Author: Jvadmin

  • দ্রোহ ও প্রেমের কবি নজরুলের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী আজ

    দ্রোহ ও প্রেমের কবি নজরুলের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী আজ

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    আজ (২৪ মে) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭ তম। অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯ সাল) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোলের চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

    কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। তিনি যেমন কবি ছিলেন, তেমনি ছিলেন গীতিকার, সুরকার, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক। তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করার সাহস তিনি তাঁর সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

    বাংলা সাহিত্যে তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে ডাকা হয়। কারণ তাঁর লেখনী ছিল অত্যন্ত সাহসী ও প্রতিবাদী। উপনিবেশিক শাসন, সামাজিক বৈষম্য ও ধর্মীয় সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে তিনি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর কবিতা ও গান সাধারণ মানুষের মনে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলেছিল। বিশেষ করে তরুণ সমাজ তাঁর লেখায় খুঁজে পেয়েছিল প্রতিবাদের ভাষা।

    নজরুলের সাহিত্যকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সাম্যের চেতনা। তিনি বিশ্বাস করতেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ সমান। তাঁর লেখায় ইসলামী সংস্কৃতির পাশাপাশি হিন্দু ঐতিহ্যেরও গভীর উপস্থিতি দেখা যায়। তিনি সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন এবং ধর্মীয় বিভেদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।

    নজরুলের জীবনও ছিল সংগ্রামে ভরা। শৈশবে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই, পরবর্তীতে রাজনৈতিক কারণে কারাবরণ এবং জীবনের শেষভাগে দীর্ঘ অসুস্থতা সব মিলিয়ে তাঁর জীবন ছিল নানা চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ। কিন্তু কোনো বাধাই তাঁর সৃষ্টিশীলতাকে থামাতে পারেনি। তিনি মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও মর্যাদার পক্ষে আজীবন লিখে গেছেন।

    বাংলাদেশের মানুষের কাছে নজরুল কেবল একজন কবি নন; তিনি একটি চেতনার নাম। তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন আজও মানুষকে সাহস জোগায়। সমাজে অন্যায়, বৈষম্য ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা দেয় তাঁর রচনা।

  • পা ধোয়া নিয়ে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা

    পা ধোয়া নিয়ে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    গোসলের সময় অনেকেই শরীর ভালোভাবে পরিষ্কার করলেও পা ধোয়ার বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেন না। অনেকের ধারণা, শরীর ধোয়ার সময় যে সাবান নিচে নেমে আসে সেটাই পা পরিষ্কার করার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস ঠিক নয় এবং এতে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

    ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, পা পরিষ্কার রাখা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়মিত সাবান ও হালকা গরম পানি দিয়ে পা ধোয়া উচিত, বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক এবং পায়ের তলা ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। যদি এটি নিয়মিত না করা হয়, তাহলে কিছু অস্বস্তিকর ও কখনও গুরুতর সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

    প্রথমত পায়ে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। আমাদের পা ঘাম এবং ব্যাকটেরিয়ার জন্য খুবই উপযোগী জায়গা। এই ব্যাকটেরিয়া ঘামকে ভেঙে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। নিয়মিত পা না ধুলে এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়।

    দ্বিতীয়ত, ফাঙ্গাল বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হতে পারে। জুতা ও মোজার ভেতরের আর্দ্র ও অন্ধকার পরিবেশে জীবাণু দ্রুত বাড়ে। এর ফলে অ্যাথলিটস ফুটের মতো ফাঙ্গাল সংক্রমণ, নখের ইনফেকশন কিংবা ত্বকের অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে, এই সংক্রমণ মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

    এ ছাড়া পায়ের ত্বক শুষ্ক হয়ে ফেটে যেতে পারে। যদিও এটি সরাসরি পা না ধোয়ার কারণে হয় না, তবে মৃত ত্বক জমে থাকা এবং ঠিকমতো ময়েশ্চারাইজ না করলে এই সমস্যা বাড়ে। বেশি সময় গরম পানিতে পা ভেজালে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।

    এই সমস্যাগুলো এড়াতে প্রতিদিন পা ভালোভাবে ধোয়া, শুকিয়ে নেওয়া, নিয়মিত মোজা পরিবর্তন করা এবং পরিষ্কার জুতা ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গোসলের পর পায়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাও ভালো অভ্যাস।

    সারসংক্ষেপে বলা যায়, পা ধোয়া ছোট একটি অভ্যাস মনে হলেও এটি আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত যত্ন নিলে সহজেই এই সমস্যাগুলো এড়ানো সম্ভব।

