Author: Jvadmin

  • মাগুরায় কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: বিএনপি নেতাসহ দু’জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা

    মাগুরায় কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: বিএনপি নেতাসহ দু’জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা

    মাগুরা প্রতিনিধি

    মাগুরায় এক কলেজছাত্রীকে মেলা দেখানোর কথা বলে বাড়িতে নিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণের অভিযোগে সদর উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মুক্ত মিয়া ও তার সহযোগী টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    বুধবার (১৭ জুন) মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী মামলাটি দায়ের করেন। তিনি মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী বলে জানা গেছে।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৭ এপ্রিল বিকেলে ভুক্তভোগীর মায়ের পরিচিত ব্যক্তি হাজীপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মুক্ত মিয়া (৪৫) তাকে মেলা দেখানোর কথা বলে মোটরসাইকেলে করে শহরের বাণিজ্য মেলায় নিয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে মুক্ত মিয়ার সহযোগী টিপু সুলতান (৪২) তাদের সঙ্গে যোগ দেন।

    অভিযোগ অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে মুক্ত মিয়া তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে টিপু সুলতানের মোটরসাইকেলে তুলে দেন। তবে তাকে বাড়িতে না নিয়ে হাজীপুরে মুক্ত মিয়ার বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে দুধের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে জোরপূর্বক পান করানো হয়। পরে অচেতন অবস্থায় মুক্ত মিয়া তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    ভুক্তভোগীর দাবি, পরদিন সকালে জ্ঞান ফেরার পর তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ২৮ এপ্রিল বিকেলে টিপু সুলতান তাকে তার মায়ের বাসার কাছে নামিয়ে দিয়ে চলে যান।

    মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাসায় ফিরে তিনি তার মাকে পুরো ঘটনা জানান এবং শরীরে নির্যাতনের বিভিন্ন চিহ্ন দেখান। তবে আসামিদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও বিভিন্ন ধরনের চাপের কারণে মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে।

    অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, বর্তমানে তিনি ও তার অসুস্থ মা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের কোনো ধরনের ক্ষতি হলে এর জন্য অভিযুক্তদের দায়ী করা হবে।
    এ ঘটনায় মুক্ত মিয়া ও টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত) এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এফআইআর গ্রহণের আবেদন করা হলে আদালত অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে মাগুরা সদর থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।”

    এদিকে ঘটনার পরপরই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জেলা বিএনপি জানায়, হাজীপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মুক্ত মিয়াকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহম্মেদ ও সদস্যসচিব মনোয়ার হোসেনের যৌথ সিদ্ধান্তে এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়। যদিও বিজ্ঞপ্তিতে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    মামলার বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

  • আখাউড়ায় আত্মীয়ের লাশ দেখতে গিয়ে নিজেই হলেন লাশ

    আখাউড়ায় আত্মীয়ের লাশ দেখতে গিয়ে নিজেই হলেন লাশ

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এক আত্মীয়ের মরদেহ দেখতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. কাশেম মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১০টার দিকে পৌরসভার খড়মপুর বাইপাস মোড়ে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত কাশেম মিয়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রুটিনুরপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেন মিয়ার ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আখাউড়াগামী একটি ট্রাক এবং বিজয়নগরগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা খড়মপুর বাইপাসের চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অটোরিকশায় থাকা কাশেম মিয়া গুরুতর আহত হন।

    স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তার মৃত্যু হয়।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এক আত্মীয়ের মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার মরদেহ দেখতে যাচ্ছিলেন কাশেম মিয়া। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি।

    দুর্ঘটনার পর সিএনজিচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এছাড়া স্থানীয়দের মাধ্যমে ট্রাকটিও ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন। মানবিক কারণে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়নি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    স্থানীয়দের মতে, খড়মপুর বাইপাস মোড়টি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনাপ্রবণ। তারা সেখানে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থা ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির মৌসুমি ফল উৎসব 

