Author: Jvadmin

  • বগুড়ার গাবতলীতে মাদকবিরোধী অভিযান একজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১ বছরের কারাদণ্ড

    বগুড়ার গাবতলীতে মাদকবিরোধী অভিযান একজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১ বছরের কারাদণ্ড

    বগুড়া প্রতিনিধি

    বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২০ গ্রাম গাঁজাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), বগুড়া।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে গাবতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে পরিচালিত এ অভিযানে ডিএনসি, বগুড়ার ‘ক’ সার্কেলের একটি আভিযানিক দল অংশ নেয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন গাবতলী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শামীম হোসেন।

    গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন মোঃ মাসুদ (৩৫)। তিনি গাবতলী উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

    অভিযানকালে তার কাছ থেকে ২০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১ (এক) বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

    এ সময় উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, “মাদকাসক্তিমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য” এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • রামুতে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান; ইউএনও

    রামুতে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান; ইউএনও

    এস.এম.হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার

    কক্সবাজারের রামু উপজেলায় নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবার তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জিল্লুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নিরাপদ, নিয়মিত ও দক্ষ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে।

    সম্প্রতি প্রত্যাশী বাস্তবায়িত স্ট্রেনদেন্ড অ্যান্ড ইনফরমেটিভ মাইগ্রেশন সিস্টেমস (সিমস) প্রকল্পের উপজেলা পর্যায়ের ওরিয়েন্টেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও জিল্লুর রহমান বলেন, “অভিবাসন আমাদের দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জনপ্রতিনিধিরা যদি সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেন, তাহলে প্রান্তিক মানুষ সহজেই সরকারি সেবা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা লাভ করবে।”

    অনুসন্ধানে দেখা যায়, রামু উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইউএনও জিল্লুর রহমান জনসচেতনতা, সুশাসন ও নাগরিকসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনগণকে সরকারি সেবার আওতায় আনার ক্ষেত্রে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

    অভিবাসন খাতে দালালচক্র ও প্রতারণার কারণে প্রতিবছর বহু মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ বাস্তবতায় নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার এবং গণমাধ্যম কর্মীদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, ইউএনও জিল্লুর রহমানের নির্দেশনা ও সহযোগিতার ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ে অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্যসেবা সম্প্রসারণ সহজ হবে। এতে বিদেশগামী কর্মীরা সঠিক তথ্য পেয়ে প্রতারণার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবেন।
    সচেতন মহল মনে করছে, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এমন সক্রিয় অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। বিশেষ করে ইউএনও জিল্লুর রহমানের মতো দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উদ্যোগে সরকারি সেবা জনগণের আরও কাছাকাছি পৌঁছাবে এবং অভিবাসন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজতর হবে।

    রামু উপজেলায় জনকল্যাণমুখী প্রশাসনিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ইউএনও জিল্লুর রহমানের এই ভূমিকা স্থানীয়দের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে এবং তাঁকে একজন জনবান্ধব প্রশাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

  • ওএমএসের চাল-আটা অবৈধ মজুদের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বহিষ্কার

    ওএমএসের চাল-আটা অবৈধ মজুদের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বহিষ্কার

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আহমেদ মালিক সুজনকে দলীয় সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওএমএসের চাল-আটা অবৈধভাবে মজুদ রাখার দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    দলীয় সূত্র জানায়, গত পাঁচ দিন আগে (১২ জুন) পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমেদ মালিক সুজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো জবাব না দেওয়ায় তাকে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকসহ দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    এছাড়া দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সোহেল আহমেদ মালিক সুজনের সঙ্গে সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু।

