসেবে এটা সর্বোচ্চ, তা ছাড়া সারা দেশে গুম কমিশন যে ৪০ গোপন বন্দিশালার সন্ধান পেয়েছে, তার মধ্যে ২২ থেকে ২৩টি ছিল র‍্যাবের। পুলিশের বিশেষ শাখার নথিতে সাত বছরে (২০১৫-২১ সাল) ১ হাজার ৭টি ক্রসফায়ারের ঘটনায় ১ হাজার ২৯৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। নথিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব ঘটনার ৬৫১টিতে পুলিশ ও ২৯৩টিতে র‍্যাবের নাম এসেছে। আরও ১০টি ঘটনায় যৌথভাবে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর নাম এসেছে।

    ক্ষমতাসীন দল বিএনপিও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে র‍্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিল। ওই সংবাদ সম্মেলনে দলের তৎকালীন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, ‘র‍্যাব আন্তর্জাতিকভাবেই এমনভাবে নিন্দিত হয়েছে…আর দেশে তো র‍্যাব মানেই একটা দানব তৈরি করা হয়েছে। তারা যত ধরনের খুন-গুম, যত এক্সট্রা জুডিসিয়াল কিলিং (বিচারবহির্ভূত হত্যা), অধিকাংশই এই র‍্যাব বাহিনীর মাধ্যমে হয়েছে। সে জন্য আমরা এটিকে বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছি।’ সংস্থাটি বিলুপ্ত করা হলে জনগণের কাছে একটা ভালো বার্তা যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সংস্কার না করে বিলুপ্তির পক্ষেও তখন কথা বলেছিলেন তিনি। এবার সরকার সেটাই করতে যাচ্ছে।

  • কোটচাঁদপুরে তুলার জাজিম কারখানায় ভয়াবহ আগুন, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

    কোটচাঁদপুরে তুলার জাজিম কারখানায় ভয়াবহ আগুন, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধি 

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর শহরে একটি তুলার জাজিম কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৩০ টন তুলা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারখানা মালিক।

    রোববার (১৪ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোটচাঁদপুর পৌর শহরের দুধসারা হটাতপাড়া এলাকায় মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ওই কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়।

    কারখানার মালিক শাকিল আহমেদ জানান, তিনি ৪ থেকে ৫ জন শ্রমিক নিয়ে কারখানায় কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ মোটরের পাশ থেকে ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। তিনি আরও জানান, দ্রুত কোটচাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে আগুনে কারখানায় মজুদ থাকা প্রায় ৩০ টন তুলা পুড়ে যায়। এতে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    শাকিল আহমেদ বলেন, ব্যাংক ঋণ নিয়ে অনেক কষ্ট করে ব্যবসাটি শুরু করেছিলাম। আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবো বুঝতে পারছি না।

    কোটচাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার লিডার কুতুব উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

  • রাজস্থলীতে বিদ্যালয়ের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নিখোঁজ

    রাজস্থলীতে বিদ্যালয়ের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নিখোঁজ

    রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

    রাঙামাটির জেলা রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী  প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে চিংম্রাসিং মারমা (১৫) নামক এক কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার গণমাধ্যম সূত্রে  খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও ২০২৭ সালের  এসএসসি পরীক্ষার্থী।

    শনিবার (১৩ জুন) সকাল  ১১টায়  নিজ বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বের হন চিংম্রাসিং মারমা।  নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তিনি আর বাড়ি ফিরে না আসায় তার পরিবার অনেক খুজা খুজির পরও তার মেয়েটি কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার।

    নিখোঁজ কিশোরী বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিহারপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং সাবেক ইউপি সদস্য উখ্যাই চৌধুরীর কন্যা । পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনরা এলাকায়  বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো হদিস  মিলেনি এখনো।

    নিখোঁজ শিক্ষার্থীর  অভিভাবক পরিবার গতকাল  চন্দ্রঘোনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি)  করা হয়েছে ।

    নিখোঁজ শিক্ষার্থীর  বিষয়ে চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাকের আহমেদ বলেন,শিক্ষার্থীর পরিবার একটি সাধারন ডায়েরী করেন।  “নিখোঁজের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কিশোরীর সন্ধানে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও অনুসন্ধান অভিযান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি দ্রুত তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানান।

  • রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করায় আ’লীগের ৮ সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার

    রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করায় আ’লীগের ৮ সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার

    রাজবাড়ী প্রতিনিধি 

    রাজবাড়ী সদর থানা এলাকায় পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও সহযোগী সংগঠনের আট সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে রাজবাড়ী সদর থাকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রাজবাড়ী সদর উপজেলার ছোট নুরপুর এলাকার মৃত হাকিম মাতুব্বরের ছেলে মোঃ রাব্বানী (৪৬), রাধাকান্তপুর এলাকার আঃ কুদ্দুস শেখ এর ছেলে মাইনউদ্দিন শেখ (৪২),ভবদিয়া এলাকার মৃত আঃ লতিফ এর ছেলে মোঃ নাসির উদ্দিন (৪২),আলাদীপুর এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে মোঃ রিয়াদ মন্ডল (২৬),ভান্ডারিয়া এলাকার মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ আঃ ছালাম মিলন (৫৭),দক্ষিন ভবানীপুর এলাকার মৃত আঃ সালামের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম সোহাগ (৪২), রসুলপুর এলাকার আব্দুল আলিমের ছেলে নাহিদ মিয়া (২৪) ও ধুলদি জয়পুর এলাকার মৃত আনছার আলী শেখ এর ছেলে মোঃ নাসির শেখ (৬৪)।

    এর আগে গত শনিবার (১৩ জুন) ভোর ৫ টা থেকে সাড়ে ৫ টার মধ্যে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।স্বল্প সময়ের জন্য মিছিলটি সড়কে অবস্থান করে। ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবির পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সোহেল রানা টিপুর ছবিও ছিল।

    রাজবাড়ী জেলা পুলিশ এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানান,গত শনিবার (১৩ জুন) ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে রাজবাড়ী-ফরিদপুর মহাসড়কের উপর অনুমান ৩০/৩৫ জন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং তার অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের সক্রিয় সদস্যরা বর্তমান সরকারকে উৎখাত, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি, জন নিরাপত্তা বিপন্ন করা, জনমনে ত্রাস ও আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে নাশকতা করার একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। যাহাতে সরকারকে উৎখাত, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র সহ বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান ছিল। আসামীদের হাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রাম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগগের ব্যানার ও ফেস্টুন ছিল।

  • গোপালগঞ্জে আইসিইউ উদ্বোধন, স্টার্টআপ প্রদর্শনী

    গোপালগঞ্জে আইসিইউ উদ্বোধন, স্টার্টআপ প্রদর্শনী

    গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 

    গোপালগঞ্জে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ উদ্বোধন, স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম এবং জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর।

    রোববার (১৪ জুন) সকাল ১১টায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে দেশের ১০টি জেলার ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ উদ্বোধন করেন। পরে ডা. কে এম বাবর গোপালগঞ্জের আইসিইউর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, আধুনিক আইসিইউ চালুর মাধ্যমে সংকটাপন্ন রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা এখন জেলাতেই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, পূর্বে আর্থিক অনিয়ম ও নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের কারণে এ সেবা দীর্ঘদিন কার্যকর ছিল না।

    এর আগে সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ পৌর মিলনায়তনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের প্রশংসা করে ডা. কে এম বাবর বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনী চর্চাই আগামীর উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।

    প্রতিযোগিতায় গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজ প্রথম, বাঘিয়ারঘাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ দ্বিতীয় এবং নারিকেলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় তৃতীয় স্থান অর্জন করে।

    পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ডা. এ কে এম বাবর জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জননিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

  • শিবিরের গুম-অপহরণের নাটকের প্রতিবাদে ইবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ

    শিবিরের গুম-অপহরণের নাটকের প্রতিবাদে ইবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ

    ইবি প্রতিনিধি 

    ছাত্রশিবির কর্তৃক গুম ও অপহরণের নাটক ও গুপ্ত নেতা-কর্মীদের দ্বারা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। রোববার (১৪ জুন) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

