Author: Jvadmin

  • গোপালগঞ্জে রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে সুপেয় পানি, ছাতা ও হাতপাখা বিতরণ

    গোপালগঞ্জে রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে সুপেয় পানি, ছাতা ও হাতপাখা বিতরণ

     

    গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 

    গোপালগঞ্জ তীব্র তাপদাহে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জেলা ইউনিটের উদ্যোগে সুপেয় পানি, ছাতা ও হাতপাখা বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

    গোপালগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট ট্রাফিক বক্স ও মডেল মসজিদ রোড সংলগ্ন এলাকায় পথচারী, রিকশাচালক, শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

    সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যাওয়ায় মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। কর্মসূচির আওতায় পথচারীদের মাঝে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের পাশাপাশি হাতপাখা ও ছাতা বিতরণ করা হয়, যা গরমের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি গোপালগঞ্জ জেলা ইউনিটের চেয়ারম্যান শরীফ রফিকউজ্জামান, ইউনিট লেভেল অফিসার বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, যুব প্রধান জুবায়ের খান সহ সংগঠনের অন্যান্য যুব সদস্যরা।

    রেড ক্রিসেন্টের নেতৃবৃন্দ জানান, তাপদাহের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় জনগণকে সচেতন করতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাইকিংয়ের মাধ্যমে হিট স্ট্রোকের লক্ষণ, প্রতিকার এবং অতিরিক্ত গরমে করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

    জেলা রেড ক্রিসেন্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী সাত দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি ছাতা, ১ হাজার লিটার সুপেয় পানি এবং ৫ হাজার হাতপাখা বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি তাপদাহ ও হিট স্ট্রোক থেকে নিরাপদ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান, অপ্রয়োজনে রোদে বের না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    স্থানীয়রা রেড ক্রিসেন্টের এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের কার্যক্রম সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এই সময় গোপালগঞ্জ সাংবাদিক ক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক ও রেডক্রিসেন্ট এর আজীবন সদস্য সাংবাদিক মাহমুদ উপস্থিত হয়ে সুপেয় পানি পান করেন। মানবতার সেবায় যুব রেডক্রিসেন্ট সদস্য ও সদস্যাদের এই পথচলা হোক মানুষের কল্যানে!

  • দামুড়হুদায় ভ্রাম্যমান আদালত মাদক মামলায় দু’জনের কারাদণ্ড

    দামুড়হুদায় ভ্রাম্যমান আদালত মাদক মামলায় দু’জনের কারাদণ্ড

     

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি 

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুরে ও দর্শনা পৌরসভায় মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা কর হয়। এসময় দু’জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

    বুধবার (০৩ জুন) দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন আলম।

    ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানাগেছে, মাদকদ্রব্যের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা থাকা ও মাদকদ্রব্য সেবনের অপরাধের “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮” অনুযায়ী উপজেলার জুড়ানপুর পশ্চিমপাড়ার আরজিবুল হোসেনের ছেলে শাকিব হোসেন (২৬) কে ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

    এছাড়া দর্শনা পৌর এলাকার দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের কিতাব আলী সর্দারের ছেলে আলম সরদার (৬৯) কে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

    মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

  • বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে এক নারী ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার

    বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে এক নারী ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর একটি কক্ষ থেকে এক নারী ও দুই কন্যা সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহত নারীর নাম স্মৃতি রানী। তিনি জেলার কালিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর পার্টটাইম ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া দুই শিশু ওই নারীর সন্তান।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডাকবাংলোর ৩ নম্বর কক্ষে আনুমানিক ৬ বছর বয়সী এক কন্যা শিশুর মরদেহ বিছানার ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পাশের ৪ নম্বর কক্ষ (খাকদন-৪) দরজা ভেঙে স্মৃতি রানী ও প্রায় ২ বছর বয়সী আরেক শিশু কন্যার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা জানান, বেলা এগারোটার দিকে দুই সন্তানসহ কাজে আসেন স্মৃতি রাণী। ধারণা করা হচ্ছে, দুই শিশু সন্তানকে হত্যা করে মা আত্মহত্যা করেন। তিনি আরও জানান, প্রতিবেশী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে স্মৃতি রাণী ঋণগ্রস্ত ছিলেন। এসব কারণে আত্মহত্যা করতে পারে।

    বরগুনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ. আলীম জানান, ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

  • খাদ্য মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন গ্রেডে চাকরি, আবেদন এসএসসি-এইচএসসি পাসে

    খাদ্য মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন গ্রেডে চাকরি, আবেদন এসএসসি-এইচএসসি পাসে

    চাকরি 

    জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। প্রতিষ্ঠানটি ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডে ৩ পদে ১৮ কর্মী নিয়োগে ২৪ মে প্রকাশ করেছে এ বিজ্ঞপ্তি। আবেদন ৪ জুন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে চলবে ২৮ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

    প্রতিষ্ঠানের নাম: খাদ্য মন্ত্রণালয়

    ১. পদের নাম: সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর

    পদসংখ্যা: ২টি

    বেতন স্কেল: ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা (গ্রেড-১৩)

    আবেদনের যোগ্যতা

    *স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে

    *সাঁটলিপিতে গতি প্রতি মিনিটে বাংলায় ন্যূনতম ৪৫ ও ইংরেজিতে ৭০ শব্দ থাকতে হবে

    *কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে গতি প্রতি মিনিটে বাংলায় ন্যূনতম ২৫ ও ইংরেজিতে ৩০ শব্দ থাকতে হবে

    ২. পদের নাম: অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক

    পদসংখ্যা: ১টি

    বেতন স্কেল: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬)

    আবেদনের যোগ্যতা

    *এইচএসসি পাস হতে হবে

    *কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে গতি প্রতি মিনিটে বাংলায় ন্যূনতম ২০ ও ইংরেজিতে ২০ শব্দ থাকতে হবে

    ৩. পদের নাম: অফিস সহয়ক

    পদসংখ্যা: ১৫টি

    বেতন স্কেল: ৮,২৫০-২০,০১০ টাকা (গ্রেড-২০)

    আবেদনের যোগ্যতা: অন্যূন এসএসসি পাস হতে হবে

    চাকরির ধরন: পূর্ণকালীন (অস্থায়ী)

    প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন

    কর্মস্থল: দেশের যেকোনো স্থানে

    প্রার্থীর বয়স: ১৮-৩২ বছর (১ জুন ২০২৬ তারিখে)। তবে ১ ও ২ নম্বর পদের বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৪০ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য

    আবেদন যেভাবে

    আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে ক্লিক করে ফরম পূরণের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন

    আবেদন ফি

    টেলিটক প্রি-পেইড নম্বর থেকে আবেদন ফি বাবদ ১-২ নম্বর পদের জন্য ১১২ টাকা, ৩ নম্বর পদের জন্য ৫৬ টাকা অনলাইনে ফরম পূরণের অনধিক ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসএমএসের মাধ্যমে জমা দিতে হবে

    আবেদনের শেষ তারিখ: আগামী ২৮ জুন ২০২৬, বিকেল ৫টা

    আবেদনপদ্ধতিসহ অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

     

    সূত্রঃ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট 

  • দিনাজপুরে লিচুর বাজার জমজমাট; অর্ধশত কোটি টাকার বানিজ্যের আশা

    দিনাজপুরে লিচুর বাজার জমজমাট; অর্ধশত কোটি টাকার বানিজ্যের আশা

     

    দিনাজপুর প্রতিনিধি

    দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু বেদানা সহ সব ধরনের লিচু বাজারে উঠতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতে জেলার সবচেয়ে বড় লিচুর পাইকারি বাজার কালিতলা ও পুলহাটে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে লিচু কেনাবেচার মহোৎসব। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পাইকাররা আড়তদারদের সাথে দরদাম করে মাদ্রাজি, বেদানা, কাঁঠালি, বোম্বাই ও চায়না-থ্রিসহ বিভিন্ন জাতের লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

    এদিকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা ঢাকাসহ অন্যান্য জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য আগাম লিচু কিনতে সরাসরি বাগানে ভিড় করছেন। সদর উপজেলার উলিপুর, আউলিযাপুর, মাছিমপুর, সিকদারহাট এবং বিরল উপজেলার ফারাক্কাবাদ, মঙ্গলপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাগান থেকে লিচু সংগ্রহ করে বিশেষ যত্নে বাঁশের ঝুড়িতে প্যাকেটিং করে পাঠানো হচ্ছে।

