Author: Jvadmin

  • কুবিতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আনন্দ মিছিল ও উল্লাস

    কুবিতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আনন্দ মিছিল ও উল্লাস

    কুবি প্রতিনিধি

    বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রতি ভালোবাসা ও উন্মাদনা প্রকাশ করতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) দলটির ভক্ত ও সমর্থকদের উদ্যোগে এক উৎসবমুখর আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ​রবিবার (১৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। ক্যাম্পাসের গোলচত্বর থেকে শুরু হয়ে প্রধান ফটকের সামনে এসে শেষ হয়।

    ​শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সমর্থকেরা আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি পরিধান করে এবং আর্জেন্টিনা দলের পতাকা ও ব্যানার নিয়ে উপস্থিত হন। এ সময় ক্যাম্পাস জুড়ে ভক্তদের চিরচেনা স্লোগান ও উল্লাসে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

    ​আর্জেন্টাইন সমর্থক মোহাম্মদ নাঈম খান তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “ছোটোবেলা থেকেই আর্জেন্টিনাকে মনে-প্রাণে সমর্থন করি। দলের প্রথম ম্যাচের জয়-পরাজয় দিয়ে আমাদের ভালোবাসা পরিমাপ করা যায় না। গত বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হেরেও শেষ পর্যন্ত আমরাই চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এবারও লিওনেল মেসির ওপর আমাদের পূর্ণ ভরসা আছে এবং আমরাই ট্রফি জিতব।”

    ​চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স টেনে আরেক সমর্থক সাইফ মাশরাফি বলেন, “গতকাল মরক্কোর সাথর ব্রাজিলের আজকের এই শোভাযাত্রার আনন্দ আমাদের মাঝে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্রাজিলের হেক্সা মিশন দিন দিন তলানির দিকেই যাবে। আর এটাই আমরা আজকে বেশি করে উদ্‌যাপন করব।’

    ​আরেক সমর্থক শাহাদাত তানভীর রাফি বলেন, “২০২২ সালেও ব্রাজিল ‘হেক্সা মিশন’ এর স্বপ্ন দেখেছিল, এবারও দেখছে যা ২০৩০ সালেও অধরা থেকে যাবে বলে মনে হচ্ছে। এই তীব্র গরমে আর্জেন্টিনা ছাড়াও ব্রাজিল দলের সমর্থকদেরও আমরা ‘সেভেন আপ’ খেয়ে প্রাণ জুড়ানোর আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।”

    ​প্রসঙ্গত, আগামী ১৭ই জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের মিশন শুরু করতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

  • চুয়াডাঙ্গা দর্শনা সীমান্তে ১১ জনকে ‘পুশইনের’ চেষ্টা, বিজিবি’র বাধায় ব্যর্থ

    চুয়াডাঙ্গা দর্শনা সীমান্তে ১১ জনকে ‘পুশইনের’ চেষ্টা, বিজিবি’র বাধায় ব্যর্থ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’-এর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

    রোববার (১৪ জুন) ভোর প্রায় ৫টার দিকে দর্শনা-গেদে সীমান্তের ৭৬-৭৭ নম্বর মেইন পিলারের নিকটবর্তী এলাকা দিয়ে ১১ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। তাদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী রয়েছেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নজরে আসার পর বিজিবির টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যক্তিদের সীমান্তের কাটাতারের বেড়ার কাছে নিয়ে রেখে আসে। পরবর্তীতে তারা কোথায় অবস্থান নিয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে বিজিবি চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, “পুশইনসহ সীমান্তের যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও অপারেশনাল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বাধীন চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার মোট ১১৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করছে।

  • জীবননগর সীমান্তে ৪টি স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক

    জীবননগর সীমান্তে ৪টি স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মেদিনীপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৪টি স্বর্ণের বার ও ৪ টুকরা স্বর্ণসহ এক পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    স্বর্ণসহ আটককৃত মো. সিকান্দার আলী (৫০) গোয়ালপাড়া গ্রামের কাসেদ আলীর ছেলে।

    রোববার (১৪ জুন) সকালে মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের মেদিনীপুর বিওপি ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় টহলরত অবস্থায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার মেদিনীপুর সীমান্তের ৬৪ নম্বর সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে স্বর্ণ পাচারের সময় মো. সিকান্দার আলী নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় দেহ তল্লাশি করে তার কাছ থেকে ৪টি স্বর্ণের বার ও ৪ টুকরা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

    মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রফিকুল আলম স্বর্ণসহ পাচারকারী আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • মধু মাসের ফলে ভরে গেছে বগুড়া মহানগর

    মধু মাসের ফলে ভরে গেছে বগুড়া মহানগর

    বগুড়া প্রতিনিধি

    সুস্বাদু ফলের অধিক সরবরাহ থাকায় বাঙালিদের প্রিয় মধুমাস নামে পরিচিত জ্যৈষ্ঠ। বছর জুড়ে কমবেশি সব ফল পাওয়া গেলেও সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় জ্যৈষ্ঠমাসে। চলতি মধুমাস এখন শেষের দিকে। মৌসুমের ঠিক এই মুহূর্তে বগুড়ায় ভরপুর নানা দেশি ফলে। মধুফলের ম-ম ঘ্রাণে বিমোহিত মহানগরসহ হাটবাজার। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে পাকা ফলের মিষ্টি সুবাস। গ্রীষ্মকালীন রসালো ফল আম, জাম, লাল টুকটুকে লিচু, কাঁঠাল, ডেউয়া, আনারস, লটকন ও তালের শাঁসসহ নানা ফল বেচাকেনায় শহরটিতে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধুমাস জ্যৈষ্ঠে আম, লিচু ও দেশি অন্যান্য ফলের কারণে বিদেশি ফলের চাহিদা কম। তাদের দাবি, বাজারে আম ও লিচু পরিপক্ব এবং বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে পাকানো নয়।

    ক্রেতারা বলছেন, জ্যৈষ্ঠ মাসে সামর্থ্যে নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও সব শ্রেণি পেশার মানুষ দেশি ফলের স্বাদ নেন। এটি আমাদের দেশের ঐতিহ্য। এছাড়া নিম্ন আয়ের মানুষেরা বিদেশি ফল সারাবছর দামের কারণে কিনে খেতে পারেননা। জ্যৈষ্ঠ মাস আসার অপেক্ষায় থাকেন তারা।

    জানা যায়, মধুমান জ্যৈষ্ঠের শেষের দিকে বগুড়া মহানগরের বাজারগুলোতে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, লটকন ও তালের শাঁসের মতো হরেক রকমের সুস্বাদু ও রসালো দেশি ফলে ভরে উঠেছে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে পাকা ফলের মিষ্টি সুবাস। মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও বাজারে মৌসুমি ফলের ব্যাপক সমারোহ দেখা যায়। বগুড়ার প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে-রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, চেলোপাড়া বাজার, সাতমাথা ও কলোনী বাজার। এই স্থানগুলোতে পাকা আম, লাল টুকটুকে লিচু, কাঁঠাল এবং সুস্বাদু তালের শাঁসের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। গ্রীষ্মকালীন রসালো ফলের বেচাকেনায় মহানগরটিতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু মধুমাসের এই আনন্দের মধ্যে দাম নিয়ে ক্রেতাদের রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। যদিও আমের দাম তুলনামূলকভাবে কমে সাধারণ মানুষের নাগালে এসেছে। তবে লিচু, জাম, ডেউয়া, লটকনসহ অন্যান্য অনেক ফলের দাম এখনও বেশ চড়া।

    বগুড়া মহানগরের স্টেশন সড়ক, কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক, কাঁঠালতলা, ফতেহ আলী বাজার এলাকাসহ কলোনী বাজার ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফলের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। এছাড়া স্থায়ী-অস্থায়ী ভাবে অনেকেই ফলের দোকান বসিয়ে বিক্রি করলেও কেউ কেউ আবার ভ্যানে করে মৌসুমী ফল বিক্রি করছেন। এসব দোকানে বিকেলের পর ক্রেতাদের চাপ বৃদ্ধি পায়। অনেক ক্রেতা একসঙ্গে একাধিক ধরনের ফল কিনে বাড়িতে ফিরছেন। তবে গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে বর্তমানে বাজারে ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে আম ও লিচু। বগুড়ার বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন জাতের আম। আর লিচু বিক্রি হচ্ছে যশোর, রাজশাহী, দিনাজপুর ও ঈশ্বরদী জেলার। বাজারে নাগফজলি, হাড়িভাঙ্গা ও ল্যাংড়া আম প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০টাকা, খিরসাপাতি ৮০ থেকে ১০০টাকা, বানানা ম্যাংগো ১০০ থেকে ১২০টাকা কেজি। এছাড়া চায়না লিচু প্রতি ১’শ পিস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০টাকা ও দেশি জাতের লিচু ৪০০ থেকে ৫০০টাকায়। তবে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কালো জাম, লকটন, ডেউয়া ও আমলকি ফল।

    প্রতিকেজি কালো জাম, ডেউয়া ও লকটন বিক্রি হচ্ছে ২০০টাকায়, জামরুল ১৬০টাকা ও লাল জাতের আমলকি ৪০০টাকা কেজি।

    বগুড়ার মহানগরের কাঁঠালতলা এলাকার ফল ব্যবসায়ী সনাতন ঘোষ জানান, এখন দেশি ফলের ভরা মৌসুম চলছে। প্রতিদিন প্রচুর আম, লিচু ও কাঁঠাল বাজারে আসছে। সরবরাহ বাড়ায় আমের দাম অনেকটা কম। যদিও কিছু ফলের উৎপাদন কম থাকায় সেগুলোর দাম এখনও বেশি।

    তিনি বলেন, মধুমাস জ্যৈষ্ঠে আম, লিচু ও দেশি অন্যান্য ফলের কারণে বিদেশি ফলের চাহিদা কম থাকে। জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়ে মানুষ আম-কাঁঠাল ও দেশি ফল খাবেন। তবে বাজারের আম ও লিচু পরিপক্ব এবং বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে পাকানো নয়।

    বাজারে ফল কিনতে আসা সোহেল আহম্মেদ জানান, আমের বাজারে স্বস্তি এসেছে। তবে অন্য ফলের দাম কমেনি। তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষেরা বিদেশি ফল সারাবছর দামের কারণে কিনে খেতে পারেননা। জ্যৈষ্ঠ মাসে সামর্থ্যে নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও সব শ্রেণি পেশার মানুষ দেশি ফলের স্বাদ নেন।

  • কাউয়ারখোপ-মনিরঝিল সেতু নির্মাণের দাবিতে আবারও সোচ্চার এলাকাবাসী

    কাউয়ারখোপ-মনিরঝিল সেতু নির্মাণের দাবিতে আবারও সোচ্চার এলাকাবাসী

    এস.এম. হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার

    কক্সবাজারের রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল বাঁকখালী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বহুল প্রত্যাশিত ‘কাউয়ারখোপ-মনিরঝিল সেতু’ নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হলেও সরকার পরিবর্তনের পর প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়। ফলে দুই উপজেলার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষের প্রত্যাশা অপূর্ণই থেকে যায়।

    স্থানীয়দের দাবি, স্বাধীনতার পর থেকেই কাউয়ারখোপের মনিরঝিল এবং নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি এলাকার মানুষের জন্য বাঁকখালী নদী ছিল যোগাযোগের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা। নদী পারাপারের দুর্ভোগ, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিপণ্যের পরিবহনে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা।

    ২০২১ সালের ২২ আগস্ট তৎকালীন সময়ে সেতু নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কনসালট্যান্ট আকতারুজ্জামান সেতুর সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন। দীর্ঘ সেতুটির নকশা প্রণয়ন, হাইড্রোলজিক্যাল ও মরফোলজিক্যাল সমীক্ষা, সয়েল টেস্ট এবং ডিজিটাল সার্ভের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল।

    তৎকালীন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, সেতুটি নির্মিত হলে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকটের অবসান ঘটবে। পাশাপাশি অবহেলিত মনিরঝিল এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কৃষি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

    তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকল্পটি আর বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। বর্তমানে এলাকাবাসী আবারও সেতু নির্মাণের দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করেছেন। তাদের মতে, এ সেতু শুধু একটি যোগাযোগ অবকাঠামো নয়, বরং দুই জেলার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

    স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত প্রকল্পটি পুনরায় অনুমোদন দিয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের স্বপ্নের ‘কাউয়ারখোপ-মনিরঝিল সেতু’ বাস্তবে রূপ নিলে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির হাজারো মানুষের জীবনমান উন্নয়নের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।

  • গাইবান্ধায় ষ্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্বোধনী ধারনা প্রদর্শনের সমাপনী কর্মসুচির সনদ বিতরন

    গাইবান্ধায় ষ্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্বোধনী ধারনা প্রদর্শনের সমাপনী কর্মসুচির সনদ বিতরন

    গাইবান্ধা প্রতিনিধি

    মেধা- বিজ্ঞান- উদ্বোধনের দেশ সবার আগে বাংলাদেশ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে গাইবান্ধায় ষ্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্বোধনী ভাবনা প্রদর্শনের সমাপনী কর্মসুচির পুরস্কার হিসেবে সনদ ও সম্মননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে।

    এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম(EES) ও এসইডিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকার আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিসের সহযোগিতায় আজ (১৪ জুন) রবিবার বিকেল ৩ টার দিকে শহরের বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুল এন্ড কলেজের শ্রেনীকক্ষে এই উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    আলোচনা সভায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও আইসিটি)একেএম হেদায়েতুল ইসলাম, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ, সাবেক অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান। এছাড়াও প্রত্যেকটি উপজেলার একাডেমিক সুপারভাইজারগণ উপস্থিত ছিলেন।

    এসময় বক্তারা বলেন, ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের নিত্য নতুন উদ্বোধনী কাজে মনোযোগী হবার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বক্তারা প্রত্যাশা করেন, ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্বোধনী প্রজেক্ট গুলো জাতীয় পর্যায়ে গিয়ে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। সব শেষে তাদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন তারা।

    আলোচনা শেষে পনেরো জন নির্বাচিত ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্বোধনী বিষয়ক সনদ ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে ছয় জন শিক্ষক ও নয় জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আলোচনা সভার আগে উদ্বোধনী প্রজেক্টের ষ্টলগুলো ঘুরে দেখেন জেলা প্রশাসক।

    জেলার প্রত্যেক টি উপজেলার ৭ টি স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে ড্রাইভিং মোটর সিষ্টেম, ইমোশনাল শোপিছ, স্মার্ট রেলওয়ে সিষ্টেম ব্যাসড স্মার্ট সিটির ৭ টি উদ্বাধনী প্রজেক্টের ষ্টল বসানো হয়।

    ষ্টলগুলোত পরিদর্শন শেষে বিচারকদের মুল্যায়নের পর, ইউনিভার্সাল এআই সেফটি কর (হোম এন্ড ড্রাইভ) প্রজেক্ট নিয়ে, প্রথম স্থান অর্জন করে পলাবাড়ী উপজেলার গ্রীন ফিল্ট স্কুল এন্ড কলেজ, গ্যাস লিকেজ ডিটেক্টর ও ব্রাসলেস ডি.সি মোটর প্রজেক্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে গোবিন্দগঞ্জের চকমানিকপুর আমিনীয়া কামিল মাদ্রাসা ও ফটোভলটিক ট্রি উদ্বোধনী প্রজেক্ট নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে সদর উপজেলার আহম্মেদ উদ্দিন শাহ শিশু নিকেতন স্কুল এন্ড কলেজ। শেষে বিজয়ীদের সনদ ও সম্মননা স্মারক প্রদান করা হয়।

    প্রথম স্থান অর্জন করা দলটি জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপনের সুযোগ পাবে।

    উল্লেখ্য: গত ১২ জুন শুক্রবার জেলার ৭ উপজেলার ৯০ টি স্কুল এন্ড কলেজের ৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেনীর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংগ্রহনে দিনব্যাপী ষ্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্বোধনী ধারনা প্রদর্শন কর্মসুচি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলায় বিজয়ী হবার পরে সেই বিজয়ী ৭ টি দল পরবর্তীতে জেলা পর্যায়ে উদ্বোধনী ধারনা প্রদর্শনের সমাপনী কর্মসুচিতে অংশ নেয়।

  • আরডিএ’র নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন আবুল কালাম আজাদ সুইট

    আরডিএ’র নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন আবুল কালাম আজাদ সুইট

    রাজশাহী প্রতিনিধি

    রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং মহানগর বিএনপির বর্তমান সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট।

    রোববার সকালে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলামের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি রাজশাহীবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন এবং দায়িত্ব পালনে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৫ জুন) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আরডিএ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাজশাহী উন্নয়ন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তাকে এক বছরের জন্য আরডিএ চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
    গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব গোলাম রব্বানী স্বাক্ষর করেন।

    নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটের নেতৃত্বে রাজশাহীর পরিকল্পিত নগরায়ণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • একজন ভূমিহীন মানুষকেও যেন পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ না করা হয়: কাজল

    একজন ভূমিহীন মানুষকেও যেন পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ না করা হয়: কাজল

    এস.এম লুৎফুর কবির,কক্সবাজার

    কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেছেন, এ  এলাকায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ভূমিহীন, এখানে জলবায়ু উদ্বাস্তু বেশি। তাই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় একজন ভূমিহীন মানুষকেও যেন পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ না করা হয় এ দাবি তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানান।

    শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদরের পিএমখালীর পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মানবিক দিক বিবেচনায় নিতে হবে। ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন নিশ্চিত না করে উচ্ছেদ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    এমপি কাজল বলেন, বাঁকখালী নদীর ভয়াবহ ভাঙন দীর্ঘদিন ধরে চলমান। এতে দুই তীরের মানুষ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ফসলি জমি হারাচ্ছে এবং অনেক পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। এ অবস্থায় নদীর দুই তীরে টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। এ সময় নদীর দুই কূলে টেকসই বাঁধ নির্মাণে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের জমিকে চাষযোগ্য করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের স্বাবলম্বী করাই সরকারের অগ্রাধিকার।