    মিছিলে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ‘জ্বালোরে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘একশন টু একশন, ডাইরেক্ট একশন’, ‘ধর্ষকদের বিরুদ্ধে,  ডাইরেক্ট একশন’, ‘ ধর্ষকদের আস্তানা, ভেঙে দাও-গুড়িয়ে দাও’, ‘নাটকবাজদের আস্তানা, ভেঙে দাও-গুড়িয়ে দাও’, ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জিন্দাবাদ -জিন্দাবাদ’, ‘জামাত-শিবির, গুপ্ত গুপ্ত’, ‘গুমের নাটক করে যারা, দেশবিরোধী শত্রু তারা’, ‘গুপ্ত পাব যেখানে, ধোলাই হবে সেখানে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক শাহেদ আহমেদ, সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুন, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, যুগ্ম-আহ্বায়ক আহসান হাবিব ,আনারুল ইসলাম ও আবু দাউদ, সদস্য রাফিজ আহমেদ, নূর উদ্দিন ও স্বাক্ষরসহ শতাধিক নেতাকর্মী।

    এসময় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ বলেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একজন শিবির নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগ আড়াল করতে গুমের নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া এক কথিত প্রেমিকার গর্ভের ভ্রূণ নষ্টের মাধ্যমে মানবজীবন ধ্বংসের অভিযোগও জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রকৃত গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের কষ্ট ও সংগ্রামকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা বা বিকৃত করা খুবই নিন্দনীয়। এতে সত্যকে আড়াল এবং আসল ভুক্তভোগীরা অপমানিত করা হচ্ছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

    তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। সত্য গোপন করা, অপপ্রচার চালানো এবং অপরাধ ঢাকার চেষ্টা বন্ধ করে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে মানুষের আস্থা ফিরে আসে।

  • কুবিতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আনন্দ মিছিল ও উল্লাস

    কুবিতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আনন্দ মিছিল ও উল্লাস

    কুবি প্রতিনিধি

    বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রতি ভালোবাসা ও উন্মাদনা প্রকাশ করতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) দলটির ভক্ত ও সমর্থকদের উদ্যোগে এক উৎসবমুখর আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ​রবিবার (১৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। ক্যাম্পাসের গোলচত্বর থেকে শুরু হয়ে প্রধান ফটকের সামনে এসে শেষ হয়।

    ​শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সমর্থকেরা আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি পরিধান করে এবং আর্জেন্টিনা দলের পতাকা ও ব্যানার নিয়ে উপস্থিত হন। এ সময় ক্যাম্পাস জুড়ে ভক্তদের চিরচেনা স্লোগান ও উল্লাসে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

    ​আর্জেন্টাইন সমর্থক মোহাম্মদ নাঈম খান তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “ছোটোবেলা থেকেই আর্জেন্টিনাকে মনে-প্রাণে সমর্থন করি। দলের প্রথম ম্যাচের জয়-পরাজয় দিয়ে আমাদের ভালোবাসা পরিমাপ করা যায় না। গত বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হেরেও শেষ পর্যন্ত আমরাই চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এবারও লিওনেল মেসির ওপর আমাদের পূর্ণ ভরসা আছে এবং আমরাই ট্রফি জিতব।”

    ​চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স টেনে আরেক সমর্থক সাইফ মাশরাফি বলেন, “গতকাল মরক্কোর সাথর ব্রাজিলের আজকের এই শোভাযাত্রার আনন্দ আমাদের মাঝে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্রাজিলের হেক্সা মিশন দিন দিন তলানির দিকেই যাবে। আর এটাই আমরা আজকে বেশি করে উদ্‌যাপন করব।’

    ​আরেক সমর্থক শাহাদাত তানভীর রাফি বলেন, “২০২২ সালেও ব্রাজিল ‘হেক্সা মিশন’ এর স্বপ্ন দেখেছিল, এবারও দেখছে যা ২০৩০ সালেও অধরা থেকে যাবে বলে মনে হচ্ছে। এই তীব্র গরমে আর্জেন্টিনা ছাড়াও ব্রাজিল দলের সমর্থকদেরও আমরা ‘সেভেন আপ’ খেয়ে প্রাণ জুড়ানোর আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।”

