Author: Jvadmin

  • আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করতে নেদারল্যান্ডস যাচ্ছেন ইবি শিক্ষক ড. শামীম হোসেন 

    আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করতে নেদারল্যান্ডস যাচ্ছেন ইবি শিক্ষক ড. শামীম হোসেন 

    ইবি প্রতিনিধি 

    আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক শীর্ষস্থানীয় Q1 জার্নাল Networks এর Best Paper Award গ্রহণের জন্য নেদারল্যান্ডস যাচ্ছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কম্পিউটার ভিশন ল্যাবের পরিচালক ড. মো. শামীম হোসেন৷ বুধবার (১৭ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। আগামী ২১-২৬ জুন দেশটিতে অনুষ্ঠিতব্য IEEE World Congress on Computational Intelligence (WCCI 2026) অনুষ্ঠানে  তিনি এ পুরস্কার গ্রহন করবেন। 

    জানা যায়, এই এওয়ার্ড এর জন্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশি গবেষকদের একটি গবেষণাপত্র। গবেষণাপত্রটি যৌথভাবে সম্পন্ন করেন ইবির ড. মো. শামীম হোসেন এবং দী সাংকিউংকওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়স্থ কোয়ান্টাম বায়োফিজিক্স ইনস্টিটিউটের পিএইচডি গবেষক দীপঙ্কর বালা।  ইবির কম্পিউটার ভিশন ল্যাব এবং চীনের ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়নার (USTC) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের যৌথ গবেষণা কার্যক্রমের আওতায় গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এর তত্ত্বাবধান করেন USTC-এর অধ্যাপক ঝাংজিন হুয়াং।

    গবেষণাটির মূল বিষয় ছিল মাঙ্কিপক্স (Mpox) রোগ শনাক্তকরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। গবেষণাটি ২০২৩ সালের শেষ দিকে Neural Networks জার্নালে প্রকাশিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্প্রদায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ক্ষেত্রটির অন্যতম বহুল উদ্‌ধৃত (Highly Cited) গবেষণাপত্রে পরিণত হয় এবং মাঙ্কিপক্স শনাক্তকরণ ও মেডিকেল ইমেজ বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের  প্রথম কোনো গবেষকদল এবারে Q1 জার্নাল কর্তৃক এ ধরনের পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

    এ ব্যাপারে ড শামীম হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক মানের Q1 জার্নাল Neural Networks-এর এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের গবেষণা অঙ্গনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি গবেষণায় দেশের সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তরুণ গবেষকদের বৈশ্বিক গবেষণায় আরও উৎসাহিত করবে।

    প্রসঙ্গত, Neural Networks Best Paper Award প্রতি বছর জার্নালটিতে প্রকাশিত গবেষণাপত্রগুলোর মধ্য থেকে মাত্র একটি প্রবন্ধকে প্রদান করা হয়। এই পুরস্কারের জন্য কোনো গবেষক নিজে মনোনয়ন দিতে পারেন না। আন্তর্জাতিক গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মনোনয়নের ভিত্তিতে গবেষণাপত্রগুলো মূল্যায়নের জন্য বিবেচিত হয়। মনোনয়নের সময় গবেষণার বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষ, মৌলিকত্ব, গবেষণা ক্ষেত্রে অবদান এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করতে হয়। পরবর্তীতে সম্পাদকীয় বোর্ড ও বিশেষজ্ঞ মূল্যায়কদের কঠোর পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।

  • ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’- এর ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’- এর ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    জনপ্রিয় স্লোগান ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’- এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের মূল লক্ষ্যে হলো-একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষককেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে উৎপাদন ও বিপণন হবে সম্পূর্ণ তথ্যচালিত, আমাদের প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা এবং কৃষিখাত হবে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।

    বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এদিন প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

    সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজা প্রশ্ন রেখে বলেন, আমাদের কৃষিনির্ভর এই বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও মেহনতি কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের জনগণ কর্তৃক সাদরে গৃহীত আপনার বহুল জনপ্রিয় স্লোগান ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ কর্মসূচির আওতায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে? এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে কৃষিতে অভূতপূর্ব বিপ্লব সাধনে আমরা আশান্বিত হতে পারি কি না? জবাবে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের মূল লক্ষ্যে হলো একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষককেন্দ্রিক আধুনিক কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে উৎপাদন ও বিপণন হবে সম্পূর্ণ তথ্যচালিত, আমাদের প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা এবং কৃষিখাত হবে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।