    বর্তমানে বাজারে মাদ্রাজি, বেদানা ও চায়না-৩ জাতের লিচু পাওয়া যাচ্ছে। তবে বোম্বাই ও চায়না-২ সহ অন্যান্য জাতের লিচু বাজারে আসতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে চাষিরা একটু আগেভাগেই লিচু পাড়তে শুরু করেছেন। কালিতলা নিউ মার্কেটে আকারভেদে প্রতি ১০০ মাদ্রাজি লিচু ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বেদানা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং চায়না-৩ লিচু ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখানকার উৎপাদিত লিচুর শতকরা ২০ ভাগ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাকি ৮০ ভাগই চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

    দিনাজপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মোতাহের হোসেন জানান, দিনাজপুরের বেদানা লিচু ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। গত দুই বছর ধরে এই লিচু বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। গত বছর ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় সফলভাবে লিচু পাঠানো হয়েছে এবং এবারও বেশ কয়েকজন বিদেশি ক্রেতা লিচু নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, চৈত্র ও বৈশাখ মাসের তীব্র দাবদাহের পর জ্যৈষ্ঠের বৃষ্টিতে গাছে থাকা লিচু রক্ষায় মাঠকর্মীরা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছেন। এর ফলে চাষিরা লিচুর ভালো দাম পাচ্ছেন।

    তবে কালিতলা নিউ মার্কেটের আড়তদার মওলা বক্স ও খুচরা ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম জানান, তীব্র গরমের কারণে মাদ্রাজি লিচু ঝরে পড়ায় এর সরবরাহ কিছুটা কম এবং ঢাকার পাইকারদের আধিক্যের কারণে স্থানীয় বাজারে এবার লিচুর দাম গতবারের চেয়ে কিছুটা চড়া। কালিতলা পাইকারি বাজারের ইজারাদার মো. দবিরুল ইসলাম বলেন, এটি শহরের সবচেয়ে বড় ফলের বাজার, যেখানে দৈনিক ৩ থেকে ৪ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হয়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই বাজারটি দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

    দিনাজপুর হর্টিকালচার বিভাগের উপপরিচালক মো. এজামুল হক জানান, চলতি বছর জেলায় ৭ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১১ হাজার ৫৮০টি গাছে লিচুর চাষ হয়েছে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন। বাজারদর ভালো থাকায় এ বছর লিচু খাত থেকে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকার অধিক বাণিজ্যের আশা করছে কৃষি বিভাগ।

  • মার্কিন নাগরিকের ৪ বছরের শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

    মার্কিন নাগরিকের ৪ বছরের শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

    কক্সবাজার প্রতিনিধি 

    কক্সবাজারের টেকনাফে অপহরণের শিকার এক মার্কিন নাগরিক ৪ বছর বয়সী শিশুকে উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১৫। এ ঘটনায় জড়িত সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    র‌্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন টেকনাফ মডেল থানাধীন সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লান পাড়া এলাকায় এক শিশুকে অপহরণের চেষ্টা করা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫ এর সিপিসি-১, টেকনাফ ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন টেকনাফ উপজেলার নতুন পল্লান পাড়ার শাহাব উদ্দিন (২৮), মহেশখালী পাড়ার কেফায়েত উল্লাহ (২৪) এবং নতুন পল্লান পাড়ার আব্দুর রজব মিয়া (৩৫)।

    র‌্যাব জানায়, নিয়মিত টহলরত অবস্থায় শাপলা চত্বর মোড় এলাকায় কর্তব্যরত সদস্যরা অপহরণচেষ্টার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে স্থানীয় জনতা তিন অভিযুক্তকে আটক করে গণপিটুনি দিচ্ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে র‌্যাব সদস্যরা অভিযুক্তদের উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন এবং আহত অবস্থায় তাদের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

