নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে তাঁত ও বস্ত্র শিল্প বাণিজ্য মেলার নামে চলছে চরম নিয়মনীতিহীনতা ও সংস্কৃতি অবক্ষয়ের উৎসব। মেলার মূল উদ্দেশ্য ধূলিসাৎ করে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত বসছে অশ্লীল নৃত্যের আসর। ঐতিহ্যবাহী শিল্পের প্রসারের নামে এমন কুরুচিপূর্ণ আয়োজনে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অথচ সবকিছু প্রকাশ্যে ঘটলেও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় প্রশাসন। নামে ‘তাঁত ও বস্ত্র’ মেলা হলেও বাস্তবে শুধুই বাণিজ্য ও অশ্লীল বিনোদন।
সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এ “তাঁত ও বস্ত্র শিল্প মেলার নামকরণ করা হয়েছিল, বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্বই নেই। মেলার মাঠ চষেও দেশের গৌরবময় তাঁত বা বস্ত্রশিল্পের ইতিহাস, ঐতিহ্য কিংবা দেশীয় পণ্যের প্রতিনিধিত্বকারী কোনো মানসম্মত স্টল খুঁজে পাননি দর্শনার্থীরা। মেলা দেখতে আসা সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দেশীয় শিল্পের প্রচার ও প্রসারের নামে এটি মূলত একটি “আইওয়াশ” বা লোকদেখানো আয়োজন মাত্র। মেলার মূল উদ্দেশ্যকে সম্পূর্ণ আড়ালে রেখে রাতারাতি টাকা কামানোর এক নোংরা প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছেন আয়োজকরা।চলছে দি বুলবুল সার্কাস। আড়ালে চলে গভীর রাত পর্যন্ত অশ্লীল নৃত্য। কবরস্থান ও হাসপাতালের পাশে উচ্চশব্দের অত্যাচার সবচেয়ে দুঃখজনক ও অমানবিক। মেলা প্রাঙ্গণের ঠিক পাশেই অবস্থিত বালিয়াকান্দি কেন্দ্রীয় কবরস্থান এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। একটি স্পর্শকাতর চিকিৎসা কেন্দ্র এবং পবিত্র স্থানের পাশে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চস্বরে বাজানো হচ্ছে সাউন্ড সিস্টেম। মেলায় অশ্লীল নৃত্যের হুল্লোড় আর মাইকের কানফাটা আওয়াজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি এখন চরমে। স্থানীয়দের প্রশ্ন এমন একটি সংবেদনশীল এলাকায় কার স্বার্থে এবং কীভাবে এ মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি মেলা সংস্কৃতির একটি অংশ, কিন্তু সংস্কৃতির নামে এ অপসংস্কৃতি আর পবিত্র জায়গার অবমাননা আমরা মেনে নিতে পারছি না। আমরা দ্রুত এ অশ্লীলতা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।”
মেলার নামে এ অনৈতিক কর্মকাণ্ড দিনের পর দিন প্রকাশ্যে চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ বা অভিযান দেখা যায়নি। প্রশাসনের এ নির্লিপ্ততা ও নীরব ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলে নানা গুঞ্জন এবং ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরীর মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা এ বিষয়ে তদারকি করছি। এ ধরনের অশ্লীলতার বিন্দুমাত্র কোন ছাড় নেই। আমরা প্রতিনিয়ত ওখানে নজরদারি রেখেছি। তারা এরআগে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কতটুকু করেছিল তা আমার জানা নেই। পরবর্তীতে আমি ফেসবুকে ভিডিও দেখে খবর পাওয়া মাত্রই তাদেরকে ডেকে সতর্ক করেছি। আমাদের লোক ওখানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও আমরা এ বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এলাকাবাসীর দাবি অনতিবিলম্বে এ তথাকথিত মেলার আড়ালে চলা অশ্লীল নৃত্যের আসর ও উচ্চশব্দের অত্যাচার বন্ধ করা হোক। পাশাপাশি এ বিতর্কিত আয়োজনের পেছনে কার হাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