    কৃষিক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিত করতে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্প মূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদানের লক্ষ্যে চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল থেকে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের ১০ জেলার ১১ উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম সম্পাদন করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সরকার এরই মধ্যে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্যখাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে। এ লক্ষ্যে সরকার চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছে। ফলে সারা দেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন কৃষক উপকৃত হবেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, জলাবদ্ধতা নিরসন হবে, সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে। ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি এবং এমওপি সার অত্যন্ত সুলভমূল্যে সরাসরি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিএডিসির মাধ্যমে উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল বীজের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

    উচ্চ ফলনশীল ও প্রতিকূলতা সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি স্মার্ট কৃষি ও প্রিসিশন এগ্রিকালচারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ও গম সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দেশব্যাপী ‘কৃষকবাজার’ স্থাপন করা হচ্ছে। কৃষিখাতে সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস এবং ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল প্রশ্ন রেখে বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের মধ্যে অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা এবং বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কি না?

    জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, ঘনবসতি, বিস্তৃত নদ-নদী ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় বৈশিষ্ট্যের বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন, খরা, অতিবৃষ্টি, বজ্রপাত, তাপ ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের প্রকোপ ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মানুষের জীবন- জীবিকা, কৃষি, অবকাঠামো, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা পানিসম্পদ খাতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদীভাঙন রোধ, বন্যায় সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ততা হ্রাসকরণ অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তারেক রহমান। এর মধ্যে রয়েছে- আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট কর্তৃক জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রশিক্ষণ এবং সম্পসারণ কার্যক্রম অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেমন- উপকূলীয় জেলাগুলোতে গ্রামীণ প্রাকৃতিক জলাধার গড়ে তোলা হবে, যাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে পানীয়জলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

  • নাসিরনগরে টিসিবির চাল বিক্রির অভিযোগ, উপকারভোগী বাছাই নিয়ে প্রশ্ন

    নাসিরনগরে টিসিবির চাল বিক্রির অভিযোগ, উপকারভোগী বাছাই নিয়ে প্রশ্ন

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়নে টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) পণ্য বিতরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, টিসিবির চাল পাওয়ার পর অনেক উপকারভোগী তা ব্যবহার না করে প্রকাশ্যে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

    স্থানীয়দের দাবি, টিসিবির পণ্য মূলত নিম্ন আয়ের ও অসচ্ছল মানুষের জন্য সরকারের একটি সহায়তামূলক কর্মসূচি। কিন্তু যাদের প্রকৃতপক্ষে আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, তাদের অনেকেই তালিকাভুক্ত হয়ে এসব সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, টিসিবির চাল পাওয়ার পর কিছু ব্যক্তি তা বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। তাদের মতে, যদি কেউ প্রাপ্ত চাল বিক্রি করে দেন, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায় তিনি আদৌ এই সহায়তার প্রকৃত উপযুক্ত ছিলেন কি না।

    স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে টিসিবির পণ্য বিতরণে অনিয়ম বা অযোগ্য ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী বলেন, সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য নিয়মিত তদারকি ও উপকারভোগীদের তালিকা পুনঃযাচাই করা জরুরি।

  • নতুন বেতন কাঠামোয় বেশি সুবিধা পাচ্ছেন যারা

    নতুন বেতন কাঠামোয় বেশি সুবিধা পাচ্ছেন যারা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোয় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন ১১ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতায় তাদের মাসিক টিফিন ভাতা পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    বর্তমানে অষ্টম পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের মাসিক টিফিন ভাতা ২০০ টাকা। নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে এ ভাতা বেড়ে হবে ১ হাজার টাকা।

    প্রস্তাবিত এ সুবিধার আওতায় থাকবেন ১১ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারী এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

    জাতীয় বেতন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ২০০ টাকা টিফিন ভাতা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কর্মচারীদের পুষ্টি ও কর্মদক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন এ ভাতা ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে।

    নতুন পে স্কেলে টিফিন ভাতার পাশাপাশি মূল বেতন ও অন্যান্য ভাতাতেও পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

    এ ছাড়া বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ, সন্তানদের শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

    প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা চালুর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য মাসিক ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত ভাতা দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।

    মাঠপর্যায়ের কর্মচারী ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা টিফিন ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ২০০ টাকার ভাতা কার্যত অপ্রতুল ছিল। নতুন হার কার্যকর হলে কর্মস্থলে দৈনন্দিন ব্যয় সামাল দিতে কিছুটা সহায়তা মিলবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের অংশ হিসেবে আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।