    ​প্রসঙ্গত, আগামী ১৭ই জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের মিশন শুরু করতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

  • চুয়াডাঙ্গা দর্শনা সীমান্তে ১১ জনকে ‘পুশইনের’ চেষ্টা, বিজিবি’র বাধায় ব্যর্থ

    চুয়াডাঙ্গা দর্শনা সীমান্তে ১১ জনকে ‘পুশইনের’ চেষ্টা, বিজিবি’র বাধায় ব্যর্থ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’-এর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

    রোববার (১৪ জুন) ভোর প্রায় ৫টার দিকে দর্শনা-গেদে সীমান্তের ৭৬-৭৭ নম্বর মেইন পিলারের নিকটবর্তী এলাকা দিয়ে ১১ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। তাদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী রয়েছেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নজরে আসার পর বিজিবির টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যক্তিদের সীমান্তের কাটাতারের বেড়ার কাছে নিয়ে রেখে আসে। পরবর্তীতে তারা কোথায় অবস্থান নিয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে বিজিবি চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, “পুশইনসহ সীমান্তের যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও অপারেশনাল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বাধীন চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার মোট ১১৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করছে।

  • জীবননগর সীমান্তে ৪টি স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক

    জীবননগর সীমান্তে ৪টি স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মেদিনীপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৪টি স্বর্ণের বার ও ৪ টুকরা স্বর্ণসহ এক পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    স্বর্ণসহ আটককৃত মো. সিকান্দার আলী (৫০) গোয়ালপাড়া গ্রামের কাসেদ আলীর ছেলে।

    রোববার (১৪ জুন) সকালে মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের মেদিনীপুর বিওপি ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় টহলরত অবস্থায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার মেদিনীপুর সীমান্তের ৬৪ নম্বর সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে স্বর্ণ পাচারের সময় মো. সিকান্দার আলী নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় দেহ তল্লাশি করে তার কাছ থেকে ৪টি স্বর্ণের বার ও ৪ টুকরা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

    মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রফিকুল আলম স্বর্ণসহ পাচারকারী আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • মধু মাসের ফলে ভরে গেছে বগুড়া মহানগর

    মধু মাসের ফলে ভরে গেছে বগুড়া মহানগর

    বগুড়া প্রতিনিধি

    সুস্বাদু ফলের অধিক সরবরাহ থাকায় বাঙালিদের প্রিয় মধুমাস নামে পরিচিত জ্যৈষ্ঠ। বছর জুড়ে কমবেশি সব ফল পাওয়া গেলেও সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় জ্যৈষ্ঠমাসে। চলতি মধুমাস এখন শেষের দিকে। মৌসুমের ঠিক এই মুহূর্তে বগুড়ায় ভরপুর নানা দেশি ফলে। মধুফলের ম-ম ঘ্রাণে বিমোহিত মহানগরসহ হাটবাজার। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে পাকা ফলের মিষ্টি সুবাস। গ্রীষ্মকালীন রসালো ফল আম, জাম, লাল টুকটুকে লিচু, কাঁঠাল, ডেউয়া, আনারস, লটকন ও তালের শাঁসসহ নানা ফল বেচাকেনায় শহরটিতে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধুমাস জ্যৈষ্ঠে আম, লিচু ও দেশি অন্যান্য ফলের কারণে বিদেশি ফলের চাহিদা কম। তাদের দাবি, বাজারে আম ও লিচু পরিপক্ব এবং বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে পাকানো নয়।

    ক্রেতারা বলছেন, জ্যৈষ্ঠ মাসে সামর্থ্যে নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও সব শ্রেণি পেশার মানুষ দেশি ফলের স্বাদ নেন। এটি আমাদের দেশের ঐতিহ্য। এছাড়া নিম্ন আয়ের মানুষেরা বিদেশি ফল সারাবছর দামের কারণে কিনে খেতে পারেননা। জ্যৈষ্ঠ মাস আসার অপেক্ষায় থাকেন তারা।