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির মৌসুমি ফল উৎসব 

    ববি প্রতিনিধি 

    বাংলাদেশের ঋতুচক্রের গ্রীষ্মে সবচেয়ে বেশি ফলের সমারোহ দেখা যায়। জ্যৈষ্ঠ মাসের এমন বিভিন্ন প্রজাতির দেশি ফল নিয়ে ‘মৌসুমি ফল উৎসব’ এর আয়োজন করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ববিসাস)।

    বুধবার (১৭ই জুন) সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে টিএসসির- চতুর্থ তলায় ফল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। মৌসুমি ফল উৎসবে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, লটকন ও পেয়ারাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় ফলের সমাহার ছিলো।

    ফল উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান সোহাগ।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, বর্তমানে সমাজে সত্য তথ্যের চেয়ে মিথ্যা তথ্যের প্রচার বেশি। সাংবাদিক সমিতিকে মিথ্যা তথ্যকে সত্য তথ্য দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে।

    প্রধান অতিথি বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্য মেসুমি ফল উৎসব, এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে ফল উৎসবের আয়োজন হচ্ছে। সাংবাদিক সমিতিকে ধন্যবাদ এমন একটি আয়োজন করার জন্য। এসময় সাংবাদিকদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়কে পজেটিভভাবে তুলে ধরার আহ্বানও জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

    সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় চব্বিশ হলের প্রভোস্ট আরিফ হোসেন,  সহকারী প্রক্টর মো. গাজী সাখাওয়াত হোসেন, সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. জাহিদ হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক সমিতির সহ-সভাপতি মো. মেহরাব হোসেন, সাংবাদিক সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য, সদস্য ও সহযোগী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম শুরতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য। সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের মূল্যবাদ সময় ব্যয় করে সাংবাদিকতা চর্চা করে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত পত্রিকার পাতায় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতির সামনে তুলে ধরছে।

  • ফরিদপুরের নগরকান্দায় নবাগত ইউএনও রেজওয়ানা আফরিনের যোগদান

    ফরিদপুরের নগরকান্দায় নবাগত ইউএনও রেজওয়ানা আফরিনের যোগদান

    মোঃ শাহ্ জালাল, ফরিদপুর প্রতিনিধি

     

    ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন রেজওয়ানা আফরিন। যোগদানের পর তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান সদ্য বিদায়ী ইউএনও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

    এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত থেকে নবাগত ইউএনওকে স্বাগত জানান এবং তাঁর সফল কর্মজীবন কামনা করেন। বিদায়ী ইউএনও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নবাগত কর্মকর্তার প্রতি শুভকামনা জানিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

    নগরকান্দাবাসীর পক্ষ থেকে রেজওয়ানা আফরিনকে আন্তরিক স্বাগতম জানানো হয়েছে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, তাঁর নেতৃত্বে উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নতুন গতি পাবে।

    নবাগত ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন নগরকান্দার সার্বিক উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

  • জনবান্ধব পুলিশিংয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত: বান্দরবানের শ্রেষ্ঠ ওসি মোজাম্মেল হক

    জনবান্ধব পুলিশিংয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত: বান্দরবানের শ্রেষ্ঠ ওসি মোজাম্মেল হক

     

    এস.এম. হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার

    সীমান্তবর্তী দুর্গম জনপদ নাইক্ষ্যংছড়িতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে একজন দক্ষ ও মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোজাম্মেল হক। তাঁর পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বান্দরবান জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছেন।

    বুধবার (১৭ জুন) জেলা পুলিশ কল্যাণ সভা শেষে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোঃ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার তাঁর হাতে শ্রেষ্ঠ ওসির সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন। এ অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং নাইক্ষ্যংছড়ি থানার সামগ্রিক কর্মদক্ষতা ও জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রমেরও স্বীকৃতি।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওসি মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা এলাকায় মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, ভুক্তভোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ এবং থানাকে জনগণের আস্থার জায়গায় পরিণত করতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর থানার সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। থানায় আগত সাধারণ মানুষ সহজে সেবা পাচ্ছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ-জনতার সমন্বয়ও জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং অপরাধ প্রতিরোধে তাঁর কৌশলী পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে।