  • রুপির বিপরীতে ১০ বছরে সর্বোচ্চ দামে বাংলাদেশি টাকা

    রুপির বিপরীতে ১০ বছরে সর্বোচ্চ দামে বাংলাদেশি টাকা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর ভারতীয় রুপির বিপরীতে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। বর্তমানে বাংলাদেশের ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ৭৯ ভারতীয় রুপি, যা মাত্র কিছুদিন আগেও ছিল মাত্র ৭৩ রুপি।

    একইভাবে আগে যেখানে ১০০ রুপি কিনতে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রায় ১৪০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হতো, মুদ্রা বাজারের বর্তমান হারের কারণে এখন সেখানে লাগছে মাত্র ১২৩ টাকা।

    মুদ্রা বিনিময় হারের এই বড় ধরনের পরিবর্তনে দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত বাণিজ্য, আমদানি কার্যক্রম এবং ভারতগামী পাসপোর্টধারী যাত্রীদের মধ্যে বড় রকমের স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সাধারণত ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে একজন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীকে যাত্রার আগেই বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। এর মধ্যে ভারতীয় দূতাবাসের ভিসা ফি ১ হাজার ৫৫০ টাকা, ভারতের বন্দর চার্জ ৪০০ রুপি, বাংলাদেশ সরকারের ভ্রমণ কর ১ হাজার টাকা এবং বন্দর ফি ৬৫ টাকা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

    এর বাইরেও ভিসার সিরিয়াল সংগ্রহ ও যাতায়াত বাবদ একটি বড় অঙ্কের ব্যয় হয়। ফলে রুপির উচ্চমূল্যের কারণে এতদিন ভারত ভ্রমণ সাধারণ মানুষের জন্য বেশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছিল।

    শুধু ভ্রমণই নয়, রুপির চড়া দামের কারণে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতেও অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছিল দেশের ব্যবসায়ীদের, যার ফলে অনেক আমদানিকারক লোকসানের আশঙ্কায় তাঁদের ব্যবসার পরিধি সীমিত করে ফেলেছিলেন।

    তবে সম্প্রতি ভারতের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করেই রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান লক্ষণীয়ভাবে বাড়তে শুরু করে এবং গত তিন দিনের ব্যবধানে টাকার অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। এতে ভ্রমণকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

    বেনাপোল স্থলবন্দর ব্যবহারকারী পাসপোর্টধারী রাশেদুজ্জামান জানান, টাকার মান বাড়ায় ভারত ভ্রমণের খরচ আগের চেয়ে কিছুটা কমবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির বিষয়।

    অন্যদিকে বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বাংলাদেশি টাকা শক্তিশালী হওয়ায় ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীদের সামগ্রিক ব্যয় কমবে এবং দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন এই পরিবর্তনকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে বলেন, বিগত ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশি টাকার মান রুপির বিপরীতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ভারতের নির্বাচন-পরবর্তী এই সময়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যাত্রী চলাচল আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

    বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১ হাজার ৮৩৬ জন দেশি-বিদেশি পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেছেন এবং একই দিনে ৩৪৫টি ট্রাকে করে দুই দেশের আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহন করা হয়েছে।

    বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, ব্যবসায়ী ও ভ্রমণকারীদের জোরালো প্রত্যাশা হলো বাংলাদেশি টাকার এই ইতিবাচক ধারা যদি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকে, তবে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গতিশীল হবে এবং সীমান্ত অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

  • কালীগঞ্জ থানায় ওসির মতবিনিময়: আমন্ত্রণ পাননি টেলিভিশন ফোরামসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা

    কালীগঞ্জ থানায় ওসির মতবিনিময়: আমন্ত্রণ পাননি টেলিভিশন ফোরামসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা করেছেন। তবে সভায় আমন্ত্রণের ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা এবং সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব সম্পর্কে ওসির অনবগতির বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের অনেক পেশাদার সাংবাদিক, যারা জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে নিয়মিত কাজ করছেন, তাদের অনেকেই এই মতবিনিময় সভার বিষয়টি আগে থেকে জানতেনই না। স্থানীয়ভাবে কাজ করা অনেক সাংবাদিক এই আয়োজন সম্পর্কে অন্ধকারে ছিলেন। গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসন থেকে সবাইকে যথাযথভাবে অবহিত না করায় অনেক পেশাদার ও মাঠপর্যায়ের সাংবাদিক এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি।

    এদিকে ঝিনাইদহ সাংবাদিকদের অন্যতম সংগঠন ‘টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম ’-এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সম্পর্কে ওসি অবগত নন বলে মন্তব্য করেন।

    টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি শিপলু জামান এর সাথে কথা বলে জানা যায় এ বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি। এবং কালীঞ্জের আরো ৩ ক্লাবের কেউই জানেন না। এতে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

    এনটিভি’র সাংবাদিক মন্জুরল করিম লিতু সামাজিক যোগাযোগ মাধ‌্যম ফেইজবুকে লেখেন কালীগঞ্জ থানায় সাংবাদিকদের সাথে ওসির মতবিনিময়। জানেন না টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সম্পাদক।

    স্থানীয় সাংবাদিকরা মনে করছেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয় ও পরিচিতি বৃদ্ধি করা জরুরি। কিন্তু সংগঠনের নেতৃত্ব সম্পর্কে অনবগতি এবং সবাইকে সমানভাবে না জানানোয় পুলিশের সাথে সাংবাদিকদের পেশাদার সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি দূরত্ব ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

    সম্প্রতি এক নারী মাদক ব্যবসায়ীর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ওই নারী প্রকাশ্যে দাবি করেন, তিনি প্রতি মাসে থানার পুলিশকে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন। যদিও অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এমন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে ওসির মতবিনিময় সভায় মাদক, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের জবাবদিহিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে আসে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, মাদক ব্যবসায়ীর এমন বক্তব্যের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি।

    সভায় ওসি বলেন, কালীগঞ্জ থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক নির্মূল ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

    কালীগঞ্জের সাংবাদিক ও সচেতন মহল মনে করছেন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের পারস্পরিক সহযোগিতা জনস্বার্থে কাজ করার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্বকে না চেনা এবং অনেক পেশাদার সাংবাদিককে সভায় আমন্ত্রণ না জানানোয় এই মতবিনিময় সভাটি তার পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারেনি। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে পুলিশ প্রশাসন সংবাদকর্মীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি না করে সকল পেশাদার সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করবেন।

    এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন এর মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

  • মাগুরায় কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: বিএনপি নেতাসহ দু’জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা

    মাগুরায় কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: বিএনপি নেতাসহ দু’জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা

    মাগুরা প্রতিনিধি

    মাগুরায় এক কলেজছাত্রীকে মেলা দেখানোর কথা বলে বাড়িতে নিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণের অভিযোগে সদর উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মুক্ত মিয়া ও তার সহযোগী টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    বুধবার (১৭ জুন) মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী মামলাটি দায়ের করেন। তিনি মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী বলে জানা গেছে।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৭ এপ্রিল বিকেলে ভুক্তভোগীর মায়ের পরিচিত ব্যক্তি হাজীপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মুক্ত মিয়া (৪৫) তাকে মেলা দেখানোর কথা বলে মোটরসাইকেলে করে শহরের বাণিজ্য মেলায় নিয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে মুক্ত মিয়ার সহযোগী টিপু সুলতান (৪২) তাদের সঙ্গে যোগ দেন।

    অভিযোগ অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে মুক্ত মিয়া তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে টিপু সুলতানের মোটরসাইকেলে তুলে দেন। তবে তাকে বাড়িতে না নিয়ে হাজীপুরে মুক্ত মিয়ার বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে দুধের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে জোরপূর্বক পান করানো হয়। পরে অচেতন অবস্থায় মুক্ত মিয়া তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    ভুক্তভোগীর দাবি, পরদিন সকালে জ্ঞান ফেরার পর তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ২৮ এপ্রিল বিকেলে টিপু সুলতান তাকে তার মায়ের বাসার কাছে নামিয়ে দিয়ে চলে যান।

    মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাসায় ফিরে তিনি তার মাকে পুরো ঘটনা জানান এবং শরীরে নির্যাতনের বিভিন্ন চিহ্ন দেখান। তবে আসামিদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও বিভিন্ন ধরনের চাপের কারণে মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে।

    অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, বর্তমানে তিনি ও তার অসুস্থ মা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের কোনো ধরনের ক্ষতি হলে এর জন্য অভিযুক্তদের দায়ী করা হবে।
    এ ঘটনায় মুক্ত মিয়া ও টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত) এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এফআইআর গ্রহণের আবেদন করা হলে আদালত অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে মাগুরা সদর থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।”

