Author: Jvadmin

  • কালুখালীতে ৫ কিঃমিঃ খাল পুন:খনন সুবিধা পাবে ৫ টি বিল- দু-পাশে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন

    কালুখালীতে ৫ কিঃমিঃ খাল পুন:খনন সুবিধা পাবে ৫ টি বিল- দু-পাশে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন

    রাজবাড়ী প্রতিনিধি 

    রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের কুমোর গাড়া বিল হতে ৬ নং ওয়ার্ডের গড়াই টিকরির বিল ভায়া মুনাই বিল হতে বেতবাড়ীয়া অভিমুখী ৫ কিঃ মিঃ খাল পুনঃখনন ও খালের দু পাশ দিয়ে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

    সোমবার (১৫ ম জুন) প্রধান অতিথি হিসেবে এ খাল পুনঃখননের প্রকল্পের বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন।

    এসময় কালুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: লুৎফর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিমাই চন্দ্র রায়, মাজবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শরিফুল ইসলাম, মৃগী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দুলাল মৌলবীসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাহ উদ্দিন বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার পাইলটিং প্রকল্প হিসাবে আমাদের মাজবাড়ী ইউনিয়নে ৫ কিলোমিটার খাল পুন: খনন কাজ চলমান রয়েছে, আশাকরি সঠিক সময়ের মধ্যেই এ কাজ সুন্দর ভাবে শেষ হবে।

    এ প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি আমাদের এই বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির উদ্যোগের ফলে বর্জ্রপাত সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে মুক্তি মিলবে বলেই বিশ্বাস এই কর্মকর্তার।

    খাল খননে ও বৃক্ষ রোপন হলে জলাবদ্ধতা কমবে, পানির ধারণক্ষমতা বাড়বে। কৃষি জমির সেচ সুবিধা পাওয়া যাবে। তিনি খাল পুনঃখননে ও বৃক্ষ রোপণে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

    অনুষ্ঠান শেষে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন বলেন প্রায় ২০০০ হাজার গাছের চারা রোপন করা হবে। এই গাছ যাতে ভালো থাকে এলাকার লোকজন দেখে রাখবে,এটা আমার আপনার সম্পদ।

    প্রসঙ্গত : উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)’র আওতায় উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নে ৫ কিঃ মিঃ খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষ-রোপনের কাজের ব্যায় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৮ লক্ষ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। যেখানে ২৯৭ জন শ্রমিক ৪৩ দিনে ৫০০ টাকা হারে দিনমজুর হিসেবে কাজ করবেন।

  • সংসদে হিজাব নিয়ে কটাক্ষের প্রতিবাদে ইবি শিবিরের বিক্ষোভ

    সংসদে হিজাব নিয়ে কটাক্ষের প্রতিবাদে ইবি শিবিরের বিক্ষোভ

    ইবি প্রতিনিধি 

    বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কর্তৃক জাতীয় সংসদে হিজাব নিয়ে কটাক্ষ এবং দেশব্যাপী অব্যাহত ধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবির। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

    এসময় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    বিক্ষোভে “হিজাব, নিকাব, পর্দা আমার মায়ের মর্যাদা”, “হিজাব নিয়ে বিদ্বেষ রুখে দাও বাংলাদেশ”, “বিএনপির অনেক গুণ, ১০০ দিনে ৬০০ খুন”, “ধর্ষক আর চাঁদাবাজ, মিলেমিশে একাকার”, “আয় মনিরুল, দেখে যা রাজপথে তোর বাপেরা” ইত্যাদি স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।

    এসময় সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, সংসদে মনিরুল হক চৌধুরী আমাদের মা-বোনদের হিজাব নিয়ে কটূক্তি করেছে। “নেকাবের ভিতরে স্ত্রী বদল করা যায়”- এই কথা বলে তিনি দেশের নারীদের ইজ্জত নিয়ে কথা বলেছেন। তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের জন্য তাকে অতিসত্বর বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এছাড়াও বিএনপির সাংসদরা টেবিল চাপড়িয়ে সমর্থন জানিয়েছে। সুতরাং সংসদ থেকে ক্ষমার আইন পাস করতে হবে।