    শ্রেষ্ঠ অফিসার নির্বাচিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, “পুলিশকে জনতার পুলিশ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। জনগণের জানমাল রক্ষা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। এই সম্মাননা আমাকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।”

    তিনি আরও বলেন, এই অর্জনের পেছনে জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনা, সহকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের সমর্থন রয়েছে।

    স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, একজন চৌকস, সৎ ও দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ওসি মোজাম্মেল হক ইতোমধ্যে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

    সীমান্ত অঞ্চলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ওসি মোজাম্মেল হকের এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে বান্দরবান জেলা পুলিশের জন্য একটি গৌরবের বিষয়।

    দ্রষ্টব্য: এটি একটি প্রশংসামূলক ফিচারধর্মী প্রতিবেদন। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন হিসেবে প্রকাশ করতে হলে অপরাধ দমন, মামলা নিষ্পত্তি, মাদক উদ্ধার, গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা সূচকের পরিসংখ্যান ও স্বাধীন সূত্রের মতামত যুক্ত করা উচিত।

  • গোবিন্দগঞ্জে ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেফতার

    গোবিন্দগঞ্জে ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেফতার

    গাইবান্ধা প্রতিনিধি

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩০ পিস ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নের ভেলামারি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন – উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের কৌচাকৃষ্ণপুর এলাকার হাতের আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম (৪৫), মৃত সেকেন্দার আলীর ছেলে মাহবুবুর রহমান (৩৭), কাটাবাড়ি ইউনিয়নের ভেলামারি এলাকার কামাল উদ্দিনের ছেলে মামুন (৩৮) এবং মৃত চান মিয়ার ছেলে মিলন (৩৯)।

    জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার গভীর রাতে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকারের নেতৃত্বে উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নের ভেলামারি এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ৩০ পিস ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়।

    গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (বুধবার) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • কুমিল্লায় ৬৮ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে বিজিবি

    কুমিল্লায় ৬৮ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে বিজিবি

    ইবনুল হাসান রায়হান, কুমিল্লা প্রতিনিধি 

    কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার (১৭ জুন) ভোর রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শিবেরবাজার বিওপির টহল দল মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযান চলাকালে সীমান্ত থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিমসার বাজার এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত শাড়িগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৮ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

    বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত শাড়িগুলো প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

  • তরুণদের নেতৃত্বে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা ও অনলাইন সহায়তায় কাজ করছে ‘RDCS CYBER OFFICIAL’

    তরুণদের নেতৃত্বে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা ও অনলাইন সহায়তায় কাজ করছে ‘RDCS CYBER OFFICIAL’

    নিজস্ব প্রতিবেদক

    ডিজিটাল বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অনলাইন কার্যক্রমের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বিভিন্ন সমস্যাও বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় অনলাইন হয়রানি, সাইবার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তায় কাজ করার দাবি নিয়ে এগিয়ে এসেছে RDCS CYBER OFFICIAL নামের একটি সাইবার টিম।

    সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে রয়েছেন মোঃ আব্দুল্লাহ, মোঃ আশিক ইসলাম . মোঃ মিজানুর জনি এবং মোঃ রবিন ইসলাম। এছাড়া সংগঠনটির নারী শাখার নেতৃত্বে রয়েছেন মোঃ আয়াত রহমান

    টিম সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে তাদের সঙ্গে প্রায় ১৫০ জন সক্রিয় সদস্য কাজ করছেন। পাশাপাশি আরিয়ান, আলভিসহ ১৫ জন প্রশাসনিক সদস্য (অ্যাডমিন) বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সম্প্রতি সাইবার বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আরও কয়েকজন টিম লিডার সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

    নতুন যুক্ত হওয়া সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন দীপ চৌধুরী, মোঃ মেহেদি হাসান, মোঃ সাকিল, আব্দুর রহমান, মোঃ আলামিন, মোঃ আরিয়ান হাসান, মোঃ নাইম চৌধুরী, মোঃ আদি রহমান, মোঃ আব্দুল্লাহ ইভান এবং মোঃ মামুনুর রশিদ।