  • ১০ গ্রামের মানুষের জীবন আটকে আছে একটি নৌকায়

    ১০ গ্রামের মানুষের জীবন আটকে আছে একটি নৌকায়

    শরীয়তপুর প্রতিনিধি

    আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার এই যুগেও শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষের জীবনে সময় যেন থমকে আছে অর্ধশতাব্দী আগে। কীর্তিনাশা নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে এখনও তাদের নিত্যদিনের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা একটি ছোট ডিঙি নৌকা। বৈরী আবহাওয়া, মাঝির অনুপস্থিতি কিংবা নৌকার সামান্য ত্রুটিতেই চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে।

    ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ইকরকান্দি বাজার ও পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় কীর্তিনাশা নদী পারাপারের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। বর্ষা কিংবা শুষ্ক মৌসুম সারা বছরই ফেরাঙ্গীকান্দী, নাওডোবা, সিংজালা, নারায়ণপুর, ইকরকান্দি, সূর্যমনি-সহ অন্তত ১০ গ্রামের মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পার হতে হয়। স্থানীয়দের দাবি, ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা একই দুর্ভোগের শিকার হলেও এখন পর্যন্ত নির্মিত হয়নি একটি সেতু।

     

    নদীর পশ্চিম পাড়ে রয়েছে ৫৬ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি নুরানি মাদ্রাসা, ইকরকান্দি বাজার, নারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় এবং ভূমি অফিস। এসব শিক্ষা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে প্রতিদিন হাজারো মানুষের একমাত্র ভরসা নৌকা।

    সরেজমিনে কীর্তিনাশা নদীর ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, পারাপারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কৃষক, ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সবাই ছোট একটি নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, আমার বয়স এখন ৬৫ বছর। ছোটবেলা থেকে এই নদী নৌকায় পার হচ্ছি। স্কুল, মাদ্রাসা, বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস সব জায়গায় যেতে নৌকাই একমাত্র ভরসা। ব্রিটিশ আমল থেকে এখন পর্যন্ত এখানে কোনো সেতু হয়নি। একটি সেতু নির্মাণ হলে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।”

    রোববার সকাল ৯টায় নদীর ঘাটে দেখা যায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মালিহা, ঋদীতা ও রাবেয়াসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী নৌকার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। তারা জানায়, প্রায় ৩০ মিনিট ধরে ঘাটে অপেক্ষা করছে। মাঝি খাবার খেতে বাড়ি গেছেন। কখন ফিরবেন, তারও নির্দিষ্ট সময় নেই।

    শিক্ষার্থীরা বলে, প্রায়ই এমন হয়। নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে করতে স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়। আবার বৃষ্টি হলে নদী পার হতে ভয় লাগে। অনেক সময় স্কুলেই যেতে পারি না। আমরা চাই এখানে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ হোক।

    কলেজ শিক্ষার্থী রিফাত বলেন, একবার পরীক্ষার দিন নৌকা থেকে পড়ে গিয়েছিলাম। পরে বাড়ি ফিরে কাপড় বদলে আবার পরীক্ষায় যেতে হয়েছে। এতে অনেক দেরি হয়ে যায়। শুধু আমি নই, অনেক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেই এমন ঘটনা ঘটেছে। একটি সেতু হলে হাজারো শিক্ষার্থী সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারবে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী সফিক মাঝি বলেন, “বহু বছর ধরে আমরা সেতুর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এখনও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। কয়েকদিন আগেই ১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একজন দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিল। এমন দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত সেতু নির্মাণ জরুরি।”

    গত ছয় বছর ধরে এই নদীতে নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন মাঝি বারেক খান। তিনি বলেন, “জন্মের পর থেকেই দেখছি মানুষ নৌকায় পারাপার হচ্ছে। এখানে একটি সেতু হলে আমিও খুশি হব। অন্য কোনো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করব। আমার ছয় বছরের অভিজ্ঞতায় তিনবার নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টি হলে ছোট শিক্ষার্থীরা ভয়ে স্কুলে যেতে চায় না। আবার কোনো কারণে আমি নৌকা চালাতে না পারলে মানুষকে তিন কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হয়।

    তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহে নৌকার যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ছয় দিন পারাপার বন্ধ ছিল। এতে যেমন তার আয় বন্ধ হয়ে যায়, তেমনি এলাকাবাসীকেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

    ৫৬ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কৃষ্ণারানী দাস বলেন, “আমাদের স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নদীর ওপার থেকে আসে। বৈরী আবহাওয়ায় উপস্থিতি অনেক কমে যায়। বর্ষাকালে নদীর স্রোত ও বৃষ্টির কারণে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে চায় না। দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ না হলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

    নারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, যোগাযোগ সমস্যার কারণে এই এলাকার শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নৌকায় পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেকেই লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন মাদবর বলেন, “এখানে একটি সেতু নির্মাণ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। নারায়ণপুর ও ইকরকান্দি বাজারের মধ্যবর্তী স্থানে একটি সেতু নির্মাণ হলে হাজারো মানুষ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।

    এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী অনুপম চক্রবর্তী বলেন,বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ডিজাইন বিশেষজ্ঞরা স্থান পরিদর্শন করেছেন। আমরা আশাবাদী, দ্রুত সময়ের মধ্যেই এখানে একটি নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে। সেতুটি নির্মিত হলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট ও দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।

    কীর্তিনাশা নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষের প্রশ্ন একটাই আর কতদিন অপেক্ষা? স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও যেখানে একটি নৌকাই ২০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা, সেখানে একটি সেতু শুধু যোগাযোগের অবকাঠামো নয়, এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিরাপদ জীবনের জন্য সময়ের দাবি। এখন এলাকাবাসী অপেক্ষায় আছে, দীর্ঘ ৫০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কবে বাস্তবে রূপ নেবে তাদের স্বপ্নের সেতু।

  • গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে ৩৮ লাখ টাকার সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে ১২ ঘণ্টায়, অনিয়মের অভিযোগ

    গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে ৩৮ লাখ টাকার সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে ১২ ঘণ্টায়, অনিয়মের অভিযোগ

    গাইবান্ধা প্রতিনিধি

    গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ইদ্রাকপুর এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১ হাজার ৭০০ মিটার দীর্ঘ একটি পাকা সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১২ ঘণ্টা পরই সড়কের পিচ ও পাথর প্লাস্টিকের মতো উঠে আসতে শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দাবির পর সড়কটি পাকা করা হলেও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় কাজ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করে। হাত দিয়েই পিচ ও ইটের খোয়া টেনে তোলা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

    ইদ্রাকপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “সরকার প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণ করলেও ঠিকাদার বাবলু ও ছগির নিম্নমানের কাজ করে পুরো প্রকল্পটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। রাস্তায় পর্যাপ্ত পিচ ব্যবহার করা হয়নি। সামান্য টান দিলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। আমরা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়কটি নতুন করে নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।”

    সরেজমিনে দেখা যায়, নবনির্মিত সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং আলগা হয়ে পড়ে রয়েছে। স্থানীয়রা কোদাল ও খালি হাত দিয়েই রাস্তার পিচ ও ইটের খোয়া তুলে দেখাচ্ছেন। অনেক স্থানে সামান্য চাপ দিলেই কার্পেটিং উঠে নিচের বালু ও মাটি বেরিয়ে আসছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পান ‘ছগির’ নামের এক ঠিকাদার। পরে তিনি অধিক মুনাফার আশায় কাজটি বাবলু নামের অপর এক ব্যক্তির কাছে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে হস্তান্তর করেন। অভিযোগ রয়েছে, উপ-ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তড়িঘড়ি করে রাতের আঁধারে কাজ শেষ করেন। কাজ শেষ হওয়ার পরপরই সড়কের কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করলে এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠার পর অভিযুক্তরা মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মানসম্মতভাবে সড়কটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

  • গোবিন্দগঞ্জে খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান

    গোবিন্দগঞ্জে খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান

    গাইবান্ধা প্রতিনিধি

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ শিংজানী খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের শিংজানী এলাকায় খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শন করেন তিনি।

    ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নে নুরুল্লার বিল থেকে পুনতাইড় হয়ে বোচাদহ বাঙালি নদীর স্লুইস গেট পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ শিংজানী খালটি ১ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন করা হচ্ছে। অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এটি বাস্তবায়ন করছে।

    খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আল মামুন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামশিদ ইরাম খান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিন্দার আলী প্রমুখ।

  • শিশুর লাশ উদ্ধার নিয়ে আদিতমারী রণক্ষেত্র, ডিসি ও পুলিশের গাড়িবহরে হামলা: এসপি-ওসিসহ আহত-৩০

    শিশুর লাশ উদ্ধার নিয়ে আদিতমারী রণক্ষেত্র, ডিসি ও পুলিশের গাড়িবহরে হামলা: এসপি-ওসিসহ আহত-৩০

    জেভি২৪ ডেস্ক

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় নন্দিনী রানী (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে আটকের পর তাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় জনতার ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

    বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেয়ার পাশাপাশি জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেট নিক্ষেপ করেন পুলিশ। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও এলাকাবাসীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নন্দিনী রানী ওই গ্রামের কৃষক নলনী বর্মণের মেয়ে এবং স্থানীয় ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত সোমবার (১৫ জুন) বিকেল থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে ভুট্টাক্ষেতে মাটিচাপা দেয়া ও বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহের সন্ধান মেলে।

    হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তে নেমে আদিতমারী থানা পুলিশ শিশুটির চাচা (পারিবারিক সম্পর্কের) বিধানকে (১৯) প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করে। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকেই তাকে আটক করে পুলিশ। তবে আটকের পর আসামিকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের পথরোধ করে এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বিধানের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং ইউএনওসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রশাসন স্থানীয়দের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু আসামিকে নিয়ে ফিরে আসার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুনরায় উত্তেজিত হয়ে প্রশাসনের গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে ডিসি, এসপি এবং ইউএনওর ব্যবহৃত সরকারি গাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন।

    এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, ভুট্টাক্ষেতে শিশুটির লাশ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সেখানে যায়। কিন্তু আসামিকে নিয়ে আসার সময় জনগণ বাধা প্রদান করে। পরে বিজিবি ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়ে আমরা সেখানে যাই। সবাইকে বুঝিয়ে আসামিকে নিয়ে আসার সময় অতর্কিতভাবে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে আমাদের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর হয় এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

    লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আসামিকে নিয়ে আসার সময় পুলিশের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং আমাদের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা দেয়ার অপরাধে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হবে।

    তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নাজমুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা হচ্ছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড

    প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড

    নোয়াখালী প্রতিনিধি 

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে ক্লোজড করা হয়।

    মঙ্গলবার দুপুরে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি হাজিরা খাতা ও ডিউটি রোস্টার যাচাই করে বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও দেরিতে উপস্থিত হওয়ার তথ্য পান।

    পরিদর্শনকালে রোগী ও স্বজনরা হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া এবং দালালচক্রের সীমাহীন দৌরাত্ম্য, হাসপাতালের খাবারে সমস্যা, টয়লেলেটর অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় রোগীর স্বজনা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে সেবা পেতে উঠতে-বসতে টাকা লাগে।