    তিনি বলেন, “বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ইসলাম বিদ্বেষীতার মহোৎসব চলছে। যে যত বেশি ইসলাম বিদ্বেষ ছড়াতে পারবে, তার পদ যেন তত বড় হচ্ছে। যারা এদেশের ইসলামের বিরুদ্ধে, মুসলমানদের অন্তরে আঘাত হানবে, তাদের বিরুদ্ধে সংসদে একটি স্থায়ী আইন পাস করতে হবে। আমাদের কাছে মনে হয়, এটা বিএনপির অভ্যন্তরীণ দলীয় সিদ্ধান্ত যে যারা বেশি ইসলাম বিদ্বেষ ছড়াবে, তাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হবে। যদি এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তাহলে জনতা এই ইসলাম বিদ্বেষীদেরকে এদেশ থেকে উচ্ছেদ করতে বাধ্য হবে।”

    তিনি আরো বলেন, “বিএনপি ভারতকে খুশি করার জন্য ইসলাম বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। তারা ইসলামী ব্যাংকের দিকে আঘাত হেনেছে। ইসলামী বিধান মেনে যে চিকিৎসা করা যায়, তা আদ-দ্বীন হাসপাতাল দেখিয়েছে। অবশ্যই আমরা সেখানে ছয় জন শিশু নিহতের ঘটনায় প্রতিবাদ করি, নিন্দা জানাই এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি করি। কিন্তু এমন না যে আদ-দ্বীন হাসপাতালকে বন্ধ করতে হবে।

  • টেকনাফে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    টেকনাফে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    কক্সবাজার প্রতিনিধি 

    কক্সবাজারের টেকনাফে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি খালি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলিসহ কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি মনছুর আলম (৪২)কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১৫।

    সোমবার (১৫ জুন) ভোরে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের বাহারছড়া এলাকায় র‌্যাব-১৫, সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
    র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাহারছড়া এলাকার একটি দোতলা বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক মজুত থাকার তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির মালিক পালানোর চেষ্টা করলে সদস্যরা তাকে ঘেরাও করে আটক করতে সক্ষম হন।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তি মনছুর আলম (৪২) টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা।

    অভিযানে তার হেফাজত থেকে একটি বিদেশি তৈরি পিস্তল, একটি খালি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

    র‌্যাবের দাবি, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি নিজ হেফাজতে রাখার মাধ্যমে তিনি ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

    গ্রেপ্তার আসামি ও উদ্ধার করা আলামত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে র‌্যাব-১৫ জানিয়েছে।

  • রাজবাড়ীতে তাঁত বস্ত্র শিল্প ও বাণিজ্য মেলার আড়ালে অশ্লীল নৃত্যের আসর : নীরব ভূমিকায় প্রশাসন

    রাজবাড়ীতে তাঁত বস্ত্র শিল্প ও বাণিজ্য মেলার আড়ালে অশ্লীল নৃত্যের আসর : নীরব ভূমিকায় প্রশাসন

    নিজস্ব প্রতিবেদক

    রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে তাঁত ও বস্ত্র শিল্প বাণিজ্য মেলার নামে চলছে চরম নিয়মনীতিহীনতা ও সংস্কৃতি অবক্ষয়ের উৎসব। মেলার মূল উদ্দেশ্য ধূলিসাৎ করে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত বসছে অশ্লীল নৃত্যের আসর। ঐতিহ্যবাহী শিল্পের প্রসারের নামে এমন কুরুচিপূর্ণ আয়োজনে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অথচ সবকিছু প্রকাশ্যে ঘটলেও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় প্রশাসন। নামে ‘তাঁত ও বস্ত্র’ মেলা হলেও বাস্তবে শুধুই বাণিজ্য ও অশ্লীল বিনোদন।

    সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এ “তাঁত ও বস্ত্র শিল্প মেলার নামকরণ করা হয়েছিল, বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্বই নেই। মেলার মাঠ চষেও দেশের গৌরবময় তাঁত বা বস্ত্রশিল্পের ইতিহাস, ঐতিহ্য কিংবা দেশীয় পণ্যের প্রতিনিধিত্বকারী কোনো মানসম্মত স্টল খুঁজে পাননি দর্শনার্থীরা। মেলা দেখতে আসা সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দেশীয় শিল্পের প্রচার ও প্রসারের নামে এটি মূলত একটি “আইওয়াশ” বা লোকদেখানো আয়োজন মাত্র। মেলার মূল উদ্দেশ্যকে সম্পূর্ণ আড়ালে রেখে রাতারাতি টাকা কামানোর এক নোংরা প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছেন আয়োজকরা।চলছে দি বুলবুল সার্কাস। আড়ালে চলে গভীর রাত পর্যন্ত অশ্লীল নৃত্য। কবরস্থান ও হাসপাতালের পাশে উচ্চশব্দের অত্যাচার সবচেয়ে দুঃখজনক ও অমানবিক। মেলা প্রাঙ্গণের ঠিক পাশেই অবস্থিত বালিয়াকান্দি কেন্দ্রীয় কবরস্থান এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। একটি স্পর্শকাতর চিকিৎসা কেন্দ্র এবং পবিত্র স্থানের পাশে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চস্বরে বাজানো হচ্ছে সাউন্ড সিস্টেম। মেলায় অশ্লীল নৃত্যের হুল্লোড় আর মাইকের কানফাটা আওয়াজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি এখন চরমে। স্থানীয়দের প্রশ্ন এমন একটি সংবেদনশীল এলাকায় কার স্বার্থে এবং কীভাবে এ মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    এলাকাবাসীর দাবি মেলা সংস্কৃতির একটি অংশ, কিন্তু সংস্কৃতির নামে এ অপসংস্কৃতি আর পবিত্র জায়গার অবমাননা আমরা মেনে নিতে পারছি না। আমরা দ্রুত এ অশ্লীলতা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।”

    মেলার নামে এ অনৈতিক কর্মকাণ্ড দিনের পর দিন প্রকাশ্যে চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ বা অভিযান দেখা যায়নি। প্রশাসনের এ নির্লিপ্ততা ও নীরব ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলে নানা গুঞ্জন এবং ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

    বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরীর মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা এ বিষয়ে তদারকি করছি। এ ধরনের অশ্লীলতার বিন্দুমাত্র কোন ছাড় নেই। আমরা প্রতিনিয়ত ওখানে নজরদারি রেখেছি। তারা এরআগে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কতটুকু করেছিল তা আমার জানা নেই। পরবর্তীতে আমি ফেসবুকে ভিডিও দেখে খবর পাওয়া মাত্রই তাদেরকে ডেকে সতর্ক করেছি। আমাদের লোক ওখানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও আমরা এ বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে, এলাকাবাসীর দাবি অনতিবিলম্বে এ তথাকথিত মেলার আড়ালে চলা অশ্লীল নৃত্যের আসর ও উচ্চশব্দের অত্যাচার বন্ধ করা হোক। পাশাপাশি এ বিতর্কিত আয়োজনের পেছনে কার হাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিদেশী পিস্তল, গুলি ও গাঁজা উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিদেশী পিস্তল, গুলি ও গাঁজা উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ৭.৬৫ মিলিমিটার বিদেশী পিস্তল, ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড গুলি এবং ২ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করেছে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)।

    সোমবার (১৫ জুন) ভোর ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দর্শনা কামারপাড়া গ্রামের একটি আমবাগানে এ অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি।

    বিজিবি সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রাজ মাহমুদের নেতৃত্বে বারাদী বিওপি’র একটি টহল দল সীমান্ত মেইন পিলার ৮১-এর ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কামারপাড়া গ্রামের মোঃ আজিম উদ্দিন মাস্টারের আমবাগানে অবস্থান নেয়। এ সময় সেখানে তল্লাশি চালিয়ে মাটির নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় আসামিবিহীন এই অস্ত্র, গুলি ও মাদক উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি ৭.৬৫ মিলিমিটার বিদেশী পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড গুলি এবং ২ কেজি ভারতীয় গাঁজা। উদ্ধারকৃত এসব সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৭ হাজার ২০০ টাকা (এর মধ্যে পিস্তলের মূল্য ১ লাখ টাকা, গুলির মূল্য ২০০ টাকা এবং গাঁজার মূল্য ৭ হাজার টাকা)।

    চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রাজ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও গুলি দর্শনা থানায় জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • নগরকান্দায় বেগম সিরিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে কৃতি ও মেধাবী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    নগরকান্দায় বেগম সিরিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে কৃতি ও মেধাবী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    ফরিদপুর প্রতিনিধি

    ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা পৌরসভায় বেগম সিরিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে কৃতি ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে “কৃতি ও মেধাবী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে স্বীকৃতি প্রদান এবং তাদের উচ্চশিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ৩০০ জনেরও বেশি কৃতি ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও বিভিন্ন উপহার প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক গুণাবলি অর্জন করতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মো. আল ফাহাদ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. চুন্নু ফকির, সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন ও অসীম কুমার দাস এবং নবীন মতিয়ার মডেল একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. মাহাবুব আলী মিয়া।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক খোলা চোখ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহবুব আহাদ। এরপর বক্তব্য রাখেন নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী।

    বক্তারা বলেন, কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল অর্জনে অনুপ্রাণিত করে। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মেধা বিকাশে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তারা উল্লেখ করেন।

    আয়োজক বেগম সিরিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান মো. মাসুদুর রহমান বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি প্রদান এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো একটি সামাজিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষাবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

    দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহল ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  • র‍‍্যাবের নাম পাল্টে হচ্ছে এসআরবি শিগগির মন্ত্রিসভায় উত্থাপন

    র‍‍্যাবের নাম পাল্টে হচ্ছে এসআরবি শিগগির মন্ত্রিসভায় উত্থাপন

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    আলোচিত-সমালোচিত এলিট ফোর্স র‌্যাবের নাম পরিবর্তন করতে যাচ্ছে সরকার। র‌্যাবের পরিবর্তে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে র‌্যাব বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করে নতুন আইনের একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    খসড়া আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, “দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে সুসংহতকরণ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান অধ্যাদেশ ১৯৭৯’-এর অধীন গঠিত ‘র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান’ (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে বাংলাদেশ পুলিশের সহায়ক একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠন, উহার নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা, শৃঙ্খলা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে আইন করা সমীচীন।”

    খসড়া আইনটি এখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘প্রস্তুতি’ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যে খসড়াটি প্রস্তুত করা হয়েছে এতে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। তবে মৌলিক কোনো পরিবর্তন করা হবে না। শিগগির খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে প্রাথমিক অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এরপর এটা ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। ভেটিংয়ের পর সেটা ফের মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। নীতিগত অনুমোদনের পর তা সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। বিল পাস হলেই তা পরিণত হবে আইনে।

    এর আগে গত মাসে র‍্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে র‌্যাব বিলুপ্তির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে আগামীদিনে একটি আধুনিক ও পেশাদার এলিট ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।’

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগে র‌্যাবকে জবাবদিহির আওতায় আনার কোনো উপায় ছিল না। সে জন্য র‌্যাব নানা বিতর্কের জন্ম দেয়। এবার বিশেষায়িত এই বাহিনীকে জবাবদিহি ও গণমুখী করার চিন্তা করছে সরকার। সে জন্য সুনির্দিষ্ট আইন তৈরি করা হচ্ছে। আইনে জবাবদিহির বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে এই বিশেষায়িত বাহিনী জনগণের সেবায় কাজ করতে পারে। আর কোনো বিতর্কের জন্ম না দেয়।

    খসড়া আইনে বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন কোনো বিধিমালা জারি না হওয়া পর্যন্ত ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান’ অধ্যাদেশ ১৯৭৯-এর ধারা ১৪ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে জারিকৃত র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (কোর্ট পদ্ধতি ও বিভাগীয় কার্যধারা) বিধিমালা, ২০০৫ এবং এতৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিধিমালা বহাল থাকবে। ওই অধ্যাদেশের অধীন র‌্যাব-এর সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, দায়, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি উক্ত সম্পত্তিতে যাবতীয় অধিকার ও স্বার্থ, সকল হিসাব বহি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র এবং এতৎসংক্রান্ত সকল দলিল এই আইনের অধীন গঠিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-এর নিকট তৎক্ষণাৎ স্থানান্তরিত এবং ন্যস্ত হবে। উক্ত আইনের অধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান, কোনো চুক্তি, আইনগত দলিল বা চাকরির শর্তে যা কিছুই থাকুক না কেন, র‌্যাব এর সকল কর্মকর্তা ও আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারী এই আইনের অধীন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এর সদস্য হবেন এবং এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে তারা যে শর্তাধীনে চাকুরিতে নিয়োজিত ছিলেন, এই আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এর চাকুরিতে নিয়োজিত থাকবেন। উক্ত আইনের অধীন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সকল দায় ও দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা, উহার পক্ষে, বা উহার সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি যথাক্রমে এই আইনের অধীন এসআরবি-এর দায় ও দায়িত্ব এবং এর দ্বারা, এর পক্ষে বা সাথে সম্পাদিত

    চুক্তি বলে গণ্য হবে। উক্ত আইনের অধীন প্রণীত সকল বিধি, প্রবিধান বা আদেশ যা উক্ত আইন রহিত হওয়ার অব্যবহিত পূর্ব পর্যন্ত কার্যকর ছিল তা এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি, প্রবিধান বা আদেশ দ্বারা রহিত বা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ, যতদূর পর্যন্ত এই আইনের বিধানাবলির পরিপন্থি না হয় ততদূর পর্যন্ত, কার্যকর থাকবে।

    নতুন এই বাহিনীর দায়িত্ব ও কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা; গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ; বেআইনি অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার; মাদকদ্রব্য উদ্ধার; সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন; অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা; সরকার বা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত তদন্ত বা দায়িত্ব। এ ছাড়া প্রবেশ, তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও থাকেছে নতুন এই বাহিনীর। মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, অবৈধ কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন বা আশ্রয়স্থল কিংবা সন্দেহজনক স্থান; কাউকে সন্ত্রাসী কার্য বা আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত সন্দেহ মৰ্মে; বা অবৈধ অস্ত্ৰ বা সন্ত্রাসী কর্মে ব্যবহৃত উপাদান লুকোনো স্থানে প্রবেশ ও তল্লাশির ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নকারী কোন অপরাধ; সরকার, বা মহা-পুলিশ পরিদর্শকের নির্দেশমতে, বাহিনী কোনো অপরাধস্থল বা অপরাধীকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে কার্যকর যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

    এ ব্যাপারে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ কালবেলাকে বলেন, ‘দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো যখন থেকে র‌্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন থেকে আমিও র‌্যাবের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছি। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার পর র‌্যাবের বিরুদ্ধে সবাই কথা বলতে থাকে। তিনি আরও বলেন, আমার কথা হচ্ছে, র‌্যাব বিলুপ্ত নয়, সরকার নাম পরিবর্তন করতে পারে। কারণ, এই বাহিনীতে অনেক দক্ষ লোক তৈরি হয়েছে। অনেক ভালো কাজও করেছে। সে কারণে যারা এই বাহিনীর ভেতরে থেকে অপরাধ করে, তাদের বিচার হোক। সে জন্য চাই, যে নামেই বাহিনী হোক না কেন, এই বাহিনীর সদস্যদের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা যেন নিশ্চিত করা হয়। এই বাহিনী দিয়ে আর যেন কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটে।’

    মূলত র‌্যাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস দমনের উদ্দেশ্যে গঠিত বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ইউনিট। বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে পরিচালিত এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ গঠিত হয় এবং একই বছরের ১৪ এপ্রিল তাদের কার্যক্রম শুরু করে। দ্য আর্মড পুলিশ অর্ডিন্যান্স ১৯৭৯ (সংশোধনী ২০০৪) অনুসারে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদস্যদের নিয়ে র‍্যাব গঠিত হয়। র‍্যাবের সদর দপ্তর ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত।

