উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা কোরবানি ঈদে কতটুকু গরুর মাংস খাবেন

জেভি২৪ ডেস্ক 

কোরবানি ঈদ মানেই গরুর মাংসের নানা সুস্বাদু রান্না, পারিবারিক দাওয়াত আর অনেক খাবারের আয়োজন। তবে যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাদের জন্য এই সময় খাবার নিয়ে একটু বেশি সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ অতিরিক্ত গরুর মাংস, বিশেষ করে বেশি চর্বিযুক্ত ও বেশি লবণযুক্ত খাবার রক্তচাপ বাড়াতে পারে।

তবে ভালো খবর হলো, উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও গরুর মাংস একেবারে বাদ দিতে হয় না। শুধু পরিমাণ, অংশ এবং রান্নার ধরন ঠিক রাখলেই নিরাপদভাবে মাংস খাওয়া সম্ভব।

কতটুকু গরুর মাংস খাওয়া নিরাপদ?

গবেষণা ও স্বাস্থ্য নির্দেশনা অনুযায়ী, লাল মাংস সীমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য সপ্তাহে প্রায় ৩৫০ গ্রাম পর্যন্ত লাল মাংস গ্রহণকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ধরা হয়।

এর মানে হলো, এক বেলায় প্রায় ৮০ থেকে ১০০ গ্রাম রান্না করা গরুর মাংস খাওয়া যেতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য ঈদের সময় এই সীমার মধ্যেই থাকা সবচেয়ে নিরাপদ।

ঈদে নিরাপদভাবে খাওয়ার কিছু সহজ উপায় হলো-

  • এক বেলায় অল্প পরিমাণ মাংস খাওয়া
  • প্রতিটি বেলায় গরুর মাংস না খাওয়া
  • সবজি ও সালাদ বেশি খাওয়া
  • পর্যাপ্ত পানি পান করা

ধীরে ধীরে খাওয়া এবং অতিরিক্ত না খাওয়া

ভালো অংশগুলো কী কী?

উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য কম চর্বিযুক্ত মাংস সবচেয়ে ভালো। যেমন স্যারলয়েন, টেন্ডারলয়েন, ফ্ল্যাঙ্ক স্টেক এবং রানের মাংস তুলনামূলকভাবে ভালো অপশন। এসব অংশে চর্বি কম থাকে, তাই হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর চাপও কম পড়ে।

যেসব অংশ কম খাওয়াই ভালো

কিছু অংশ এড়িয়ে চলা বা কম খাওয়া উচিত। যেমন অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত রিবস, প্রসেসড মাংস, অতিরিক্ত তেলে ভাজা মাংস এবং খুব বেশি তেল-মসলাযুক্ত তরকারি। এসব খাবারে ফ্যাট এবং সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে, যা রক্তচাপ বাড়াতে পারে।

রান্নার আগে মাংসের দৃশ্যমান চর্বি ফেলে দিলে তা আরও স্বাস্থ্যকর হয়।

রান্নার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ

গরুর মাংস কীভাবে রান্না করা হচ্ছে সেটি স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। স্বাস্থ্যকর রান্নার পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে গ্রিল করা, সেদ্ধ করা, বেক করা এবং কম তেলে রান্না করা।

অন্যদিকে কিছু উপাদান কম ব্যবহার করা উচিত। যেমন অতিরিক্ত লবণ, ঘি ও মাখন, বেশি তেল এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত মসলা। এগুলো রক্তচাপ বাড়াতে পারে, তাই এগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

স্বাদ বাড়ানোর জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ উপাদান হলো রসুন, আদা, লেবু, গোলমরিচ এবং ধনেপাতা বা অন্যান্য হার্বস। এগুলো খাবারে স্বাদ যোগ করে কিন্তু অতিরিক্ত সোডিয়াম যোগ করে না।

অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপ বাড়ানোর একটি বড় কারণ। তাই খাবারে লবণের পরিমাণ যতটা সম্ভব কম রাখা উচিত।

উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ঈদের খাবারের প্লেট কেমন হওয়া উচিত?

একটি স্বাস্থ্যকর ঈদের খাবারের প্লেট হওয়া উচিত ভারসাম্যপূর্ণ। সেখানে অল্প পরিমাণ গরুর মাংসের পাশাপাশি প্রচুর সবজি রাখা উচিত। সাথে সালাদ, অল্প ভাত, টক দই এবং ফলমূল থাকলে খাবার আরও স্বাস্থ্যকর হয়।

এই ধরনের খাবার শরীরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে না এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

অতিরিক্ত কিছু সতর্কতা

ঈদের সময় শুধু খাবারই নয়, কিছু জীবনযাপন অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত ঘুম, পানি পান এবং কোমল পানীয় কম খাওয়া জরুরি। যাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেই, তাদের অবশ্যই আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

কোরবানি ঈদ আনন্দের উৎসব। উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও সঠিক পরিমাণে এবং সঠিকভাবে গরুর মাংস খেলে এই আনন্দে অংশ নেওয়া সম্ভব। মূল বিষয় হলো পরিমিতি, সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।

সঠিক অংশ বেছে নেওয়া, কম চর্বি ও কম লবণ ব্যবহার করা এবং ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খেলে ঈদ উপভোগ করা যায়, আবার স্বাস্থ্যেরও যত্ন নেওয়া সম্ভব।

সূত্র: আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিকাল নিউট্রিশন, ভেরি ওয়েল হেল্থ, হার্ট ফাউন্ডেশন