    পরিদর্শনের একপর্যায়ে মন্ত্রী হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাব এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড ও টয়লেট ঘুরে দেখেন। হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ওষুধের মজুত এবং রোগীদের জন্য দেওয়া বিভিন্ন সেবার মানও খাবার তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। হাসপাতালে অনিয়ম দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন তিনি। হাসপাতাল পরিচালনায় ব্যর্থতার দায়ে তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে ক্লোজড করা হয়। একই সঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. আনার হোসেনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারী সরকারের শাসন ছিল। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব দেখা গেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারও টিকাদান কার্যক্রমে যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি। পরে অনেক কষ্ট করে টিকা সংগ্রহ করে আমরা শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি।স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এমন জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সারা দেশের হাসপাতালগুলোতেই আমরা নানা সমস্যা দেখতে পাচ্ছি; যেখানে হাত দিচ্ছি, সেখানেই ভয়াবহ চিত্র সামনে আসছে।নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এসে অমানবিক পরিস্থিতি দেখেছি। এখানে নতুন একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে, তবে এর অগ্রগতি অত্যন্ত ধীরগতির। আজ যেসব অব্যবস্থাপনা আমরা দেখেছি, সেগুলোর দায় তত্ত্বাবধায়ক এড়াতে পারেন না। এ কারণেই তাকে ক্লোজড করা হয়েছে।

  • চিকিৎসা নিতে নিজেই প্রাইভেট ক্লিনিকে হাজির অসুস্থ হুনুমান

    চিকিৎসা নিতে নিজেই প্রাইভেট ক্লিনিকে হাজির অসুস্থ হুনুমান

    রাজবাড়ী প্রতিনিধি 

    রাজবাড়ীর পাংশায় একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে নিজেই হাজির হয়েছে একটি অসুস্থ হনুমান। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর একটা দিকে পাংশা পৌর শহরের হামিদা মেডিকেল সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হামিদা মেডিকেল সেন্টারে সাধারণ রোগীদের জন্য রাখা সাড়ি সাড়ি বেঞ্চের একটি মাথা নিচু করে বসে আছে অসুস্থ হুনুমান।আগত রোগী ও মেডিকেল সেন্টারের স্টাফ হুনুমানের চারপাশে দাড়িয়ে মোবাইলে ছবি ধারণ করছে,আবারও কেউ কলা খেতে দিচ্ছে।তবে প্রচন্ড অসুস্থ হওয়ায় হুনুমানটি কখনো মাথা নিছু করে আছে আবার কখনো বেঞ্চে শুয়ে পড়ছে।

    এ সময় হুনুমানটির কাছে দাড়িয়ে থাকা মো: মোস্তফা কামাল অভিযোগ করে বলেন, দুই ঘন্টার ও বেশি সময় ধরে কখনো প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর আবার কখনো বন বিভাগের গিয়েছি।তাদের সাড়া না পেয়ে পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে মোবাইল ফোনে জানালে তিনি বলেন কিছুক্ষণের মধ্যে লোক যাবে আপনারা হুনুমানটিকে হেফাজতে রাখেন।তবে এখনো কেউ আসেন নাই!

    হামিদা মেডিকেল সেন্টারের মালিক আরিফুল ইসলাম বলেন, গত দুই দিন আগে একবার আসছিলো এই হুনুমানটি।তখন হাত দিয়ে সোল্ডার দেখাচ্ছিলো। সেখানে কয়েকটি সেলাই দেওয়া। পরে জানতে পারি পাংশা উপজেলার হাবাসপুর থেকে এক তাল বিক্রেতা ধারালো সোল দিয়ে কোপ দিয়েছিলো।আজ সকালেও একবার এসেছিলো।দশ মিনিট পর চলে যায়।আবার সাড়ে ১২ টার দিকে হুনুমানটি এসে বসে আছে। আমাদের এখনে কোন প্রাণী চিকিৎসা না থাকায় আমরা চিকিৎসা দিতে পারছি না।তবে প্রাণী সম্পদ ও বন বিভাগ কে জানানো হয়েছে।

    উপজেলা বন কর্মকর্তা মো: আজিজুল হক বলেন, এটি মানুষ না হলেও মানুষের মতো সব বোঝে।ওর হাতে সেলাই দেওয়া আছে। ধারণা করা হচ্ছে সেলাইয়ের ভেতর ইনফরমেশন হয়েছে। আমরা প্রাণীটিকে জেলায় পাঠানোর জন্য খাঁচা নিয়ে আসছি।তবে খাঁচার মুখ ছোট হওয়ায় খাঁচাটি কাটতে পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে হুনুমানটিকে ব্যাথা নাশক ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে।