    র‌্যাব গঠনের পর থেকেই এর কর্মকাণ্ড সমালোচনার মুখে পড়তে থাকে। এটি গঠনের পর র‍্যাবের ‘ক্রসফায়ারে’ ঢাকায় পিচ্চি হান্নানসহ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসী এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ‘চরমপন্থি সন্ত্রাসীরা’ একের পর এক নিহত হয়। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসে র‍্যাব। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাবের ভূমিকা সবাইকে অবাক করে দেয়। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর হোসেনের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে র‍্যাব-১১-এর তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদসহ ১১ জন র‍্যাব সদস্য এ খুনের ঘটনাগুলোয় জড়িয়েছিলেন। গুম-খুনের কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সংস্থাটি। দেশীয় গণ্ডি পেরিয়ে এ সমালোচনা চলতে থাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সংগঠনটির কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানায়।

    গত দুই দশকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে গুম ও ক্রসফায়ারের ঘটনায়। আর এসব গুম ও ক্রসফায়ারের পেছনে বড় ভূমিকা রাখে র‌্যাব। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই র‍্যাব বিলুপ্ত করার পরামর্শ দিয়েছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

    বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ ও গুরুতর আহতসহ অনেক বিক্ষোভকারীর সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন দেয় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধান দল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কে সামনে রেখে গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে র‍্যাবের বলপ্রয়োগ ও গ্রেপ্তারের কথা উঠে আসে। ওএইচসিএইচআর ওই প্রতিবেদনে র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে।

    এমন বাস্তবতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনও র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে। গত বছরের ৫ জানুয়ারি গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের দেওয়া এক হিসাবে উঠে এসেছে, মোট গুমের ঘটনার প্রায় ২৫ শতাংশের সঙ্গেই র‍্যাব জড়িত ছিল। একক বাহিনী হিসেবে এটা সর্বোচ্চ, তা ছাড়া সারা দেশে গুম কমিশন যে ৪০ গোপন বন্দিশালার সন্ধান পেয়েছে, তার মধ্যে ২২ থেকে ২৩টি ছিল র‍্যাবের। পুলিশের বিশেষ শাখার নথিতে সাত বছরে (২০১৫-২১ সাল) ১ হাজার ৭টি ক্রসফায়ারের ঘটনায় ১ হাজার ২৯৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। নথিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব ঘটনার ৬৫১টিতে পুলিশ ও ২৯৩টিতে র‍্যাবের নাম এসেছে। আরও ১০টি ঘটনায় যৌথভাবে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর নাম এসেছে।

    ক্ষমতাসীন দল বিএনপিও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে র‍্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিল। ওই সংবাদ সম্মেলনে দলের তৎকালীন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, ‘র‍্যাব আন্তর্জাতিকভাবেই এমনভাবে নিন্দিত হয়েছে…আর দেশে তো র‍্যাব মানেই একটা দানব তৈরি করা হয়েছে। তারা যত ধরনের খুন-গুম, যত এক্সট্রা জুডিসিয়াল কিলিং (বিচারবহির্ভূত হত্যা), অধিকাংশই এই র‍্যাব বাহিনীর মাধ্যমে হয়েছে। সে জন্য আমরা এটিকে বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছি।’ সংস্থাটি বিলুপ্ত করা হলে জনগণের কাছে একটা ভালো বার্তা যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সংস্কার না করে বিলুপ্তির পক্ষেও তখন কথা বলেছিলেন তিনি। এবার সরকার সেটাই করতে যাচ্ছে।

  • কোটচাঁদপুরে তুলার জাজিম কারখানায় ভয়াবহ আগুন, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

    কোটচাঁদপুরে তুলার জাজিম কারখানায় ভয়াবহ আগুন, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধি 

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর শহরে একটি তুলার জাজিম কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৩০ টন তুলা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারখানা মালিক।

    রোববার (১৪ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোটচাঁদপুর পৌর শহরের দুধসারা হটাতপাড়া এলাকায় মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ওই কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়।

