Author: Jvadmin

  • পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির গোশত দেওয়া যাবে?

    পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির গোশত দেওয়া যাবে?

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    কোনো কোনো কোরবানিদাতার জন্য পশু জবাই, গোশত কাটা ও বণ্টনের কাজে মানুষের সহযোগিতা নিতে হয়। সহযোগিতার বিনিময়ে পারিশ্রমিক দিতে হয় তাদের। পারিশ্রমিক হিসেবে অনেকেই টাকা দেন। কেউ আবার কোরবানির গোশতও দিতে চান। প্রশ্ন হলো, পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির গোশত দেওয়া যাবে কি না?

    সামর্থ্যবানদের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। কোরবানি করতে হবে শরিয়তের বিধান মেনে। কোরবানিতে এমন কিছু ভুল আছে, যা করলে ব্যক্তির কোরবানি হবে না। হজরত আলি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে কোরবানির পশুর দেখাশোনা করতে বলেন এবং নির্দেশ দেন যেন কসাইকে পশুর গোশত, চামড়া বা অন্য কোনো অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে না দেওয়া হয়।

    ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোরবানির গোশত, চামড়া বা পশুর কোনো অংশ শ্রমের বিনিময়ে মজুরি হিসেবে দেওয়া বৈধ নয়। কারণ কোরবানির পশু মূলত আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়। তাই এর কোনো অংশকে ব্যবসায়িক লেনদেন বা পারিশ্রমিকের মাধ্যম বানানো ঠিক নয়। তাই যে চামড়া ছাড়ায়, গোশত কাটাকাটি করে দেয়, তাকে এর পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির গোশত বা পশুর কোনো অংশই দেওয়া যাবে না।

    পারিশ্রমিক আর হাদিয়া বা উপহার এক বিষয় নয়। যদি কসাই বা শ্রমিককে তার কাজের মজুরি নগদ অর্থে পরিশোধ করা হয়, এরপর অতিরিক্তভাবে সৌজন্য বা উপহার হিসেবে কিছু গোশত দেওয়া হয়, তাহলে তা বৈধ। কারণ সে ক্ষেত্রে গোশতটি মজুরি নয়, বরং সাধারণ দান বা আপ্যায়নের অন্তর্ভুক্ত।

    আমাদের সমাজে অনেক সময় দেখা যায়, কসাইয়ের পুরো পারিশ্রমিকই গোশতের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি সঠিক পদ্ধতি নয়।

    ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারে এক প্রশ্নের জবাবে বলা হয়েছে, ‘কোরবানির গোশত, চামড়া বা অন্য কিছু বিনিময় হিসেবে দেওয়া জায়েজ নয়। কেননা হাদিসে এ বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে। আলি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে আদেশ করেছেন কোরবানির উটের কাছে থেকে তার গোশত ও চামড়া সদকা করতে এবং কসাইকে তা থেকে কিছু না দিতে। তিনি আরও বলেছেন, আমরা কসাইকে নিজেদের পক্ষ থেকে পারিশ্রমিক দিতাম।’ (সহিহ বুখারি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৩২)। কোনো অবস্থায় কোরবানির গোশত বিনিময় হিসেবে দেওয়া যাবে না। তবে টাকা বা অন্য কিছু দিয়ে পরিপূর্ণ পারিশ্রমিক দিয়ে দেওয়ার পর হাদিয়া হিসেবে কোরবানির গোশত দিতে পারবে এবং দেওয়া উচিত। (আদ-দুররুল মুখতার, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৩২৮; ফতোয়া তাতারখানিয়া, খণ্ড: ১৭, পৃষ্ঠা: ৪৪২)

    কোরবানির গোশতের মধ্যে গরিব ও অসহায় মানুষেরও হক রয়েছে। তাই তা যেন যথাযথভাবে বণ্টিত হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। ইসলামের নির্দেশনা মেনে কোরবানির ইবাদত আদায় করাই একজন সচেতন মুসলমানের কর্তব্য।

  • কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে একজনকে গুলি

    কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে একজনকে গুলি

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মামলার হাজিরা দিতে একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    রোবাবর (২৪ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা দায়রা ও জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার তার সহযোগীদের নিয়ে মামলায় হাজিরা দিতে আসেন। তা শেষ করে বের হওয়ার পথে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন।

    বিস্তারিত আসছে…

  • ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল ৫ প্রাণ, মুখোমুখি সংঘর্ষে দুমড়ে-মুচড়ে গেল অ্যাম্বুলেন্স

    ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল ৫ প্রাণ, মুখোমুখি সংঘর্ষে দুমড়ে-মুচড়ে গেল অ্যাম্বুলেন্স

    মোঃ শাহ্ জালাল, ফরিদপুর প্রতিনিধি

    ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় বিআরটিসি বাস ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

    নিহতদের বাড়ি মাদারীপুরের মস্তফাপুর এলাকায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। শনিবার (২৪ মে) সকাল ১০টার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের শংকরপাশা এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্রুতগতিতে চলা একটি বিআরটিসি বাসের সঙ্গে রোগী বহনকারী একটি অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৫ জন। এতে আহত হন আরও কয়েকজন।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসূল সামদানী আজাদ বলেন, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

  • রামিসা হত্যা : সোহেল ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিচ্ছে পুলিশ

    রামিসা হত্যা : সোহেল ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিচ্ছে পুলিশ

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ।

    রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান বলেন, গতকাল ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দু’জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

    মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ।

    এ ঘটনায় বুধবার ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

  • শান্তিচুক্তি চূড়ান্তের পথে, হরমুজ খোলা নিয়ে দ্বিমত

    শান্তিচুক্তি চূড়ান্তের পথে, হরমুজ খোলা নিয়ে দ্বিমত

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২৩ মে) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে। তবে ট্রাম্পের দাবি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ। তারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অবাস্তব’ বলে উল্লেখ করেছে।

    ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিটি সম্পন্ন হলে হরমুজ প্রণালি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান। তাই এই প্রণালি খুলে দেওয়া নিয়ে ট্রাম্পের একক দাবি সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ। অবশ্য আলোচনার বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যকার বিরোধ কিছুটা কমেছে। তবে এখনও বেশ কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য আরও তিন-চার দিন অপেক্ষা করতে হবে।

    এই শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়ায় মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির তেহরানে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে শনিবার তিনি তেহরান ত্যাগ করেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এই আলোচনাকে ‘আশানুরূপ’ বলে বর্ণনা করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার জন্য একটি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও বিস্তৃত চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।

    গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর এই অঞ্চলে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এর জের ধরে হরমুজ প্রণারি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা নেমে আসে। বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চললেও গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এখনও সাধারণ জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ রয়েছে।

    এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি মূলত তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম ধাপে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটবে। দ্বিতীয় ধাপে হরমুজ প্রণালির সংকটের সমাধান করা হবে এবং তৃতীয় ধাপে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ৩০ দিনের একটি আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজনে আলোচনার সময় আরও বাড়তে পারে। আগামী শুক্রবার ঈদের ছুটির পর শান্তি চুক্তি নিয়ে পরবর্তী আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, তাদের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা তেহরানের প্রধান দাবি। তবে এর চেয়েও বড় অগ্রাধিকার হলো নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার হুমকি বন্ধ করা এবং লেবাননে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো।

    সবশেষে, ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, চলমান যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও ‘বোকামি করে যুদ্ধ শুরু করে’, তবে এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ ও তিক্ত। দীর্ঘ সংঘাতের পরও ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অস্ত্র মজুদের পাশাপাশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদও অক্ষুণ্ন রেখেছে।

  • দ্রোহ ও প্রেমের কবি নজরুলের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী আজ

    দ্রোহ ও প্রেমের কবি নজরুলের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী আজ

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    আজ (২৪ মে) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭ তম। অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯ সাল) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোলের চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

    কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। তিনি যেমন কবি ছিলেন, তেমনি ছিলেন গীতিকার, সুরকার, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক। তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করার সাহস তিনি তাঁর সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

    বাংলা সাহিত্যে তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে ডাকা হয়। কারণ তাঁর লেখনী ছিল অত্যন্ত সাহসী ও প্রতিবাদী। উপনিবেশিক শাসন, সামাজিক বৈষম্য ও ধর্মীয় সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে তিনি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর কবিতা ও গান সাধারণ মানুষের মনে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলেছিল। বিশেষ করে তরুণ সমাজ তাঁর লেখায় খুঁজে পেয়েছিল প্রতিবাদের ভাষা।

    নজরুলের সাহিত্যকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সাম্যের চেতনা। তিনি বিশ্বাস করতেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ সমান। তাঁর লেখায় ইসলামী সংস্কৃতির পাশাপাশি হিন্দু ঐতিহ্যেরও গভীর উপস্থিতি দেখা যায়। তিনি সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন এবং ধর্মীয় বিভেদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।