    স্থানীয়দের বরাতে র‌্যাব আরও জানায়, একই দিন দুপুর আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটের দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের পশ্চিম গোদারবিল এলাকার বাসিন্দা মো. জুবায়েরের ভাগিনা, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ৪ বছর বয়সী শিশুটিকে বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে একা পেয়ে জোরপূর্বক অপহরণের চেষ্টা চালায় গ্রেফতারকৃতরা। এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে শিশুটিকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের আটক করে।

    উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। একই সঙ্গে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

    র‌্যাব-১৫ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাজে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধী ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • সালথা গ্যাস ট্যাবলেট ও বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ নিধনের অভিযোগ

    সালথা গ্যাস ট্যাবলেট ও বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ নিধনের অভিযোগ

    ফরিদপুর প্রতিনিধি

    ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের পূর্ব ফুলবাড়ীয়া দোহায় দীর্ঘদিন ধরে অবাধে গ্যাস ট্যাবলেট ও বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এতে পানি দূষিত হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নদীপারের কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, একশ্রেণির অসাধু মাছ শিকারির কারণে এখন বাঁওড়ে পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের আঁধারে বাঁওড়ে গ্যাস ট্যাবলেট ও বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগ করে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে ছোট-বড় সব ধরনের দেশীয় মাছ মারা যাচ্ছে। একই সঙ্গে পানির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।

    সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দেওয়ালীকান্দা, পূর্ব ফুলবাড়ীয়া, চরবাঙ্গরাইল, রায়েরচর, গুচ্ছগ্রাম, বিষ্ণুদি ও কাকদী এলাকার বাসিন্দারা। প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই বাওরের পানির ওপর নির্ভরশীল হলেও বর্তমানে সেই পানি পান, রান্না কিংবা গোসলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

    স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু মোল্লা (৩৪) বলেন, “গ্যাস ট্যাবলেট দেওয়ার কারণে পুঁটি মাছ, শৈল মাছ, গজার মাছসহ অনেক দেশীয় মাছ মারা যাচ্ছে। আগের মতো মাছও পাওয়া যায় না।”

    রোকন মোল্লা (৬৫) বলেন, “এই পানি কেউ রান্না করে খেতে পারে না, গোসলও করতে পারে না। শরীরে চুলকানি ও এলার্জি বাড়তেছে।”

    হেমায়েত মোল্লা (৩৮) বলেন, “বাওরের পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমরা চরম সমস্যায় আছি। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দরকার।”

    সুমন মোল্লা (৩২) বলেন, “রাত হলেই কিছু লোক এসে বিষ দিয়ে মাছ মারে। আমরা বাধা দিলেও তারা শোনে না।”

    বাচ্চু মোল্লা (৫৬) বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এই বাওরে আর কোনো মাছ থাকবে না।”

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ঘটনা চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অসাধু চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পরিবেশের পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্যও।

    এ বিষয়ে বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান (শাহিন) বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ এই বিল ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু কিছুদিন ধরে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে পানি অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

    সালথা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু মুঠোফোনে বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করবে।”

    স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অভিযান চালিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় এনে বাওর রক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি সেখানে একটি মৎস্য অভয়ারণ্য গড়ে তোলারও দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

  • চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিদেশি পিস্তল ম্যাগজিন ও গুলি উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিদেশি পিস্তল ম্যাগজিন ও গুলি উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বিজিবি।

    মঙ্গলবার (০২ জুন) দিবাগত রাত ৯ টার দিকে ঝিনাইদহের মহেশপুর ৫৮ বিজিবির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে এসব করে।

    মহেশপুর ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান বুধবার সকাল ১০ টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (০২ জুন) রাত ৯ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের মেদিনীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ হরিহরনগর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে বিজিবির একটি টহল দল।

    অভিযানকালে সীমান্ত মেইন পিলার-৬৩ থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আব্দুল গণির বাঁশ বাগানের পাশে মাটির নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি একটি সচল বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

    পিস্তলের গায়ে ইংরেজিতে “MADE IN ITALY” লেখা রয়েছে। এছাড়া গুলির পেছনে “KF 7.65” লেখা পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃত গুলিগুলো ম্যাগাজিনে লোড করা অবস্থায় ছিল।

