Author: Jvadmin

  • গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে ৩৮ লাখ টাকার সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে ১২ ঘণ্টায়, অনিয়মের অভিযোগ

    গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে ৩৮ লাখ টাকার সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে ১২ ঘণ্টায়, অনিয়মের অভিযোগ

    গাইবান্ধা প্রতিনিধি

    গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ইদ্রাকপুর এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১ হাজার ৭০০ মিটার দীর্ঘ একটি পাকা সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১২ ঘণ্টা পরই সড়কের পিচ ও পাথর প্লাস্টিকের মতো উঠে আসতে শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দাবির পর সড়কটি পাকা করা হলেও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় কাজ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করে। হাত দিয়েই পিচ ও ইটের খোয়া টেনে তোলা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

    ইদ্রাকপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “সরকার প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণ করলেও ঠিকাদার বাবলু ও ছগির নিম্নমানের কাজ করে পুরো প্রকল্পটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। রাস্তায় পর্যাপ্ত পিচ ব্যবহার করা হয়নি। সামান্য টান দিলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। আমরা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়কটি নতুন করে নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।”

    সরেজমিনে দেখা যায়, নবনির্মিত সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং আলগা হয়ে পড়ে রয়েছে। স্থানীয়রা কোদাল ও খালি হাত দিয়েই রাস্তার পিচ ও ইটের খোয়া তুলে দেখাচ্ছেন। অনেক স্থানে সামান্য চাপ দিলেই কার্পেটিং উঠে নিচের বালু ও মাটি বেরিয়ে আসছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পান ‘ছগির’ নামের এক ঠিকাদার। পরে তিনি অধিক মুনাফার আশায় কাজটি বাবলু নামের অপর এক ব্যক্তির কাছে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে হস্তান্তর করেন। অভিযোগ রয়েছে, উপ-ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তড়িঘড়ি করে রাতের আঁধারে কাজ শেষ করেন। কাজ শেষ হওয়ার পরপরই সড়কের কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করলে এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠার পর অভিযুক্তরা মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মানসম্মতভাবে সড়কটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

  • গোবিন্দগঞ্জে খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান

    গোবিন্দগঞ্জে খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান

    গাইবান্ধা প্রতিনিধি

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ শিংজানী খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের শিংজানী এলাকায় খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শন করেন তিনি।

    ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নে নুরুল্লার বিল থেকে পুনতাইড় হয়ে বোচাদহ বাঙালি নদীর স্লুইস গেট পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ শিংজানী খালটি ১ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন করা হচ্ছে। অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এটি বাস্তবায়ন করছে।

    খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আল মামুন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামশিদ ইরাম খান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিন্দার আলী প্রমুখ।

  • শিশুর লাশ উদ্ধার নিয়ে আদিতমারী রণক্ষেত্র, ডিসি ও পুলিশের গাড়িবহরে হামলা: এসপি-ওসিসহ আহত-৩০

    শিশুর লাশ উদ্ধার নিয়ে আদিতমারী রণক্ষেত্র, ডিসি ও পুলিশের গাড়িবহরে হামলা: এসপি-ওসিসহ আহত-৩০

    জেভি২৪ ডেস্ক

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় নন্দিনী রানী (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে আটকের পর তাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় জনতার ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

    বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেয়ার পাশাপাশি জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেট নিক্ষেপ করেন পুলিশ। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও এলাকাবাসীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নন্দিনী রানী ওই গ্রামের কৃষক নলনী বর্মণের মেয়ে এবং স্থানীয় ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত সোমবার (১৫ জুন) বিকেল থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে ভুট্টাক্ষেতে মাটিচাপা দেয়া ও বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহের সন্ধান মেলে।

    হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তে নেমে আদিতমারী থানা পুলিশ শিশুটির চাচা (পারিবারিক সম্পর্কের) বিধানকে (১৯) প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করে। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকেই তাকে আটক করে পুলিশ। তবে আটকের পর আসামিকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের পথরোধ করে এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বিধানের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং ইউএনওসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রশাসন স্থানীয়দের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু আসামিকে নিয়ে ফিরে আসার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুনরায় উত্তেজিত হয়ে প্রশাসনের গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে ডিসি, এসপি এবং ইউএনওর ব্যবহৃত সরকারি গাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন।

    এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, ভুট্টাক্ষেতে শিশুটির লাশ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সেখানে যায়। কিন্তু আসামিকে নিয়ে আসার সময় জনগণ বাধা প্রদান করে। পরে বিজিবি ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়ে আমরা সেখানে যাই। সবাইকে বুঝিয়ে আসামিকে নিয়ে আসার সময় অতর্কিতভাবে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে আমাদের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর হয় এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

    লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আসামিকে নিয়ে আসার সময় পুলিশের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং আমাদের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা দেয়ার অপরাধে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হবে।

    তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নাজমুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা হচ্ছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড

    প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড

    নোয়াখালী প্রতিনিধি 

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে ক্লোজড করা হয়।

    মঙ্গলবার দুপুরে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি হাজিরা খাতা ও ডিউটি রোস্টার যাচাই করে বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও দেরিতে উপস্থিত হওয়ার তথ্য পান।

    পরিদর্শনকালে রোগী ও স্বজনরা হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া এবং দালালচক্রের সীমাহীন দৌরাত্ম্য, হাসপাতালের খাবারে সমস্যা, টয়লেলেটর অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় রোগীর স্বজনা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে সেবা পেতে উঠতে-বসতে টাকা লাগে।

    পরিদর্শনের একপর্যায়ে মন্ত্রী হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাব এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড ও টয়লেট ঘুরে দেখেন। হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ওষুধের মজুত এবং রোগীদের জন্য দেওয়া বিভিন্ন সেবার মানও খাবার তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। হাসপাতালে অনিয়ম দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন তিনি। হাসপাতাল পরিচালনায় ব্যর্থতার দায়ে তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে ক্লোজড করা হয়। একই সঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. আনার হোসেনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারী সরকারের শাসন ছিল। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব দেখা গেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারও টিকাদান কার্যক্রমে যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি। পরে অনেক কষ্ট করে টিকা সংগ্রহ করে আমরা শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি।স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এমন জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সারা দেশের হাসপাতালগুলোতেই আমরা নানা সমস্যা দেখতে পাচ্ছি; যেখানে হাত দিচ্ছি, সেখানেই ভয়াবহ চিত্র সামনে আসছে।নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এসে অমানবিক পরিস্থিতি দেখেছি। এখানে নতুন একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে, তবে এর অগ্রগতি অত্যন্ত ধীরগতির। আজ যেসব অব্যবস্থাপনা আমরা দেখেছি, সেগুলোর দায় তত্ত্বাবধায়ক এড়াতে পারেন না। এ কারণেই তাকে ক্লোজড করা হয়েছে।

  • চিকিৎসা নিতে নিজেই প্রাইভেট ক্লিনিকে হাজির অসুস্থ হুনুমান

    চিকিৎসা নিতে নিজেই প্রাইভেট ক্লিনিকে হাজির অসুস্থ হুনুমান

    রাজবাড়ী প্রতিনিধি 

    রাজবাড়ীর পাংশায় একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে নিজেই হাজির হয়েছে একটি অসুস্থ হনুমান। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর একটা দিকে পাংশা পৌর শহরের হামিদা মেডিকেল সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হামিদা মেডিকেল সেন্টারে সাধারণ রোগীদের জন্য রাখা সাড়ি সাড়ি বেঞ্চের একটি মাথা নিচু করে বসে আছে অসুস্থ হুনুমান।আগত রোগী ও মেডিকেল সেন্টারের স্টাফ হুনুমানের চারপাশে দাড়িয়ে মোবাইলে ছবি ধারণ করছে,আবারও কেউ কলা খেতে দিচ্ছে।তবে প্রচন্ড অসুস্থ হওয়ায় হুনুমানটি কখনো মাথা নিছু করে আছে আবার কখনো বেঞ্চে শুয়ে পড়ছে।

    এ সময় হুনুমানটির কাছে দাড়িয়ে থাকা মো: মোস্তফা কামাল অভিযোগ করে বলেন, দুই ঘন্টার ও বেশি সময় ধরে কখনো প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর আবার কখনো বন বিভাগের গিয়েছি।তাদের সাড়া না পেয়ে পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে মোবাইল ফোনে জানালে তিনি বলেন কিছুক্ষণের মধ্যে লোক যাবে আপনারা হুনুমানটিকে হেফাজতে রাখেন।তবে এখনো কেউ আসেন নাই!