     

  • ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৩ কিলোমিটার যানজট

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৩ কিলোমিটার যানজট

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

    রোববার (২৪ মে) ভোরশুরু হওয়া এ যানজট বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আকার ধারণ করে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন চালকেরা।

    মহাসড়কের কুমিল্লামুখী লেনে গজারিয়া অংশজুড়ে এ দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহন।

    যানজটে আটকে পড়া ট্রাকচালক শামীম মিয়া বলেন, তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। কিন্তু জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে আছেন। চোখে ঘুম, কী করব বুঝতে পারছি না। শুনেছি দাউদকান্দিতে দুর্ঘটনার কারণেই এই যানজট।

    একই ভোগান্তির কথা জানিয়ে বাসচালক শহিদ বলেন, বালুয়াকান্দি এলাকা থেকে তিনি যানজটে পড়েছেন। কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব, তা বলতে পারছি না।

    এ বিষয়ে গজারিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ জানান, কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনার কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

  • মৃত্যুর পর কী দেখা হবে ভাইবোনের, যা বলে ইসলাম

    মৃত্যুর পর কী দেখা হবে ভাইবোনের, যা বলে ইসলাম

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    পৃথিবীতে ভাইবোনের সম্পর্কের চেয়ে মধুর সম্পর্ক খুব বেশি নেই। ভাইবোনের সম্পর্কে থাকে মায়া, ভালোবাসা, দায়িত্ব ও কর্তব্য। থাকে মা-বাবার ছায়া। এ সম্পর্ক মজবুত রাখা, পরস্পরের সঙ্গে সদাচরণ করা ইমানি দায়িত্ব।

    কেউ কেউ ধারণা করে বলেন, ‘মৃত্যুর পর ভাই-বোনের আর দেখা হবে না।’ বেশ কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ রকম একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকের মনে তখন প্রশ্ন জাগে, সত্যিই কি মৃত্যুর পর ভাইবোনের দেখা হবে না?

    ‘মৃত্যুর পর ভাই-বোনের আর দেখা হবে না’ এ কথা সঠিক নয়। ইসলামে এর ভিত্তি নেই। কোরআন-হাদিসে এ কথার সত্যতা নেই। মৃত্যুর পর ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, মা-বাবা একে অপরের দেখা হবে। তারা জান্নাতে দেখা-সাক্ষাৎ করবে। নানা ধরনের খোশ-গল্প করবে।

    কোরআনে আছে, ‘যখন মহা শব্দকারী (বিকট আওয়াজ) আসবে, যেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার ভাইয়ের কাছ থেকে, তার মা ও বাবার কাছ থেকে এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের কাছ থেকে। সেদিন তাদের প্রত্যেকের এমন এক গুরুতর অবস্থা থাকবে যা তাকে অন্য সবকিছু থেকে উদাসীন করে দেবে।’ (সুরা আবাসা, আয়াত : ৩৩-৩৭)

    এই আয়াতে কেয়ামতের দিনের ভয়াবহতার বর্ণনা করা হয়েছে। সেই ভয়ংকর দিনে মানুষ এতটাই ভীতসন্ত্রস্ত থাকবে যে, তারা তাদের প্রিয়জন, যেমন ভাই-বোন, মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী এবং সন্তানদের থেকে দূরে পালাবে। সবাই নিজের চিন্তায় ব্যস্ত থাকবে। অন্য কারও দিকে তাকানো বা সাহায্য করার সুযোগ পাবে না।

    এই আয়াত দিয়ে এটাও প্রমাণিত হয়, মৃত্যুর পর ভাই-বোন, মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী প্রত্যেকেরই একে অপরের সঙ্গে দেখা হবে। সবাই সবাইকে চিনতে পারবে। কিন্তু ভয় ও আতঙ্কের কারণে কেউ কারও দিকে ফিরেও তাকাবে না। সাহয্যও করবে না।

    আল্লাহ জান্নাতে মুমিনদেরকে তাদের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে একত্রিত করবেন। কোরআনে আছে, ‘স্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে এবং বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল, তারাও তাদের সঙ্গে প্রবেশ করবে।’ (সুরা রদ, আয়াত : ২৩)

    এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহ জান্নাতে মুমিনদেরকে তাদের প্রিয়জনদের বা বাবা-মা, স্ত্রী এবং সন্তানদের মধ্যে যারা জান্নাতে প্রবেশের যোগ্য, তাদের সঙ্গে একত্রিত করবে, যাতে তাদের চোখ জুড়িয়ে যায়।’

    জালাল উদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহ জানতেন যে, মুমিন ব্যক্তি দুনিয়াতে তার পরিবার-পরিজনকে একত্রিত করতে ভালোবাসে। তাই তিনি আখেরাতেও তাদের একত্রিত করতে পছন্দ করেন।’

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘(আখেরাতে) মানুষ থাকবে তার প্রিয়জনের সঙ্গে।’ (সহিহ বুখারি)। দুনিয়াতে মানুষের প্রিয়জন বলতে যাদের ধরা হয়, এর মধ্যে ভাই-বোন অন্যতম। তাই আখেরাতে ভাই-বোনের দেখা হবে।

  • কবিতা: সচেতন

    কবিতা: সচেতন

    সচেতন

    সামনে গর্ত পিছনে শেয়াল
    ডানে আদেশ বাঁয়ে দেয়াল।
    আমার দুই কাঁধে আছেরে বসে,
    লিখছে আমার দুইজনা লেখক।
    প্রাণ আমার তারে-নারে,
    কর্ম আমার দুইভাগে ভাগ
    লেখক আমার সচেতন।
    একলা বসে ভাবছে রে মিলু
    নিজের কর্ম নিজে সচেতন।

    কবিঃ জাহাঙ্গীর আলম মিলু

  • ইবিতে কাঙ্ক্ষিত সাড়া নেই বৈদ্যুতিক শাটলে, বাড়ছে লোকসানের শঙ্কা

    ইবিতে কাঙ্ক্ষিত সাড়া নেই বৈদ্যুতিক শাটলে, বাড়ছে লোকসানের শঙ্কা

    নাফীজ আহমেদ, ইবি প্রতিনিধি 

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াতকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে চালু করা বৈদ্যুতিক শাটল (ইভি) সেবা প্রত্যাশিত সফলতা অর্জন করতে পারেনি। পরিবেশবান্ধব এ উদ্যোগটি শুরুতে আশাবাদ তৈরি করলেও বর্তমানে যাত্রী সংকট, সীমিত আয় এবং ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত নানা জটিলতায় প্রকল্পটি আর্থিকভাবে টেকসই থাকবে কি না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

    ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ১৪ আসনের চারটি বৈদ্যুতিক শাটল কার চালু করা হয়। প্রশাসন ভবন চত্বরে এর উদ্বোধন করেন তৎকালীন উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। জনপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয় পাঁচ টাকা।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কিস্তিতে গাড়ি কিনলে প্রতিটির দাম প্রায় ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত পড়ত। তাই প্রশাসন অভ্যন্তরীণ তহবিল থেকে নগদ অর্থ নিয়ে প্রায় ৪৪ লাখ টাকায় চারটি গাড়ি কেনা হয়। এতে বাইরের উচ্চ সুদ এড়ানো গেলেও তহবিলের বিপরীতে কিছু সুদ দিতে হচ্ছে।

    প্রথম দিন চারটি ইভি থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। শুরুতে ধারণা ছিল, পরিচিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়ও বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে সময়ের সঙ্গে আয় কমে যায়। হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পের সুদ ও ব্যয় মেটাতে মাসে অন্তত ৬০ হাজার টাকা আয় প্রয়োজন।

    প্রথমদিকে চালকদের বেতনভিত্তিকভাবে নিয়োগ দেওয়ার চিন্তা থাকলেও তা বাস্তবসম্মত হয়নি। কারণ ইভি থেকে যে আয় হচ্ছিল, তা দিয়ে সুদ পরিশোধের পাশাপাশি চালকদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পরে সিদ্ধান্ত হয়, চারটি ইভি সাপ্তাহিক চুক্তিভিত্তিক চালকদের কাছে দেওয়া হবে। শর্ত অনুযায়ী, প্রতিটি গাড়ির জন্য সপ্তাহে ৪ হাজার টাকা করে জমা দেওয়ার চুক্তি করেন তারা।

    তবে বাস্তবে সেই লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হচ্ছে না। বিগত সপ্তাহে চালকেরা নির্ধারিত ৪ হাজার টাকার পরিবর্তে কেউ ৩২০০ টাকা, কেউ ৩৭০০ টাকা, কেউ ৩৮০০ টাকা জমা দিয়েছেন। এতে প্রকল্পটি এখনো লোকসানে রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

    শুরু থেকেই প্রকল্পটি নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়। একটি ইভি স্থানীয় ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। এছাড়া আরেকটি গাড়ি ব্যাটারি সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি জানানো হলেও এখনো সমাধান হয়নি।

    পরিবহন অফিস সূত্রে, ক্যাম্পাসে চলাচলকারী ভ্যানগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় এনে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করলে ইভির যাত্রী বাড়তে পারে এমন প্রস্তাবও উঠেছিল। এ বিষয়ে ট্রেজারার ও উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হলেও প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা আপত্তি জানান। তাদের আশঙ্কা ছিল, স্থানীয় ভ্যানচালকদের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হতে পারে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় বাইরের দর্শনার্থী, ঘুরতে আসা অতিথি এবং ছুটির দিনের পর্যটকেরাই ইভিতে বেশি ওঠেন। শিক্ষার্থীদের অনেকে নিয়মিত এই সেবা ব্যবহার করেন না।

    ক্যাম্পাসে বর্তমানে প্রায় ৫০টি ভ্যান চলাচল করে। দ্রুত ক্লাসে যাওয়া, সভা বা বিভাগীয় কাজে পৌঁছানোর জন্য শিক্ষার্থীরা ভ্যানকেই বেশি প্রাধান্য দেন। অন্যদিকে ইভি নির্দিষ্ট স্টপেজে দাঁড়ায় এবং চার-পাঁচজন যাত্রী না হলে ছাড়ে না। ফলে তাৎক্ষণিক যাতায়াতে শিক্ষার্থীরা ভ্যানকে বেশি সুবিধাজনক মনে করেন।

    একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ইভি আরামদায়ক ও পরিবেশবান্ধব হলেও দৈনন্দিন দ্রুত চলাচলের জন্য এটি সবসময় কার্যকর নয়। ক্যাম্পাসে ক্লাস, পরীক্ষা, বিভাগীয় কার্যক্রম বা বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে তারা ভ্যানকেই বেশি সুবিধাজনক মনে করেন। শিক্ষার্থীদের মতে, ইভি সাধারণত ৪-৫ জন যাত্রী না হলে ছেড়ে যায় না, ফলে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া ইভির নির্দিষ্ট কিছু স্টপেজ রয়েছে, শুধুমাত্র সেসব স্থানেই এটি থামে। ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগে। এ কারণে সময় বাঁচাতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভ্যান ব্যবহারকেই বেশি প্রাধান্য দেন।

    পরিবহন প্রশাসক আব্দুর রউফ বলেন, প্রকল্পটি সচল রাখতে প্রশাসন নানা উদ্যোগ নিয়েছে। টিকিট ব্যবস্থা, চালকদের চুক্তিভিত্তিক পরিচালনা, সচেতনতামূলক স্টিকার, ভ্যান নিবন্ধনের প্রস্তাব সবই বিবেচনায় আনা হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে একটি ইভিকে শিক্ষকদের পরিবহন, একটি শিক্ষার্থীদের সার্ভিসিং কার এবং আরেকটি কর্মকর্তা ও অতিথিদের ব্যবহারের জন্য চালুর প্রস্তাব দেওয়া যেতে পারে।

  • যে তাকবিরে মুখরিত হবে পুরো পৃথিবী

    যে তাকবিরে মুখরিত হবে পুরো পৃথিবী

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    জিলহজ মাস শুরু হলেই বদলে যেতে থাকে মুসলিম বিশ্বের পরিবেশ। পবিত্র মক্কা, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফাসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে ধ্বনিত হয় তাকবির ও তালবিয়ার সুমধুর আহ্বান ‘আল্লাহু আকবার’ এবং ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’।

    মসজিদ, ঘরবাড়ি, রাস্তা এমনকি বিভিন্ন জনসমাগমস্থলেও শোনা যায় তাকবিরে তাশরিকের ধ্বনি। এটি শুধু ধর্মীয় উচ্চারণ নয়; বরং মহান আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের গভীর বহিঃপ্রকাশ।

    আরব বিশ্বসহ বিভিন্ন দেশে জিলহজের শুরু থেকেই বাড়ি ও জনবহুল এলাকায় তাকবিরের সাউন্ড বাজানো হয়। অন্যদিকে হজযাত্রীদের কণ্ঠে উচ্চারিত তালবিয়া যেন গোটা মুসলিম উম্মাহকে এক সুতোয় আবদ্ধ করে।