    অভিযান পরিচালনা করেন জেসিও-৯৪০৩ নায়েব সুবেদার মো. হারুন অর-রশিদ। এসময় তার সঙ্গে বিজিবির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করে মঙ্গলবার রাতেই আইনগত কার্যক্রমের জন্য জীবননগর থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলাইমান শেখ জানান, মঙ্গলবার রাত ১১ টার দিকে ৫৮-বিজিবি মেদিনীপুর ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে জীবননগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে মালিকবিহীন একটি পিস্তল থানায় জমা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • সমাজসেবায় বিশেষ সম্মাননা পেলেন নাসিরনগরের সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহান

    সমাজসেবায় বিশেষ সম্মাননা পেলেন নাসিরনগরের সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহান

     

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

    সমাজসেবা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননা অর্জন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার খান্দুরা গ্রামের কৃতী সন্তান সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহান।

    তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম সৈয়দ মোর্শেদ কামালের পুত্র। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন তিনি।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্য বিতরণ, আর্থিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে আসছেন সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহান। এলাকার কোনো ব্যক্তি অসুস্থ বা বিপদগ্রস্ত হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে খোঁজখবর নিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

    বৃহস্পতিবার ঢাকার সেরাটন হোটেলে অনুষ্ঠিত লায়ন্স কনভেনশন-২০২৬-এ সমাজসেবায় অবদানের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলার লায়ন্স গভর্নর, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং লায়ন্স নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    এসময় লায়ন্স ক্লাব অব শান্তিনগর নাভানা-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহানকে মানবসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা ও বিশেষ এওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা তার মানবিক ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    সম্মাননা প্রাপ্তির পর সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহান বলেন,
    “মানুষের সেবা করাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতেও সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যেতে চাই।”

    এ অর্জনে নাসিরনগরবাসীসহ তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন।

  • আমি মুখ খুললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে, হাদি হত্যা প্রসঙ্গে মমতা

    আমি মুখ খুললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে, হাদি হত্যা প্রসঙ্গে মমতা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    শরীফ ওসমান হাদিকে ইঙ্গিত করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হত্যাকারীর নাম গোপন করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোন করে চাপ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। নির্বাচনে হারের পর মঙ্গলবার (২ জুন) প্রথমবার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এ দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী।

    বিধানসভার নির্বাচনে পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই বিস্ফোরক মমতা। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে চাপে রাখতে রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে নাম না করে বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যা প্রসঙ্গ টেনে এনে বিস্ফোরক দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    ভোট পরবর্তী অশান্তি, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ, নিট পরীক্ষার জালিয়াতি ও বিজেপি সরকারের প্রতিহিংসামূলক আচরণের প্রতিবাদে মঙ্গলবার কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার ‘ওয়াই চ্যানেল’-এ এই ধরনা কর্মসূচিতে বসেন মমতা।

    এদিনের রাজনৈতিক সভা থেকে হঠাৎ করেই বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহবায়ক ওসমান হাদি হত্যার বিষয়টিও তুলে ধরেন মমতা। মমতার দাবি, হাদি হত্যাকারীদের রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন পান মমতা। তাকে বলা হয় এই বিষয়টি যেন বাইরে না জানানো হয়।

    মমতা বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না। আমার অধিকারও নেই বলার। কিন্তু আমি যেটা বলতে চাইছে তা হলো ওই হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এইটা তাদের কৃতিত্ব। কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়। কারণ এটা দেশের ব্যাপার।’

    অমিত শাহকে মমতার প্রশ্ন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথার ভান্ডার। তথ্য ভান্ডার।’

    তার অভিমত, ‘এতদিন আমি বলিনি। কিন্তু আজকে অত্যাচারে শেষ সীমায় গেছে বলে আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলব না।’

