ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। গ্রাম থেকে জেলা শহর কোথাও যেন স্বস্তি নেই। বিদ্যুতের তার, এসির কপার পাইপ, পানির মোটর, জানালা, থাই গ্লাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বাসিন্দারা।
সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে ঈদের আগে ও পরে একাধিকবার বিদ্যুতের তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র এক সপ্তাহে কয়েকটি বাড়ি ও দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। একইভাবে নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের জালশুকা গ্রামেও গত দুই মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি বাড়ির বিদ্যুতের তার চুরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, মাদকাসক্তদের একটি চক্র এসব চুরির সঙ্গে জড়িত। জালশুকা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু চিহ্নিত মাদকসেবী এসব চুরির ঘটনায় জড়িত থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে জেলা শহরেও চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। দাতিয়ারা এলাকায় অবস্থিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদের আগে ও পরে দুই দফা চুরির ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এসির আউটডোর ইউনিট, জানালার থাই গ্লাস এবং অন্যান্য সরঞ্জাম চুরি হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এছাড়া জেলা পরিষদ কার্যালয়, পরিবার পরিকল্পনা অফিস, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়, শিল্পকলা একাডেমি, টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছে।
শহরের মৌলভীপাড়া এলাকায় জেলা জজ আদালতের শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দ আমিনা ফারহিনের ভাড়া বাসায়ও চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা ফ্ল্যাটে ঢুকে আলমারিতে থাকা মালামাল নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন স্থানে থাকা ভাঙারির দোকানে প্রকাশ্যে চোরাই তামার তার, এসির কপার পাইপ ও অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। তবে এসব ব্যবসার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অভিযান না থাকায় চুরি বেড়েই চলেছে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে টানবাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা চুরি ও ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে ছিঁচকে চুরির ঘটনা বেড়েছে। মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অর্থের অভাবে এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিদিনই অভিযানে চোর ও মাদকসেবীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। পাশাপাশি চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ভাঙারি ব্যবসায়ীদের তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।
জেলার সর্বত্র চুরির ক্রমবর্ধমান ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