    ইসলামে তাকবিরে তাশরিক ও তালবিয়ার গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আইয়ামে তাশরিকের পাঁচ দিনে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব। আর হজ পালনকারীদের জন্য তালবিয়া ও তাকবির উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত।

    ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ইবাদতের আবহ এবং আল্লাহর স্মরণে জিলহজ মাস মুসলমানদের জীবনে এনে দেয় এক অনন্য আধ্যাত্মিক অনুভূতি।

    হজের সফরে রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরাম তালবিয়া ও তাকবির উভয়ই পাঠ করেছেন। হজের মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিনামুখী হাজিদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’।

    তালবিয়ার এই ধ্বনি আর তাকবিরের ‘আল্লাহু আকবার’ উচ্চারণে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মক্কা নগরী, মিনা, আরাফার ময়দান ও মুজদালিফা।

    জিলহজের ১৩ তারিখ পর্যন্ত সারা বিশ্বের মুসলমানরা তাকবির ও তালবিয়ার মাধ্যমে ঘোষণা করতে থাকেন আল্লাহর বড়ত্ব এবং তার স্মরণে নিজেকে নিয়োজিত রাখার অঙ্গীকার।

    তাকবিরে তাশরিক

    اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَ اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر وَ للهِ الْحَمْد

    উচ্চারণ: ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’

    অর্থ: ‘আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।’

    হিজরি বছরের হিসাব অনুযায়ী জিলহজ মাজের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়তে হয়। হজে না গেলেও সারা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য এই তাকবির পড়া ওয়াজিব। একাধিকবার পড়া মুস্তাহাব।

    তালবিয়া : বান্দার উপস্থিতির ঘোষণা

    لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ

    لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ

    اِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ

    لاَ شَرِيْكَ لَكَ

    উচ্চারণ: লাব্বাইকা আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক,

    লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক,

    ইন্নাল হামদা ওয়ান্নিমাতা লাকা ওয়ালমুল্‌ক,

    লা শারিকা লাক।

    অর্থ: ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত।

    আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোনো অংশীদার নেই।

    নিশ্চয়ই সব প্রশংসা, নেয়ামত ও রাজত্ব আপনারই।

    আপনার কোনো অংশীদার নেই।’

    হাজিগণ উচ্চস্বরে (নারীরা নিচু স্বরে) তালবিয়া পাঠ করেন। বিশেষ করে

    > আরাফাতের ময়দানে

    > মিনায়

    > মুজদালিফায়

    > হজ ও ওমরার এক রোকন থেকে অন্য রোকনে যাওয়ার পথে

    > উঁচু স্থানে আরোহন বা নিচে নামার সময়

    এমনকি চলাফেরা, বিশ্রাম, ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া এবং ফরজ-নফল নামাজের পরও বেশি বেশি তালবিয়া ও তাকবির পাঠ করা সুন্নত ও ফজিলতপূর্ণ আমল।

    তাকবির ও তালবিয়া শুধু কিছু শব্দের উচ্চারণ নয়; এটি একজন মুমিনের হৃদয়ের গভীরতম আত্মসমর্পণের ভাষা। এই ধ্বনি মুসলিম উম্মাহকে মনে করিয়ে দেয় আমরা সবাই এক আল্লাহর বান্দা, তারই ডাকে সাড়া দিয়ে জীবন পরিচালনা করি।

    জিলহজের এই বরকতময় দিনগুলোতে তাকবিরে তাশরিক ও তালবিয়ার মাধ্যমে আল্লাহর স্মরণে নিজেকে ব্যস্ত রাখা শুধু একটি আমল নয়, বরং ইমানকে জীবন্ত রাখার এক অপূর্ব উপায়। আসুন, এই পবিত্র সময়গুলোতে আমরা সবাই আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করি, হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করি এবং তার সন্তুষ্টি অর্জনে নিজেদের নিয়োজিত রাখি।

  • নগরকান্দায় ডাঙ্গী ইউনিয়নে ঈদের ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

    নগরকান্দায় ডাঙ্গী ইউনিয়নে ঈদের ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

    ফরিদপুর প্রতিনিধি

    ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ৮ নং ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদে ঈদ উপলক্ষে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

    শনিবার (২৩ মে) ইউনিয়নের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ চাল বিতরণ করা হয়।

    সরকারের পক্ষ থেকে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক সুবিধাভোগী অভিযোগ করেন, তাদের কম ওজনের চাল দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, ইউনিয়নে মোট ৫৫৫ জন সুবিধাভোগীর মাঝে চাল বিতরণ করা হয়।