     

  • দুই সন্তান নিয়ে মায়ের বাচার আকুতি: কিডনি দিতে প্রস্তুত স্বামী, বাধা শুধু অর্থসংকট

    দুই সন্তান নিয়ে মায়ের বাচার আকুতি: কিডনি দিতে প্রস্তুত স্বামী, বাধা শুধু অর্থসংকট

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    আমি বাচতে চাই, আমার সন্তানদের জন্য বাচতে চাই’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর এলাকার মোবারকপাড়ার বাসিন্দা মোসা. রোকসানা খাতুন (৪৫)। দুই সন্তানের এই জননী বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। দুটি কিডনি প্রায় সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে যাওয়ায় তার জীবন এখন নির্ভর করছে নিয়মিত ডায়ালিসিসের ওপর।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের শুরু থেকেই রোকসানার শরীরে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, অরুচি ও তীব্র শারীরিক ব্যথাসহ নানা উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর অসুস্থ থাকার পর চলতি বছরের ২৭ মার্চ তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে কিডনির জটিল সমস্যা ধরা পড়ে।

    পরবর্তীতে ৩১ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে কিডনি বিশেষজ্ঞ ও সহকারি অধ্যাপক ডা. এমডি তৌহিদ বিল্লাল তপনের তত্ত্বাবধানে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দ্রুত ডায়ালিসিস শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    এরপরই রোকসানা ও তার পরিবার জানতে পারেন, তার দুটি কিডনিই প্রায় সম্পূর্ণরূপে অকেজো হয়ে গেছে। এমন দুঃসংবাদে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার।

    স্ত্রীকে সুস্থ করে তুলতে স্বামী মো. আমিন নিজের সাধ্যমতো চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে চিকিৎসার পেছনে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয়ে পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।

    বর্তমানে রোকসানাকে সপ্তাহে দুইবার চুয়াডাঙ্গার খলিল মল্লিক ডায়ালিসিস সেন্টারে ডায়ালিসিস করাতে হচ্ছে। প্রতিবার ডায়ালিসিস, ওষুধ ও যাতায়াত খরচ মিলিয়ে মাসে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, যা একটি দিনমজুর পরিবারের পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

    সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী বিষয় হলো, স্ত্রীকে বাচাতে নিজের একটি কিডনি দিতে প্রস্তুত রয়েছেন স্বামী আমিন। তবে চিকিৎসকদের মতে, কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে, যা তাদের আর্থিক সামর্থ্যের অনেক বাইরে।

    একসময় কার্পাসডাঙ্গার একটি মুরগির খামারে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন আমিন। কিন্তু বর্তমানে অসুস্থ স্ত্রীর সার্বক্ষণিক সেবাযত্নের জন্য সেই কাজও ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এখন স্ত্রীকে গোসল করানো, খাওয়ানো, রান্নাবান্নাসহ সংসারের প্রায় সব দায়িত্বই তার কাধে।

    কান্নাভেজা চোখে আমিন বলেন, আমি আমার কিডনি দিয়ে স্ত্রীকে বাচাতে চাই। কিন্তু অপারেশনের টাকা জোগাড় করতে পারছি না। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো আমার দুই সন্তানের মা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

    চিকিৎসকদের ভাষ্য, দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করা গেলে রোকসানার সুস্থ জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে তার শারীরিক ঝুকি।

    মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে পুরো পরিবার। সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতাই হতে পারে রোকসানা খাতুনের নতুন জীবনের আশার আলো।

    সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা: মো. আমিন
    বিকাশ/নগদ/রকেট: ০১৪০৪৭৩০৮০৪

    একটি ছোট সহযোগিতাই ফিরিয়ে দিতে পারে দুই সন্তানের মায়ের মুখের হাসি, বাচাতে পারে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ।