জেভি২৪ ডেস্ক
নির্বাচন কমিশন (ইসি) চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে এবং এতে একগুচ্ছ বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সাংবিধানিক এই সংস্থাটি জাতীয় নির্বাচনের আদলে স্থানীয় নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, ইভিএম বর্জন এবং দলীয় প্রতীকের বদলে সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে ভোট আয়োজনের পথে এগোচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার পরিকল্পনা থাকলেও বর্ষা মৌসুমের কারণে ইসি নভেম্বর থেকে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করতে চায়।
নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য সংস্কারের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো দলীয় প্রতীকের বিলুপ্তি। এর ফলে প্রার্থীরা কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানার বা প্রতীক ছাড়াই স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এর ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য আগে বিদ্যমান ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের বিধানটিও তুলে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রচারণায় পরিবেশ সুরক্ষায় পোস্টার নিষিদ্ধের পাশাপাশি নির্বাচনকে সহজ ও স্বচ্ছ করতে ইভিএমের বদলে কাগজের ব্যালট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনলাইনের পরিবর্তে আগের মতো সরাসরি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পদ্ধতি বহাল রাখা এবং ফেরারি আসামিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করার বিষয়েও ইসি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রার্থীদের যোগ্যতার পাশাপাশি নির্বাচনি ব্যয় ও জামানতের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ এবং নির্বাচনি ব্যয়ের সীমা বাড়ানো হতে পারে, যা অযাচিত প্রার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। পাশাপাশি সংসদ সদস্যরা যেন স্থানীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন, সে বিষয়েও কঠোর বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে সংসদ সদস্যদের বসা এবং প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। তবে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা এই নির্বাচনে থাকছে না।
নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইসি একটি কৌশলী অবস্থান গ্রহণ করেছে। জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আপাতত সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। ইসি মনে করছে, যেহেতু নির্বাচন ধাপে ধাপে বা অঞ্চলভিত্তিক হবে, তাই পুলিশ, আনসার ও বিজিবি দিয়েই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে কোনো এলাকায় সহিংসতা বা বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেখানে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী ডাকার সুযোগ রাখা হবে। জুন মাসের মধ্যেই এই নতুন নির্বাচনি বিধিমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কমিশন।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় সরকারকে পুনরায় নির্দলীয় করার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক সংঘাত কমাতে এবং যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত হতে সহায়তা করবে। ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন নেওয়ার নিয়মটি গোপন ব্যালটের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় সেটি তুলে দেওয়াকেও তারা যৌক্তিক মনে করছেন। তবে সংঘাতমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ও কমিশনের কঠোর অবস্থান অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে, এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় এক নতুন ধারার সূচনা হবে।