    চাল বিতরণের সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালামকে পরিষদে পাওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি দাওয়াত খাইতে একজায়গায় আইছি। ট্যাগ অফিসারের প্রতিনিধি আছে, তারা থাইকা দিতেছে। তারা ১০ কেজি দিবে না ১১ কেজি দিবে তারা ভালো জানে।”

    তবে পরিষদে মহিলা ইউপি সদস্য সালমা জাহানকে উপস্থিত থেকে প্রতিটি স্লিপে স্বাক্ষর করতে দেখা যায়।

    স্থানীয়রা জানান, বালতি ভরে ওজন করে চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। সুবিধাভোগীদের অভিযোগ, ১০ কেজির পরিবর্তে ৯ কেজি ৫০০ গ্রাম করে চাল দেওয়া হচ্ছে।

    ট্যাগ অফিসারের প্রতিনিধি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “আমি এসে দেখি ১০ কেজির জায়গায় ৪০০ গ্রাম কম। পরে বলছি ওজন করে ঠিক করে দিতে। আমি একটু বাহিরে গেছি, এসময় একটু অনিয়ম হতে পারে।”

    এদিকে চেয়ারম্যান পরিষদে উপস্থিত না থাকায় সুবিধাভোগীদের স্লিপে স্বাক্ষর নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

    পরিষদ থেকে চাল নেওয়ার পর শ্রীরামদিয়া গ্রামের জয়ন্তী রানী,(স্বামী-পরিমল মন্ডল) তার চাল ডিজিটাল পাল্লায় ওজন করে দেখেন, ১০ কেজির পরিবর্তে ব্যাগে রয়েছে মাত্র ৯ কেজি ৩৯৬ গ্রাম চাল।

    উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদ উপলক্ষে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের জন্য সরকার ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়। স্থানীয়দের দাবি, সঠিক ওজন নিশ্চিত করে স্বচ্ছতার মাধ্যমে চাল বিতরণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

  • শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় বিশেষ পিপি নিয়োগ দিলো সরকার

    শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় বিশেষ পিপি নিয়োগ দিলো সরকার

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শনিবার (২৩ মে) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।

    আইন ও বিচার বিভাগ শাখার ডেপুটি সলিসিটর (জিপি-পিপি) মো. রফিকুল ইসলামের সই করা ওই আদেশে বলা হয়, দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮ এর ৪৯২ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন পল্লবী থানার মামলা নম্বর ৩৫, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯(২)/৩০ তৎসহ ২০১ পেনাল কোডে রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো। জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    এদিকে শনিবার শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ডিএনএ রিপোর্ট হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা ডিএনএ রিপোর্ট হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। একই দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত গ্রেপ্তার সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানায়, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল জোরপূর্বক তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বাথরুমে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এতে শিশু রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এর মধ্যেই তার মা রামিসার খোঁজে তাদের দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন।

    ওই সময় গ্রেপ্তার সোহেল রানা ছোট্ট রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে শরীর থেকে আলাদা করেন। সেই সঙ্গে দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। একই সময় শিশুটির সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয়। ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী একই রুমে ছিল। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল।

    আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে করা ‎পুলিশের আবেদনে বলা হয়, হত্যার শিকার শিশু রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ‎সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিশুটিকে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

    একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। পরে অনেক ডাকাডাকিতেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন শিশুটির স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ওই সময় ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে শিশুটির মাথাবিহীন মরদেহ পড়ে ছিল। এছাড়া আরেকটি কক্ষের ভেতরে একটি বালতির মধ্যে তার মাথাটি রাখা ছিল।

    আবেদনে আরও বলা হয়, মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশু রামিসার মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়। সেই সঙ্গে তার সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে কাটা মাথাটি বালতির মধ্যে রাখা হয়।

    অন্যদিকে ঘটনার পর কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলেও পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • নগরকান্দায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

    নগরকান্দায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

     

    শাহ্ জালাল, ফরিদপুর প্রতিনিধি

    ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬ উপলক্ষে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, বিষয়ভিত্তিক কুইজ ও কাবিং প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (২৩ মে) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন-এ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
    অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

    প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাদের অভিনন্দন জানান।

    বক্তারা বলেন, প্রাথমিক স্তরে সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমন প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মাঝে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি করার পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে।

    অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আনন্দ-উৎসবমুখর পরিবেশে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।