Author: Jvadmin

  • টেকনাফে মালয়েশিয়াগামী বোট থেকে ৫০ জন উদ্ধার, ৯ মানব পাচারকারী আটক

    টেকনাফে মালয়েশিয়াগামী বোট থেকে ৫০ জন উদ্ধার, ৯ মানব পাচারকারী আটক

     

    কক্সবাজার প্রতিনিধি

    মানব পাচারকারী কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে মালয়েশিয়াগামী একটি বোট থেকে ৫০ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং ৯ জন মানব পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।

    শনিবার (৬ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, সমুদ্রপথে মানব পাচার রোধে চলমান নজরদারির অংশ হিসেবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ৫ জুন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড জাহাজ ‘মনসুর আলী’, স্টেশন টেকনাফ, আউটপোস্ট শাহপরী ও বাহারছড়ার সমন্বয়ে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহজনক বোটকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি সংকেত অমান্য করে দ্রুত গভীর সমুদ্রের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। পরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা ধাওয়া করে বাহারছড়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকা থেকে বোটটি আটক করতে সক্ষম হন।

    আটক বোটে তল্লাশি চালিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া ৫০ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ৯ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।

    উদ্ধারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের টেকনাফ এলাকায় নিয়ে আসে। পরে তাদের বিভিন্ন গোপন আস্তানায় আটকে রেখে নির্যাতন চালানো এবং মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও ঘটে। পাচারকারীরা তাদের সাগরপথে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের পরিকল্পনা করেছিল। এছাড়া কয়েকজন ভুক্তভোগীকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের তথ্যও পাওয়া গেছে।

    কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগী, আটক মানব পাচারকারী ও বোটের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    এ বিষয়ে ব্রিফিং প্রদান করেন টেকনাফ স্টেশনের স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. মুত্তাকীন সিদ্দিকী (এক্স), বিএন।

    বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, মানব পাচার প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • উল্টো পথে অটোরিকশা, বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৩ জনের

    উল্টো পথে অটোরিকশা, বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৩ জনের

     

    কুমিল্লা প্রতিনিধি

    কুমিল্লার সদর দক্ষিণে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের রতনপুর এলাকায় বাসচাপায় অটোরিকশার যাত্রীদের এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

    কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের রতনপুর এলাকায় বাসচাপায় তিন অটোরিকশা যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, যাত্রীবাহী একটি অটোরিকশা উল্টো পথে চলাচল করছিল। এ সময় নোয়াখালী থেকে কুমিল্লাগামী দ্রুতগতির শাহ আলী পরিবহনের একটি বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন আরও একজন।

    দুর্ঘটনার পর অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
    দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

    লাকসাম ক্রসি হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ ওসমান গনী বলেন, “তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের ধারণা, তারা দিনমজুর এবং রংপুর অঞ্চলের বাসিন্দা হতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

    দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। আহত ব্যক্তির চিকিৎসাও চলছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ সাংবাদিক

    বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ সাংবাদিক

     

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    দেশের কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পখাতের ওপর বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ পেয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাতজন সাংবাদিক। শনিবার রাজধানীর গুলশানে এমসিসিআই কনফারেন্স রুমে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

    প্রিন্ট বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের সুকান্ত হালদার, দ্য ডেইলি সানের রফিকুল ইসলাম ও এম মুনির হোসেন। টেলিভিশন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন চ্যানেল ২৪-এর দেলোয়ার হোসেন দোলন ও একাত্তর টিভির রাকিব হোসেন। অনলাইন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন জাগো নিউজ ২৪-এর নাজমুল হোসেন ও একুশে পত্রিকা ডটকমের শরিফুল রুকন।

     

    বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল ।

    দেশের কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতে অবদান রাখা সাংবাদিকদের সম্মাননা জানাতে প্রথমবারের মতো ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ প্রবর্তন করেছে দেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পে নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণ গ্রুপ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ২০২৫ সালে কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পখাতের ওপর প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন বিভাগে প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিন সদস্যের জুরিবোর্ডের মূল্যায়নের মাধ্যমে সেরা সাত সাংবাদিককে নির্বাচিত করা হয়। জুরিবোর্ডের সদস্য ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, বোম্বে সুইটস এন্ড কোম্পানি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার খুরশিদ আহমেদ ফরহাদ এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আউটরিচ ও কমিউনিকেশন পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

    জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “জাতীয় উন্নয়নের অংশ হিসেবে কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতকে এগিয়ে নিতে প্রাণ গ্রুপ সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। এই উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতের সংযোগ আরও জোরদার করবে, যা দেশের সার্বিক অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।”

    ইলিয়াছ মৃধা বলেন, “কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাত অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত। কৃষি নির্ভরশীল দেশে এ খাত সঠিক দিক নির্দেশনা পেলে দেশের অথনৈতিক উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে ও পোশাক শিল্পের পর রপ্তানিতে বড় খাত হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড প্রদানের লক্ষ্য সাংবাদিকদের বাংলাদেশের কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো অন্বেষণে অনুপ্রাণিত করা। আমাদের এশিয়ানভুক্ত দেশ থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়ার মতো কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি নিয়ে কাজের দারুণ সুযোগ রয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতের সাংবাদিকদের সম্মানিত করতে পেরে আমরা আজ অত্যন্ত আনন্দিত। সাংবাদিকরা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার। তাদের লেখনি সবসময় আমাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতের উপর প্রতিবেদনে যেমন কৃষক উপকৃত হন, তেমনি দেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতের ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হন, পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যেতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। বাজারজাতকরণে ও রপ্তানির ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন করা হলে এ খাত উপকৃত হবে।”

    ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।
    ছবি : মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু

  • বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ ঘিরে মিরপুরে যান চলাচলে ডিএমপির নির্দেশনা

    বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ ঘিরে মিরপুরে যান চলাচলে ডিএমপির নির্দেশনা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ও অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের মধ্যকার অনুশীলন ম্যাচ এবং পরবর্তী ওয়ানডে সিরিজকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
    সোমবার (৬ জুন) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন-২০২৬ এবং বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ উপলক্ষ্যে আগামী ৭ জুন অনুশীলন ম্যাচ, ৯ জুন প্রথম ওয়ানডে, ১১ জুন দ্বিতীয় ওয়ানডে এবং ১৪ জুন তৃতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে।
    এ কারণে শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন প্রগতি সড়কে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
    নিরাপত্তা ও যানজট নিরসনের স্বার্থে নির্ধারিত সময়ে সাধারণ যানবাহনকে ওই সড়ক এড়িয়ে বিকল্প পথে চলাচলের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।
    বিকল্প সড়ক হিসেবে প্রগতি ক্রসিং, শেওড়াপাড়া ক্রসিং, রাইনখোলা ও ঈদগাহ মাঠ হয়ে মিরপুর-১ গমনাগমনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
    ডিএমপি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচকে ঘিরে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, দর্শক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নগরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেছে পুলিশ।
  • দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: চালক, হেলপার ও সুপারভাইজর গ্রেপ্তার

    দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: চালক, হেলপার ও সুপারভাইজর গ্রেপ্তার

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে র‌্যাম্প ভেঙে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় বাসচালক, হেলপার ও সুপারভাইজরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (৬ জুন) দুপুরে গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের চালক ঝন্টু আলী (৪৮), সুপারভাইজর আজমল হোসেন (৩৮) এবং হেলপার শাকিব হোসেন (২২)।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রেপ্তার তিনজন ছাড়াও পরিবহন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের অজ্ঞাতনামা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

    মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ঘটনার মুহূর্তে চালক ও হেলপার বাস থেকে লাফিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। পরে পানিতে ভাসমান অবস্থায় চালককে নৌ পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। তাদের গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলে পরে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

    গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, নৌ পুলিশের দায়ের করা মামলায় বাসচালক, হেলপার ও সুপারভাইজরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় র‌্যাম্প ভেঙে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। পরে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ অভিযান চালিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বাসটি নদী থেকে উদ্ধার করে।

  • বজ্রপাতে ছিন্নভিন্ন আকাশমণি গাছ, আতঙ্কিত এলাকাবাসী

    বজ্রপাতে ছিন্নভিন্ন আকাশমণি গাছ, আতঙ্কিত এলাকাবাসী

    ফরিদপুর প্রতিনিধি

    ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় একটি বড় আকাশমণি গাছ বজ্রাঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের এলাহীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে হঠাৎ করেই আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। এরপর শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি ও দফায় দফায় বজ্রপাত। একপর্যায়ে বিকট শব্দে একটি শক্তিশালী বজ্রপাত এলাহীপুর এলাকার একটি বড় আকাশমণি গাছে আঘাত হানে।