    জানা যায়, মধুমান জ্যৈষ্ঠের শেষের দিকে বগুড়া মহানগরের বাজারগুলোতে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, লটকন ও তালের শাঁসের মতো হরেক রকমের সুস্বাদু ও রসালো দেশি ফলে ভরে উঠেছে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে পাকা ফলের মিষ্টি সুবাস। মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও বাজারে মৌসুমি ফলের ব্যাপক সমারোহ দেখা যায়। বগুড়ার প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে-রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, চেলোপাড়া বাজার, সাতমাথা ও কলোনী বাজার। এই স্থানগুলোতে পাকা আম, লাল টুকটুকে লিচু, কাঁঠাল এবং সুস্বাদু তালের শাঁসের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। গ্রীষ্মকালীন রসালো ফলের বেচাকেনায় মহানগরটিতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু মধুমাসের এই আনন্দের মধ্যে দাম নিয়ে ক্রেতাদের রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। যদিও আমের দাম তুলনামূলকভাবে কমে সাধারণ মানুষের নাগালে এসেছে। তবে লিচু, জাম, ডেউয়া, লটকনসহ অন্যান্য অনেক ফলের দাম এখনও বেশ চড়া।

    বগুড়া মহানগরের স্টেশন সড়ক, কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক, কাঁঠালতলা, ফতেহ আলী বাজার এলাকাসহ কলোনী বাজার ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফলের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। এছাড়া স্থায়ী-অস্থায়ী ভাবে অনেকেই ফলের দোকান বসিয়ে বিক্রি করলেও কেউ কেউ আবার ভ্যানে করে মৌসুমী ফল বিক্রি করছেন। এসব দোকানে বিকেলের পর ক্রেতাদের চাপ বৃদ্ধি পায়। অনেক ক্রেতা একসঙ্গে একাধিক ধরনের ফল কিনে বাড়িতে ফিরছেন। তবে গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে বর্তমানে বাজারে ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে আম ও লিচু। বগুড়ার বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন জাতের আম। আর লিচু বিক্রি হচ্ছে যশোর, রাজশাহী, দিনাজপুর ও ঈশ্বরদী জেলার। বাজারে নাগফজলি, হাড়িভাঙ্গা ও ল্যাংড়া আম প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০টাকা, খিরসাপাতি ৮০ থেকে ১০০টাকা, বানানা ম্যাংগো ১০০ থেকে ১২০টাকা কেজি। এছাড়া চায়না লিচু প্রতি ১’শ পিস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০টাকা ও দেশি জাতের লিচু ৪০০ থেকে ৫০০টাকায়। তবে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কালো জাম, লকটন, ডেউয়া ও আমলকি ফল।

    প্রতিকেজি কালো জাম, ডেউয়া ও লকটন বিক্রি হচ্ছে ২০০টাকায়, জামরুল ১৬০টাকা ও লাল জাতের আমলকি ৪০০টাকা কেজি।

    বগুড়ার মহানগরের কাঁঠালতলা এলাকার ফল ব্যবসায়ী সনাতন ঘোষ জানান, এখন দেশি ফলের ভরা মৌসুম চলছে। প্রতিদিন প্রচুর আম, লিচু ও কাঁঠাল বাজারে আসছে। সরবরাহ বাড়ায় আমের দাম অনেকটা কম। যদিও কিছু ফলের উৎপাদন কম থাকায় সেগুলোর দাম এখনও বেশি।

    তিনি বলেন, মধুমাস জ্যৈষ্ঠে আম, লিচু ও দেশি অন্যান্য ফলের কারণে বিদেশি ফলের চাহিদা কম থাকে। জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়ে মানুষ আম-কাঁঠাল ও দেশি ফল খাবেন। তবে বাজারের আম ও লিচু পরিপক্ব এবং বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে পাকানো নয়।

    বাজারে ফল কিনতে আসা সোহেল আহম্মেদ জানান, আমের বাজারে স্বস্তি এসেছে। তবে অন্য ফলের দাম কমেনি। তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষেরা বিদেশি ফল সারাবছর দামের কারণে কিনে খেতে পারেননা। জ্যৈষ্ঠ মাসে সামর্থ্যে নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও সব শ্রেণি পেশার মানুষ দেশি ফলের স্বাদ নেন।