    সংগঠনটির দাবি, ২০২৫ সালে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে তারা প্রায় ৯০টি অনলাইন হয়রানি ও সাইবার সংশ্লিষ্ট অভিযোগ সমাধানে সহায়তা করেছে। এ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সনদ অর্জন করেছেন তাদের সদস্যরা। টিমের সদস্যদের মধ্যে Google Certificate, Bangladesh Cyber Foundation Certificate এবং NSDA-এর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সনদ ও লাইসেন্সধারী সদস্য রয়েছেন বলে জানানো হয়।

    RDCS CYBER OFFICIAL-এর নেতারা জানান, তাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি নিরাপদ, সচেতন ও ইতিবাচক ভার্চুয়াল পরিবেশ গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশের সাইবার সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা।

    তারা আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি, আইডি সংক্রান্ত জটিলতা, সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা এবং অনলাইন সমস্যার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সহায়তা দিতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

  • ড্রেন পরিষ্কারে মিলছে পলিথিন ও প্লাস্টিক বোতল, জলাবদ্ধতা নিরসনে সচেতনতার আহ্বান

    ড্রেন পরিষ্কারে মিলছে পলিথিন ও প্লাস্টিক বোতল, জলাবদ্ধতা নিরসনে সচেতনতার আহ্বান

    কুমিল্লা প্রতিনিধি 

    কুমিল্লা নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসন ও বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের লক্ষ্যে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সময় ড্রেনের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ পলিথিন, প্লাস্টিকের পানির বোতল, গৃহস্থালি বর্জ্য এবং জমাটবদ্ধ মাটি-বালু উদ্ধার হচ্ছে, যা পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

    সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন পরিষ্কারের সময় দেখা যায়, অনেকেই অসচেতনভাবে পলিথিন, প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনা ড্রেনে ফেলছেন। ফলে ড্রেনের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

    নগর পরিকল্পনাবিদ ও সচেতন মহল মনে করেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন বা ড্রেন সংস্কার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তারা বলেন, জনগণ সচেতন হলে এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেললে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে এবং জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে।

    এ বিষয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে ড্রেন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে। তবে নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া এ কার্যক্রমের সুফল পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব নয়। সবাইকে ড্রেন ও খালে বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।”

    সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন, নালা ও পানি প্রবাহের পথগুলো পরিষ্কার করার বিশেষ কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে কুমিল্লা নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

  • বিলাইছড়িতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় করণীয় শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত

    বিলাইছড়িতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় করণীয় শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত

    রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি 

    রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধিঃ-বিলাইছড়ি উপজেলায় ‘ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফর সাসটেইনেবল বাংলাদেশ’ (ওয়াইডিএসবি) প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান, উপজেলা কৃষি অফিসার রাজেশ প্রসাদ রায়,সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো.জাকির হোসেন। ওয়াইডিএসবি’র নির্বাহী পরিচালক তাওহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গবেষণা ও নীতি নির্ধারণী অফিসার অন্নিতা তঞ্চঙ্গ্যা,ব্রাকের জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য প্রকল্পের অফিসার সুইসাইন মারমা,দিলু আরা বেগম, হেডম্যান বিমলী চাকমা, সুনিক জ্যোতি তালুকদার, মহিলা মেম্বার রিতা চাকমা, বলাকা রানী চাকমা, কল্প কার্বারী, ববিতা চাকমা, লাইন্সম্যান সাগর চাকমা প্রমূখ।

    বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে পার্বত্য অঞ্চলে এর প্রভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের হার বৃদ্ধি, তীব্র পানি সংকট, ভূমিধস এবং কৃষিখাতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা আরও বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি। পাহাড়ি অঞ্চলে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনার আহ্বান জানান তারা।

    এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া এবং ব্যক্তি ও পরিবার ভিত্তিক সবাই এগিয়ে আসার আহবান করা হয়।