    হামিদা মেডিকেল সেন্টারের মালিক আরিফুল ইসলাম বলেন, গত দুই দিন আগে একবার আসছিলো এই হুনুমানটি।তখন হাত দিয়ে সোল্ডার দেখাচ্ছিলো। সেখানে কয়েকটি সেলাই দেওয়া। পরে জানতে পারি পাংশা উপজেলার হাবাসপুর থেকে এক তাল বিক্রেতা ধারালো সোল দিয়ে কোপ দিয়েছিলো।আজ সকালেও একবার এসেছিলো।দশ মিনিট পর চলে যায়।আবার সাড়ে ১২ টার দিকে হুনুমানটি এসে বসে আছে। আমাদের এখনে কোন প্রাণী চিকিৎসা না থাকায় আমরা চিকিৎসা দিতে পারছি না।তবে প্রাণী সম্পদ ও বন বিভাগ কে জানানো হয়েছে।

    উপজেলা বন কর্মকর্তা মো: আজিজুল হক বলেন, এটি মানুষ না হলেও মানুষের মতো সব বোঝে।ওর হাতে সেলাই দেওয়া আছে। ধারণা করা হচ্ছে সেলাইয়ের ভেতর ইনফরমেশন হয়েছে। আমরা প্রাণীটিকে জেলায় পাঠানোর জন্য খাঁচা নিয়ে আসছি।তবে খাঁচার মুখ ছোট হওয়ায় খাঁচাটি কাটতে পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে হুনুমানটিকে ব্যাথা নাশক ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে।

     

  • দুই সন্তান নিয়ে মায়ের বাচার আকুতি: কিডনি দিতে প্রস্তুত স্বামী, বাধা শুধু অর্থসংকট

    দুই সন্তান নিয়ে মায়ের বাচার আকুতি: কিডনি দিতে প্রস্তুত স্বামী, বাধা শুধু অর্থসংকট

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    আমি বাচতে চাই, আমার সন্তানদের জন্য বাচতে চাই’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর এলাকার মোবারকপাড়ার বাসিন্দা মোসা. রোকসানা খাতুন (৪৫)। দুই সন্তানের এই জননী বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। দুটি কিডনি প্রায় সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে যাওয়ায় তার জীবন এখন নির্ভর করছে নিয়মিত ডায়ালিসিসের ওপর।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের শুরু থেকেই রোকসানার শরীরে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, অরুচি ও তীব্র শারীরিক ব্যথাসহ নানা উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর অসুস্থ থাকার পর চলতি বছরের ২৭ মার্চ তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে কিডনির জটিল সমস্যা ধরা পড়ে।

    পরবর্তীতে ৩১ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে কিডনি বিশেষজ্ঞ ও সহকারি অধ্যাপক ডা. এমডি তৌহিদ বিল্লাল তপনের তত্ত্বাবধানে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দ্রুত ডায়ালিসিস শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    এরপরই রোকসানা ও তার পরিবার জানতে পারেন, তার দুটি কিডনিই প্রায় সম্পূর্ণরূপে অকেজো হয়ে গেছে। এমন দুঃসংবাদে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার।

    স্ত্রীকে সুস্থ করে তুলতে স্বামী মো. আমিন নিজের সাধ্যমতো চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে চিকিৎসার পেছনে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয়ে পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।

    বর্তমানে রোকসানাকে সপ্তাহে দুইবার চুয়াডাঙ্গার খলিল মল্লিক ডায়ালিসিস সেন্টারে ডায়ালিসিস করাতে হচ্ছে। প্রতিবার ডায়ালিসিস, ওষুধ ও যাতায়াত খরচ মিলিয়ে মাসে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, যা একটি দিনমজুর পরিবারের পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

    সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী বিষয় হলো, স্ত্রীকে বাচাতে নিজের একটি কিডনি দিতে প্রস্তুত রয়েছেন স্বামী আমিন। তবে চিকিৎসকদের মতে, কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে, যা তাদের আর্থিক সামর্থ্যের অনেক বাইরে।

    একসময় কার্পাসডাঙ্গার একটি মুরগির খামারে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন আমিন। কিন্তু বর্তমানে অসুস্থ স্ত্রীর সার্বক্ষণিক সেবাযত্নের জন্য সেই কাজও ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এখন স্ত্রীকে গোসল করানো, খাওয়ানো, রান্নাবান্নাসহ সংসারের প্রায় সব দায়িত্বই তার কাধে।

    কান্নাভেজা চোখে আমিন বলেন, আমি আমার কিডনি দিয়ে স্ত্রীকে বাচাতে চাই। কিন্তু অপারেশনের টাকা জোগাড় করতে পারছি না। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো আমার দুই সন্তানের মা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

    চিকিৎসকদের ভাষ্য, দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করা গেলে রোকসানার সুস্থ জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে তার শারীরিক ঝুকি।

    মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে পুরো পরিবার। সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতাই হতে পারে রোকসানা খাতুনের নতুন জীবনের আশার আলো।

    সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা: মো. আমিন
    বিকাশ/নগদ/রকেট: ০১৪০৪৭৩০৮০৪

