একজন ভূমিহীন মানুষকেও যেন পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ না করা হয়: কাজল

এস.এম লুৎফুর কবির,কক্সবাজার

কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেছেন, এ  এলাকায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ভূমিহীন, এখানে জলবায়ু উদ্বাস্তু বেশি। তাই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় একজন ভূমিহীন মানুষকেও যেন পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ না করা হয় এ দাবি তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানান।

শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদরের পিএমখালীর পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মানবিক দিক বিবেচনায় নিতে হবে। ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন নিশ্চিত না করে উচ্ছেদ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এমপি কাজল বলেন, বাঁকখালী নদীর ভয়াবহ ভাঙন দীর্ঘদিন ধরে চলমান। এতে দুই তীরের মানুষ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ফসলি জমি হারাচ্ছে এবং অনেক পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। এ অবস্থায় নদীর দুই তীরে টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। এ সময় নদীর দুই কূলে টেকসই বাঁধ নির্মাণে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের জমিকে চাষযোগ্য করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের স্বাবলম্বী করাই সরকারের অগ্রাধিকার।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই পাতলী খাল খনন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে, যা হাজারো কৃষকের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে বাবার স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজের হাতে মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।

টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে কক্সবাজারজুড়ে দেখা যায় উচ্ছ্বাস। তাকে দেখতে খালপাড়ে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ।

উদ্বোধন শেষে পথসভায় বক্তব্য দিয়ে পৌনে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথা রয়েছে তার।

এর আগে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিমানবন্দরের বাইরে অবস্থান নেওয়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী স্লোগানে স্লোগানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।