    মিশনারি অব চারিটিস তহবিল বন্ধ করে দেয়া নিয়েও এদিন সোচ্চার হয়েছেন মমতা। মূলত বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস। মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনের বিদ্রোহী হিসাবে চিহ্নিত হয়েছেন। মঙ্গলবারেও মমতার ধর্না কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৬ জন বিধায়ক। এমন অবস্থায় বিজেপিকে নিশানা করেছেন দলনেত্রী এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তার অভিযোগ, ‘দিল্লি থেকে কলকাঠি নাড়িয়ে তৃণমূলকে ভেঙে দেয়ার চক্রান্ত চলছে। বেআইনিভাবে পুলিশ দিয়ে আমাদের দলের বিধায়ক কাউন্সিলরদের ভয় দেখানো হচ্ছে। যদিও সেই প্রচেষ্টা কোনভাবেই সফল হবে না।’

    কেন্দ্রকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘আমাকে কতবার বলা হয়েছিল, আপনি কি চান, সব কিছু দেব। কিন্তু আমাদের দলের একটা নীতি আছে, আদর্শ আছে, দর্শন আছে। আজকে আমার একটাই দুঃখ, যাদের জন্য সারা জীবন করেছি, তারাই আজ গদ্দারের সাথে লাইন দিয়েছে। যারা আজকে তৃণমূলকে ভাঙ্গার জন্য গাদ্দারী করছে, আমি বলব সবাইকে ভগবান যেন সুমতি দেন। যদি কোনদিন ভালো কাজ করে থাকি, সেটা মেনে চলব।’

    এদিনের ধরনা কর্মসূচি শুরু করার আগে তিনি রেড রোডে অবস্থিত ভারতীয় সংবিধানের রচয়িতা বি আর আম্বেদকর এবং জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান। এরপর সেখান থেকে চলে আসেন ওয়াই চ্যানেলে। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করে দলের নেতাকর্মীদের সমাবেশে যোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হলেও বিধায়ক ও সাংসদদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।

    সদ্য শেষ হওয়ার রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে ৮০ আসনে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূল। এর মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সোমবারই দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করে তৃণমূল। ফলে ৭৮ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন বিধায়ক, সাংসদ, কাউন্সিলর ও পরাজিত বিধায়কদের দেখা গেল এদিনের কর্মসূচিতে। এদের মধ্যে অন্যতম বিধায়ক কুনাল ঘোষ, শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব, নয়না ব্যানার্জি, সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি, দোলা সেন। দলনেত্রীর নির্দেশ সত্বেও কার্যত ছন্নছাড়া অবস্থা তৃণমূলের এই ধারণা কর্মসূচির চেহারা।

    এ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী তাপস রায়।শুভেন্দু বলেন, ‘এত দুরবস্থা জানতাম না। দেড়শটা লোকও আসেনি। আপনারা ২০০ জন সাংবাদিক না থাকলে আরো করুন অবস্থা হয়ে যেত।’

    রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং একসময় তৃণমূল করে আসা রাজনীতিবিদ তাপস রায় জানিয়েছেন, ‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক। সেই কারণে ক্ষমতায় থাকলে দম্ভ, অহংকার দেখাতে নেই। অহংকারটা আকাশ ছোঁয়া হয়ে গিয়েছিল।’

    স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূলের অন্দরের বিদ্রোহ কি আরো চওড়া হচ্ছে? কারণ মঙ্গলবারও কলকাতার কর্পোরেশনের কাউন্সিলার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তারক সিং।

    এরকম এক আবহে জল্পনা আরো বাড়িয়েছে রাজ্যের তাপস রায়’এর একটি পোস্টকে ঘিরে। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতো অবস্থা হলো তৃণমূলের। বিধানসভার স্পিকারের কাছে প্রায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ক নিয়ে পৌঁছে গেছে ঋতব্রত ব্যানার্জি। খেলা হবে।’

    এনিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাপস রায় বলেন, ‘তৃণমূল দুটো ভাগে ভাগ হয়েছে। একদিকে মমতাকে অস্বীকার করছে, অন্যদিকে অভিষেককে অস্বীকার করছে। এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এটা অনিবার্য ছিল, এটা হওয়ারই ছিল। এটা হবে। তার কারণ তৃণমূল দলটা অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গায়ক-গায়িকা নায়ক নায়িকাদের নিয়ে গঠিত। একটা বাংলার দল অথচ সর্বভারতীয় দল হিসেবে দেখাতে গিয়ে গুজরাট, দিল্লি, বিহার সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে এসে রাজ্যসভা ও লোকসভায় পাঠানো হতো।’