    এদিকে ঘটনার পরপরই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জেলা বিএনপি জানায়, হাজীপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মুক্ত মিয়াকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহম্মেদ ও সদস্যসচিব মনোয়ার হোসেনের যৌথ সিদ্ধান্তে এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়। যদিও বিজ্ঞপ্তিতে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    মামলার বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

  • আখাউড়ায় আত্মীয়ের লাশ দেখতে গিয়ে নিজেই হলেন লাশ

    আখাউড়ায় আত্মীয়ের লাশ দেখতে গিয়ে নিজেই হলেন লাশ

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এক আত্মীয়ের মরদেহ দেখতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. কাশেম মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১০টার দিকে পৌরসভার খড়মপুর বাইপাস মোড়ে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত কাশেম মিয়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রুটিনুরপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেন মিয়ার ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আখাউড়াগামী একটি ট্রাক এবং বিজয়নগরগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা খড়মপুর বাইপাসের চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অটোরিকশায় থাকা কাশেম মিয়া গুরুতর আহত হন।

    স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তার মৃত্যু হয়।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এক আত্মীয়ের মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার মরদেহ দেখতে যাচ্ছিলেন কাশেম মিয়া। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি।

    দুর্ঘটনার পর সিএনজিচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এছাড়া স্থানীয়দের মাধ্যমে ট্রাকটিও ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন। মানবিক কারণে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়নি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    স্থানীয়দের মতে, খড়মপুর বাইপাস মোড়টি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনাপ্রবণ। তারা সেখানে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থা ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির মৌসুমি ফল উৎসব 

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির মৌসুমি ফল উৎসব 

    ববি প্রতিনিধি 

    বাংলাদেশের ঋতুচক্রের গ্রীষ্মে সবচেয়ে বেশি ফলের সমারোহ দেখা যায়। জ্যৈষ্ঠ মাসের এমন বিভিন্ন প্রজাতির দেশি ফল নিয়ে ‘মৌসুমি ফল উৎসব’ এর আয়োজন করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ববিসাস)।

    বুধবার (১৭ই জুন) সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে টিএসসির- চতুর্থ তলায় ফল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। মৌসুমি ফল উৎসবে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, লটকন ও পেয়ারাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় ফলের সমাহার ছিলো।

    ফল উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান সোহাগ।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, বর্তমানে সমাজে সত্য তথ্যের চেয়ে মিথ্যা তথ্যের প্রচার বেশি। সাংবাদিক সমিতিকে মিথ্যা তথ্যকে সত্য তথ্য দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে।

    প্রধান অতিথি বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্য মেসুমি ফল উৎসব, এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে ফল উৎসবের আয়োজন হচ্ছে। সাংবাদিক সমিতিকে ধন্যবাদ এমন একটি আয়োজন করার জন্য। এসময় সাংবাদিকদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়কে পজেটিভভাবে তুলে ধরার আহ্বানও জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

    সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় চব্বিশ হলের প্রভোস্ট আরিফ হোসেন,  সহকারী প্রক্টর মো. গাজী সাখাওয়াত হোসেন, সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. জাহিদ হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক সমিতির সহ-সভাপতি মো. মেহরাব হোসেন, সাংবাদিক সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য, সদস্য ও সহযোগী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম শুরতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য। সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের মূল্যবাদ সময় ব্যয় করে সাংবাদিকতা চর্চা করে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত পত্রিকার পাতায় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতির সামনে তুলে ধরছে।

  • ফরিদপুরের নগরকান্দায় নবাগত ইউএনও রেজওয়ানা আফরিনের যোগদান

    ফরিদপুরের নগরকান্দায় নবাগত ইউএনও রেজওয়ানা আফরিনের যোগদান

    মোঃ শাহ্ জালাল, ফরিদপুর প্রতিনিধি

     

    ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন রেজওয়ানা আফরিন। যোগদানের পর তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান সদ্য বিদায়ী ইউএনও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

    এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত থেকে নবাগত ইউএনওকে স্বাগত জানান এবং তাঁর সফল কর্মজীবন কামনা করেন। বিদায়ী ইউএনও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নবাগত কর্মকর্তার প্রতি শুভকামনা জানিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

    নগরকান্দাবাসীর পক্ষ থেকে রেজওয়ানা আফরিনকে আন্তরিক স্বাগতম জানানো হয়েছে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, তাঁর নেতৃত্বে উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নতুন গতি পাবে।

    নবাগত ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন নগরকান্দার সার্বিক উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।