    নজরুলের জীবনও ছিল সংগ্রামে ভরা। শৈশবে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই, পরবর্তীতে রাজনৈতিক কারণে কারাবরণ এবং জীবনের শেষভাগে দীর্ঘ অসুস্থতা সব মিলিয়ে তাঁর জীবন ছিল নানা চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ। কিন্তু কোনো বাধাই তাঁর সৃষ্টিশীলতাকে থামাতে পারেনি। তিনি মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও মর্যাদার পক্ষে আজীবন লিখে গেছেন।

    বাংলাদেশের মানুষের কাছে নজরুল কেবল একজন কবি নন; তিনি একটি চেতনার নাম। তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন আজও মানুষকে সাহস জোগায়। সমাজে অন্যায়, বৈষম্য ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা দেয় তাঁর রচনা।

  • পা ধোয়া নিয়ে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা

    পা ধোয়া নিয়ে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    গোসলের সময় অনেকেই শরীর ভালোভাবে পরিষ্কার করলেও পা ধোয়ার বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেন না। অনেকের ধারণা, শরীর ধোয়ার সময় যে সাবান নিচে নেমে আসে সেটাই পা পরিষ্কার করার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস ঠিক নয় এবং এতে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

    ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, পা পরিষ্কার রাখা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়মিত সাবান ও হালকা গরম পানি দিয়ে পা ধোয়া উচিত, বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক এবং পায়ের তলা ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। যদি এটি নিয়মিত না করা হয়, তাহলে কিছু অস্বস্তিকর ও কখনও গুরুতর সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

    প্রথমত পায়ে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। আমাদের পা ঘাম এবং ব্যাকটেরিয়ার জন্য খুবই উপযোগী জায়গা। এই ব্যাকটেরিয়া ঘামকে ভেঙে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। নিয়মিত পা না ধুলে এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়।

    দ্বিতীয়ত, ফাঙ্গাল বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হতে পারে। জুতা ও মোজার ভেতরের আর্দ্র ও অন্ধকার পরিবেশে জীবাণু দ্রুত বাড়ে। এর ফলে অ্যাথলিটস ফুটের মতো ফাঙ্গাল সংক্রমণ, নখের ইনফেকশন কিংবা ত্বকের অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে, এই সংক্রমণ মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

    এ ছাড়া পায়ের ত্বক শুষ্ক হয়ে ফেটে যেতে পারে। যদিও এটি সরাসরি পা না ধোয়ার কারণে হয় না, তবে মৃত ত্বক জমে থাকা এবং ঠিকমতো ময়েশ্চারাইজ না করলে এই সমস্যা বাড়ে। বেশি সময় গরম পানিতে পা ভেজালে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।

    এই সমস্যাগুলো এড়াতে প্রতিদিন পা ভালোভাবে ধোয়া, শুকিয়ে নেওয়া, নিয়মিত মোজা পরিবর্তন করা এবং পরিষ্কার জুতা ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গোসলের পর পায়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাও ভালো অভ্যাস।

    সারসংক্ষেপে বলা যায়, পা ধোয়া ছোট একটি অভ্যাস মনে হলেও এটি আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত যত্ন নিলে সহজেই এই সমস্যাগুলো এড়ানো সম্ভব।

     

  • ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৩ কিলোমিটার যানজট

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৩ কিলোমিটার যানজট

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

    রোববার (২৪ মে) ভোরশুরু হওয়া এ যানজট বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আকার ধারণ করে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন চালকেরা।

    মহাসড়কের কুমিল্লামুখী লেনে গজারিয়া অংশজুড়ে এ দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহন।

    যানজটে আটকে পড়া ট্রাকচালক শামীম মিয়া বলেন, তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। কিন্তু জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে আছেন। চোখে ঘুম, কী করব বুঝতে পারছি না। শুনেছি দাউদকান্দিতে দুর্ঘটনার কারণেই এই যানজট।

    একই ভোগান্তির কথা জানিয়ে বাসচালক শহিদ বলেন, বালুয়াকান্দি এলাকা থেকে তিনি যানজটে পড়েছেন। কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব, তা বলতে পারছি না।

    এ বিষয়ে গজারিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ জানান, কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনার কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

  • মৃত্যুর পর কী দেখা হবে ভাইবোনের, যা বলে ইসলাম

    মৃত্যুর পর কী দেখা হবে ভাইবোনের, যা বলে ইসলাম

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    পৃথিবীতে ভাইবোনের সম্পর্কের চেয়ে মধুর সম্পর্ক খুব বেশি নেই। ভাইবোনের সম্পর্কে থাকে মায়া, ভালোবাসা, দায়িত্ব ও কর্তব্য। থাকে মা-বাবার ছায়া। এ সম্পর্ক মজবুত রাখা, পরস্পরের সঙ্গে সদাচরণ করা ইমানি দায়িত্ব।

    কেউ কেউ ধারণা করে বলেন, ‘মৃত্যুর পর ভাই-বোনের আর দেখা হবে না।’ বেশ কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ রকম একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকের মনে তখন প্রশ্ন জাগে, সত্যিই কি মৃত্যুর পর ভাইবোনের দেখা হবে না?