    একটি ছোট সহযোগিতাই ফিরিয়ে দিতে পারে দুই সন্তানের মায়ের মুখের হাসি, বাচাতে পারে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ।

  • রাজশাহীর বানেশ্বর আম হাটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন: আম’কে বিশ্ববাজারে তুলে ধরার বার্তা

    রাজশাহীর বানেশ্বর আম হাটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন: আম’কে বিশ্ববাজারে তুলে ধরার বার্তা

    রাজশাহী প্রতিনিধি

    উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি আমের বাজার রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর আম হাট পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ৯টার দিকে তিনি হাটে এসে বিভিন্ন আমের আড়ত, বিক্রয়কেন্দ্র ও পাইকারি লেনদেন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। সফরে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর এরিক গিলান, পলিটিক্যাল অফিসার চার্লস বেসনার্ডসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত রাজশাহীর বিখ্যাত বিভিন্ন জাতের আম হিমসাগর (খিরসাপাত), ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলি, গোপালভোগসহ মৌসুমের জনপ্রিয় আম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী, আড়তদার ও কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সরাসরি বাগান থেকে আসা তাজা আমের স্বাদ গ্রহণ করেন।

    বানেশ্বর আম হাট দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি আমের বাজার হিসেবে পরিচিত। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ আম এখানে বিক্রির জন্য আসে। মৌসুমজুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এই হাটে আম কিনতে আসেন।

    সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, “রাষ্ট্রদূত হিসেবে এটি আমার প্রথম রাজশাহী সফর। ২০২০ সালে একবার এখানে এসেছিলাম, তবে এবার বিশেষভাবে আমের মৌসুমে এসেছি। রাজশাহীর আমের সুনাম অনেক আগে থেকেই শুনেছি। উৎপাদনস্থলে এসে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলা এবং সরাসরি তাজা ফলের স্বাদ নেওয়ার অভিজ্ঞতা সত্যিই অসাধারণ।”

    তিনি আরও বলেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছি। কৃষিপণ্য যেখানে উৎপাদিত হয়, সেখানে গিয়ে সেই পণ্যের প্রকৃত বৈচিত্র্য ও মান সম্পর্কে জানা যায়। রাজশাহীর আমের স্বাদ ও গুণগত মান আমাকে মুগ্ধ করেছে।”

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, আমেরিকানদের কাছেও আম অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ফল। তবে যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হিমায়িত বা প্রক্রিয়াজাত আম পাওয়া যায় এবং সেগুলো দিয়ে শেক ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য তৈরি করা হয়। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের মতো এত তাজা ও বৈচিত্র্যময় আম যুক্তরাষ্ট্রে সহজলভ্য নয়।

    বাংলাদেশের আম রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের আম আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বড় অবস্থান তৈরি করতে পারে। এজন্য উন্নত কোল্ড চেইন বা হিমাগারভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। সারা বছর আম সংরক্ষণ ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে কৃষকরা আরও লাভবান হবেন এবং বৈদেশিক বাজার সম্প্রসারণ সহজ হবে।”

    কৃষি বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা গেলে রাজশাহীর আম বিশ্ববাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় প্রায় ১৯ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আম চাষ হয়েছে এবং প্রায় ২ লাখ ৪৪ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    হাটে উপস্থিত ব্যবসায়ী ও কৃষকরা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বিদেশি কূটনীতিকদের এমন পরিদর্শন রাজশাহীর আমের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।

    স্থানীয়দের আশা, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভোক্তা বাজার যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বাজারে রাজশাহীর আমের পরিচিতি আরও বাড়বে এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন। রাষ্ট্রদূতের এই সফর সেই সম্ভাবনাকেই নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

  • বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ববিতে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

    বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ববিতে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

    ববি প্রতিনিধি

    বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশে মুখর হয়ে উঠেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ক্যাম্পাস। আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের সমর্থকদের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

    আজ দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে মিছিলের মাধ্যমে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকা,জার্সি, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে অংশহরণকারী আর্জেন্টাইন সমর্থক শিক্ষার্থীরা পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় ফুটবলপ্রেমী শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

    এই শোভাযাত্রায় আর্জেন্টিনা সাপোর্টারস এসোসিয়েশনের সভাপতি জাবের আকন বলেন আর্জেন্টিনা সমর্থকরা শুধু আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করে না তারা এই দলকে ভালোবাসা এবং আবেগ দিয়ে উপলব্ধি করে। তিনি বলেন আর্জেন্টিনা সবার সেরা দল তারা ২০২২ এ তা প্রমাণ করেছে এবং এই জয়ের ধারা তারা এবারও অব্যাহতি রাখবে। আমরা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্জেন্টাইন সমর্থকগোষ্ঠী সব সময় তাদের সাথে ছিলাম আছি এবং থাকব। এবারের বিশ্বকাপ আসরে আর্জেন্টিনা আরো শক্তিশালী দ্বারা এবার বিশ্বকাপ আবারও উঁচিয়ে ধরবে।