    কারখানার মালিক শাকিল আহমেদ জানান, তিনি ৪ থেকে ৫ জন শ্রমিক নিয়ে কারখানায় কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ মোটরের পাশ থেকে ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। তিনি আরও জানান, দ্রুত কোটচাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে আগুনে কারখানায় মজুদ থাকা প্রায় ৩০ টন তুলা পুড়ে যায়। এতে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    শাকিল আহমেদ বলেন, ব্যাংক ঋণ নিয়ে অনেক কষ্ট করে ব্যবসাটি শুরু করেছিলাম। আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবো বুঝতে পারছি না।

    কোটচাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার লিডার কুতুব উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

  • রাজস্থলীতে বিদ্যালয়ের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নিখোঁজ

    রাজস্থলীতে বিদ্যালয়ের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নিখোঁজ

    রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

    রাঙামাটির জেলা রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী  প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে চিংম্রাসিং মারমা (১৫) নামক এক কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার গণমাধ্যম সূত্রে  খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও ২০২৭ সালের  এসএসসি পরীক্ষার্থী।

    শনিবার (১৩ জুন) সকাল  ১১টায়  নিজ বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বের হন চিংম্রাসিং মারমা।  নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তিনি আর বাড়ি ফিরে না আসায় তার পরিবার অনেক খুজা খুজির পরও তার মেয়েটি কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার।

    নিখোঁজ কিশোরী বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিহারপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং সাবেক ইউপি সদস্য উখ্যাই চৌধুরীর কন্যা । পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনরা এলাকায়  বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো হদিস  মিলেনি এখনো।

    নিখোঁজ শিক্ষার্থীর  অভিভাবক পরিবার গতকাল  চন্দ্রঘোনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি)  করা হয়েছে ।

    নিখোঁজ শিক্ষার্থীর  বিষয়ে চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাকের আহমেদ বলেন,শিক্ষার্থীর পরিবার একটি সাধারন ডায়েরী করেন।  “নিখোঁজের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কিশোরীর সন্ধানে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও অনুসন্ধান অভিযান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি দ্রুত তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানান।

  • রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করায় আ’লীগের ৮ সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার

    রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করায় আ’লীগের ৮ সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার

    রাজবাড়ী প্রতিনিধি 

    রাজবাড়ী সদর থানা এলাকায় পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও সহযোগী সংগঠনের আট সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে রাজবাড়ী সদর থাকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রাজবাড়ী সদর উপজেলার ছোট নুরপুর এলাকার মৃত হাকিম মাতুব্বরের ছেলে মোঃ রাব্বানী (৪৬), রাধাকান্তপুর এলাকার আঃ কুদ্দুস শেখ এর ছেলে মাইনউদ্দিন শেখ (৪২),ভবদিয়া এলাকার মৃত আঃ লতিফ এর ছেলে মোঃ নাসির উদ্দিন (৪২),আলাদীপুর এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে মোঃ রিয়াদ মন্ডল (২৬),ভান্ডারিয়া এলাকার মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ আঃ ছালাম মিলন (৫৭),দক্ষিন ভবানীপুর এলাকার মৃত আঃ সালামের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম সোহাগ (৪২), রসুলপুর এলাকার আব্দুল আলিমের ছেলে নাহিদ মিয়া (২৪) ও ধুলদি জয়পুর এলাকার মৃত আনছার আলী শেখ এর ছেলে মোঃ নাসির শেখ (৬৪)।

    এর আগে গত শনিবার (১৩ জুন) ভোর ৫ টা থেকে সাড়ে ৫ টার মধ্যে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।স্বল্প সময়ের জন্য মিছিলটি সড়কে অবস্থান করে। ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবির পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সোহেল রানা টিপুর ছবিও ছিল।

    রাজবাড়ী জেলা পুলিশ এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানান,গত শনিবার (১৩ জুন) ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে রাজবাড়ী-ফরিদপুর মহাসড়কের উপর অনুমান ৩০/৩৫ জন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং তার অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের সক্রিয় সদস্যরা বর্তমান সরকারকে উৎখাত, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি, জন নিরাপত্তা বিপন্ন করা, জনমনে ত্রাস ও আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে নাশকতা করার একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। যাহাতে সরকারকে উৎখাত, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র সহ বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান ছিল। আসামীদের হাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রাম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগগের ব্যানার ও ফেস্টুন ছিল।