    তিনি আরও বলেন, প্রায় ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই পাতলী খাল খনন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে, যা হাজারো কৃষকের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

    সভায় আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা।

    এর আগে বেলা ১১টার দিকে বাবার স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজের হাতে মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।

    টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে কক্সবাজারজুড়ে দেখা যায় উচ্ছ্বাস। তাকে দেখতে খালপাড়ে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ।

    উদ্বোধন শেষে পথসভায় বক্তব্য দিয়ে পৌনে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথা রয়েছে তার।

    এর আগে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিমানবন্দরের বাইরে অবস্থান নেওয়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী স্লোগানে স্লোগানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

  • আইডিইবি নীলফামারী জেলা শাখার নবনির্বাচিত কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠিত

    আইডিইবি নীলফামারী জেলা শাখার নবনির্বাচিত কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠিত

    বিশেষ প্রতিনিধি

    ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনীয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) নীলফামারী জেলা শাখার নবনির্বাচিত জেলা নির্বাহী কমিটির (জেনিক) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের শপথ গ্রহণ ও অভিষেক অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ। তিনি নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে দায়িত্বশীলতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।
    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নীলফামারী সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. সিদ্দিক শফিকুল ইসলাম এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, নীলফামারীর নির্বাহী প্রকৌশলী আলহাজ্ব প্রকৌশলী মো. হাজেরুল ইসলাম।
    বক্তারা বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আশা প্রকাশ করেন, আইডিইবি দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাবে।

    অনুষ্ঠানে জেলা শাখার সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা সংগঠনের অগ্রগতি, সদস্যদের পেশাগত উন্নয়ন এবং প্রকৌশলীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে উপস্থিত সবার অংশগ্রহণে এক আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

  • নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে নারীকে পেটালেন যুবদল নেতা, ভিডিও ভাইরাল

    নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে নারীকে পেটালেন যুবদল নেতা, ভিডিও ভাইরাল

    নোয়াখালী প্রতিনিধি

    নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে এক নারীকে প্রকাশ্যে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা মো. সফিকের (৩৮) বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মারধরের শিকার তাসলিমা আক্তার খুকি (৩৫) একই গ্রামের মো. খলিল ড্রাইভারের স্ত্রী। অভিযুক্ত মো. সফিক মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং একই এলাকার মনতারাগো বাড়ির সামছুদ্দিন মোল্লার ছেলে।

    ভুক্তভোগী খুকি অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী গত দুই মাস ধরে সফিকের অধীনে কাজ করলেও বেতন পাননি। বেতন চাইতে গেলে সফিক দাবি করেন, তার স্বামী ইয়াবা সেবন করে সব টাকা খরচ করেছেন। ঈদুল আজহার সময়ও বেতন না পাওয়ায় তাদের পরিবারকে কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। এরপর তিনি স্বামীকে সফিকের কাজে যেতে নিষেধ করেন, যা নিয়ে সফিক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

    তিনি আরও বলেন, শনিবার সকালে বাড়ির পাশের নদীতে বসানো একটি রিং জাল সফিক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন। এ সময় সফিক তার স্বামীকে প্লাস্টিকের পাইপের ভেতরে লোহার রড ঢুকিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে সফিক তার ভগ্নিপতি নূরে মাওলাকে সঙ্গে নিয়ে এসে আবারও তার স্বামীকে মারধর শুরু করেন। স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়।

    খুকি আরও অভিযোগ করেন, সফিক তার প্রজেক্টে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তার স্বামীকে দিয়ে অবৈধ মাদক ব্যবসা পরিচালনা করাতেন। আবার হিসেবে গরমিল হলে বেজায় গালমন্দ করতেন। সব সময় তার প্রজেক্টে ১০-১৫ টি মোটরসাইকেল থাকে। প্রায় সেখানে হরেক রকম মাদকের আসর বসে।

    অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা মো. সফিক বলেন, খুকির পরিবারের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ক ছিল। কয়েক দিন আগে তার স্বামী আমার বোনের বসত ঘরের দরজা খোলার চেষ্টা করেন, আমার মাছ চুরি করেন। শনিবার সকালে জাল নিয়ে আসার পথে খুকি ও তার স্বামী আমাকে আক্রমণ করে এবং আমার নাক ফাটিয়ে দেয়।

    এ বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।