    এছাড়াও ববি শিক্ষার্থী ও আর্জেন্টাইন সমর্থক অমিও বলেন, আমি যে জার্সি পড়েছি এটা আর কিছুদিন পর আর গায়ে জড়াতে পারব না। কারণ এই জার্সিতে থ্রি স্টার কিছুদিন পর আমাদের এই জার্সিতে আরো একটা স্টার বেড়ে যাবে। আমরা এই আর্জেন্টিনা দলকে নিয়ে অনেক আশাবাদী। এই দল আমাদের হতাশ করবে না।

    শোভাযাত্রা শেষে সমর্থকদের মধ্যে বিশ্বকাপকে ঘিরে বাড়তি উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। আয়োজকরা জানান, ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও খেলাধুলার ইতিবাচক সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতেই এ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস এক উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।

  • খোকসায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা

    খোকসায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা

    স্টাফ রিপোর্টার

    কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার পৌর এলাকার কমলাপুর গ্রামের নবম শ্রেণির এক স্কুল পড়ুয়া ছাত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    আত্মহত্যার শিকার খোকসা পৌর এলাকার কমলাপুর গ্রামের মো: জিল্লুর রহমানের মোছাঃ তানিয়া জোয়াদ্দার জেরিন (১৪) এবং সে খোকসা জানিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

    পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে গত ১৫ জুন সোমবার সকালে তার মা মোছাঃ রাজিয়া খাতুন তাকে বকাঝকা করেন। এরপর দুপুরের দিকে তানিয়া নিজ শয়নকক্ষের দরজা বন্ধ করে একা অবস্থান করে। আনুমানিক বেলা ৩টার দিকে তার দাদি পিয়ারা খাতুন ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে দেখতে পান, ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তানিয়া ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।

    তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

    খোকসা থানার ওসি(তদন্ত) মোশাররফ হোসেন আত্মহত্যার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনাটি মর্মান্তিক।

  • বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে ভারতের নতুন তৎপরতা

    বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে ভারতের নতুন তৎপরতা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনায় নেমেছে ভারত সরকার। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা সীমান্ত এলাকা ছাড়াও বড় শহরগুলোর জনসংখ্যা প্রবণতা বিশ্লেষণ করবে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানায়, সীমান্তবর্তী জেলা ও মেগাসিটিগুলোতে জনসংখ্যার পরিবর্তন, অভিবাসন প্রবণতা এবং এর সম্ভাব্য সামাজিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা চালাবে এই কমিটি। গত বছরের ১৫ আগস্ট লালকেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে মোদি কিছু অঞ্চলে ‘অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই বিষয়টি সরকারের নীতিগত আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

    ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি শুধু জনসংখ্যার পরিসংখ্যান নয়; বরং জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক ভারসাম্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গেও সম্পর্কিত। এ প্রেক্ষাপটে বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকারের নেতৃত্বে গত ২৬ মে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।

    এই কমিটি ভারত–বাংলাদেশ ও ভারত–পাকিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলসহ বিভিন্ন শহর ও শিল্পকেন্দ্রের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ করবে। এক বছরের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

    সরকারি সূত্রের মতে, ইতোমধ্যে কমিটি প্রাথমিক বৈঠক করেছে এবং কাজের রূপরেখা নির্ধারণ করেছে। আগামী মাসগুলোতে তারা বিভিন্ন সীমান্ত জেলা ও নগর এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করবে। স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা সংস্থা, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করা হবে।

    পর্যালোচনার অংশ হিসেবে জনগণনা তথ্য, ভোটার তালিকা, অভিবাসন সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য সরকারি উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় জনসংখ্যা পরিবর্তনের কারণ, সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং শহরাঞ্চলে অভিবাসনের চাপও খতিয়ে দেখা হবে।

    এ কমিটির আওতায় শুধু সীমান্ত অঞ্চল নয়, দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদসহ বড় শহরগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসনের প্রবণতা বেশি।

    ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যার পরিবর্তন কর্মসংস্থান, অবকাঠামো, জনসেবা এবং আইনশৃঙ্খলার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব প্রবণতা বোঝা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের প্রকৃতি ও কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নই হবে এই কমিটির মূল লক্ষ্য, যাতে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাগত পরিকল্পনা আরও কার্যকর করা যায়।