    বজ্রপাতের তীব্রতায় গাছটির কাণ্ড ফেটে যায় এবং এর বিভিন্ন অংশ চারদিকে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন বিকট শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

    তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

    ঘটনার পর গাছটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দেখতে উৎসুক এলাকাবাসীর ভিড় জমে। অনেকেই বজ্রপাতের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    স্থানীয় সচেতন মহল জানায়, বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, উঁচু গাছের নিচে কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবস্থান না করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে, আবহাওয়া পরিস্থিতি বিরূপ থাকায় সংশ্লিষ্টরা সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

  • জনবান্ধব প্রশাসক থেকে রংপুর বিভাগের শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান

    জনবান্ধব প্রশাসক থেকে রংপুর বিভাগের শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান

     

    নীলফামারী প্রতিনিধি

    দক্ষতা, গ্রহণযোগ্যতা আর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জেলার সর্বস্তরের মানুষের কাছে জনবান্ধব জেলা প্রশাসক হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।

    এরই ধারাবাহিকতায় জেলার গন্ডি পেড়িয়ে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক কার্যক্রমে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ “প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬” এ রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।এই অর্জনের খবরে জেলার শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষক সমাজ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি কেবল একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং নীলফামারী জেলার প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

    জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, ঝরে পড়া রোধ, শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষা কার্যক্রমের নিবিড় তদারকির মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা তৈরি করেন তিনি।এছাড়া বিদ্যালয়ভিত্তিক বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন সময়ে মতবিনিময় সভা এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আগ্রহী করে তুলতে বিভিন্ন উৎসাহমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। প্রত্যক্ষ তদারকিতে জেলার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠদানের পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন বলে মনে করছেন সুধিসমাজ।

    পশ্চিম পঞ্চপুকুর জামতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কায়কোবাদ জানান, জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।একই সঙ্গে বিদ্যালয়মুখী শিক্ষার্থী সংখ্যাও। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে কার্যকর পদক্ষেপ এর ফলে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে।

    এদিকে, নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    স্থানীয়রা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে অব্যাহত প্রচেষ্টা ও নেতৃত্ব আগামী দিনেও জেলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও ফলপ্রসূ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।জানতে চাইলে, নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, আমি নীলফামারী জেলায় যোগদান করার পর থেকেই প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়ন, ঝরেপড়া রোধ আর শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে সর্বদাই চেষ্টা করেছি। শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গায় বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) ব্যারাক থেকে আজিজুর রহমান নামের এক বিজিবি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ব্যারাকের একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত আজিজুর রহমান ওই ব্যাটালিয়নে ‘নায়েক’ পদে কর্মরত ছিলেন।

    ৬ বিজিবির পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যার ঘটনা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম জানান, ব্যারাকের কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধারের সময় ঝুলন্ত রশি পাওয়া গেছে। সম্ভবত শুক্রবার রাতের কোনো এক সময়ে ঘটনাটি ঘটেছে। বিজিবির পক্ষ থেকে তার মানসিক অসুস্থতার বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও সুষ্ঠু তদন্তের পর মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে।

    পুলিশ জানায়, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

  • মাগুরার শ্রীপুরে মোবাইলে টাকা রিচার্জ করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত-৩

    মাগুরার শ্রীপুরে মোবাইলে টাকা রিচার্জ করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত-৩

     

    মাগুরা প্রতিনিধি

    মাগুরার শ্রীপুরে মোবাইলে টাকা রিচার্জ করাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

    শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে উপজেলার সাচিলাপুর বাজারে এ সংর্ষের ঘটে। পরে তারাউজিয়াল ও দারিয়াপুর গ্রামের মধ্যে এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।এ ঘটনায় দারিয়াপুর গ্রামের শরীফ শেখ (৩৫), তারাউজিয়াল গ্রামের প্রবল (৪০) ও শাহজাহান (৩৫) নামে ৩ জন মারাত্মক আহত হয়। আহতরা শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ সময় সাচিলাপুর বাজারের হৃদয় টেলিকম, মেঘা সুইটস দুটি দোকান ও আলম মোল্যার বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় সাচিলাপুর বাজারে হৃদয় টেলিকমে দ্বারিয়াপুর গ্রামের শরীফ শেখ মোবাইলে টাকা রিচার্জ করতে যায়। এ সময় হৃদয় টেলিকমের মালিক তারাউজিয়াল গ্রামের প্রবল ভূলক্রমে এমবি রিচার্জের টাকা মিনিট ঢুকিয়ে দেয়। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সুত্রপাত হয়ে সেটা সংঘর্ষে রুপ নেয়। এ ঘটনায় মুহুর্তেই সাচিলাপুর বাজার এলাকায় বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় মারপিট ভাংচুর।

    শনিবার সকালে পুনরায় সাচিলাপুর বাজারের দারিয়াপুর ব্রীজ ও তারাউজিয়াল স্ব-মিল এলাকায় দুটি গ্রুপ অবস্থান নেয় সংঘর্ষের জন্য। পরে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল নাহিয়ান, শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওলি মিয়া, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান হাসান ইমাম সুজা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফুল আলম, সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বদরুল আলম হিরো, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আব্বাস উদ্দিন, মুন্সি রেজাউল করিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষের ৩ জন করে দ্বায়িত্ব দিয়ে শান্তি বজায় রাখা ও আগামীকাল রবিবার সকালে মিমাংশার সিদ্ধান্তে সবাইকে যার বাড়িতে চলে যেতে বলা হয়।

    এ ঘটনার বিষয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওলি মিয়া বলেন, স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে দু-পক্ষের মধ্যে বিরাজমান সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চুরির হিড়িক; গ্রাম থেকে শহর, স্বস্তি নেই কোথাও

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চুরির হিড়িক; গ্রাম থেকে শহর, স্বস্তি নেই কোথাও

     

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। গ্রাম থেকে জেলা শহর কোথাও যেন স্বস্তি নেই। বিদ্যুতের তার, এসির কপার পাইপ, পানির মোটর, জানালা, থাই গ্লাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বাসিন্দারা।

    সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে ঈদের আগে ও পরে একাধিকবার বিদ্যুতের তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র এক সপ্তাহে কয়েকটি বাড়ি ও দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। একইভাবে নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের জালশুকা গ্রামেও গত দুই মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি বাড়ির বিদ্যুতের তার চুরি হয়েছে।

    স্থানীয়দের দাবি, মাদকাসক্তদের একটি চক্র এসব চুরির সঙ্গে জড়িত। জালশুকা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু চিহ্নিত মাদকসেবী এসব চুরির ঘটনায় জড়িত থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

    অন্যদিকে জেলা শহরেও চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। দাতিয়ারা এলাকায় অবস্থিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদের আগে ও পরে দুই দফা চুরির ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এসির আউটডোর ইউনিট, জানালার থাই গ্লাস এবং অন্যান্য সরঞ্জাম চুরি হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

    এছাড়া জেলা পরিষদ কার্যালয়, পরিবার পরিকল্পনা অফিস, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়, শিল্পকলা একাডেমি, টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছে।

    শহরের মৌলভীপাড়া এলাকায় জেলা জজ আদালতের শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দ আমিনা ফারহিনের ভাড়া বাসায়ও চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা ফ্ল্যাটে ঢুকে আলমারিতে থাকা মালামাল নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

    ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন স্থানে থাকা ভাঙারির দোকানে প্রকাশ্যে চোরাই তামার তার, এসির কপার পাইপ ও অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। তবে এসব ব্যবসার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অভিযান না থাকায় চুরি বেড়েই চলেছে বলে মনে করছেন তারা।

    এদিকে টানবাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা চুরি ও ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।

    বিষয়টি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে ছিঁচকে চুরির ঘটনা বেড়েছে। মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অর্থের অভাবে এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিদিনই অভিযানে চোর ও মাদকসেবীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। পাশাপাশি চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ভাঙারি ব্যবসায়ীদের তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।

    জেলার সর্বত্র চুরির ক্রমবর্ধমান ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।