    ‘মৃত্যুর পর ভাই-বোনের আর দেখা হবে না’ এ কথা সঠিক নয়। ইসলামে এর ভিত্তি নেই। কোরআন-হাদিসে এ কথার সত্যতা নেই। মৃত্যুর পর ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, মা-বাবা একে অপরের দেখা হবে। তারা জান্নাতে দেখা-সাক্ষাৎ করবে। নানা ধরনের খোশ-গল্প করবে।

    কোরআনে আছে, ‘যখন মহা শব্দকারী (বিকট আওয়াজ) আসবে, যেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার ভাইয়ের কাছ থেকে, তার মা ও বাবার কাছ থেকে এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের কাছ থেকে। সেদিন তাদের প্রত্যেকের এমন এক গুরুতর অবস্থা থাকবে যা তাকে অন্য সবকিছু থেকে উদাসীন করে দেবে।’ (সুরা আবাসা, আয়াত : ৩৩-৩৭)

    এই আয়াতে কেয়ামতের দিনের ভয়াবহতার বর্ণনা করা হয়েছে। সেই ভয়ংকর দিনে মানুষ এতটাই ভীতসন্ত্রস্ত থাকবে যে, তারা তাদের প্রিয়জন, যেমন ভাই-বোন, মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী এবং সন্তানদের থেকে দূরে পালাবে। সবাই নিজের চিন্তায় ব্যস্ত থাকবে। অন্য কারও দিকে তাকানো বা সাহায্য করার সুযোগ পাবে না।

    এই আয়াত দিয়ে এটাও প্রমাণিত হয়, মৃত্যুর পর ভাই-বোন, মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী প্রত্যেকেরই একে অপরের সঙ্গে দেখা হবে। সবাই সবাইকে চিনতে পারবে। কিন্তু ভয় ও আতঙ্কের কারণে কেউ কারও দিকে ফিরেও তাকাবে না। সাহয্যও করবে না।

    আল্লাহ জান্নাতে মুমিনদেরকে তাদের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে একত্রিত করবেন। কোরআনে আছে, ‘স্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে এবং বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল, তারাও তাদের সঙ্গে প্রবেশ করবে।’ (সুরা রদ, আয়াত : ২৩)

    এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহ জান্নাতে মুমিনদেরকে তাদের প্রিয়জনদের বা বাবা-মা, স্ত্রী এবং সন্তানদের মধ্যে যারা জান্নাতে প্রবেশের যোগ্য, তাদের সঙ্গে একত্রিত করবে, যাতে তাদের চোখ জুড়িয়ে যায়।’

    জালাল উদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহ জানতেন যে, মুমিন ব্যক্তি দুনিয়াতে তার পরিবার-পরিজনকে একত্রিত করতে ভালোবাসে। তাই তিনি আখেরাতেও তাদের একত্রিত করতে পছন্দ করেন।’

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘(আখেরাতে) মানুষ থাকবে তার প্রিয়জনের সঙ্গে।’ (সহিহ বুখারি)। দুনিয়াতে মানুষের প্রিয়জন বলতে যাদের ধরা হয়, এর মধ্যে ভাই-বোন অন্যতম। তাই আখেরাতে ভাই-বোনের দেখা হবে।

  • কবিতা: সচেতন

    কবিতা: সচেতন

    সচেতন

    সামনে গর্ত পিছনে শেয়াল
    ডানে আদেশ বাঁয়ে দেয়াল।
    আমার দুই কাঁধে আছেরে বসে,
    লিখছে আমার দুইজনা লেখক।
    প্রাণ আমার তারে-নারে,
    কর্ম আমার দুইভাগে ভাগ
    লেখক আমার সচেতন।
    একলা বসে ভাবছে রে মিলু
    নিজের কর্ম নিজে সচেতন।

    কবিঃ জাহাঙ্গীর আলম মিলু